* পালিয়ে বিয়ের পর লাশ হলেন মল্লিকা            * ভোট বর্জন ভুল ছিল: ড. কামাল           * বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল উদ্ধার           * জামাল খাসোগি হত্যা: ১৭ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের           * মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন মওলানা ভাসানী           * আমার স্ত্রী সত্যিই দারুণ: জাস্টিন বিবার           * চট্টগ্রাম টেস্টে নেই তামিম           * টাঙ্গাইলের দুই আসনে মনোনয়নপত্র কিনলেন কাদের সিদ্দিকী           *  নতুন আইপ্যাড আনল অ্যাপল           *  সুনামগঞ্জ পৌর মেয়রের সঙ্গে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ           * রাজশাহীতে বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১০           * বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত           * নবদম্পতির বিয়ের ছবি নিলামে উঠছে           * খাসোগি হত্যা ১৭ সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা           * স্পেনকে হারিয়ে প্রতিশোধ ক্রোয়েশিয়ার           * গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান থেকে এসে মুক্তিযোদ্ধা মানিক শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বেই সারাদেশে হবে নৌকার বিজয়            * নির্বাচন থেকে সরে গেলেন নিজামীপুত্র           *  বাইসাইকেলের ফ্রেমে ফেনসিডিল পাচার           *  কম খরচে সিসিটিভি ক্যামেরা কিনতে চান?           *  স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তাহসান-মেহজাবিন          
* জামাল খাসোগি হত্যা: ১৭ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের           * মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন মওলানা ভাসানী           * আমার স্ত্রী সত্যিই দারুণ: জাস্টিন বিবার          

সাতক্ষীরার চার গ্রামে ২৩ পরিবারে কান্না

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, জুন ২০, ২০১৫
সাতক্ষীরার চার গ্রামে ২৩ পরিবারে কান্না

মা বাগানে বাগানে ঘুরে বেড়ান। যাকে দেখেন, তাকেই জড়িয়ে ধরেন। আমার ভাইয়ের জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখে ছানি পড়েছে তার। তাই এখন ঝাপসা দেখেন তিনি। ডাক্তার বলেছে এখনই অপারেশন না করালে কিছুদিন পর চোখে আর দেখতে পাবেন না। আর বাবা প্রতিদিনই ফজরের নামাজের পর দুহাত তুলে চোখের পানি ফেলেন অঝোরে। কথাগুলো বলেছিলেন, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ওফাপুর গ্রামের নিখোঁজ মো. আবদুল্লাহ শেখের বড় ভাই মহসিন শেখ। এ সময় ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠও ভারী হয়ে ওঠে। মহসিনের ভাই আজ প্রায় দেড় বছর ধরে নিখোঁজ। একই গ্রামের মানব পাচারকারী আফিল ঢালী পার্শ্ববর্তী কামারালী গ্রামের মান্নানের সহযোগিতায় তাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দেশে সাগরপথে ট্রলারে তুলে দেয়। তারপর থেকে আবদুল্লাহর খোঁজ মেলেনি।
একই গ্রামের জাকির দফাদার। তিনিও একইভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ হওয়ার পর স্বামীর ভিটে ছেড়েছেন তার স্ত্রী। একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনিও দালালের সহযোগিতায় পাড়ি জমিয়েছেন মালয়েশিয়ায়। জাকিরের ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া একমাত্র মেয়ের দেখাশোনার ভার এখন নানীর। মা-বাবা হারানোর পর জাকিরকে লালন পালন করা একমাত্র বোন জহুরা ভাইয়ের শোকে মৃত্যু পথযাত্রী। দুনিয়ায় ভাইটিই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। প্রতিবেশীরা জানান, এক টুকরা ভিটে ছাড়া আর কিছু নেই তার। সেখানেই একটি খুপড়িঘরে থাকেন জোহরা। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর ভাইকে মানুষ করতে গিয়ে তাই বিয়েও করেননি তিনি। সেই ভাই এখন নিখোঁজ। অন্যের বাড়িতে কাজ করে তাই পেটের ভাত জুটাতে হয় অসুস্থ জোহরাকে। আবদুল্লাহ-জাকিরের মতো ওই গ্রামে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪ জন

এছাড়া একই উপজেলার গাজনা গ্রামে ২ জন এবং বসন্তপুর গ্রামে ১৪ জন এবং ক্ষেত্রপাড়া থেকে আর ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। যাদের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছেন ৪ জন। আর একই পাড়ায় রয়েছেন আরও ৪ জন। এদিকে সন্ধান পাওয়া গেছে এমন দাবি করে পুলিশ নিখোঁজদের স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের বাদ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আসামি গ্রেপ্তারের পর ছেড়েও দিয়েছে পুলিশ।
ওফাপুর গ্রামের নিখোঁজ আবদুল্লাহর বড় ভাই মহসিন জানান, তার ভাই প্রায় দেড় বছর আগে নিখোঁজ হন। পরে লোকমুখে জানতে পারেন একই গ্রামের আফিল উদ্দিন ঢালী পার্শ্ববর্তী কামরালী গ্রামের মানব পাচারকারী মান্নান মিলে তার ভাইসহ গ্রামের আরও ৪ জনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য সাগরপথে ট্রলারে তুলে দিয়েছে। এ কথা জানার পর আফিলের বাড়ি গেলে সে এর সত্যতা স্বীকার করে। আফিল পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আবদুল্লাহর কথা বলিয়ে দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু আজ নয়, কাল এভাবে গড়িমসি করতে থাকে। পরে যখন কথা বলিয়ে দিতে ব্যর্থ হয় তখন আফিল অস্বীকার করে বসে। বলে, তার সঙ্গে আবদুল্লাহর কোন যোগাযোগ হয়নি, সে কোথায় গেছে জানে না। মহসিন বলেন, আফিল ঢালী এলাকা থেকে মানুষ যোগাড় করে মান্নানের কাছে দেয়। আর মান্নান তাদেরকে কক্সবাজার নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, মান্নান পলাতক রয়েছে। তবে আফিল এখনও প্রতিরাতে বাড়িতে আসে এবং সকাল হলেই বেরিয়ে পড়ে। দিনের বেলায় বাড়ি থাকে ন

নিখোঁজ আবদুল্লাহর ভাই বলেন, আজ দেড় বছর ধরে তার মা (সরবানু) ছেলের জন্য ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। বাগানে বাগানে ঘুরে বেড়ান। যাকে দেখেন, তাকেই জড়িয়ে ধরে কাঁদেন।
একই গ্রামের নিখোঁজ জাকির দফাদারের প্রতিবেশী লিটন জানান, জাকির দিনমজুরের কাজ করতেন। বাবা-মা ছোট বেলায়ই মারা গেছেন। একমাত্র বোন ছাড়া তার আর রক্তের সম্পর্কের কেউ নেই দুনিয়াতে। জায়গা-জমিও নেই। একশতক জমির ওপর ছোট্ট চালা ঘর। জাকিরের এক মেয়ে। সে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর জাকিরের স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। তারপর থেকে এই গ্রামের আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই তার। পরে জানা যায়, বাবার বাড়ি থেকে তিনি মালয়েশিয়া চলে গেছেন। মেয়েটি এখন নানীর কাছে থাকে। জাকিরের একমাত্র বোন জহুরা অসুস্থ। এই বোনটিই তাকে মানুষ করেছেন। ভাইকে মানুষ করতে তিনি বিয়েও করেননি।

সেই ভাইকে হারিয়ে তিনি এখন অসুস্থ। এই অসুস্থ শরীর নিয়েই পেটের দায়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে বেড়ান। লিটন জানান, তার শারীরিক অবস্থা এতই খারাপ যে, যেকোন দিন মারা যেতে পারেন। একই দালালের খপ্পরে পড়ে একই ভাগ্য বরণ করেছেন ওই গ্রামের সাত্তার উদ্দিন ঢালীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম, ওজিয়ার ঢালীর ছেলে মো. দেলোয়ার ঢালী এবং মো. শাহজাহানের ছেলে শাহিন সুমনও।
একই উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের গাজনা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়েছেন মৃত ফকির চানের ছেলে আবদুর রহিম ওসমান ও নূর ইসলামের ছেলে মো. আমিরুল ইসলাম।

ওসমানের ভাবী জানান, তাদের গ্রামের এক দম্পতি সৈলদ্দি ও সবুরন দীর্ঘদিন ধরে সাগরপথে মানুষকে মালয়েশিয়া পাঠায়। তার দেবর নিখোঁজ হওয়ার পর সৈলদ্দি প্রথমে অস্বীকার করে। পরে স্বীকার করে তাকে ফেরত দেয়ার জন্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু আমাদের জমিজমা নেই, অন্যের জমিতে জন দিয়ে (কামলা খেটে) সংসার চলে।

কিভাবে টাকা যোগাড় করবো? তাই টাকা দিতে পারি নি। তিনি বলেন, ছেলের জন্য তার শাশুড়ি এখন পাগল হয়ে গেছে। সব সময় কান্নাকাটি করে। তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে যাওয়ার ২ দিন পর ওসমানের সঙ্গে কথা হয়েছিল কিন্তু এরপর আর কথা হয়নি। ওসমানের ভাবী জানান, দালাল সৈলদ্দি ও তার বউয়ের গত একমাস ধরে খোঁজ নেই। এদিকে আমিরুলের স্ত্রী সাবিনা জানান, ২-৩ দিন আগে তাদের বাড়িতে ফাঁড়ির পুলিশ এসেছিল। তারা এসে জানান যে, তার স্বামী এখন ইন্দোনেশিয়ায় আটকা রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে। পরে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, মামা বিকালে ফাঁড়িতে যান।

