*  নিজ বাড়িতে নকলা উপজেলা চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত লাশ           *  অন্ধত্বঃ ‘মার্কিন সামাজ্র্যবাদ’ বুলি--মাহমুদুল বাসার           * ইসি সংলাপে কোনো প্রস্তাব দেয়নি মঞ্জুর জেপি           *  এবার আফগান সেনাঘাঁটিতে তালেবান হামলা, নিহত ৪৩           *  মাননীয় আদালত, আমি কার কাছে যাব: খালেদা           *  গৌরীপুরে নৌকার আগামী সম্ভাবনা           * ফরিদপুরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান           * আবারও সুযোগ পেলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো- এমপি সালাহউদ্দিন মুক্তি           *  ২৪ বছর ধরে কথা বলেন না সানি-শাহরুখ            * ‘ভূমি’তে ব্যর্থ সঞ্জয় বাদ পরবর্তী ছবিতে           * জামালগঞ্জে কিশোরীদের বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ           * বিমানবন্দরে জড়ো হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা           * রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাশিয়া-চীনও পাশে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী           * সিইসিকে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ আ.লীগের           * বাণিজ্যিকরণে মিলবে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল’           * লিটন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান, কিপিংয়ে মুশফিক!           * মিয়ানমারের ‘কৌশলগত’ বন্দরের ৭০% মালিকানা পাচ্ছে চীন           * ভোটের আগে কেনিয়ায় নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ           *  বঙ্গবন্ধুর পিএস অনুর মৃত্যু, প্রধানমন্ত্রীর শোক           *  ভালুকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশ গুলিবিদ্ধ          
*  নিজ বাড়িতে নকলা উপজেলা চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত লাশ           *  গৌরীপুরে নৌকার আগামী সম্ভাবনা           *  ভালুকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশ গুলিবিদ্ধ          

চালে চালবাজী : সংশ্লিষ্টদের চৈতন্যোদয় হোক

মীর আব্দুল আলীম | বুধবার, অক্টোবর ৪, ২০১৭
চালে চালবাজী : সংশ্লিষ্টদের চৈতন্যোদয় হোক
চালের চালবাজী নিয়ে লিখবো তাই আমার ফেসবুক ওয়ালে ঘোষণা দিয়ে সকলের মন্তব্য চায়েছিলাম। সাংবাদিক, ব্যবসায়ি, শিল্পপতি, শিক্ষক, উকিল, ডাক্তার অনেক অনেক মন্তব্য করেছেন। একটি মন্তব্য ভালো লাগলো আমার। বেশ মনে ধরেছে। মাসুম খান নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন- “এক দল খায় (গরীব), আর এক দল খাওয়ায় (বড় লোক)। চালবাজি! সেটাতো বড় লোকদের ব্যবসা। করতে দেন ভাই, করতে দেন! বড় লোকের পেটে লাথি মাইরেন না।” বিষয়টা হয়তো এমনই। চালবাজী বন্ধ হলে বড়লোকের পেটেই লাথি পরবে। প্রশ্ন হলো চালবাজীতো হচ্ছে অনেক দিন ধরে, বন্ধ হচ্ছে না কেন? চালবাজী করতে করতে চালে দুর্ভিক্ষ লাগিয়ে দিবে নাকি চালবাজরা? হঠাৎ করেই চালের সংকট এটা একেবারেই অবিশ্বাস্য । সঠিক ভাবে চালের গুদাম গুলো পর্যবেক্ষণ, চালের বড় ব্যাবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই থলের বিড়াল বের হয়ে যাবে। এমন মন্তব্য করেছেন আরেক ফেসবুক বন্ধু।
বাস্তবতই চালের বাজার সীমাহীন অস্থিরতা চলছে। কোনোভাবেই যেন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কয়েক দফা শুল্ক কমিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কয়েক লাখ টন চাল আমদানি করা হলেও বাজারে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই। এতে প্রভাবশালী চাল ব্যাবসায়ীরাই লাভবান হয়েছেন। বিশ্ববাজারে কিন্তু চালের দাম বাড়েনি।  সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চালের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। বিপুল পরিমাণ চাল সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আমদানি করা হয়েছে। আরও আমদানি করা হচ্ছে। দেশে চালের কোনো রকম সংকট নেই। তাহলে চালের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না কেন?
