* জোড়া মাথার রাবেয়া-রুকাইয়ার চিকিৎসা শুরু           * সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক : প্রধানমন্ত্রী           * তৃপ্তির ঘুমের জন্যে কিছু করণীয়           * আইএসের পতন ঘোষণা করলেন হাসান রুহানি           * পেঁয়াজের দাম আবার বাড়ল           * দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই শ্রম আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী           * ত্রিশালে তিন সাংবাদিক আটক           * শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা           * কম্বলের ভেতর মিলল সাত কেজি স্বর্ণ           *  সালমান বিবাহিত, আছে সন্তানও           * পিরোজপুরে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল শিশু ও যুবকের           * লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের চার দিন পর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার           * দীপন হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি           * নারী দেখলেই আমার কামনা জেগে উঠে           * টস হেরে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী           * পারিবারিক কলহের নির্মম শিকার আট মাসের শিশু           * কিশোরগঞ্জ-৬: আ.লীগে পাপন বিএনপিতে শরীফ           *  এসএসসির ফরম পূরণে বাড়তি টাকা আদায়ে এবারও ‘জবরদস্তি           * শিগগিরই আসছে স্যামসাংয়ের বাঁকানো ডিসপ্লের ফোন           * নতুন করে নির্বাচনের পক্ষে মের্কেল          
* পরানগঞ্জে আপদ হয়ে গেল ভাগ্নের কাছে           *  ত্রিশাল নিউজের তিন সাংবাদিক আটক           *  ভালুকায় অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন জঙ্গি আটক          

নান্দাইল হাসপাতালের ক্যাশিয়ার কোটিপতি জহিরুলের খুঁটির জোর কোথায়?

মোঃ ফজলুল হক ভূঁইয়া, নান্দাইল | বুধবার, আগস্ট ১৬, ২০১৭

নান্দাইল হাসপাতালের ক্যাশিয়ার কোটিপতি জহিরুলের খুঁটির জোর কোথায়?

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় সরকারি হাসপাতালে পিয়ন পদে চাকরি। এই চাকরিতে প্রবেশের পর তাঁকে আর পিছনে  থাকাতে হয়নি। আলাদিনের চেরাগের মতোই ধারাবাহিকভাবে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। তিনি হচ্ছেন, ময়মনসিংহের নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার মো. জহিরুল ইসলাম ভুইয়া। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে না থাকলেও হাসপাতালের প্রায় তিন শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতনভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তাঁর হাত দিয়েই হয়ে থাকে। ফলে কাউকেই তিনি পরোয়া করেন না।

কখন অফিস করবেন, আসবেন কী আসবেন না সবই তাঁর মর্জির উপর চলে। আর চলবেই না কেন? তাঁর রয়েছে উপর মহলে লম্বাহাত। কোথাও তাঁকে বদলি হতে হয় না। গত দশ বছর যাবৎ তিনি একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে চাকুরি করে আসছেন। বেসুমার অনিয়ম করেও তিনি একই স্থানে দীর্ঘ দিন ধরে চাকুরি করে আসছেন।   ক্যাশিয়ার জহিরুল ইসলামের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের দত্তগ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া।

তিনি ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ড বয়। চলতি বছরের জুন মাসে তিনি মারা যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জহিরুল ১৯৯৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার একটি হাসপাতালে পিয়ন পদের চাকরিতে যোগ দেন। এরপর ওই জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতাল ঘুরে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। সেখান থেকে গত ২০০৭ সালে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হয়ে আসেন। বিগত ৮ বছরে জহিরুল বেশ কয়েকবার বদলি হয়েও টিকে আছেন একই কর্মস্থলে।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাঁকে নান্দাইল ছাড়তে হয়নি। এখান  থেকে শুরু হয় তাঁর অবৈধ বাণিজ্য। অনুসন্ধানে চালিয়ে জানা যায়, পিয়ন পদে কর্মরত অবস্থায় তিনি অফিস সহকারীর চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় কর্মকর্তাদের আশীর্বাদ থাকায় কার্যালয়ের দাপ্তরিক ফাইলপত্র সকল কিছুই তাঁর হস্তগত হয়। বদলির নির্দেশ এলে নিজ বেতনে অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন মর্মে অঙ্গীকার করে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি যোগাড় করে বিশেষ উপায়ে থেকে যান। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিন বছর তিনি এভাবে এখানে আছেন।

২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জহিরুল ইসলাম ক্যাশিয়ার পদে পদোন্নতি পেয়ে, ওই পদের দায়িত্ব নিয়ে কর্মরতদের বেতন ভাতা ছাড় করানোর নামে অর্থ বাণিজ্য  শুরু করেন। তাঁর হাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৬৬ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্বাস্থ্য সহকারী ও চিকিৎসকগণ তাঁর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। নানা অজুহাতে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে টাকা কর্তন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় পেয়ে তিনি এসব অপকর্ম করতে সাহস পান। টানা আট বছর এসব অপকর্ম করে ধরা পরেন গত জুন মাসে। ওই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাজুল ইসলাম খান বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান।

