*  ত্রিশালবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা           * নকলা চন্দ্রকোনায় ৭ গোডাউনে আগুন           *  ঝিনাইগাতী সরকারী হাসপাতালটি কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ভেস্তে গেছে চিকিৎসা সেবা            *  সমস্যার আবর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতাল           *  ময়মনসিংহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা নিহত           *  হাতিয়া পিআইওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ           *  ময়মনসিংহে ভাষা দিবসে ছাত্রলীগ নেতার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ           * রাসায়নিক নয়, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যুপুরী চকবাজার           *  বাংলাদেশে আর্ন্তজাতিক কেরাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত           * ওসির আহাদের সহায়তায় রক্ষা পেলেন খাদে পড়া প্রাইভেটকার যাত্রীরা           * গফরগাঁওয়ে চালকের গলাকেটে রিকশা ছিনতাই           *  বাংলার সঠিক চর্চা নিয়ে ভাষা সৈনিক শহিদুল্লাহর আক্ষেপ           * কিডনী সমস্যায় রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু           * কলা গাছের শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা           * ভাষা শহীদদের প্রতি গ্রীস প্রবাসীদের শ্রদ্ধা           *  ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা           * গুলিতে নিহত ৩ ঠাকুরগাঁও আদালতে বিজিবির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন           * চকবাজারে আগুনে মৃতের সংখ্যা ৬৯           * ফুলবাড়ীয়ায় হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৮           * রাবিতে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন শুরু শনিবার          
*  ত্রিশালবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা           *  সমস্যার আবর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতাল           *  ময়মনসিংহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা নিহত          

কৃষকদের প্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো জৈব সার

স্টাফ রিপোর্টার, | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৬
কৃষকদের প্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো জৈব সার
ঠাকুরগাঁওয়ে ক্রমেই কেঁচো জৈব সার প্রিয় হয়ে উঠেছে কৃষকদের কাছে। সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের কৃষকরা এখন জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে কেঁচো জৈব সার প্রয়োগ করে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন শাক সবজিসহ ফসল। সেই সাথে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ইতোমধ্যে এটি সদর উপজেলা ছাড়িয়ে আরো ৩ উপজেলায় ছড়িয়ে গেছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কৃষকরা একসময় শুধুমাত্র রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতেন। এতে জমির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০১৫ সালে ওই ইউনিয়নের ছোট বালিয়া গ্রামের ২ শতাধিক কৃষক সিমেন্টের রিং ও বিশেষায়িত কেঁচো দিয়ে প্রথম শুরু করেন কেঁচো জৈব সার তৈরি কাজ। এজন্য সিমেন্টের তৈরি রিংয়ে গোবর দিয়ে সেখানে ২শ থেকে ২শ ৫০টি কোঁচো ছেড়ে দিয়ে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ৩০-৪০ দিনের মধ্যে কেঁচোগুলো বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মল ত্যাগ এবং মুখের বিশেষ লালা দিয়ে তৈরি করে কেঁচো জৈব সার। ওই সার জমিতে প্রয়োগ করে আশানুরূপ উৎপাদন পেয়ে ওই সারের চাহিদা বেড়ে যায়। পরের বার বগুলাডাঙ্গী গ্রামের ৩শ ও বানিয়াপাড়া  গ্রামের ২ শতাধিক পরিবারে নিজ বাড়িতে কেঁচো সার উৎপাদন করতে থাকে। এ সার প্রযোগ করলে জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। জমির স্বাস্থ্য ও মাটির গুণাগুণ ভাল থাকে এবং উৎপাদন আগের চাইতে বৃদ্ধি পায়।

বগুলাডাঙ্গী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তিনি পিয়াজ-মরিচ, আলু ও লালশাক ক্ষেতে কেঁচো জৈব সার প্রয়োগ পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন  পেয়েছেন।

ছোট বালিয়া গ্রামের কৃষক ময়নুল ইসলাম ১ বিঘা জমিতে এ সার প্রয়োগ করে লাউ ও করলার চাষ করেছিলেন। খরচ হয়েছিল প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ফলনকৃত লাউ-করলা বিক্রি করে পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ফলনে তিনি খুব খুশি।

সনেকা বেগম নামে এক কৃষাণি জানান, বাড়িতে রিং বসিয়ে মহিলারাই এটি দেখাশুনা করতে পারে। তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার টাকার সার বিক্রি করেছেন। এছাড়াও ছোট বালিয়া গ্রামে ২ টন জৈব সার প্রস্তুত হয়। প্রস্তুতকৃত সার নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে বিক্রি করে ওই গ্রামের কৃষকেরা মাসে ২৪ হাজার টাকা আয় করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ২শ, রানীংশংকৈল উপজেলার দেড়শ ও হরিপুর উপজেলার ৫০ বাড়িতে কেঁচো জৈবসার উৎপাদন শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেঁচো জৈব সার শতক প্রতি ২/৪ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। এ সার প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। কোন প্রকার রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগ না করে প্রাকৃতিকভাবে কেঁচো জৈব সার প্রয়োগ করে তুলনামূলকভাবে বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে বালিয়া ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জমিতে রাসায়নিক সার বারবার প্রয়োগ করলে জমির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব বৃদ্ধি পায়। আর কেঁচো সার প্রয়োগ করলে জমির গুণগত মান ঠিক থাকে এবং জমির অন্যান্য চাহিদা পূরণ হয়। এ কারণে রাসায়নিক সারের চাইতে কেঁচো সারে ফসল উৎপাদন ভাল হয়। মাটির উর্বরা শক্তি ঠিক থাকে এবং বিভিন্ন পোকার উপদ্রব কম হয়।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী  জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার জমিতে ব্যাপক জৈব সারের ঘাটতি রয়েছে। জমির সুস্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে  সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ৩টি গ্রামে জৈব সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্রামের কৃষান কৃষাণিরা বাড়িতে বসে গোবর থেকে কেঁচো জৈব সার তৈরি করে রাসায়নিক সার ছাড়াই ফসল উৎপাদন করছেন।

অন্যদিকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট সার বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এখানকার কৃষকদের লাভ দেখে অন্যন্য উপজেলার চাষিরাও জৈবসার তৈরিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ইতোমধ্যে কেঁচো জৈব সার সদর উপজেলা থেকে রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর  উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগির ঠাকুরগাঁও জেলা জৈব কৃষির আওতায় আসবে  এবং মাটির উন্নয়ন ঘটিয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।




আরও পড়ুন



১. প্রধান উপদেষ্টা ঃ এড. সাদির হোসেন (হাইকোর্ট আইনজীবি)
২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close