* দিয়াবাড়ির অস্ত্র রহস্য তিন বছর পরও অজানা           *  সততার সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিসিদের প্রতি নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর           *  দুদক চেয়ারম্যানের তলবেও হাজির হননি বাছির            *  পাসের দিক দিয়ে ৮ বোর্ডে মেয়েরা এগিয়ে           *  পাসের দিক দিয়ে ৮ বোর্ডে মেয়েরা এগিয়ে           *  ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায়- আমু দলীয় শৃংখলা রক্ষাসহ ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক শক্তি আরো বৃদ্ধির তাগিদ           * ত্রিশালে বাধাগ্রস্থ উন্নয়ন রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি           * বাংলাদেশ অনলাইন সম্পাদক পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠিত           *  ধান ক্রয়ের তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে ইউএনও হুমকি           * আলেমদের সহযোগিতায় জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী           * ১৫ নদী বইছে বিপৎসীমার উপরে           * শিশু ধর্ষণ চেষ্টা বাদীর কাছে টাকা নিয়ে ফাঁসছেন এসআই            * এত পরিশ্রম দুর্নীতিতে নষ্ট করবেন না: প্রধানমন্ত্রী           *  কলমাকান্দায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ           * রোগী ধরা ডাক্তার নাদিম !           * সাভারে গণধর্ষণ মামলার আসামি ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার            * সরকারি হাসপাতালে জখমি সনদ বাণিজ্য !           * নেত্রকোনায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে খালি পায়ে হেঁেট প্রতিবাদ            * ময়মনসিংহে ধর্ষণের অভিযোগে নারীসহ গ্রেপ্তার ২           * টাঙ্গাইলে দেবেছে রেল লাইন, উত্তরের পথে সতর্কতা          
* দিয়াবাড়ির অস্ত্র রহস্য তিন বছর পরও অজানা           * ত্রিশালে বাধাগ্রস্থ উন্নয়ন রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি           * নুসরাতের নিপীড়নের মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগগ্রহণ          

আরব নারীদের যৌনজীবন যে রকম

ঢাকা | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৩, ২০১৬


আরব নারীদের যৌনজীবন যে রকম
 রাজনৈতিক দিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে আরব বিশ্বে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। কিন্তু যৌনতা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি কতটুকু পাল্টেছে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন পুরষ্কার বিজয়ী সাংবাদিক ড. শিরীন এল ফেকি। এ নিয়ে তিনি সেক্স এন্ড সিটাডেল শিরোনামের সম্প্রতি একটি বইও লিখেছেন।

বইটি মূলত সাক্ষাৎকার, পরিসংখ্যান, জরিপ, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তি স্মৃতিচারনের মিশেল। শিরীন এল ফেকি পাশ্চাত্যে বড় হলেও তার মা মিসরীয় এবং বাবা ওয়েলসের। এবং ধর্মের দিক থেকে তিনি মুসলিম।

বইটির অনেক অধ্যায়ে লেখিকার দাদীর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। তিনি মজার মজার প্রবচন বলে যান বিভিন্ন প্রসঙ্গে। যেমন, সমকামিতা অধ্যায়ের শুরুতে বলেছেন- যতক্ষণ না এটা আমার সাথে হচ্ছে, ততক্ষণ আমার বলার কিছু নেই।

ঝরঝরে বলার ভঙ্গিমায় লেখিকা আরবের সামজিক এবং যৌন-বিকাশের সম্পর্ক ঘটাতে চেয়েছেন এভাবে, “মিশরের সমাজে এমন আমূল পরিবর্তন ছুঁয়ে গেছে আজিজার শোবার ঘরে। যদিও মাটিতে কোন কাঁপন লাগে না যখন সে এবং তার স্বামী পরস্পরের কাছে আসে।”

আরব সমাজকে ড. এল ফেকি ভিতর থেকে ও বাইরে থেকে সমানভাবে দেখতে সক্ষম হয়েছেন। বলা যায়, একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে দেখেছেন।

বেশীরভাগ আরব দেশে বিবাহ বহির্ভূত সেক্স নিষিদ্ধ। এমন ফতোয়াও দেয়া হয়েছে যে, বিবাহিত দম্পতি নগ্ন হয়ে সেক্স করতে পারবে না। ২০০৯ সালে, এক সৌদি নাগরিক এক স্যাটেলাইট টিভিতে নিজের যৌন জীবন নিয়ে কথা বলেছিলেন। এর ফলে, তাকে ১ হাজার দোররা এবং ৫ বছরের জেল দেয়া হয়েছিল। অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, সে পাপ কাজ প্রচার করেছে। এই ধরনের দৃষ্টি ভঙ্গি ১৭ শতকের মৌলবাদ খ্রিস্টানদের মধ্যে দেখা যেতো।

সেখানকার প্রচলিত প্রথা অনুসারে, সতীত্ব যেন পুরুষদের থেকে নারীদের জন্য বেশি প্রযোজ্য। আর বিয়ে ব্যাপারটি ব্যক্তিগতও নয়, সমানও নয়। ওখানে সতীত্ব ব্যাপারটি এমন তীব্র যে, বিয়ের প্রথম রাতের পর সতীত্বের প্রমাণ-স্বরূপ রক্তাক্ত বেড শিট সবাইকে দেখাতে হয়।

অনেক কণে মনে করেন, যদি তারা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে না চায় তবে তাদের স্বামীরা তাদের মারধর করতে পারে। এটা স্বামীদের অধিকার। পুলিশও অনেকটা এমন মতামত দিয়েছে।

