* জোড়া মাথার রাবেয়া-রুকাইয়ার চিকিৎসা শুরু           * সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক : প্রধানমন্ত্রী           * তৃপ্তির ঘুমের জন্যে কিছু করণীয়           * আইএসের পতন ঘোষণা করলেন হাসান রুহানি           * পেঁয়াজের দাম আবার বাড়ল           * দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই শ্রম আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী           * ত্রিশালে তিন সাংবাদিক আটক           * শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা           * কম্বলের ভেতর মিলল সাত কেজি স্বর্ণ           *  সালমান বিবাহিত, আছে সন্তানও           * পিরোজপুরে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল শিশু ও যুবকের           * লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের চার দিন পর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার           * দীপন হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি           * নারী দেখলেই আমার কামনা জেগে উঠে           * টস হেরে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী           * পারিবারিক কলহের নির্মম শিকার আট মাসের শিশু           * কিশোরগঞ্জ-৬: আ.লীগে পাপন বিএনপিতে শরীফ           *  এসএসসির ফরম পূরণে বাড়তি টাকা আদায়ে এবারও ‘জবরদস্তি           * শিগগিরই আসছে স্যামসাংয়ের বাঁকানো ডিসপ্লের ফোন           * নতুন করে নির্বাচনের পক্ষে মের্কেল          
* পরানগঞ্জে আপদ হয়ে গেল ভাগ্নের কাছে           *  ত্রিশাল নিউজের তিন সাংবাদিক আটক           *  ভালুকায় অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন জঙ্গি আটক          

পরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগসাজশে ময়মনসিংহ বিভাগ ডুবছে ঘুষ দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, জুন ১০, ২০১৭
পরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগসাজশে
ময়মনসিংহ বিভাগ ডুবছে ঘুষ দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য খাত

ঘুষ, দুর্নীতি-লুটপাট আর অনিয়ম-বিশৃঙ্খলায় আকণ্ঠ ডুবে আছে দেশের নতুন বিভাগ ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য খাত। ডাক্তার নুর মোহাম্মদ , পরিচালক ( স্বাস্থ্য ) এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হককেই মূলত এসবের জন্য দায়ি করা হয়েছে ।সম্প্রতি ফরিদুল হকের দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে প্রধান করে দায়িত্ব দেয়া হয় । অজ্ঞাত কারণে হাসপাতাল পরিচালক এই তদন্ত কার্য সম্পাদনে অপারগতা প্রকাশ করায় ফরিদুল হক আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ।

এই দুই কর্মকর্তার সীমাহীন ঘুষ, দুর্নীতি আর অনিয়মের কারনে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে উপজেলা , জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত সর্বত্রই এখন বিশৃঙ্খল অবস্থা ।ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ আর সদিচ্ছার পরও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না, বরং দিন দিন স্বাস্থ্য সেক্টর হয়ে উঠছে দুর্নীতি-বিশৃঙ্খলার বিশাল বপু শ্বেতহস্তী ।ময়মনসিংহ বিভাগে সরকারি খাতের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং সহজলভ্য করতে বর্তমান সরকার নানাবিধ উদ্যোগ নিলেও স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র মোটেও বদলাচ্ছে না। ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাস্থ্য খাতে কোটি কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও এসব বরাদ্দের

কতটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, এর থেকে জনগণ কতটা সুবিধা পাচ্ছে, এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তত্ত্ব-তালাশ নেওয়া হয় না বললেই চলে। ময়মনসিংহের স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় মাঝে মাঝে রিপোর্টে ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতির কদাকার চিত্র বেরিয়ে এলে নামমাত্র তদন্ত কমিটি হয়। বেশির ভাগ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বা সুপারিশ বাস্তবায়িত হয় না।

অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতা বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অবস্থার কাঙ্খিত পরিবর্তনও হচ্ছে না। ময়মনসিংহ বিভাগে হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার বদলি, বদলি স্থগিত করতে ডাক্তার নুর মোহাম্মদ ও ফরিদুল আলমের যোগসাজশে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট ।এছাড়াও পদোন্নতি, পোস্টিং থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি, লুটপাট রীতিমতো লোকচক্ষুর সামনে চলে এসেছে। হরিলুট চলছে কেনাকাটাতেও ।ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালের বিভিন্ন আইটেমের চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্র কেনার ক্ষেত্রে যে লুটপাট হয়েছে তা চমকে দেওয়ার মতো। এই দুই ব্যক্তির যোগসাজশে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত বিধিবিধান অমান্য করে দ্বিগুণ থেকে ৫০ গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে ।ময়মনসিংহ জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলিতে কোটি কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতির বেশির ভাগ বছরের পর বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে অথবা কেনার পর কয়েক বছরেও খোলা হয়নি এমন উদাহরণও আছে অসংখ্য। এই দুই কর্মকর্তা ও ডাক্তারদের দলবাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং

দুর্নীতির কারণে সরকারের এসব শুভ উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না। ময়মনসিংহ বিভাগবাসী বলছেন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধার সুষ্ঠু ব্যবহার করতে নিয়মিত, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পরিচালক স্বাস্থ্য ডাক্তার নুর মোহাম্মদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হক ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্ণধার হলেও তা পরিণত হয়েছে বদলি বাণিজ্যের মূল আখড়ায়। প্রতিটি বদলির পেছনে রয়েছে মোটা অংকের ঘুষ। এভাবে তারা কামিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।এই দুই কর্মকর্তার কারণে ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা কাটছেই না।

হাসপাতাল আছে, যন্ত্রপাতি ওষুধপথ্যের সরবরাহ যাচ্ছে নিয়মিত,আছে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী; শুধু নেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা। ময়মনসিংহ , জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলা থেকে শুরু করে নিভৃত পল্লী পর্যন্ত সর্বত্রই অভিন্ন অবস্থা। চিকিৎসকের বদলে নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়াসহ দালালরা নানা কায়দা-কৌশলে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। এসব দেখভালের যেন কেউ নেই।

ময়মনসিংহ বিভাগের সরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন আসা শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চরমভাবে। ধনিক শ্রেণির মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য চলে যাচ্ছে রাজধানীতে। আর সাধারণ মানুষ ধুঁকে ধুঁকে রোগ পুষে শেষমেশ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার করুণ অবস্থার জন্য এই দুই কর্মকর্তার ঘুষ, দুর্নীতি , অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই দুই কর্মকর্তার অবজ্ঞা অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর দুর্নীতির কারণে ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য সেক্টর দাপুটে ঘুষের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

সেখানে পান থেকে চুন খসলেই ঘুষ দিয়ে তা মেটাতে হয়। আবার গোটা হাসপাতালের সব যন্ত্রপাতি লুটে নিতেও দরকার পড়ে ঘুষের। এই বিভাগের ডাক্তারের পদোন্নতি, বদলি বা ভালো স্থানে পদায়নের ব্যাপারে সাহায্য করলে অন্যরা বিনা দ্বিধায় প্রশ্ন করেন, ‘কত খরচ হলো?’ আর এই দুই কর্মকর্তার যেন ডাক্তারদের জন্য একটি জেলখানার সুপার। এখানে টাকা না দিলে কিছুই হয় না। প্রতিদিন এদুই কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাক্তারদের এতিমের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কেউ বসে থাকেন ফাইল কতদূর গেল তা জানার জন্য। কেউ বা বসে থাকেন পরিচালক ডাক্তার নুর মোহাম্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য।

মেধাবী মানুষগুলো দিন-রাত লেখাপড়া করে ডাক্তার হয়ে ময়মনসিংহ স্থাস্থ্য বিভাগের এই দুই কর্মকর্তার কাছে কীভাবে জিম্মি ও অসহায় হয়ে যান তা ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগে না গেলে বোঝা যাবে না। এমবিবিএস পাস করা একজন পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ, দুর্নীতি  ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তার, সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছেই মুখরোচক আলোচনার বিষয়।   এ ছাড়া ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনায় প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলিতেও চলছে ঘুষ বাণিজ্য ।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close