*  ত্রিশালে বিসমিল্লাহ্‌ ফুডস্'র আড়ালে নোংরা পরিবেশে পণ্য তৈরি !           *  ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স রোগীদের চরম ভোগান্তি           * ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখা যুবলীগের আয়োজিত আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে মেয়র টিটু            * অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় শিশুসহ ২৪ নারী-পুরুষ আটক           * নির্বাচন আর পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি            * আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দিতে চায় কানাডা           * ধোনির সঙ্গে দিন কাটাতে চান পাকিস্তানের সানা           * আস্থা রাখুন : ফখরুল            * আলোর মুখ দেখছেন বিমানের ১৩৭ কেবিন ক্রু            * মাদারীপুরে স্পিডবোট ডুবি, তিন যাত্রীর লাশ উদ্ধার           * ভোট পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ           * গাজায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নিহত ৭           * বগুড়ায় নৌকা চান অপু           *  ফরিদগঞ্জে হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন           * খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন           * তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ           * অনাহারে নয়, সমৃদ্ধির পথে এগোবে ইরান           *  জানুয়ারির আগেই রাজশাহী হবে পলিথিনমুক্ত          
* নির্বাচন আর পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি            * আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দিতে চায় কানাডা           * ধোনির সঙ্গে দিন কাটাতে চান পাকিস্তানের সানা          

‘মুড়ির গ্রাম’ নাটোরের গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর

তাপস কুমার, নাটোর: | মঙ্গলবার, জুন ৬, ২০১৭
‘মুড়ির গ্রাম’ নাটোরের গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর

নাটোর সদর উপজেলার ছোট্ট গ্রাম গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর। তবে আলাদা একটি নামেই এ গ্রামকে চিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নাটোরের মানুষ। গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর ‘মুড়ির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত নাটোরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের কাছে।

এদিকে, রমজান মাসে ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ মুড়ি তৈরি হয় গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের ঘরে ঘরে। ফলে গ্রামে যাদের জমি আছে তারা মুড়ি তৈরির ধান উৎপাদন করেন এবং তারাই সেই ধান সিদ্ধ করে শুকিয়ে চাল তৈরি করে মুড়ি ভাজেন। রাসায়নিক সার ও কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় এ মুড়ির ব্যাপক সুনামের পাশপাশি বেশ চাহিদা রয়েছে।

বছরে যে পরিমাণ মুড়ি উৎপাদন হয় তার দ্বিগুণ হয় রমজান মাস এলেই। শুধু রমজান মাসই নয়, সারা বছর এখানকার মানুষের চাহিদা মেটায় এ গ্রামের মুড়ি। রমজান এসেছে তাই দম ফেলার সুযোগ নেই কৃষ্ণপুর গ্রামের অর্ধশত পরিবারের। আমন, বিনা-৭, হরি ধান, ২৯ ধান, ১৬ ধান, ৫২ ধানের মুড়ি উৎপাদিত হয় এখানে। ভালো মুড়ি দিয়ে ইফতারের জন্য রমজান মাস শুরু থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসছেন এ গ্রামে। ইতোমধ্যে এখান থেকে মুড়ি কিনে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জসহ দেশের নানান অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। তবে ধানের দাম বেশি হওয়ায় এবার  বিপাকে পড়েছেন মুড়ি উৎপাদনকারীরা।

সরেজমিনে গোয়ালদীঘি, বারুহাট, বাকশোর, তেগাছি, তালগাছি ও ঢাকোপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে ‘হাতে ভাজা’ মুড়ি। বাতাসে ঝনঝন শনশন মুড়ি ভাজার শব্দ। প্রতি বাড়িতেই মুড়ি ভাজার জন্য রয়েছে আলাদা ঘর। মুড়ি ভাজার কাজে নিয়োজিত বাড়ির মেয়েদের কেউবা উঠানে ধান শুকাচ্ছে, মাঝে মাঝে সেই ধান নেড়ে দিচ্ছে, মাটির চুলায় চাল গরম করছে আর সেই চাল নারিকেলের খিল কিংবা পাটসোলা দিয়ে নাড়াচারা করছে। কেউবা সেই গরম চাল মাটির পাতিলে রাখা বালিতে পাটসোলা দিয়ে নাড়াচারা করছেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই চাল থেকে ফুটে যাচ্ছে মুড়ি।

মুড়ি তৈরিতে গ্রামে নারীদের পাশাপাশি ভাজা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছেন এখানকার পুরুষরাও। ভোর থেকে ভাজা শুরু হওয়া এসব মুড়ি সকাল হলে নিয়ে যাওয়া হয় আড়তে। এ ছাড়াও নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের ডালসড়ক এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি মুড়ির আড়ত। স্থানীয় মুড়ি বিক্রেতা এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের সমাগম ঘটে এ আড়তে। তাছাড়া ডালসড়ক বায়তুন নূর জামে মসজিদ মুড়ির আড়তে নানা রকমের মুড়ি কেনাবেচা হয়। তবে আমন ও হরি ধানের মুড়ির চাহিদা বেশি। আমন মুড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা, ১৬ ধানের মুড়ি তিন হাজার থেকে তিন হাজার ১০০ টাকা ও অনান্য মুড়ি গড়ে দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা মণ দরে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন এ আড়তে বিক্রি হয় দুই থেকে তিন লাখ টাকার মুড়ি।

গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর গ্রামের মুড়ি উৎপাদনকারী মিলন হোসেন বলেন, শুধু মুড়ি কিনতেই রমজান মাসে এই গ্রামে আসেন অনেক মানুষ। তবে নানা স্থানে মেশিনে প্যাকেট করা মুড়ি তাদের হাতে ভাজা মুড়ির সুনাম নষ্ট করছে। তেগাছি গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, ‘এই মুড়িতে কোনো রাসায়নিক সার দেওয়া হয় না। লবণ আর বালু দিয়ে ভাজা হয় মুড়ি। তাই সারা বছর ধরে আমাদের মুড়ির চাহিদা বেশিই থাকে।’ ঢাকোপাড়া গ্রামের আসিয়া বেগম বলেন, ‘এক মণ চালের মুড়ি ভাজলে ১০ থেকে ১২ কেজি মুড়ি তৈরি হয়। অন্য সময় আমরা রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে মুড়ি ভাজা শুরু করে পরদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মুড়ি ভাজার কাজ করি। তবে রমজান মাসে আমরা প্রায় সারাদিনই মুড়ি ভাজি।’

মুড়ি ব্যবসায়ী অহিদুল ইসলাম জানান, ‘রোজার পাশাপাশি বর্তমানে আম, কাঁঠাল বাজারে উঠায় চাহিদা বেড়েছে হাতে ভাজা মুড়ির। এ ব্যবসা স্বল্প পুঁজির হলেও প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকার মুড়ি বিক্রি হয় স্থানীয় এ আড়তে।’ তাছাড়া স্বল্প পুঁজির এ ব্যবসা করে গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও তাদের পাশে স্থানীয় কোনো ব্যাংক এগিয়ে আসেনি। ফলে স্বল্প সুদে এসব মুড়ি উৎপাদনকারীদের ঋণ সহায়ত করলে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন মুড়ি উৎপাদনকারীরা।






আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close