*  শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: দণ্ড কার্যকর গুলি করে           *  ‘পোশাক কারখানায় ঈদের ছুটি ২৮ তারিখ থেকে পর্যায়ক্রমে’           *  সুযোগ থাকলে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করব: মাইজভাণ্ডারী           *  শ্রীহীন মাহমুদউল্লাহর শৈশবের মাঠ           * ভাঙ্গায় জাল টাকা সহ ৪ প্রতারক আটক           *  তারেক জিয়ার ফাঁসির দাবিতে --জননেত্রী সৈনিক লীগের মানববন্ধন           * ‘হাটের খাজনা ১০০ টাকা হলে সারাবছর ২৫০ টাকায় গরুর মাংস’           * শাহবাগে ইমরানের ওপর আবার ‘হামলা’           * পানি কমেছে তিস্তায়, বেড়েছে তিন নদীতে           *  ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার           * হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ‘পাপ্পু’ ও ‘মিনার’            * জামায়াতের উত্তরসূরী অধ্যক্ষের কুক্ষিগত নজরুল কলেজ           * বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন (বসকো) জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী স্মরণ করে আলোচনা সভা           * শহরে ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আশরাফুল আলমের সফলতা           * ময়মনসিংহে ডিবির বিরুদ্ধে আটকের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ           * ভাঙ্গায় পরিবহন তল্লাশী করে ফেনসিডিল সহ যুবক আটক           * অস্ট্রেলিয়া আসার আগে মিরপুরে সেনা কমান্ডো মহড়া           * নবরাত্রিতে ফাল্গুনীর আয় এক কোটি ৭৫ লাখ রুপি           *  বনানীতে তরুণী ধর্ষণ: দাখিল হয়নি মামলার প্রতিবেদন           * আহমদিয়া সম্প্রদায়দের নাস্তিক ভাবা হয় পাকিস্তানে          
*  শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: দণ্ড কার্যকর গুলি করে           *  শ্রীহীন মাহমুদউল্লাহর শৈশবের মাঠ           *  ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার          

কবিগুরুই ‘নষ্টের গুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, | বুধবার, জুলাই ২৬, ২০১৭
কবিগুরুই ‘নষ্টের গুরু
ভারতের স্কুল পাঠক্রম থেকে ইংরেজি, উর্দু, আরবি শব্দাবলী, রবীন্দ্রনাথের চিন্তা, শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের উদ্ধৃতি, মির্জা গালিবের রচনা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা সংগঠন 'শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস'। একই সঙ্গে গুজরাট ও শিখ দাঙ্গার বিষয়ও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে উত্থান ন্যাস। সমালোচনার মুখে অন্যান্য বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরলেও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তার কোন শব্দ করেনি আরএসএস ঘনিষ্ঠ উত্থান ন্যাস।

জাতীয়তাবাদী মনোভাবের সঙ্গে রবীন্দ্রচেতনা খাপ খায় না, এমন অভিযোগ তুলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কিত অংশ দশম শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলে এনসিইআরটি-কে চিঠি দিয়েছিলেন সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস-এর প্রধান দীননাথ বাত্রা।

বিতর্কের মুখে ন্যাসের তরফে জাতীয় সম্পাদক অতুল কোঠারি জানান, ইতিহাস বা অন্য বিষয় পরিবর্তনের দাবি জানালেও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্যই করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে ন্যাসের নাম জড়িয়ে যা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।

এই বিষয়টি সামনে আসার পরে ন্যাসের সমালোচনা শুরু হয়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যে বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ, তা ন্যাসকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, তার পরেই বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ন্যাস।

ভারতের কেন্দ্রীয় পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই রচনা করে ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ বা এনসিইআরটি। উত্থান ন্যাস এনসিইআরটি-র কাছে পাঠানো পাঁচ পাতার একটি সুপারিশে পাঠাবই থেকে এসব বিষয় বাদ দিতে বলে। ভারতে সনাতনী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছে সংগঠনটি।

