* প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আধুনিক যুগোপযোগী করতে হবে ঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী            *  কাজলা বিল ভরাটে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা           *  মিসফিটের হাইব্রিড স্মার্টওয়াচ           *  ডিএসইতে লেনদেন কমেছে, বেড়েছে সিএসইতে           * ভালুকায় ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ           * ফের বাড়ল বিদ্যুতের দাম           * সফল হতে চাইলে ইতিবাচক চিন্তা করুন           * সবুজ ত্রিশাল এর রূপকার হিসেবে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজাফর রিপনকে সংবর্ধনা            *  বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে ময়মনসিংহে ২৫ নভেম্বর শুভাযাত্রা           * সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত           * অপচিকিৎসার শিকার চরের মানুষেরা           * মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জনসংহতি সমিতির স্মারকলিপি           * মুন্সীগঞ্জে মাদকদ্রব্য বহনকারী গাড়িচাপায় পথচারী নিহত           * বাহরাইনে বিশ্ব কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হলো বাংলাদেশি তকী           * মাঝপথে দল পাল্টাতে পারবেন সাকিব-মুস্তাফিজরা           *  ‘একটা লম্বা বিরতির দরকার ছিল’           *  সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের চিরতরে ধ্বংসে কাজ করবে তিন প্রেসিডেন্ট           * মমতার মুখে কালি, ৯ বিজেপি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার           *  রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার, চুক্তি সই           *  ছাত্র-শ্রমিক সংঘর্ষের পর দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট          
* ব্যবসায়ী অপহরণের অভিযোগে বি.বাড়িয়ায় দুই পুলিশ গ্রেপ্তার           * পরানগঞ্জে আপদ হয়ে গেল ভাগ্নের কাছে           *  ত্রিশাল নিউজের তিন সাংবাদিক আটক          

সকল কর্মকান্ডই জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ এতিম উপজেলা ত্রিশালে যা ঘটছে

মোঃ খায়রুল আলম রফিক | রবিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৭
সকল কর্মকান্ডই জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ
এতিম উপজেলা ত্রিশালে যা ঘটছে

 ময়মনসিংহ জেলার  ত্রিশাল থানা কৃষ্টি ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক সুব্যবস্থাপনায় একটি ব্যস্ত থানা। একটি ব্যস্ত উপজেলা বাংলাদেশের বর্তমান গনতান্ত্রিক  ব্যবস্থায় প্রত্যেকটি জেলা এবং উপজেলায় সংসদ বর্তমান রয়েছে। সেই সংসদ সদস্য বা এমপিদের দিক নির্দেশনায় জেলা উপজেলায় সরকারি এবং বর্হিবিশ্বের সহায়তায় বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। জনসাধারণ পাচ্ছে উন্নয়নের সফলতা।

এই যখন বর্তমান উন্নয়ন প্রেক্ষাপট তখন আহাজারিতে উত্তাল ত্রিশাল উপজেলা।  অতিসম্প্রতি ময়মনসিংহ প্রতিদিনের প্রতিবেদক ত্রিশাল উপজেলা ঘুরে এসেছেন। তিনি জানান,  দীর্ঘদিন যাবৎ ত্রিশালের কোন জনপ্রতিনিধি বা  এমপি বা সংসদ সদস্য নেই। ফলে  অনেকটাই অভিভাবশূণ্য হয়ে পড়েছে ত্রিশাল উপজেলা।  আর অভিভাবক না থাকলে  যা হয়, তাই হচ্ছে উপজেলার সর্বত্র।  দেখাশোনার কেউ নেই, নির্দেশনামা জারীর কেউ নেই বলে, মাসিক সভা, সাপ্তাহিক সভা ইত্যাদি নেই বলে যে যেভাবে পারছে যেন ত্রিশাল উপজেলাকে গিলে ফেলতে চাইছে।

চলছে লুটপাট, দূর্নীতি অর্থ  আত্মসাৎ প্রভৃতি সবধরনের নেতিবাচক কর্মকান্ড। সরেজমিন ঘুরে এসে ময়মনসিংহ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার আরও জানান, সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন যাবৎ নেই বলে কাবিখা টিআর কাবিটাসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ মঞ্জুর কিন্তু বন্ধ নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই বিষয়গুলো  নিয়েও মূলত: ভাগবাটোয়ারার প্রশ্নের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছে সরকারি প্রশাসন বনাম রাজনীতিক নেতাদের একাংশ।

সরকারি প্রশাসন বলছেন,  আমরা দুর্নীতি  কিংবা লুটপাট করছি না, বরং আমরা সবসময়ই রাজনৈতিক মহলের চাপে আছি অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের অনেকের কাছে জানতে চাইলে তারা  জানান, সংসদ সদস্যের অভাবে বরং প্রশাসনই ফায়দা লুটছে। উন্নয়নের নামে উপজেলা প্রশাসন  ফায়দা লুটছে।  এরকম কথাবার্তা নাকি চাউর হয়ে গেছে। এভাবেই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব এখন চরমে উঠেছে। 

তবে একটি মহল স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে দুয়ের দ্বন্দ্বে একটি তৃতীয় পক্ষ রাজনৈতিক নেতার  দাবিদার মাঝখান থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারের বিভিন্নভাবে রবাদ্দ দেয়া কোটি টাকা।  জানাগেছে, সংসদ সদস্যের অভাব বা অনুপস্থিতিতে তৃতীয় পক্ষটি খুব খুশি।