অনেকটা রহস্যজনকভাবে চালের দাম বেড়েছে। ২৫ টাকার চাল লাফাতে লাফাতে কোথায় উঠেছে? সরকার তাতে বিব্রত তা আমরা বুঝি। চালের দাম কমানোর জন্য সরকার মরিয়া হয়ে ওঠে। এর অংশ হিসাবে চালের আমদানি শুল্ক ১৮ শতাংশ কমানো হয়। ফলে প্রতি কেজি চালের আমদানি খরচ ছয় টাকা কমেছে। কিন্তু তাতেও চালের দাম না কমে উল্টো অনেক বেড়েছে। এভাবে চালের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রশ্ন হলো ‘এখানো কারা চাল নিয়ে খেলছে? যারা খেলাটা খেলেছে তাদের চিহিৃত করে নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?  আমাদেও দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে, সব সময় কিছু অসাধু মানুষ, গরিব মানুষকে নিয়ে খেলে। এ খেলা আগে বন্ধ করতে হবে। বলা বাহুল্য, বর্তমানে দেশের কোথাও এত বেশি চালের সংকট নেই। তবু এক ধরনের সংকট তৈরির অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। চাল নিয়ে এই অনৈতিক কারসাজিকে ক্ষুদ্রভাবে নেওয়ার অবকাশ নেই। তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।
চালের দাম আরো বাড়তে পারে, এমন গুজবও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাধারণ মানুষের মনে আশংকা তৈরি হচ্ছে যে অচিরেই চালের বাজার সাধারণের আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে কি না। চালের বাজারের এমন অস্থিরতায় সাংবাদিকদের দুষছেন মন্ত্রীরা। আর ‘চালের কেজি ৭০-৮০ টাকায় ওঠানোর চেষ্টা হচ্ছে’-খাদ্য মন্ত্রী তাইতো বললেন সেদিন। চালের চলের দাম বাড়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেই যত দোষ। এই সত্য সংবাদ প্রকাশ করলে আপনারা বলেন, সংবাদ প্রকাশ করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সঠিক সংবাদ প্রকাশ যদি ‘আতঙ্ক ছড়ানো’ হয়, তবে কেজি ৭০-৮০ টাকা ওঠানোর চেষ্টা এমন জাতীয় মন্ত্রীর বক্তব্য কত বড় আতঙ্ক ছড়ায়? মাননীয় মন্ত্রী একথা বলা কি আপনার কাজ? প্লিজ মন্ত্রী যারা ‘৭০-৮০ টাকা ওঠানোর চেষ্টা করছে’ আপনি নিশ্চয়ই আপনি তাদেও আঁচ করতে পারছেন। হতো তাদের চেনেন, জানেন। প্লিজ প্লিজ তাদের নিয়ন্ত্রণ কর”ন। ওদের অপচেষ্টা প্রতিহত কর”ন। এ দেও বির”দ্ধে ব্যবস্থা নিন। এ কাজটি কি আপনার করা উচিৎ নয়?  
এভাবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভালো লক্ষণ নয়। পত্রিকার খবরে জানা যায়, আমাদের দেশেই নাকি চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এ নিয়ে বিরোধীদলও রিতিমত রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। চালের মূল্য বেশির দেশ গুলোর মধ্যে আমাদের পরের স্থানই নাকি দখল করে আছে পাকিস্তান, যা বাংলাদেশের চেয়ে ১০ টাকা কম। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে সস্তায় চাল বিক্রি করছে ভিয়েতনাম। প্রশ্ন হচ্ছে, চালোর দাম এভাবে বাড়ছে কেন? এই দাম বৃদ্ধি কি স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক? সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, হাওরে বোরো ধানের আবাদ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে। সরকারের তরফ থেকে চালের দাম বৃদ্ধির খবরকে অস্বীকার করা হয়নি। তবে আমরা মনে করি, যথেষ্ট পরিমাণ চাল মজুত থাকলে হাওরের দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে কঠিন হতো না। চালের পর্যাপ্ত মজুত না থাকার জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়কে। অনেকে মনে করছেন, খাদ্যমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে যে ব্যর্থতা দেখিয়েছেন তাতে তার পদত্যাগ করা উচিত।
দেশে ভোক্তাস্বার্থ বলে কিছু নেই। যদি থাকতো তাহলে চালের বাজারে এমন অরাজক তৈরি হতো না। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের এমনিতেই কোনো ছলের অভাব হয় না। চালের ক্ষেত্রেও নানা কারণ তারা সামনে এনেছে। এবার চালের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বাজারে মোটা চালই এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। সরু চালের কেজি ৬০ টাকা ছাড়িয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটা চালের দাম রেকর্ড ভাঙায় নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোটা চালের কেজি ৪০ টাকা এবং সরু চাল ৫৬ টাকায় উঠেছিল।
এদেশ চালের দম বাড়ে, ডালের দম বাড়ে, বেগুন, তেল লবন চিনির দাম বাড়ে। কারনে বাড়ে, আকারণে বাড়ে। চালের দাম বেড়েতো আকাশ ছুঁয়েছে। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশের বাজারে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৪২.১৯ শতাংশ। মোটা চালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সরু চালের দামও। চালের বাজার বলতে গেলে বেসামাল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মোটা চালের দাম বেশি রেড়েছে। সরু চালের দাম বাড়লে উচ্চবিত্তের তেমন সমস্যা হয় না, যত আপদ বিত্তহীনদের ওপর। এভাবে কেন বাড়লো চালের দাম? এর অনেক ব্যখ্যা আছে। যে যার মতো কওে ব্যখ্যা দিচ্ছেন।  চাহিদা অনুপাতে চালের জোগান যে কম সে কথা বলা যাচ্ছে না। বাজারে চাল আছে। কেউ কেউ মনে করছেন, চালের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে। চাল সিন্ডেকেট চক্রের হাতেই চালের মজুত রয়েছে। এরাই অব্যহত ভাবে চালের দাম বাড়িয়ে চলেছে। এদিকে দেশে চালের দাম অব্যাহত বৃদ্ধির কারণ স্পষ্ট করতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী। তবে চাল মিল মালিক সমিতির দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, মিলারদের চালের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং চাল বিতরণ দফায় দফায় বাড়ছে চালের মূল্য। চালের দাম সাধারণ মানুষের মধ্যে রাখার জন্য খোলাবাজার সরকারি উদ্যোগে চাল নিযে কর্মসূচি বন্ধ থাকার কারণে চালের বাজারে বিরাজ করছে অস্থিতিশীলতা। হাওর অঞ্চলের দুর্যোগকেও চালের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অথচ চলের বাজারে এর প্রভাব পড়ার কোনোই কারণ নেই বলেই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাজারে নতুন ধানও এসেছে। এ সময় চালের দাম নেমে আসে। এরপরও দাম কেন বাড়ছে?
আসলে, চালের দাম বাড়ার কোনো সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে চালের দাম বৃদ্ধির কোনো সুফল কিন্তু কৃষকরা পাচ্ছেন না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের দাম বাড়িয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষক মেরে লাভবান হচ্ছেন। দেশের বেশ কিছু বড় চালকলের মালিক এই দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্য দিকে অনেক মিলের মালিক আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি সরকারি গুদামে চাল সংগ্রহ অভিযানকে এ অবস্থার জন্য দায়ী করেছেন। এ জন্য আরেকটি কারনও চালকল মালিকরা দেখিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল পাইকারি বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে নানা জায়গায় চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, চাঁদাবাজি এখন অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। এই চাঁদাবাজির টাকা এখন চালের দাম বাড়িয়েও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। সরকারিভাবে বলা হয়েছে, দেশে ধান-চালের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে ধানের বাম্পার ফলন হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এখন চালের দাম স্থিতিশীল থাকার কথা।