'উত্থান ন্যাস' মনে করে, হিন্দি, ইতিহাস আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভিন্ন পাঠ্যবইতে অনেক বিকৃত তথ্য, অসাংবিধানিক শব্দ রয়েছে। এমনকী চরিত্র নষ্ট করার মতো বিষয়ও পাঠ্যবইয়ে রয়েছে। হিন্দি পাঠ্যবই থেকে ভাইস চ্যান্সেলর, ওয়ার্কার, ব্যাকবোন, রয়্যাল একাডেমী, বেতরিব, তাকৎ, ঈমান, মেহমান, নওয়াজি ও ইলাকার মতো বেশ কিছু অ-হিন্দি শব্দ সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

অতুল কোঠারি বলেন, ‘আমরা মূলত হিন্দি, ইতিহাস আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে সুপারিশগুলো পাঠিয়েছি। হিন্দি ভাষায় পড়ানোর সময়ে সেখানে ইংরেজি, আরবি, ফারসি, উর্দু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এটা ভাষাবিজ্ঞানের নিয়মের সঙ্গে মেলে না। তাই সেগুলো বাদ দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, ইতিহাসের ক্ষেত্রে আরঙ্গজেবকে উদারমনা শাসক বলা হয়েছে। এটা তথ্য বিকৃতি। শিবাজিকে নিয়ে মাত্র দুইলাইন লেখা হবে কেন?’

এনসিআরটি-র কাছে পাঠানো সুপারিশে এও বলা হয়েছে, যেভাবে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা উদ্ধৃত করে জাতীয়তাবাদ ও মানবতাকে দুইটি পরস্পরবিরোধী মত বলে দেখানো হয়েছে, সেটা অনুচিত। মির্জা গালিবের একটি শের আর শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের রচনাও বাদ দিতে বলা হয়েছে।

কোঠারি আরো বলেন, এসব যেমন ছাত্রদের পড়ানো অনুচিত, তেমনই দাঙ্গার মতো বিষয়গুলোও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে রাখার কোন দরকার নেই। ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা বা গুজরাটের দাঙ্গার বিষয় এসেছে পাঠ্যবইতে। এগুলো কি ছাত্রদের পড়ানোর বিষয়? দাঙ্গা তো কতোই হয়।সেইসব বাচ্চাদের পড়িয়ে কী হবে?

শিক্ষাবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বলেন, রবীন্দ্রনাথ অসাম্প্রদায়িকতার মূর্ত প্রতীক। তার ভাবনা চিন্তা বাদ দিতে বলা হচ্ছে! এরপরে হয়তো কোনদিন শুনবো জনগণমন অধিনায়কও জাতীয় সঙ্গীত না রাখার দাবী উঠছে। গালিব বোধহয় এরকম দাবী উঠতে পারে ভেবেই লিখেছিলেন 'ডুবওয়া মুঝকো ইনহোনিনে', অর্থাৎ আমাকে ডুবিয়ে দিল। এদের লেখা বাদ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে! এটা কি সাহস না দু:সাহস কী বলব জানি না।

এই সুপারিশগুলো সামনে আসায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষা মহলে। পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পাঠক্রম কমিটির প্রধান, অধ্যাপক অভীক মজুমদার বলেন, ‘ভারতবহু ধর্ম-সম্প্রদায়ের মিলন ক্ষেত্র। কোন একটা বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতকে বিচার করতে গেলে সেটা খণ্ডিত, আংশিক হবে। আমার মনে হয় যারা এই সুপারিশ করছে, তারা ইতিহাসকেই অস্বীকার করতে চাইছেন। কেউ যদি দাঙ্গা কেন পাঠ্যবইতে থাকবে সেই প্রশ্ন তোলে, তাহলে কি তারা দেশভাগের সময়কার দাঙ্গার ইতিহাসও পড়াতে দিতে চাইছে না?’

শুধু শিক্ষা মহলে নয়, রাজনৈতিক দলগুলোও উত্থান ন্যাসের পাঠানো এইসব সুপারিশ নিয়ে সরব। বিষয়টি সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভায় উত্থাপিত হয়। শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা মনে করছেন, উত্থান ন্যাসের পাঠানো সুপারিশগুলো আসলে আরএসএসেরই চিন্তাভাবনার ফসল।




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close