ভার্সিটি পড়ুয়ায় এক কম বয়সী মেয়ে এল ফেকিকে বলেছে, সে কেন খুব গোপনে বিয়ে করেছিল। তার ভাষায়, “এটা যদি আমার মা বাবা জানত, তবে আমাকে মেরে ফেলত। বিয়ে পূর্ব এমন সম্পর্কের কারণে এমন ঘটনা অনেক পরিবারে হরহামেশাই ঘটে।”

এমন কি আরব বিশ্বের নামকরা এক যৌন থেরাপিস্ট বিয়ে পূর্ব সেক্সের কট্টর বিরোধী। স্ত্রীদের প্রতি তার উপদেশ হল, ঘরের বাইরে স্বামীরা অনেক প্ররোচনায় থাকে। তাকে সন্তুষ্ট করতে আপনাদের সবসময় রাজি থাকতে হবে। সে যেন কোন কারণ না পায় জাহান্নামের আগুনের কাছে যেতে।

মিসরীয় পুলিশ নিয়মিত সমকামীদের গ্রেপ্তার করে। তাদের ইলেকট্রিক শক এবং নির্মম বেত্রাঘাত করা হয়। প্রায় ৮০ শতাংশ মিসরীয় নারীদের যৌনাঙ্গ ছেদ করা হয়। এ ক্ষেত্রে, তাদের ভগাঙ্কুর কেটে ফেলে দেয়া হয়। যৌন লালসা কমাতে মেয়েদের খাতনার এই ব্যবস্থা মিশরে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

এল ফেকি অবৈধ সন্তানের খোঁজে শত এতিমখানা ঘুরে বেরিয়েছেন। তিনি গর্ভপাতের এক বিচিত্র পদ্ধতির সন্ধান পান। গর্ভপাত ঘটাতে মেয়েদের ইনজেকশন দিয়ে পিঠে এবং পেটে লাথি মারা হয়, যতক্ষণ না গর্ভপাত হয়। এসব মেয়েদের সাথে দালালদের সাক্ষাত ঘটে। এইসব দালালরা তাদের জন্য গ্রীষ্মকালীন বিয়ের আয়োজন করে। এইসব গ্রীষ্মকালীন বিয়ে পর্যটকরা স্বল্প সময়ের জন্য করে থাকে। যাদের চাহিদা থাকে আইনের মধ্যে থেকে অল্প বয়সী মেয়ের সাথে যৌনাচার করা।

আরব নারীরা তাদের যৌন অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চান না। যদিও সব নির্যাতন তারা মুখ বুঝে সহ্য করেন। পুরুষ সঙ্গী দ্বারা নির্যাতন সেখানে মহামারীর মতো। বেশির ভাগ বিবাহিত নারীরা মেয়েদের খতনার বিপক্ষে। ৯৮% মিশরীয় নারী-পুরুষ সিঙ্গেল মা সমর্থন করেন না।

যৌন সম্পর্কের ভিত্তিতে এল ফেকি উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভাজণের চেষ্টা করেছেন। যদিও তাঁর মূল দৃষ্টি নিবন্ধিত থেকেছে মিশরের উপর। তিউনিসিয়াতে ইসলাম বিরোধী স্বৈরতন্ত্র গর্ভপাতকে বৈধ করেছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হল বৈরুত, লেসবিয়ান এবং হিজরাদের জন্য।

এল ফেকি এমন নারীদের সাথেও কথা বলেছেন, যারা অনেকটা খোলামেলাভাবে নিজেদের মত দিয়েছেন। ভরসা হয়তো তারাই। ধীরে হলেও পরিবর্তনের একটা সূক্ষ্ম আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেই ৩০০ বছর আগে পাশ্চাত্য সমাজে নারীদের মতামত মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যা সম্ভব হয়েছে সে সময়ে সংগঠিত নারী স্বাধীনতার কল্যাণে, যৌনতার দিক থেকে এবং সামাজিকভাবে।

আরব দেশগুলোতে মধ্যযুগ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সময়কালকে যৌন স্বাধীনতার ক্ষেত্রে স্বর্ণযুগ বলা যায়। যার প্রমাণ পাওয়া যায়, সেখানকার ক্লাসিক সাহিত্যগুলোতে।

বর্তমানে এখানে ব্যক্তিগত যৌন স্বাধীনতা পাওয়া এখানে অনেক কঠিন। এটা যে শুধুমাত্র ইসলামের সমস্যা তা নয়। কারণ, এর মূলে আছে মৌলবাদীদের অপব্যাখ্যা। প্রকৃতপক্ষে, এটি পাশ্চাত্য সমাজের ঐ সময়ের প্রতিরূপ, যখন জাগরণ ঘটেনি ইউরোপীয় সমাজে। এই সমাজ ব্যবস্থায় যৌনতা ধর্মের মত ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিল না, ছিল সাধারণ ব্যাপার।

কতদিনে বা কত দ্রুত বিষয়গুলো পরিবর্তিত হবে সে বিষয়ে এক একজনের এক এক ধরনের মতামত থাকতে পারে। তবে লেখিকা শিরীন এল ফেকি-র এই বইয়ে যেসব নারী কথা বলেছেন, তাদের অনেকেই হতাশ। যেমন একজন বলেছেন, “এখন নয়, হতে পারে ২০০ বছর পরে। তবে আশা করা যাক, বিষয়গুলোর পরিবর্তন একটু দ্রুতই হবে।”




আরও পড়ুন



১. প্রধান উপদেষ্টা ঃ এড. সাদির হোসেন (হাইকোর্ট আইনজীবি)
২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close