*  নিজ বাড়িতে নকলা উপজেলা চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত লাশ           *  অন্ধত্বঃ ‘মার্কিন সামাজ্র্যবাদ’ বুলি--মাহমুদুল বাসার           * ইসি সংলাপে কোনো প্রস্তাব দেয়নি মঞ্জুর জেপি           *  এবার আফগান সেনাঘাঁটিতে তালেবান হামলা, নিহত ৪৩           *  মাননীয় আদালত, আমি কার কাছে যাব: খালেদা           *  গৌরীপুরে নৌকার আগামী সম্ভাবনা           * ফরিদপুরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান           * আবারও সুযোগ পেলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো- এমপি সালাহউদ্দিন মুক্তি           *  ২৪ বছর ধরে কথা বলেন না সানি-শাহরুখ            * ‘ভূমি’তে ব্যর্থ সঞ্জয় বাদ পরবর্তী ছবিতে           * জামালগঞ্জে কিশোরীদের বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ           * বিমানবন্দরে জড়ো হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা           * রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাশিয়া-চীনও পাশে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী           * সিইসিকে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ আ.লীগের           * বাণিজ্যিকরণে মিলবে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল’           * লিটন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান, কিপিংয়ে মুশফিক!           * মিয়ানমারের ‘কৌশলগত’ বন্দরের ৭০% মালিকানা পাচ্ছে চীন           * ভোটের আগে কেনিয়ায় নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ           *  বঙ্গবন্ধুর পিএস অনুর মৃত্যু, প্রধানমন্ত্রীর শোক           *  ভালুকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশ গুলিবিদ্ধ          
*  নিজ বাড়িতে নকলা উপজেলা চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত লাশ           *  গৌরীপুরে নৌকার আগামী সম্ভাবনা           *  ভালুকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশ গুলিবিদ্ধ          

ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন প্রসঙ্গে

মাহমুদুল বাসার | সোমবার, অক্টোবর ২, ২০১৭

ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন প্রসঙ্গে
ফুটপাতে ফুলের গল্প