প্রশ্ন হচ্ছে, চালোর দাম বাড়ছে কেন? এই দাম বৃদ্ধি কি স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক? সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, হাওরে বোরো ধানের আবাদ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে। সরকারের তরফ থেকে চালের দাম বৃদ্ধির খবরকে অস্বীকার করা হয়নি। তবে আমরা মনে করি, যথেষ্ট পরিমাণ চাল মজুত থাকলে হাওরের দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে কঠিন হতো না। চালের পর্যাপ্ত মজুত না থাকার জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়কে। অনেকে মনে করছেন, খাদ্যমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে যে ব্যর্থতা দেখিয়েছেন তাতে তার পদত্যাগ করা উচিত। সরকার আশা করেছিল, বাজারে বোরো ধান এলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু নতুন চালেও সরকারের আশা পূরণ হয়নি। এখন সরকার আশা করছে চাল আমদানি করা হলে এর দাম কমবে। এক্ষেত্রেও হতাশার খবর মিলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়ছে। সরকার চাল আমদানি করতে করতে এর দাম আরও বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আমরা মনে করি, সর্ব্ব প্রথম সিন্ডিকেটওয়ালাদের চালবাজী বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্টদের নজরদারি কম বলেই মনে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড়ে খাদ্যশক্তির (ক্যালরি) ৬৫ শতাংশ আসে চাল বা ভাত থেকে। আর প্রতিদিন তারা খাবারের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করে, তার ২৭ শতাংশ যায় চাল কিনতে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দাম বাড়লে গরিব মানুষ ভাত খাওয়া কমিয়ে দিতে হয়। ইফপ্রির জরিপে এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে প্রতি কেজি চালের দাম ৩৮ টাকায় উঠেছিল। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রতি কেজি চাল ছিল ৩৬ টাকা। এরপর ২০০৯ সালে ধানের বাম্পার ফলনের পর দেশে চালের দাম কমতে থাকে। ২০১২ সালে প্রতি কেজি চাল ২৬ টাকায় নেমে আসে। ২০১৪ সালের পর চালের দাম আবারো বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে ৩০ এবং ২০১৫ সালে ৩৩ টাকায় ওঠে চালের দাম। ২০১৬ সালে মোটা চাল ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এভাবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভালো লক্ষণ নয়। পত্রিকার খবওে জানা যায়, আমাদেও দেশেই নাকি চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এ নিয়ে বিরোধীদলও রিতিমত রাজনীতি শুর” করে দিয়েছে। চালের মূল্য বেশির দেশ গুলোর মধ্যে আমাদের পরের স্থানই নাকি দখল করে আছে পাকিস্তান, যা বাংলাদেশের চেয়ে ১০ টাকা কম। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে সস্তায় চাল বিক্রি করছে ভিয়েতনাম। সেখানে চালের দাম গড়ে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা ৬২ পয়সা। প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি কেজি চালের দাম ৩৪ টাকা ৪৩ পয়সা, থাইল্যান্ডে ৩৭ টাকা ৮১ পয়সা ও পাকিস্তানে ৩৮ টাকা ৫৪ পয়সা। সরকারি হিসাবেই দেশে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। চালের এই দরও দেশের মধ্যে নতুন রেকর্ড। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চালের দামটা বেশি বেড়েছে গত ৫ মাসে। প্রতি মাসেই সব ধরনের চালে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে। দাম বাড়তে বাড়তে তা এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার এবং টিসিবির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত জানুয়ারিতে মোটা চালের (স্বর্ণা এবং পারিজা) কেজি ছিল ৪০ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ৪২ টাকা। এরপর মার্চে ৪৪ টাকা, এপ্র্রিলে ৪৬ টাকা এবং মে মাসে এসে হয় ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা। আর জুন মাসে সেটি ৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ গত বছরের জুনেও এক কেজি মোটা চাল ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এভাবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায়, সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। যারা সচ্ছল ও সম্পদশালী, চালের দাম বৃদ্ধিতে হয়তো তাদের গায়ে খুব একটা লাগে না। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও লোকলজ্জার ভয়ে কিছু বলতে পারে না বা কোনো না কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু রাজধানীসহ সারা দেশের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। তাদের সংসারের খরচ বেড়েছে, তাই এখন তারা ভাত খাওয়া কমিয়েছে আগের চেয়ে।
আমরা মনে করি, বিত্তহীনদের ব্যাপারে সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে। বাজারে কীভাবে চালের দাম কমিয়ে আনা যায় সেদিকেই সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজর দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অতি মুনাফাখোর লোভী ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে এ দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। ভাতনির্ভর দেশের মানুষ যদি চাহিদামতো চাল কিনতে না পারে তবে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে? তাই সরকারের উচিত চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা এ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চাই।

- লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close