তখন থেকে ক্যাশিয়ার জহিরুল ইসলামের নানা অপকর্ম, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রকাশ পেতে থাকে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গত ১৫ জুলাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠ কর্মচারীরা নতুন যোগদান করা  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুপম ভাট্টাচার্যকে বরণ করার জন্যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আবেদিন খান। সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগীয় মাঠ-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম টিপু অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও  সহকারী মিলে ৭৬ জন কর্মরত রয়েছেন। গত জুন মাসে ৭৬ জনের নামে চিত্তবিনোদন ভাতা আসে।

কিন্তু উক্ত ভাতা ছাড় করাতে মাথাপিছু ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দাবি করেন ক্যাশিয়ার। যারা উৎকোচ দিতে পেরেছেন তারা ভাতা পেয়েছেন। অন্যদের টাকা সরকার কোষাগারে ফেরৎ যায়। মাঠকর্মী টিপু যখন এ অভিযোগ করছিলেন তখন ক্যাশিয়ার জহিরুল ওই সভায় উপস্থিত থাকলেও টু শব্দটি করেননি। এ ছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন নারী কমিউিনিটি হেলথ প্রোভাইডারের (সিএইচপি) কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর রেখে বেতনের ১৬ হাজার ৭০০ টাকা মেরে দেন। প্রকাশ্য সভায় এ ধরনের দুনীতির অভিযোগ শুনে সভায় উপস্থিত সাংসদ মো. আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন ঘটনাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। ২৫ জুলাই তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অভিযোগকারীদের কাছ থেকে বক্তব্য সংগ্রহ করে। তদন্তস্থলে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, অভিযোগকারীরা কমিটির কাছে ক্যাশিয়ার জহিরুলের বিরুদ্ধে মৌখিক ও লিখিত আকারে অভিযোগ জমা দেন। এ বিষয়ে নান্দাইল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনুপম ভট্রাচার্য বলেন, ‘আমি যোগদান করেছি গত এক মাস আগে। তার আগে যাই ঘটুক না কেন এখন সবকিছুই নিয়মের মধ্যেই হবে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না।

তাছাড়া গত মঙ্গলবার তদন্ত টিম জহিরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভুক্তভোগিদের ডেকে লিখিত আকারে অভিযোগ নিয়েছেন। এখন আগামি ২/১ দিনের মধ্যে তদন্ত টিম তাঁদের প্রতিবেদন জমা দিবেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জহিরুল ইসলাম নান্দাইল পৌরসভার পাঁচপাড়া মহল্লায় নির্মাণ করছেন চারতলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন। ছয় শতক জমির উপর দোতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে ওই এলাকায় জমির মূল্য প্রতি কাঠা (১০ শতক) ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। নান্দাইল হাসপাতাল মার্কেটে অবস্থিত ‘ল্যাবটেন’ নামের একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে জহিরুলের শেয়ার রয়েছে। নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে নির্মাণাধীন ভবনের দোতলায় ‘নান্দাইল প্রাইভেট হাসপাতাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে জহিরুলের বড় অংশের মালিকানা। অন্যদিকে নান্দাইলে চাকরি করা কালীন গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৩০০ শতক জমি নামে-বেনামে ক্রয় করেছেন। ফসলি জমি হলেও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ৩০০ শতক জমির মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকার মতো। জহিরুলের নিজ গ্রাম দত্তগ্রামে গেলে জহিরুলের কয়েক জন স্বজন দাবি করেন, এসব জমিজমা অবসর ভাতার অর্থ দিয়ে জহিরুলের বাবাই ক্রয় করেছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জহিরুল নান্দাইলে চাকরিতে যোগদান করার পর থেকেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে।

ময়মনসিংহ জেলা শহরের বলাশপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কলোনিতে সরকারি জমি পেয়েছেন তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। জহিরুল ওই জমিতে তিনতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন।  দু’তলার কাজ চলছে।ওই কলোনিতে বসবাসকারী দুইজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সরকারি জমি নিচু হওয়ায় গৃহ নির্মাণের উপযোগী করতে তাদেরকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। তারপরও সেখানে দালান নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতিকালে জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বর্তমানে জহিরুল তার অপকর্ম ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট দফতরের একাধিক সূত্র জানায়। সচেতন মহলের প্রশ্ন সরকারী চাকরি করে জহিরুল কি ভাবে কোটি পতি বনে গেলে সবার মনে একই প্রশ্ন উঠেছে।




 




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close