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং ধর্মের অপ-ব্যাখ্যা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অশুভ শক্তি এখনো ধর্মভিত্তিক জাতি অথবা রাষ্ট্রগঠনের চেষ্টায় লিপ্ত, যা আমরা লক্ষ্য করি। কিন্তু বিশ্ববাসীকে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
    এক পূঁজামন্ডপে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আরো বলেছেন, ‘অতীতে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে বহু সংঘাত হয়েছে, যুদ্ধ হয়েছে, মনুষ্যত্ব, ভ্রাতৃত্ব বোধ, সহমর্মিতা ভূলুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এখনো প্রত্যক্ষ করছি, একটি অশুভ মহল ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্ম নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষতা হবে একটি জাতি ও দেশ গঠনের ভিত্তি। কোনো একক ধর্ম নয়, বরং সব ধর্মের অনুসারীদের নিয়ে গড়ে তুলতে হবে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সৌহার্দ্যময় সমাজ ও রাষ্ট্র। যেখানে সব ধর্মের লোক পারম্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরমত সহিষ্ণুতা, উদার দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে ভিন্নতা থাকবে, তবে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সহ সব ধর্মের অনুসারীদের চেতনা ও মূল সুর একই। অনেক রক্তের বিনিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশীল দেশ হিসেবে, বাংলাদেশকে গড়ে তোলা।’ (যায় যায় দিন-৩০/০৯/২০১৭)।
    মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতির অভিভাবক হিসেবেই কথাগুলো বলেছেন, যার মূল্য অশেষ। আমরা জানি তিনি ব্যক্তিগত ভাবে নাগরিক হিসেবে ‘বাংলাদেশি’, জাতি পরিচয়ে ‘বাঙালি’ এবং ধর্ম পরিচয়ে মুসলমান তদুপরি সুন্নী মুসলমান। কিন্তু রার্ষ্টের অভিভাবক হিসেবে তাকে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলতেই হবে। ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব মূলক কোনো বানী তিনি দিতে পারেন না।
    রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে বসে কোনো নাগরিককে ধর্ম পরিচয়ের মাপকাঠিতে ফেলে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা রাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী। রাষ্ট্র যদি ধর্ম নিরপেক্ষতাকে পরিহার করে ধর্মকে আশ্রয় করে তাহলে পদে পদে স্ববিরোধিতা আর প্রবঞ্চনার পরিচয় দিতে থাকবে। অতীত কাল থেকে রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ধর্মনিরপেক্ষতা ছাড়া রাষ্ট্র হয় না, সমাজ হয় না, সভ্যতা হয় না।
    এ কথা মানতে হবে, ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র ফ্যাসিরাদী রাষ্ট্র। সব ক্ষেত্রে ধর্মকে প্রধান্য দিতে গেলে সকল নাগরিকদের ওপর সুবিচার করা, সমানভাবে বিকাশের সুযোগদান করা সম্ভব হয় না। ইংরেজ আমলে মুসলমান হওয়ার অপরাধে সমান সুযোগ সুবিধা পেতো না বলে অভিযোগ উঠেছিলো, এর নিরসন হলো পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু ভারত ভাগেও মূল সমস্যাটা মিটলো না। পাকিস্তানে থেকে গেলো সংখ্যায় লঘু হিন্দু সম্প্রদায়। তাদের ওপর প্রয়োগ করা হলো বৈষম্যমূলক নীতি। হিন্দু হওয়ার অপরাধে তারা হলো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পরিষ্কার ঘোষণা করা হলো, কোনো হিন্দু পাকিস্তানে রাষ্ট্র প্রধান হতে পারবে না। ২৩ বছর পাক শাসকদের চোখে হিন্দু সংখ্যা লঘুরা শত্রু বলেই পরিগণ্য ছিলো।
    আমাদের দুই মহান জাতীয় নেতা শেরেবাংলা এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঐতিহাসিক ভাবে পেছনে পড়া বাঙালি মুসলমানদের টেনে তুলবার রাজনীতি করলেও কখনোও জিন্নাহের দ্বি-জাতি তত্ত্বের রাজনীতি করেন নি। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তানে এসে হিন্দু ছাত্র প্রতিনিধিদেরসঙ্গে দেখা করতে চাননি; এই তথ্য পেয়েছি সন্তোষগুপ্তের একটি প্রবন্ধে (রক্তাক্ত বাংলা)। অথচ তিনি ছিলেন পাকিস্তান রার্ষ্টের জনক ও অভিভাবক। তিনি প্রথম গণপরিষদ অধিবেশনে বলেছিলেন, ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। এসব তাঁর মনের কথা ছিলো না। বরং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দ্বি-জাতি তত্ত্বের কোনো প্রয়োজন নেই। এমন কি তিনি ‘মুসলিম লীগ’ নামের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। যাতে অমুসলমানরাও একটি সংগঠনের অর্ন্তভুক্ত হতে পারে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানে যুক্ত নির্বাচন প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা ছিলেন।
