* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * নূপুর আছে মরিয়ম নেই, রাজহাঁসের বুকের ২ টুকরা মাংস নেই           * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের           * ক্লান্ত মাশরাফিদের সামনে সতেজ ভারত           * নিউইয়র্কের উদ্দেশে সকালে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী           *  প্রতারক কামাল-মাসুদ এর বিরুদ্ধে চার মামলা            * হালুয়াঘাটে পুলিশের হাতে ফের আটক-৬           *  ঝিনাইগাতীতে বাবা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মেয়ে সেরা শিক্ষার্থী           * ভারত থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ২০ টি ঘোড়া আমদানী           *  ফুলপুরে ৭৭ জন ভিক্ষুকের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ            * কেন্দুয়ায় নারী বিসিএস ক্যাডারকে অপহরণের অভিযোগ           * মাদ্রাসায় জোড়া খুন: পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা           * তরুণীরা আবেদনময়ী সেলফি তোলেন কেন?            * মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬,৩৮৮ টাকা           * সৌন্দর্যের গোপন রহস্য জানালেন শ্রীদেবীর মেয়ে            * নবনিযুক্ত দুই রাষ্ট্রদূতের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ           * শ্রীলঙ্কার দুর্দিন দেখে অবসর ভেঙে ফেরার ইঙ্গিত দিলশানের            * স্মার্টফোনের আসক্তি কাটানোর নয়া অস্ত্র           * আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি          
* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের          

ভোলায় মেঘনার ছোবলে স্বাবলম্বী কৃষক এখন দিনমজুর উত্তরে ৩ হাজার একর জমি বিলীন হলো

শিশির হাওলাদার, ভোলা থেকে | রবিবার, জানুয়ারী ১০, ২০১৬
ভোলায় মেঘনার ছোবলে স্বাবলম্বী  কৃষক এখন দিনমজুর উত্তরে ৩ হাজার একর জমি বিলীন হলো
ভোলার উত্তরে কৃষি-সম্মৃদ্ধ রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে ধান কাটা ও সবজি আবাদের কোনো ব্যস্ততা নেই। ভাঙনে প্রায় ৩ হাজার একর জমি হারিয়ে অনেক কৃষক এখন দিন-মজুরে পরিণত হয়েছে।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাঙন ও উচ্চ জোয়ারে এসব ফসলের খেত নষ্ট হয়ে গেছে।
ইউনিয়ন ভুমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য, ২০১৫ সালে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব-ইলিশা ও রাজাপুর ইউপির ছয়টি মৌজার প্রায় ২ হাজার ৫০০ হাজার একর জমি মেঘনা নদীতে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ জোয়ারে আরও ৫০০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ওই জমিও আবাদযোগ্য নয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার একর জমিতে প্রায় ৬ হাজার মানুষ বসবাস ও আবাদ করত। সব কিছু হারিয়ে এখন তাঁরা নিঃস্ব¦।
গত কয়েকদিন পুর্ব-ইলিশা ইউনিয়নের কালুপুর ও ইলিশা মৌজা এবং  রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-রাজাপুর, রামদাসপুর, ২৭দাগ ও সুলতানী  মৌজা ঘুরে দেখা যায়, চার ভাগের তিনভাগ জমি ভাঙনে বিলীন। এখনও ভাঙছে। বাকী এক ভাগেও কোনো ফসল নেই। জোয়ারে ভেসে যাওয়ার কারনে জমিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারীতেও ওই সব খেত সবজি ও শষ্যে ভরা ছিল।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বশির আহমেদ, ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকেরা জানান, গত বছর মার্চের প্রথম সপ্তাহে ভাঙন শুরু হয়। সেই ভাঙন এখনও চলমান। অনেক কৃষক কল্পনাই করতে পারেনি ভাঙন তাঁদের নিঃস্ব করবে। পানি ও ভাঙনে সবজি, তেলবীজ, আখ, আউশ ও আমন নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি কার্যালয় থেকে সকল ইউনিয়নের মতো রাজাপুরে ৩৩৫ জন কৃষককে এবং পূর্ব-ইলিশায় ২৬০ কৃষককে ভর্তুকি হিসেবে গম, ভুট্টা, ফেলন ও খেসারী এবং প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হয়। তবে ভাঙন কবলিত কৃষকের জন্য বিশেষভাবে কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে কৃষকেরা তাঁদের বর্তমান দুর্দশার কথা জানান। কৃষি জমি হারিয়ে অধিকাংশ কৃষক দিনমজুর। কালুপুর গ্রামের আবদুস সোবহান বলেন, তিনি তিন একর জমিতে আমনের চাষ করেছিলেন। জমিসহ সব জমিটুকু মেঘনায় ভেঙে গেছে।
 কথা হয় দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের কৃষক মোঃ লিটনের সঙ্গে। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি জমি লগ্নি নিয়ে আগাম করল্লা, চিচিঙ্গা, শশা, খিরা, তরমুজ, মরিচ, বেগুন, বরবটি-সিমসহ নানা রকম সবজি আবাদ করতেন। ছয় মাস আবাদ করে তিনি লগ্নিমূল্য শোধ করেও লাখ লাখ টাকা আয় করতেন। সেই জমি ফসলসহ মেঘনায় ভেঙে গেছে। লিটন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘বাঙনে আমিও শ্যাষ, আমার মতো অনেক কৃষকও শেষ অইয়্যা গেছে।’ সে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে মিলে সাতজনের সংসার নিয়ে বেকার অবস্থায় আছেন। নতুন করে আবাদের জমিও পাচ্ছেন না বলে জানান।
দক্ষিণ রাজাপুরের আব্দুল মালেক বলেন, তাঁদের বাড়ি ঘর, পুকুরসহ ৯ একর জমি মেঘনায় বিলীন হয়েছে। ওই জমির এক একর জমি বছরে ৮০ হাজার টাকা লগ্নি দেওয়া হতো আগাম সবজি কৃষকদের। তাঁরা প্রায় ১২ মাসই সবজি ফলাতো বলে জানান।
দক্ষিন রাজাপুরের কৃষক রুহুল আমিন মিজি বলেন, ‘৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চাষের জমি লগ্নি নিয়েছি, সেই জমি ফসলসহ ভেঙে গেছে। এখন তাঁকে সমিতির কিস্তি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
 
কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হারিয়ে শতকরা ৯০ ভাগ পরিবারের সদস্য  দিনমজুর ও রিকশা চালানোর কাজ করছেন। অনেকে বেকার। দুই ইউনিয়নের কমপক্ষে এক হাজার মানুষ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের রাস্তার উপর, স্কুলের বারান্দায়, অন্যের বাড়ির উঠানে, ঘর ভাড়া নিয়ে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রামে গেছেন কাজের সন্ধানে। অনেকে স্থায়ীভাবে চলে গেছে।
জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, রাজাপুর ও পুর্ব-ইলিশা ইউনিয়ন একটি কৃষি-সম্মৃদ্ধ এলাকা। ওই এলাকায় ১২ মাস সবজির চাষ হতো। প্রায় ৩ হাজার একর তিন ফসলি জমি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকদের ধান কাটা ও সবজি চাষের ব্যস্ততা নেই। তাঁরা এখন দিনমজুর; জমি হারিয়ে কৃষকেরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা বলেন, ভাঙন কবলিত কৃষক পরিবারকে কোনো জমি দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে ত্রান ও টাকা দেওয়া হয়েছে।


অপরাধ সংবাদ/রা




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close