* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * নূপুর আছে মরিয়ম নেই, রাজহাঁসের বুকের ২ টুকরা মাংস নেই           * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের           * ক্লান্ত মাশরাফিদের সামনে সতেজ ভারত           * নিউইয়র্কের উদ্দেশে সকালে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী           *  প্রতারক কামাল-মাসুদ এর বিরুদ্ধে চার মামলা            * হালুয়াঘাটে পুলিশের হাতে ফের আটক-৬           *  ঝিনাইগাতীতে বাবা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মেয়ে সেরা শিক্ষার্থী           * ভারত থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ২০ টি ঘোড়া আমদানী           *  ফুলপুরে ৭৭ জন ভিক্ষুকের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ            * কেন্দুয়ায় নারী বিসিএস ক্যাডারকে অপহরণের অভিযোগ           * মাদ্রাসায় জোড়া খুন: পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা           * তরুণীরা আবেদনময়ী সেলফি তোলেন কেন?            * মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬,৩৮৮ টাকা           * সৌন্দর্যের গোপন রহস্য জানালেন শ্রীদেবীর মেয়ে            * নবনিযুক্ত দুই রাষ্ট্রদূতের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ           * শ্রীলঙ্কার দুর্দিন দেখে অবসর ভেঙে ফেরার ইঙ্গিত দিলশানের            * স্মার্টফোনের আসক্তি কাটানোর নয়া অস্ত্র           * আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি          
* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের          

নোয়াখালী বিভাগ এখন সময়ের দাবি

মনির হসাইন নিলয়, চট্টগ্রাম থেকে: | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১০, ২০১৫
নোয়াখালী বিভাগ এখন সময়ের দাবি

নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালী ও পাশ্ববর্তী জেলাসমুহের প্রধান জোন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে নোয়াখালী। ইতোমধ্যে নোয়াখালীকে বিভাগ হিসেবে ঘোষনার দাবিতে নোয়াখালী সরকারি কলেজের শিার্থীরা, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ, এপেক্স কাব অব নোয়াখালী, নোয়াখালী ওয়েবসহ আরো সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অনেক সামাজিক সংগঠন মানব বন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে অনবরত।

নোয়াখালীর চেয়ে কম সুযোগ সুবিধা নিয়েও দেশে যখন অষ্টম বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগ হিসেবে ঘোষিত হয় ঠিক তখন থেকেই নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষেরও প্রানে দাবি হিসেবে এটিকে বিভাগের মর্যাদায় রূপান্তরিত করবেন এমনটি প্রত্যাশা নিয়ে রাস্তায় মানব বন্ধন পালন করে যাচ্ছেন সকল সচেতন, শিক্ষিত এবং জনসাধারন। উল্লেখ্য যে, দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ স্থাপনের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান ব্যাপক অবদান রেখেছেন এবং সে হিসেবে অত্র অঞ্চলের সন্তান বর্তমান সরকারের সড়ক ও সেতু পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্পীকার ড. শিরিন শারমিন, ঢাসিক মেয়র আনিসুল হক এবং সাবেক ও বর্তমান সেনাপ্রধানসহ আরো অনেকের এর কাছে নোয়াখালী কে বিভাগ হিসেবে অনুমোদনে জোরালো ভুমিকা রাখাটা নীতিগত দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে যায়।

আর নোয়াখালীবাসী আশা করেন তাদের এই দাবি অচিরেই পূরন করার ক্ষেত্রে উল্লেখিত ব্যক্তিত্ত্বরা অগ্রনী ভূমিকা রাখবেন।একটি জেলাকে বিভাগীয় শহর হিসেবে যে শর্তগুলো থাকা আবশ্যক তার কমবেশি সবগুলোই নোয়াখালীতে বর্তমান। অন্যান্য শহরের মতো নোয়াখালীতে তেমন একটা যানজট সমস্যা নেই। তবে নোয়াখালীর বানিজ্যের অন্যতম প্রানকেন্দ্র চৌমুহনীতে দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে সম্প্রতি সড়ক ও সেতু পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষনা দেন অচিরেই এখানে যানজট নিরসনে উড়াল সেতু নির্মান করা হবে। এই ঘোষনা বাস্তবায়ন হলে নোয়াখালী নতুন রূপে সাজতে পারবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

