* হাজারো মুসল্লিদের সাথে ঈদের নামায আদায় করলেন নিক্সন চৌধুরী           *  ঈদযাত্রায় পাঁচ জেলায় সড়কে ঝরল ২৭ প্রাণ           *  কেন্দুয়ার দত্ত শপিং সেন্টার রুচিশীল মানুষের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান           *  পবিত্র ঈদ ও রথযাত্রা উৎসব উদযাপনে নেত্রকোনা জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে-জয়দেব চৌধূরী           * হালুয়াঘাটে এক ভুঁয়া দারোগার কান্ড আমি মুশফিকুর রহমান, হালুয়াঘাট থানার এস.আই           * বকশীগঞ্জে ব্যাস্ত সময় পার করছেন জামদানি পল্লীর শ্রমিকরা,পাল্টে গেছে গ্রামের নাম            *  মোদির জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছেন ট্রাম্প           *  সব কারখানায় ভাতা নিয়ে বিজিএমইএর দাবি ‘ভুয়া’           * তিল ধারণের ঠাঁই নেই সদরঘাটে           * রূপবতী হতে চান? ইয়োগা করুন           *  সৌদি যুবরাজকে ইসরায়েল সফরে আহ্বান           *  ফরিদপুরে দুই ভুয়া চিকিৎসককে দণ্ড           *  ক্যানসার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির উদ্যোগ           *  মুমনিরে মহাপুরস্কাররে রাত           *  ঈদের ষষ্ঠ দিন টেলিফিল্ম ম্যাজেসিয়ান তিশা           *  ঈদে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই: আইজিপি           *  ময়মনসিংহে জমেছে ঈদ মার্কেট           * চাঁপাইনবাবগঞ্চে পথের ধারে তালের শাঁস বিক্রিতেই জীবিকা           * কুলিয়ারচরে ভিজিএফ কর্মসূচীর চাউল বিতরণ            * মেলান্দহে কর্মসৃজনের প্রায় ৬কোটি টাকা হরিলুট চলছে          
*  ঈদযাত্রায় পাঁচ জেলায় সড়কে ঝরল ২৭ প্রাণ           * হালুয়াঘাটে এক ভুঁয়া দারোগার কান্ড আমি মুশফিকুর রহমান, হালুয়াঘাট থানার এস.আই           * বকশীগঞ্জে ব্যাস্ত সময় পার করছেন জামদানি পল্লীর শ্রমিকরা,পাল্টে গেছে গ্রামের নাম           