কারণ সংসদ সদস্যের যে বরাদ্দের অর্থ এবং অর্থের অনুকূলে লজিষ্টিক সহায়তা তা লুটেপুটে খাচ্ছে তৃতীয় পক্ষ কিন্তু সব ধরনের দোষ ঘাড়ে এসে পড়ছে প্রশাসনের উপর। প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহলের রশি টানাটানিতে সমস্ত সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে  ছদ্মবেশী একটি রাজনৈতিক মহলের লোকজন নেতাকর্মী যা গোয়েন্দা সংস্থার আড়ালে  তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে ত্রিশালে কোটি কোটি টাকার ঘাপলা। 

জানাগেছে, এই শূণ্যতা এবং অর্থ হরিলুটের কথা কি প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক মহলের অজানা থাকার কথা নয় কারণ দুই পক্ষ সব জানে।  জানাগেছে, সংসদ সদস্যের  নিজস্ব বরাদ্দের সবই লুট হচ্ছে কিংবা ইতিমধ্যে লুট হয়ে গেছে। সরেজমিনে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ঘুরে জানা যায়, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার  হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবৎ সংসদ সদস্য না থাকার কারণে ত্রিশালে দুইভাবে সরকারি অর্থ হরিলুট হচ্ছে (১) ত্রিশাল সরকারি প্রশাসন যন্ত্রের কোন কর্মকর্তা কর্মচারিদের দীর্ঘদিন যাবৎ বদলী নেই। 

(২) খোদ্ প্রশাসনের ভয় করেছে চাঁদাবাজি (৩)  দালাল চক্রের উত্থান। জানাগেছে, সহকারি কমিশনার (ভূমি)  মাতৃকালীন ছুটিতে থাকার কারণে ফাইলের স্তুপ পড়ে আছে। উপজেলার নির্বাহী অফিসার সবদিক সামলাতে পারছেন না।

অন্যদিকে সরকারি প্রশাসনে কর্মকর্তা কর্মচারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ ত্রিশালেই পড়ে  থাকার সুবাদে জটিল দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের সাথে সখ্যতা বেড়েছে জালিয়াত ও দালাল চক্রের। আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা গেল ঘুষ ছাড়া কোন ভূমি খারিজ হয় না  সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘুষকোর নায়েব হলেন ৭ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের। এক্ষেত্রে ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাদের বাধ্য হয়ে দালাল চক্রের সাথে আত্মসমর্পন করতে হয়। এতে বেড়ে যাচ্ছে  হয়রানী। এমপি বরাদ্দের অর্থ চুরি বর্তমানে ত্রিশালে প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে।

দেখা গেছে, পুরো সাবরেজিস্ট্র অফিস, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এই সবগুলো অফিস এখন চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। জানাগেছে, পুরোনো কর্মচারীরাও দুর্নীতিতে প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়েছে কারণ তারা ভাল করেই জানেন, তাদের কোন বদলী নেই। ফলে ত্রিশালের সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়ছেন। তারা না পারছে কিছৃু বলতে, না পারছে প্রতিবাদ করতে। একটি সূত্র ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে জানান, প্রতিটি স্পষ্ট কাতর বিভাগে দলীয় ও কয়েকজন রাজনীতিক নেতাদের ক্যাডাররা এসে দফায় দফায় চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে।

স্পর্শকাতর বিভাগগুলোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাঁদা দিতে আপত্তি থাকে না কারণ তারাও ইতিমধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ আকার ধারণ করেছে। এভাবেই আস্কারা পাচ্ছে চাঁদাবাজ এবং দালাল চক্র ফলে ত্রিশাল উপজেলাকে অনেকেই এতিম উপজেলা বলে সম্বোধন করেন। ত্রিশালের সচেতন সমাজ বর্তমানে একজন এমপির শূন্যতায় হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।  এমপির শূণ্যতার কারণে ত্রিশালবাসী এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলছেন, ত্রিশালের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থ্পনা হুমকির মুখে।

  এক্ষেত্রে যদি দুদকও হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকে তাহলে ত্রিশালের সাময়িক প্রশাসনিক অবকাঠামো অস্থিরতার মুখে পড়বে। বর্তমানে ত্রিশালে উন্নয়ন কর্মকান্ড নেই বললেই চলে। যা কর্মকান্ডই চলছে ফ্রিস্টাইল পদ্বতিতে। কেউ কারও কথা শুনতে চাইছেন না। সচেতন মহল ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে জানান, ত্রিশালের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা আগে ছিল না।

আগে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত এমপি হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীর সময় ত্রিশালে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসে  সেই হিসাব মিলছে না। সচেতন  মহলসহ পুরো ত্রিশালবাসী মনে করেন, উপজেলা ভিত্তিক রাজনীতিক কিংবা  প্রশাসনিক যে কোন উন্নয়ন কর্মকান্ডের ব্যাপারে একজন এমপির অবস্থান থাকা জরুরি প্রয়োজন।

  কিন্তু ত্রিশালে সেই অবস্থা নেই।  বর্তমান ত্রিশালবাসী এমপির শূন্যতা জ্বরে আক্রান্ত। এ ব্যাপারে জরুরি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ত্রিশালবাসী জননেত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে।






আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close