* ঢাবির ১০ শিক্ষার্থীকে এনবিআরের পুরস্কার           *  চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ২০ লাখ টাকা জব্দ           *  ১৮ হাজার টাকায় ধান কাটা মেশিন           * ত্রিশাল আসনে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী           *  সুন্দরবনে মাছ ধরতে যেয়ে আটক ১৫ জেলেকে ফেরত দিয়েছে ভারত           * বদলগাছীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত           * গাজীপুরে আয়কর মেলার উদ্বোধন           * বেনাপোল সীমান্তে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ নারী আটক           * অভিযুক্তদের ৭১৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে দুদক           * ময়মনসিংহ সদর আসনে এমপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন যারা            * তাইজুলের পাঁচ উইকেটের হ্যাটট্রিক           * আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারে নামছেন জনপ্রিয় তিন তারকা            * ইসরায়েলকে নিরাপদে থাকতে দেবে না হামাস           * ভোট পেছাতে’ আজ ইসিতে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট           *  ত্রিশালে বিসমিল্লাহ্‌ ফুডস্'র আড়ালে নোংরা পরিবেশে পণ্য তৈরি !           *  ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স রোগীদের চরম ভোগান্তি           * ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখা যুবলীগের আয়োজিত আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে মেয়র টিটু            * অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় শিশুসহ ২৪ নারী-পুরুষ আটক           * নির্বাচন আর পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি            * আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দিতে চায় কানাডা          
* অভিযুক্তদের ৭১৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে দুদক           * ময়মনসিংহ সদর আসনে এমপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন যারা            * তাইজুলের পাঁচ উইকেটের হ্যাটট্রিক          

জন্মে ব্রিটিশ, মননে বাঙালি

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৬
জন্মে ব্রিটিশ, মননে বাঙালি
কাহিনিটা বৃটিশ নাগরিক মিস লুসি হল্টের। প্রায় ৬০ বছর ধরে আছেন বাংলাদেশে। সেটা নিজের পছন্দেই। এই দেশ দখল করে রেখেছিলেন বলে পূর্বসুরী বৃটিশদের প্রতি ক্ষুব্ধ তিনি। মানুষটা জন্মগত দিক থেকে ভীনদেশি হলেও, মন ও মননে পুরোপুরি বাঙালি। হয়ত বাংলাদেশে মানুষদের থেকেও একটু বেশি।

ব্রিটেনে জন্ম নেয়া এই নারী বাংলাদেশকে তার নিজের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তা নয়, এই দেশেই মরতে চান তিনি। নারী আর এ বিদেশিনী মরতেও চান বাংলাদেশ, আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেছে বরিশালে।

পরিবার-পরিজন, বৃটিশ আভিজাত্য ফেলে, এ বিদেশিনী একা থাকেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন হোস্টেলের ছোট্ট এক কক্ষে। নাম মাত্র উপার্জন তার। পেশা বলতে বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ। কেউ কেউ তার কাছে আসেন ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদের জন্যও। এসব কাজ করেন তিনি হাসিমুখে।

বৃটিশ নগরিক হওয়াতে ৭০ পাউন্ড বা হাজার ছয়েক টাকা পান মাসিক ভাতা হিসেবে। এটা তিনি আবার অসহায়দের মধ্যে বিলিয়ে দেন বলে জানান অক্সফোর্ড মিশনের ম্যানেজার বেনিডিক্ট বিমল ব্যাপারী। সঞ্চয় বলতে কেবলই বাঙালিদের ভালোবাসা।

অক্সফোর্ড মিশনের ম্যানেজার বেনিডিক্ট বিমল ব্যাপারি জানান, দীর্ঘ বছর ধরেই লুসিকে চেনেন তিনি। সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত লুসির এদেশে রক্তের কেউ না থাকলেও আত্মীয়তা করেছেন অনেক বাঙালির সঙ্গেই। লুসি এ বিষয়ে সাফ জানান, তার এ বন্ধন আত্মিক।

একাত্তরের স্মৃতি রয়েছে লুসির চোখজুড়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে বেশ কয়েক মাস যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে আহতদের সেবা দেন তিনি।

লুসি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় হাসপাতালে আমি বেসামরিকদের সেবা দিয়েছিলাম মানবিক দিক চিন্তা করেই।’ আহতদের সেবা দেওয়ার অবদান হিসেবে সনদ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এক কথায় বলেন, ‘না’।