শুধু হত্যা করে আদর্শ বাস্তবায়ন হয় না

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শুক্রবার, জুন ১০, ২০১৬
শুধু হত্যা করে আদর্শ বাস্তবায়ন হয় না
বিগত দেড় বছরে ঢাকাসহ সারা দেশে ৪৭ জন নারী ও পুরুষ জঙ্গীদের হাতে প্রাণ দিয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে সবাই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। তবুও ধর্মান্ধ আনসারউল্লাহ বাংলা টিম বা হুজি বাহিনীর সদস্যরা এদের সবাইকে হত্যা করে। চার্চের ফাদার, মন্দিরের পুরোহিত, মুদি দোকানী, বিশ^ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেখক, চাকুরীজীবি, গৃহবধু সবাই এদের শিকার। যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের অনেকের নাম আজ আর মনে নেই। তবে তাদের পরিবার বা পরিচিত জনরা কিন্তু এসব হত্যার কথা ভোলেননি। যারা এদের হত্যা করেছে তারা নাকি ধর্ম যুদ্ধ করছে। হত্যাকান্ড ঘটানোর পর   আইএস-র নামে ইন্টারনেটে সংবাদ প্রকাশ করছে তারা। নিজেদেরকে আইএস-এর
ব্যনারে জাহির করছে তারা। তবে সরকার বলছে আমাদের দেশে আইএস-এর কোন শাখা নেই। প্রশ্ন একটাই আই এস যেখানে রয়েছে  বা যেখানে তাদের ধর্ম রাজ্য তৈরি করছে, সেটা কোন সভ্য লোকের বসবাস যোগ্য স্থান নয়। ওরা হত্যা করছে, অন্যের সম্পদ লুট করছে, বিরোধী পক্ষের নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ব্যবহার করছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল তাদের পশুরুপ ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে। কোন সভ্য মানুষ আইএস-র কাজ দেখে তাদের সাথে যুক্ত হতে পারেনা। তাই আমাদের দেশটাকে আইএস-র নরক রাজ্য বানাতে যারা ঐ ৪৭টি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তারা মানুষ নয় পশু এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। ওরা যাদের হত্যা করেছে তাদের কয়েকজন হলো,  ঝিনাইদহের হিন্দু পুরোহিত  আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি, নাটোরের খ্রিস্টান মুদি দোকানি সুনীল গোমেজ, চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ মং শৈ উ, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়, কুড়িগ্রামের ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী, টাঙ্গাইলের গোপালপুরের দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দার, দিনাজপুর শহরে চার্চের ফাদার ইতালীয় নাগরিক পিয়েরো পারোলারি, রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশে কুনিও, ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজীর শিক্ষক রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের  শিক্ষক অধ্যাপক  শফিউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার বাউলভক্ত হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক মীর সানোয়ার হোসেন,  সানোয়ারের বন্ধু অধ্যাপক সাইফুজ্জামানকে কুপিয়ে আহত, ঢাকার কলাবাগানে ইউএসএআইডি কর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয়, ঢাকায় বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়, ঢাকায় আহমেদ রাজিব হায়দার, ঢাকায় ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সিলেটে অনন্ত বিজয়, ঢাকার হোসেনী দালানে বোমা হামলায় নিহত হয় একজন, দিনাজপুরের জয়নন্দ গ্রামে ইসকন মন্দিরে ধর্মসভা চলাকালে গুলি ও বোমা বিস্ফোরণে  আহত হয় কয়েক জন। এদেশের মানবাধিকার গ্রুপগুলো এসব হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার নন। তারা সরকার তথা পুলিশ বা র‌্যাব এনকাউন্টারে কয়জনকে মারলো তা নিয়েই ব্যস্ত। সুজন এ বিষয়ে কোন মতামত বা জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাও করে না।
আইএস সম্পর্কে বলতে গেলে  বলা যায়, ওরা আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। ওরা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে সরকারি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ পর্যন্ত করছে। সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলও রয়েছে। আমাদের  দেশের গুপ্তহত্যাকারীদের মত ছুরি বা চাকু   ব্যবহার করে না আইএস। আইএস সদস্যরা আধুনিক জীবনে অভ্যস্ত, কিন্তু এদেশে আইএস-র অনুসারীরা  অনেক পেছনে পড়া, এদেশে আইএস নামধারীরা কোন নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা তৈরি করছেনা বা তার উদ্যোগও নিচ্ছেনা। ওরা চাকু, পিস্তল, বোমা ব্যবহার করছে। ওদের লোকজন যারা ধরা পড়ছে তাদের বেশীর ভাগই আনসার উল্লাহ বাংলা টিম অথবা হরকাতুল জিহাদের সাথে যুক্ত। আর আনসার উল্লাহ বাংলা টিম অথবা হরকাতুল জিহাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের সাথে এদের অস্ত্র ব্যবহারের মিল রয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে এদের বেশীর ভাগেরই জামাতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির দিয়ে যাত্রা শুরু। অনেকেই বলে থাকেন গুপ্তহত্যাকারীরা জামাতের সশস্ত্র গ্রুপ। অর্থাৎ জামাতের রজনীতিরই ভিন্ন রূপ। আনসার উল্লাহ বাংলা টিম অথবা হরকাতুল জিহাদের সাথে যুক্ত তারা একসময় আফগান বা ফিলিস্তিন ফেরত উগ্রবাদীদের চরমপন্থীদের হাতে তৈরি হয়েছেন। ওদের মূল নেতারা ধরা পড়ার পর বা শাস্তি কর্যকর হবার পর জামাতীরা ঐ গ্রুপগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে। তাই বলা যায় ঐ চরমপন্থী ধর্মান্ধরা যারা পবিত্র ধর্মের নামে সাধারন মানুষ মারছে তারা জামাতের রজনীতির ঘরনায় বন্দী। এদেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরুর  পর থেকেই চরমপন্থী ধর্মান্ধরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারন মানুষকে শুধু গেরিলা কায়দায় হত্যা করে ওরা এদেশে ওদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। দেশে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে যেমন হত্যা করা সম্ভব নয়, তেমনি রাজনৈতিক ভাবাদর্শে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ না করে শুধু মানুষ মেরে নিজেদের ইচ্ছা রাষ্ট্র কায়েম করা যাবে না। বরং উল্টো হবে, হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যেভাবে জনমত তৈরি হচ্ছে তাতে ধর্মের নাম নিয়ে মানুষ হত্যা করলেও  ওরা খুনী বলেই চিহ্নিত হবে। মানুষই ওদের রুখে দেবে। তেজগাঁয়ে হত্যাকারীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার কথা নিশ্চয় কেউ ভোলেননি। খুনিরা অইএস-র লোক হলে ওরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি,জাতীয় পার্টি, জাসদ, সিপিবি, জামাত ইত্যাদি দলকে প্রধান শত্রু মনে করতো, ওরা সাধারন মানুষ হত্যা করতো না। তাই একথা স্পষ্ট, ওরা চায় দেশে শুধু অরাজগতা সৃষ্টি করতে। যার মধ্য দিযে এটা প্রমাণিত ওরা শুধু যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়, জামাত ও তার লোকজনরেদর বাঁচাতে চায়।




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close