    ধর্মরাষ্ট্রের নামে আইএস মধ্যপ্রাচ্যে এবং ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বে অবলীলায় মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে। আইএস গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত তারা কমপক্ষে ২০ লাখ নর-নারী, শিশু, বৃদ্ধ হত্যা করেছে। আইএস সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নর-নারীর ওপর, তাঁরপর শিয়াদের ওপর। যারা ইসলামিক স্টেট গঠন করতে চায় তাঁরা তাদের শিবিরে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীদের যৌনদাসী বানিয়েছে। নাইজেরিয়ায় বোকোহারাম নামক জঙ্গি গোষ্ঠীটি পাশ্চাত্য শিক্ষা বিরোধী। নাইজেরিয়ার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তারা ধংস করে দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ শিশুকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ভিন্নধর্মীদের ওপর তারাও পাশবিকতা চালিয়েছে। এরা যদি তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গঠন করে তাহলে সে স্টেট হবে মধ্যযুগীয়।
    বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে ধর্মব্যসার নিদারুন অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি কোনো বিশেষ ধর্ম হবে না, হবে ধর্মনিরপেক্ষতা।’ ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে স্থান দিয়ে বাংলাদেশের সকল ধর্মের নাগরিকদের সমান মর্যাদা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ধর্মনিরপেক্ষতার মহাজনী ব্যাখ্যা দেননি, দিয়েছিলেন সরল ব্যাখ্যা। বলেছিলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। কেউ বাধা দিতে পারবে না।’
    বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার অপ-ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ওজনদার তাত্ত্বিকরা। ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা রূপে প্রচার করেছিলেন মওলানা ভাসানী এবং মুসলিম লীগের ছদ্মবেশি সাম্প্রদায়িক শক্তি। একটি আধুনিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছি। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন করার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ অকাতরে রক্ত দেয়নি। ৩০ লক্ষ শহীদের বুকের ওপর ধর্মের বিভাজন ভিত্তিক সংবিধান মেনে নেওয়া যায় না, সংবিধানের মতো জাতীয় দলিলে বিসমিল্লাহ , রাষ্ট্রধর্ম সংযোজন তো ধার্মিকদের কাজ নয়, সামরিয়ক শাসকদের রাজনৈতিক অপকৌশল। রাষ্ট্রে এক দেহে প্রতিটি নাগরিককে লীন হবার প্রধান অন্তরায় ধর্মভিত্তিকতা। সংবিধানকে ধর্মে রূপান্তরিত করে সংখ্যালঘুদের মৌখিক সান্ত¡না দেয়া প্রতারণা করা ছাড়া কিছুই না। এখনো বাংলাদেশের সংখ্যা লঘুরা সাংবিধানিক ভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। তাই বিবেকের মধ্যে কষ্ট পাই। আমরা আমাদের জীবদ্দশায় ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পারবো কিনা সন্দেহ। বাঙালি জাতি অনেক অসাধ্য সধন করেছে; একদিন ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানও প্রতিষ্ঠা করবে।
    আমাদের জীবদ্দশায় দেখলাম, মিয়ানমারে ধর্মরাষ্ট্র গঠনের পাশবিক ঘটনা। মুসলমান হওয়ার অপরাধে বৌদ্ধ উগ্র পন্থীরা, বৌদ্ধ শাসকরা নিরীহ মানুষকে জন্মভূমি থেকে উৎখাত করলো, নদীতে ডুবিয়ে মারলো, গুলি করে মারলো, আগুনে পুড়িয়ে মারলো। দেখলাম, ভারতে মুসলমানরা এক টুকরো গরুর মাংস খেতে পারে না। ক্ষমতায় হিন্দুত্ববাদী শাসক থাকার কারণে ভারতে গরু জবাইকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত, বর্বরতম ঘটনা ঘটেছে। ধর্মনিরপেক্ষ শাসক থাকলে এমন ঘটনা ঘটতো না। পাকিস্তানে কাদিয়ানীদের হত্যা করা হয়েছিল সাম্প্রদায়িক দৃষ্টি ভঙ্গিতে।
    এ কথা অবিসংবাদিত ভাবে সত্য যে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতিও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি সবকিছু ধর্মনিরপেক্ষ। কম্পিউটার কোনো শাস্ত্রবিদের আবিষ্কার নয়, বিজ্ঞানীর আবিষ্কার। ড. অর্মত্য সেন ধর্মবিদ নন অর্থনীতিবিদ। ক্রিকেট খেলার মাঠে ধর্মের নৈপুণ্য দেখানো হয় না, খেলার নৈপূণ্য দেখানো হয়। তবে মানুষের নৈতিকতা গঠনে ধর্মের অবদান যথেষ্ট। তাই ধর্ম  ব্যক্তির,  রাষ্ট্র সকলের। এ কথাটি মওলানা আবুল কালাম আজাদের।ূ

মাহমুদুল বাসার
কলাম লেখক ও গবেষক।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close