*  মাদারীপুরে স্পিডবোট ডুবি, তিন যাত্রীর লাশ উদ্ধার           * ভোট পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ           *  গাজায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নিহত ৭           *  বগুড়ায় নৌকা চান অপু           *  ফরিদগঞ্জে হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন           * খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন           * তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ           * অনাহারে নয়, সমৃদ্ধির পথে এগোবে ইরান           *  জানুয়ারির আগেই রাজশাহী হবে পলিথিনমুক্ত           * দেশের দীর্ঘতম রেলপথ চালু, আন্তঃনগর ট্রেন পেল পঞ্চগড়           *  নকিয়ার ছয় ক্যামেরার ফোন           *  একাদশে মোস্তাফিজ, অভিষেক হতে পারে মিঠুনের           * ভ্রু কাঁপানো সেই প্রিয়াকে নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড            * আফ্রিদি-ফাখরের কাছে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড            * গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির            * যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারীর অবস্থান কোথায়?           * নির্বাচন নিয়ে কারো হতাশা থাকার কথা নয়: কাদের           * মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু          
* খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন          

ক্রসফায়ারে নিহত বন্দুক শাহীনের উত্থান যেভাবে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, | শনিবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৭

ক্রসফায়ারে নিহত বন্দুক শাহীনের উত্থান যেভাবে
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন ছিলেন জেলার আলোচিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীদের একজন। প্রকাশ্য মাদক বিকিকিনির এ হোতা শহরের মাসদাইর এলাকাতে নিজ বাড়ি ‘রঙ মহলে’ বসে পরিচালনা করতেন মাদক ব্যবসা।

এ আস্তানায় হানা দিতে গিয়ে বেশ কবার মারধরের শিকার হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে প্রতিদিনই হাজির হতো বিভিন্ন এলাকার মাদকের খুচরা ব্যবসায়ীরা।

বিএনপির রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা বন্দুক মনির ছিলেন পুর্লিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সবশেষ ২০০৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর শাহীনকে জেলা ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার  করেছিল। এরপর তাকে আর জেলহাজতে যেতে হয়নি। অবশেষে শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি।

শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাসদাইর এলাকার আব্দুল জলিল ভূঁইয়ার ছেলে। শাহীনের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ১২টির বেশি মামলা রয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধে মনিরের নিহত হওয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মো. শরফুদ্দিনের ভাষ্য, ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের গলাচিপা এলাকায় বন্দুক শাহীনের মাদকের আস্তানায় অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় শাহীন ও তার সহযোগীরা। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে শাহীন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

শাহীন যেভাবে বন্দুক শাহীন

একসময় ভালো ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে সুখ্যাতি পেয়েছিলেন শাহীন। নব্বইয়ের দশকের শেষ সময়ে স্থানীয় ক্যাডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে পুলিশের একটি থ্রি নট থ্রি বন্দুক লুট করার পর শাহীনের নামের সঙ্গে ‘বন্দুক’ শব্দটি যুক্ত হয়।  
 

বিএনপির শেল্টার

এলাকায় বন্দুক শাহীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের লোক বলে পরিচিত। গলাচিপা থেকে মাসদাইর বাজার যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটি দেয়ালে শাহীনের সঙ্গে গিয়াসউদ্দিন, আবুল কামাল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সর্দার ও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার ছবি আঁকা রয়েছে। প্রতি বছর সেই ছবিগুলো নতুন করে আঁকা হয় বলে জানান এলাকাবাসী। পুরো এলাকাটিই ছিল বন্দুক শাহিনের মাদক স্পট।

আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী

২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪-দলীয় জোট সরকার গঠন করলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন বিএনপিদলীয় এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের শেল্টারে শাহীন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এ সময় ওপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযানে গ্রেপ্তার হলেও গিয়াস উদ্দিনের তদবিরে রক্ষা পেয়ে যান। ফিরে এসে এলাকায় চাঁদাবাজির পাশাপাশি ছোট বোনের স্বামী তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আসলা কে নিয়ে  শহরের কলেজ রোড এলাকায় শুরু করেন ফেনসিডিলের ব্যবসা। ২০০৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতা বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের আপন ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার খুনের মামলায় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এবং শাহীন আসামি হয়।
শাহীনের মাদক ব্যবসায় প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পায় ‘৪ খলিফা’খ্যাত তার আপন দুই ছোট ভাই মামুন ওরফে বাবা মামুন, মাসুমসহ ইভান ওরফে বাবা ইভান এবং খাজা রনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গলাচিপা ও মাসদাইর এলাকাতে প্রকাশ্যে মাদক বিকিকিনি চলে, যার প্রধান হোতা শাহীন। ২০১৪ সালে ৭ খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন দেশ ত্যাগ করলে পুরো জেলার ইয়াবা ও ফেনসিডিলের একক আধিপত্য চলে আসে বন্দুক শাহীনের কাছে। শতাধিক খুচরো বিক্রেতা প্রকাশ্যেই এসব মাদক ব্যবসা করে থাকে।

এলাকাবাসী জানান, গলাচিপা এলাকার আউয়াল চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে মাসদাইর বাজার পর্যন্ত মোট পাঁচটি এলকায় মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করেন বন্দুক শাহীন। ওই এলাকাগুলোতে ফেনসিডিল থেকে শুরু করে গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইনসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়।

এর মধ্যে আউয়াল চেয়ারম্যানের বাগানবাড়ি গলি, কুড়িপাড়া এলাকায় প্রবেশপথের গলি, মাসদাইর এলাকায় আলমাস আলীর বাড়ির গলি, মাসদাইর রিকশার গ্যারেজ ও মাসদাইর বাজার এলাকায় বন্দুক শাহীনের মাদক ব্যবসা ছিল।
 

পুলিশ ও ডিবির ওপর বারবার হামলা

গত বছরের ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গলাচিপা এলাকাতে অভিযান চালিয়েছিল ডিবি। ওই সময় ডিবি পুলিশ জানিয়েছিল, শাহীনসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জন পুলিশের আইনসম্মত কাজে বাধাপ্রদান এবং আক্রমণ চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কনস্টেবল হুমায়ূন কবিরের বাম পায়ে গুরুতর জখম হন। এ ছাড়া কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম ও কাজী রেজা আহত হন। ওই মামলায় আসামির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা মনিরুজ্জামান ওরফে বন্দুক শাহীনকে করা হয়েছিল তিন নম্বর আসামি।

২. আয়নাল হক, হারুন ও নান্টু

গত বছরের ৭ জুলাই সন্ধ্যায় মাসদাইরে ডিবি পুলিশের অভিযানে মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীনের উকিল মেয়ের জামাতা সাইফুল ইসলাম (২৮) ও তার সহযোগী শাকিল ওরফে পিচ্চি শাকিলকে (২৪) কয়েক বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়। পরে বন্দুক শাহীনের বোন লাভলী, সহযোগী মাহাবুব, মনির, রবিনসহ আরো কয়েকজন মিলে ডিবি পুলিশের উপর হামলা করে সাইফুল ইসলাম ও পিচ্চি শাকিলকে ছিনিয়ে নেয়।

ওই সময়ে তৎকালীন ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল জানিয়েছিলেন, দুই মাদক বিক্রেতাকে আটকের পর অভিযান চালানোর সময় তারা পালিয়ে যায়। ওই দুজনের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ওই ঘটনায় ডিবি কোনো মামলাও করেনি।

২০১৩ সালের ৩ মে মাসদাইরে একই স্থানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সফিকুল ইসলাম ও এএসআই মনিরের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়। অভিযানের সময় বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন বন্দুক শাহীন। এ সময় ফেনসিডিলসহ তার ছোট ভাই মামুনকে আটক করে পুলিশ। পরে ফেনসিডিলসহ মামুনকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসার সময় মামুনকে ছিনিয়ে নিতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এসব আসামিদের মধ্যে শাকিল ও সাইফুল ইসলামকে গত ২৭ জুলাই ছিনতাই করে নিয়ে যায় সহযোগীরা।

২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের গলাচিপা রূপার বাড়ি এলাকায় শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীনকে আটক করতে অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি টিম। ওই সময়ে শাহীনের লোকজন র‌্যাব সদস্যদের ডাকাত আখ্যা দিয়ে মারধর করে এবং তাদের একটি মটরসাইকেল পুকুরে ফেলে দেয়। এ ঘটনায়ও শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়।




আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close