ব্রিটিশ দখলদারিত্বের কারণে নিজ দেশের প্রতি ক্ষোভ

১৯৫৭ থেকে ১৯০ বছর এই দেশ ছিল ব্রিটিশদের দখলে। অন্যের দেশ দখল করে রাখায় নিজ দেশের পূর্বসূরীদের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে এই ব্রিটিশ নারীর। তার মতে, বৃটিশরা এখানে (এ উপমহাদেশে) ঠিক শাসন করেনি। পূর্বসূরীদের পাপের বোঝায় নিয়ে তাই প্রায়শ্চিত্ব হিসেবে কেউ কিছু বললে বোবামুখে তিনি কষ্ট দেন নিজেকে।

লুসি বলেন, ‘ওরা অপরাধ করছে। ভুল করেছিলো অনেক। সেই জন্য আমি, আমাকে কেউ খারাপ কিছু বললে চুপ থেকে নিজেকে চাপা কষ্ট দেই।’

লুসির বিবেচনায় বাঙালিরা বিদেশিদের প্রশংসা করে। আর নিজেরা মেতে থাকে পরনিন্দায়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা নিজেরা নিজেদের পেছন লেগে থাকে। নিজেরা নিজেদের প্রশংসা করে না। এটা আমাকে কষ্ট দেয়। আমি চাই একে অপরকে ভালোবাসবে, প্রশংসা করবে।’

লুসি দ্বৈত নাগরিকত্ত্ব চেয়েছিলেন, পাননি। শুধু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেবেন তাও সাহস পাচ্ছে না। কারণ বৃটিশ নাগরিক হওয়াতে তিনি ভাতা পান সেখান থেকে। সেটি বন্ধ হবে যদি তিনি সেখানকার নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন।

আর্থিক নিঃস্ব এ মানুষটির সরকারের কাছে আহ্বান, তাকে দ্বৈত নাগরিত্ব প্রদানসহ বছরে ভিসা নবায়নের ৩৮ হাজার টাকা মওকুফের। বলেন, ‘আমি অনেক বছর পর্যন্ত এদেশে আছি। বাংলাদেশকে ভালোবাসি। সরকার চাইলেই বছরের ঐ ৩৮ হাজার টাকা কনসিডার (বিবেচনা) করতে পারে। আমি খুব কৃতজ্ঞ থাকবো যদি টাকাটা কমানো হয়।’

লুসি বলেন, ‘মানথলি (মাসে) পেনশনে যে টাকা পাই তাতে খুব কষ্ট হয় আমার। আমার কাছে ফিক্সড কোন টাকা নাই।’

কথা হয় মিশনের পরিচর্যাকারী চল্লিশোর্ধ্ব উষা দাসের সাথে। তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণি পড়া অবস্থায় প্রথম দেখেন লুসি হল্টকে। তিনি বলেন, ‘তাকে (লুসিকে) দেখছেন খুব শান্ত আর পরোপকারি, দরদী মানুষ হিসেবেই।’

মিশনের ভেতরের কবর স্থান দেখিয়ে লুসি বলেন ‘আমার এখানে মৃত্যু হবে, আমার মৃত্যু হলে আমাকে যেন এইখানেই কবর দেওয়া হয়।’

এটাই হয়তো তার ভালোবাসা। লুসি ভালোবেসেছেন বাংলাদেশ। ভালোবেসেছেন বরিশাল। আর তাই জন্ম না নিলেও, শেষ নিঃশ্বাস ছাড়তে চান বরিশাল শহরেই। বাংলার মাটির গন্ধেই ঘুমোতে চান চিরদিনের। সেজন্য লুসি ঠিক করে রেখেছেন মাটির সেই কবরটিও।

১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের সেন্ট হেলেন শহরে মিস লুসি হল্টের জন্ম। মাত্র ৩০ বছর বয়সে বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের হাসপাতালে আসেন সেবায়েত হিসেবে। কথা ছিলো দুই বছর বাদে ফেরবার। কিন্তু এখানকার প্রকৃতি, মানুষ, আর মানুষের ভালোবাসা আবৃষ্ট করে তাকে। তাই তো গেল ৫৬ বছর ধরে লাল-সবুজের দেশে মাখামাখি ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হল্টের। হৃদপিন্ডজুড়ে ¯œান করে নেয় বাংলাদেশ। হয়তো সে জন্যই চলনে-বলনে সবকিছুতেই তার বাঙালিয়ানা।

আলাপে বেশ শুদ্ধ বাংলায় মনের ভাব প্রকাশে করেন লুসি। জানান, বিনে পয়সায় কখনো সেলাই শেখানো, তাঁত প্রশিক্ষণ, পথ শিশুদের পাঠদান, আবার কখনো বা হাসপাতালে সেবা দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। আর এসব কাজের শুরুটা বরিশাল থেকে। পর্যায়ক্রমে, নওগা, রাজশাহী, যশোর, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, খুলনা হয়ে আবারো বরিশালেই।




আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close