এবার নোয়াখালীকে কেন বিভাগ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া যায় সে বিষয়ে নোয়াখালী সম্পর্কে কিছুটা পরিচিতি দেওয়া হলে মন্দ হয় না। বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রশাসনিক বিভাগের অধীন নোয়াখালী জেলার মোট আয়তন ৪২০২ বর্গ কিলোমিটার। নোয়াখালী জেলার মর্যাদা পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক এদেশে জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় থেকেই। ১৭৭২ সালে কোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্টা নেন। নোয়াখালীর ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা ১৮৩০ সালে নোয়াখালীর জনগণের জিহাদ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলন।

জাতিগত সংঘাত ও দাঙ্গার পর ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালী জেলা ভ্রমণ করেন। বর্তমানে সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ নামক স্থানে গান্ধীজির নামে একটি আশ্রম রয়েেেছ, যা "গান্ধী আশ্রম" নামে পরিচিত। ১৭৯০ সালের পর হতে নোয়াখালী জেলা বহুবার ঘুর্ণিঝড়, বন্যা, টর্নেডো, সাইকোন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে নোয়াখালী জেলার অনেকে ছিলেন। তবু এ অঞ্চলকে কোন দিক দিয়ে পিছিয়ে রাখা যায়নি। ১৯৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নোয়াখালীর মাটি রঞ্জিত হয়ে আছে।

১৫ই জুন, ১৯৭১ সালে সোনাপুর আহমদীয়া স্কুলের সম্মুখ যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়। ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট পাকবাহিনী বেগমগঞ্জ থানার গোপালপুরে গণহত্যা চালায়। নিহত হন প্রায় ৫০ জন নিরস্ত্র মানুষ। নোয়াখালী জেলা স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর। প্রশাসনিক এলাকাসমূহ: নোয়াখালী জেলায় ৯টি উপজেলা, ৮ টি পৌরসভা, ৭২ টি ওয়ার্ড, ১৫৩ টি মহল্লা, ৯১ টি ইউনিয়ন, ৮৮২ টি মৌজা এবং ৯৬৭ টি গ্রাম রয়েেেছ।

নোয়াখালীর শিক্ষার হার ৫১.৩০%। নোয়াখালীতে ০১ টি বিশ্ববিদ্যালয় , ১ টি সরকারী মেডিক্যাল কলেজ, ১২৪৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় , ৩৫ টি কলেজ, ১৬১ টি মাদ্রাসা রয়েছে।সড়ক, রেল ও নৌ পথে নোয়াখালী জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। নোয়াখালী থেকে সড়ক পথে রাজধানী ঢাকাএবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দূরত্ব যথাক্রমে ১৫১ ও ১৩৪ কি মি। বাস ই মূলত দূর যাতায়াতের প্রধানতম মাধ্যম।

নোয়াখালীতে জন্মেছে অগনিত কৃতি সন্তান যাদের মধ্যে রয়েছে : রোজী আফসারী, মোহাম্মদ রুহুল আমিন,আলী আহমদ, ভাষা সৈনিক ও প্রখ্যাত ছাত্রনেতা, মওদুদ আহমেদ,কামরুল আহসান,আবদুল মালেক উকিল,ওবায়দুল কাদের, শহীদুল্লাহ কায়সার,শমসের গাজী, মুনীর চৌধুরী(শহীদ বুদ্ধিজীবী),  ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী(বর্তমান স্পীকার), মোহম্মদ তোয়াহা কমরেড,ফেরদৌসী মজুমদার, মোহাম্মদ আবুল বাশার মুন্সী বীর বিক্রম,মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ মুন্সী, বীর প্রতীক, আবদুস সালাম,  চিত্তরঞ্জন সাহা, সার্জেন্ট জহুরুল হক, নুরুল হক, অধ্যাপক, আবদুল জলিল-অধ্য, খন্দকার শাহ আলম সমাজ সেবক, আনিসুল হক (মেয়র)সহ আরো অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

অতোএব নোয়াখালীবাসী মনে করেন এসব বিষয় বিবেচনায় এবং এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রানের দাবিকে বিবেচনা করে অচিরেই নোয়াখালীকে বিভাগ হিসেবে দেখতে পাবেন।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close