*  মাদারীপুরে স্পিডবোট ডুবি, তিন যাত্রীর লাশ উদ্ধার           * ভোট পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ           *  গাজায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নিহত ৭           *  বগুড়ায় নৌকা চান অপু           *  ফরিদগঞ্জে হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন           * খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন           * তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ           * অনাহারে নয়, সমৃদ্ধির পথে এগোবে ইরান           *  জানুয়ারির আগেই রাজশাহী হবে পলিথিনমুক্ত           * দেশের দীর্ঘতম রেলপথ চালু, আন্তঃনগর ট্রেন পেল পঞ্চগড়           *  নকিয়ার ছয় ক্যামেরার ফোন           *  একাদশে মোস্তাফিজ, অভিষেক হতে পারে মিঠুনের           * ভ্রু কাঁপানো সেই প্রিয়াকে নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড            * আফ্রিদি-ফাখরের কাছে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড            * গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির            * যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারীর অবস্থান কোথায়?           * নির্বাচন নিয়ে কারো হতাশা থাকার কথা নয়: কাদের           * মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু          
* খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন          

যেসব কারণে আইভী এত জনপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, | শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬
যেসব কারণে আইভী এত জনপ্রিয়
কোন নির্বাচনে হারার রেকর্ড নেই সেলিনা হায়াৎ আইভী’র। দলীয় মনোনয়ন এবং প্রতীকে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজয়ী হিসেবেই আবির্ভূত হলেন এই সাহসী নারী।

কেন এত জনপ্রিয় আইভী? শুধু কি প্রতীকের জোরে এ বিজয়; নাকি দল ও প্রতীকের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যক্তি হিসেবেই আইভী হয়ে উঠেছেন নতুন এক রাজনৈতিক আইকন?    

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের গত নির্বাচনে আইভী বিজয়ী হয়েছিলেন আরও জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। তখন আওয়ামীলীগের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতারা হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানকে সমর্থন দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এরপরেও আইভী একলাখেরও বেশী ভোটে শামীম ওসমানকে পরাজিত করেছিলেন।

গত ১৮ নভেম্বর দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম চূড়ান্ত হয়েছিল সেলিনা হায়াৎ আইভী’র। তারপর থেকে স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা।

অনেকের মনে ছিল সংশয়; পারবেন তো আইভী? কিন্তু আইভী যে এর আগে কোন নির্বাচনে হারেননি। শেষপর্যন্ত দলীয় ব্যানারে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলেন আইভী।

এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের এমপি শামিম ওসমান।

নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ এক বর্ধিত সভায় দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনোয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাব করে।  মহানগর আওয়ামীলীগের এ সিদ্ধান্তে সেলিনা হায়াৎ আইভী মনক্ষুণ্ণ হলেও মিডিয়াকে বলেছিলেন, “কেন্দ্র থেকে পার্টি যে সিদ্ধান্ত দিবে,  আমি মেনে নিব। যদি আমাকে দল থেকে মনোনয়ন না দেয়, তাহলে নির্বাচনে আলাদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রশ্নই উঠেনা”।

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে নিজেরা দলীয় নানা কৌশলে নগরের সাধারণ মানুষের মতামত বোঝার চেষ্টা করে জানতে পারেন যে আইভীই হবেন যোগ্যতম প্রার্থী।

১৮ নভেম্বর আইভীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার পরও আইভি এবং শামিম ওসমানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শেষ হয়নি।

শেষ পর্যন্ত আইভী এবং শামীম ওসমানের ডাক পড়ে খোদ শেখ হাসিনার বাসভবনে। ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাদেরকে নিয়ে বসেন হাসিনা। সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরোয় যে, শেখ হাসিনা শামীম ওসমানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন।  শামীম ওসমান এর পর থেকে প্রকাশ্যে আর কখনো আইভী’র বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি।

এমনকি নিজের সংসদ সদস্যপদ ত্যাগ করে হলেও আইভীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আইভী বলেছিলেন, সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার দরকার নেই, বরং এমপি হিসেবে আইন মেনে চললেই হবে!

শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াৎ আইভী’র দ্বন্দ্ব পারিবারিক এবং বেশ পুরনো। আইভী’র বাবা আলী আহমেদ চুনকা একবার পৌর নির্বাচনে ওসমান পরিবারের পছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেই থেকে গভীর রূপ নেয় ওসমান ও চুনকা পরিবারের দ্বৈরথ।

সাম্প্রতিককালে প্রকাশ্য মিটিংয়ে, টেলিভিশন টক শো’তে আইভী এবং শামীম ওসমানকে একাধিকবার তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে একজন নারীর সাহসী এবং দৃঢ় অবস্থানই আইভী’র জনপ্রিয়তা অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে একটি কথা প্রচলিত আছে, “রাজনীতি এখানে দুইভাগে বিভক্ত-প্রভাবশালী পরিবার ও বিপক্ষ!”।

নারায়ণগঞ্জের নানা পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আইভী নিজেকে একজন সাহসী, উন্নয়নমুখী, শান্ত ব্যক্তিত্ব এবং জনদরদী মানুষ হিসেবে গণমানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

সর্বশেষ  মেয়াদে এলাকার অবকাঠামোগত পরিবর্তনও এনেছেন আইভী। নগরীর প্রধান রাস্তাগুলোকে ১০ ফুট থেকে ৪০ ফুটে উন্নীত করেছিলেন তিনি।

পেশায় ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ১৯৬৬ সালের ১৩ জানুয়ারি মা মমতাজ বেগম এবং বাবা আলী আহমেদ চুনকার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। আইভী একজন ডাক্তার হয়েও বাবার সান্নিধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দলীয় রাজনীতিতে আগ্রহী হন। ধীরে ধীরে বাবার অবর্তমানে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ ৮ বছর তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একবার নিরবে সংসার করবেন বলে নিউজিল্যান্ডে স্বামী কাজী আহসান হায়াতের কাছে চলে গিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় রাজনীতির চাহিদা মেটাতে দেশে ফিরে এলাকা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক হিসেবে আবির্ভূত হন।




আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close