* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * নূপুর আছে মরিয়ম নেই, রাজহাঁসের বুকের ২ টুকরা মাংস নেই           * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের           * ক্লান্ত মাশরাফিদের সামনে সতেজ ভারত           * নিউইয়র্কের উদ্দেশে সকালে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী           *  প্রতারক কামাল-মাসুদ এর বিরুদ্ধে চার মামলা            * হালুয়াঘাটে পুলিশের হাতে ফের আটক-৬           *  ঝিনাইগাতীতে বাবা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মেয়ে সেরা শিক্ষার্থী           * ভারত থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ২০ টি ঘোড়া আমদানী           *  ফুলপুরে ৭৭ জন ভিক্ষুকের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ            * কেন্দুয়ায় নারী বিসিএস ক্যাডারকে অপহরণের অভিযোগ           * মাদ্রাসায় জোড়া খুন: পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা           * তরুণীরা আবেদনময়ী সেলফি তোলেন কেন?            * মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬,৩৮৮ টাকা           * সৌন্দর্যের গোপন রহস্য জানালেন শ্রীদেবীর মেয়ে            * নবনিযুক্ত দুই রাষ্ট্রদূতের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ           * শ্রীলঙ্কার দুর্দিন দেখে অবসর ভেঙে ফেরার ইঙ্গিত দিলশানের            * স্মার্টফোনের আসক্তি কাটানোর নয়া অস্ত্র           * আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি          
* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের          

‘মুড়ির গ্রাম’ নাটোরের গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর

তাপস কুমার, নাটোর: | মঙ্গলবার, জুন ৬, ২০১৭
‘মুড়ির গ্রাম’ নাটোরের গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর

নাটোর সদর উপজেলার ছোট্ট গ্রাম গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর। তবে আলাদা একটি নামেই এ গ্রামকে চিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নাটোরের মানুষ। গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর ‘মুড়ির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত নাটোরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের কাছে।

এদিকে, রমজান মাসে ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ মুড়ি তৈরি হয় গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের ঘরে ঘরে। ফলে গ্রামে যাদের জমি আছে তারা মুড়ি তৈরির ধান উৎপাদন করেন এবং তারাই সেই ধান সিদ্ধ করে শুকিয়ে চাল তৈরি করে মুড়ি ভাজেন। রাসায়নিক সার ও কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় এ মুড়ির ব্যাপক সুনামের পাশপাশি বেশ চাহিদা রয়েছে।

বছরে যে পরিমাণ মুড়ি উৎপাদন হয় তার দ্বিগুণ হয় রমজান মাস এলেই। শুধু রমজান মাসই নয়, সারা বছর এখানকার মানুষের চাহিদা মেটায় এ গ্রামের মুড়ি। রমজান এসেছে তাই দম ফেলার সুযোগ নেই কৃষ্ণপুর গ্রামের অর্ধশত পরিবারের। আমন, বিনা-৭, হরি ধান, ২৯ ধান, ১৬ ধান, ৫২ ধানের মুড়ি উৎপাদিত হয় এখানে। ভালো মুড়ি দিয়ে ইফতারের জন্য রমজান মাস শুরু থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসছেন এ গ্রামে। ইতোমধ্যে এখান থেকে মুড়ি কিনে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জসহ দেশের নানান অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। তবে ধানের দাম বেশি হওয়ায় এবার  বিপাকে পড়েছেন মুড়ি উৎপাদনকারীরা।

সরেজমিনে গোয়ালদীঘি, বারুহাট, বাকশোর, তেগাছি, তালগাছি ও ঢাকোপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে ‘হাতে ভাজা’ মুড়ি। বাতাসে ঝনঝন শনশন মুড়ি ভাজার শব্দ। প্রতি বাড়িতেই মুড়ি ভাজার জন্য রয়েছে আলাদা ঘর। মুড়ি ভাজার কাজে নিয়োজিত বাড়ির মেয়েদের কেউবা উঠানে ধান শুকাচ্ছে, মাঝে মাঝে সেই ধান নেড়ে দিচ্ছে, মাটির চুলায় চাল গরম করছে আর সেই চাল নারিকেলের খিল কিংবা পাটসোলা দিয়ে নাড়াচারা করছে। কেউবা সেই গরম চাল মাটির পাতিলে রাখা বালিতে পাটসোলা দিয়ে নাড়াচারা করছেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই চাল থেকে ফুটে যাচ্ছে মুড়ি।

মুড়ি তৈরিতে গ্রামে নারীদের পাশাপাশি ভাজা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছেন এখানকার পুরুষরাও। ভোর থেকে ভাজা শুরু হওয়া এসব মুড়ি সকাল হলে নিয়ে যাওয়া হয় আড়তে। এ ছাড়াও নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের ডালসড়ক এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি মুড়ির আড়ত। স্থানীয় মুড়ি বিক্রেতা এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের সমাগম ঘটে এ আড়তে। তাছাড়া ডালসড়ক বায়তুন নূর জামে মসজিদ মুড়ির আড়তে নানা রকমের মুড়ি কেনাবেচা হয়। তবে আমন ও হরি ধানের মুড়ির চাহিদা বেশি। আমন মুড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা, ১৬ ধানের মুড়ি তিন হাজার থেকে তিন হাজার ১০০ টাকা ও অনান্য মুড়ি গড়ে দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা মণ দরে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন এ আড়তে বিক্রি হয় দুই থেকে তিন লাখ টাকার মুড়ি।

গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর গ্রামের মুড়ি উৎপাদনকারী মিলন হোসেন বলেন, শুধু মুড়ি কিনতেই রমজান মাসে এই গ্রামে আসেন অনেক মানুষ। তবে নানা স্থানে মেশিনে প্যাকেট করা মুড়ি তাদের হাতে ভাজা মুড়ির সুনাম নষ্ট করছে। তেগাছি গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, ‘এই মুড়িতে কোনো রাসায়নিক সার দেওয়া হয় না। লবণ আর বালু দিয়ে ভাজা হয় মুড়ি। তাই সারা বছর ধরে আমাদের মুড়ির চাহিদা বেশিই থাকে।’ ঢাকোপাড়া গ্রামের আসিয়া বেগম বলেন, ‘এক মণ চালের মুড়ি ভাজলে ১০ থেকে ১২ কেজি মুড়ি তৈরি হয়। অন্য সময় আমরা রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে মুড়ি ভাজা শুরু করে পরদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মুড়ি ভাজার কাজ করি। তবে রমজান মাসে আমরা প্রায় সারাদিনই মুড়ি ভাজি।’

মুড়ি ব্যবসায়ী অহিদুল ইসলাম জানান, ‘রোজার পাশাপাশি বর্তমানে আম, কাঁঠাল বাজারে উঠায় চাহিদা বেড়েছে হাতে ভাজা মুড়ির। এ ব্যবসা স্বল্প পুঁজির হলেও প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকার মুড়ি বিক্রি হয় স্থানীয় এ আড়তে।’ তাছাড়া স্বল্প পুঁজির এ ব্যবসা করে গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও তাদের পাশে স্থানীয় কোনো ব্যাংক এগিয়ে আসেনি। ফলে স্বল্প সুদে এসব মুড়ি উৎপাদনকারীদের ঋণ সহায়ত করলে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন মুড়ি উৎপাদনকারীরা।






আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close