এ সময় ফাঁড়ির পুলিশ ৫ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু শেষমেশ সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়েছে। এর আগে বাড়িতে এসে আরও ৫শ টাকা নিয়ে গেছে পুলিশ। তবে আমিরুলের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর আমিরুলের বাবা পুলিশকে টাকা দেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পুলিশ কোন টাকা চায়নি এবং তারাও কোন টাকা দেননি। অনেক আগে দালালদের তিনি কিছু টাকা দিয়েছিলেন। আমিরুলের স্ত্রী সাবিনা আরও জানান, পুলিশ তাদের জানিয়েছে ২ মাসও লাগতে পারে তাদের দেশে ফিরতে। এছাড়া পুলিশ বলেছে ওরা অন্যায় করেছে, ওদের সাজা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব জানিয়েছেন, একই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, একই পরিবারে মৃত নুর মোহাম্মদ বিশ্বাসের ছেলে সায়েদ আলী, শওকত বিশ্বাসের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আশরাফুল বিশ্বাসের ছেলে সুমন, সিরাজুল বিশ্বাসের ছেলে ফুয়াদ। সম্পর্কে সায়েদ আলী বাকি তিনজনের আপন চাচা।

এছাড়া ওই পাড়া থেকে মজিদ বিশ্বাসের ছেলে আবদুল লতিফ, মৃত শফিকুল বিশ্বাসের ছেলে আল আমিন, খোকন বিশ্বাসের ছেলে খায়রুল, আবদুল আজিজ সরদারের ছেলে আবদুর রহিম নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া, ওই গ্রামে আরও যারা নিখোঁজ রয়েছেন তারা হলেন- মৃত বারেক দফাদারের ছেলে রাজু আহমেদ, শহিদুল ইসলাম সানার ছেলে সাইফুল ইসলাম, জালাল মোড়লের ছেলে আরিফ হোসেন এবং সিরাজ মোড়লের ছেলে লিটন।

এদিকে বসন্তপুর গ্রামের নিখোঁজ তামিরুলের পিতা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় ৪ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলো- সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার তেবালকাতা ইউনিয়নের কাজির হাট গ্রামের আবদুর রউফ, যশোর মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের আবদুল আজিজ, তার স্ত্রী পারুল আক্তার ও কলারোয়া উপজেলার শুভঙ্করকাঠি গ্রামের আবদুল করিম।

এদের মধ্যে অভিযুক্ত পারুল ও আবদুল করিমকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিট থেকে এদের নাম বাদ দেয়ায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, পারুল এবং আবদুল করিম এলাকার চিহ্নিত মানব পাচারকারী। সবাই তাদের চেনে। কিন্তু পুলিশ তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন পুলিশ এসব আসামির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানা সুবিধা নিয়ে থাকে। যা এলাকার সবাই জানে।

এছাড়া, মামলার ১ নং আসামি আবদুর রউফকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। চেয়ারম্যান বলেন, এভাবে চিহ্নিত আসামিরা পার পেয়ে গেলে ন্যায় বিচার আশা করা যায় না।    
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনুপ কুমার তালুকদার বলেন, এটা সীমান্তবর্তী এলাকা। তাই সব সময় আমরা ভারতের সীমান্ত দিয়ে পাচারের ব্যাপারটি সজাগ থেকেছি। মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটিও এখানে সক্রিয়। প্রতিমাসেই কমিটির নিয়মিত সভা হয়। কিন্তু এভাবে সাগরপথে যে এখান থেকে পাচার হচ্ছে তা কারোর নজরেই আসেনি এতোদিন। এখন আমরা এ বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসলি কাজ করছি। নিখোঁজদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের স্টেটমেন্ট নিচ্ছি।

এ উপজেলা থেকে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখনও জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এ পর্যন্ত আমরা জয়নগর ইউনিয়নের বাসন্তিপুর গ্রাম থেকে ১৪ জন, ক্ষেত্রপাড়া থেকে ১ জন, গাজনা থেকে ২ জন এবং জুগিখালী ইউনিয়নের ওফাপুর গ্রাম থেকে ৬ জনের নিখোঁজের কথা জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, স্থানীয় এমপিও এব্যাপারে খুবই সচেতন। আগামী ২১ তারিখ তার উপস্থিতিতে একটি মিটিং হবে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।





আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close