* প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আধুনিক যুগোপযোগী করতে হবে ঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী            *  কাজলা বিল ভরাটে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা           *  মিসফিটের হাইব্রিড স্মার্টওয়াচ           *  ডিএসইতে লেনদেন কমেছে, বেড়েছে সিএসইতে           * ভালুকায় ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ           * ফের বাড়ল বিদ্যুতের দাম           * সফল হতে চাইলে ইতিবাচক চিন্তা করুন           * সবুজ ত্রিশাল এর রূপকার হিসেবে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজাফর রিপনকে সংবর্ধনা            *  বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে ময়মনসিংহে ২৫ নভেম্বর শুভাযাত্রা           * সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত           * অপচিকিৎসার শিকার চরের মানুষেরা           * মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জনসংহতি সমিতির স্মারকলিপি           * মুন্সীগঞ্জে মাদকদ্রব্য বহনকারী গাড়িচাপায় পথচারী নিহত           * বাহরাইনে বিশ্ব কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হলো বাংলাদেশি তকী           * মাঝপথে দল পাল্টাতে পারবেন সাকিব-মুস্তাফিজরা           *  ‘একটা লম্বা বিরতির দরকার ছিল’           *  সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের চিরতরে ধ্বংসে কাজ করবে তিন প্রেসিডেন্ট           * মমতার মুখে কালি, ৯ বিজেপি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার           *  রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার, চুক্তি সই           *  ছাত্র-শ্রমিক সংঘর্ষের পর দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট          
* ব্যবসায়ী অপহরণের অভিযোগে বি.বাড়িয়ায় দুই পুলিশ গ্রেপ্তার           * পরানগঞ্জে আপদ হয়ে গেল ভাগ্নের কাছে           *  ত্রিশাল নিউজের তিন সাংবাদিক আটক          

ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে কিশোরী নারী পাচারকারীরা অধরা

মোঃ খায়রুল আলম রফিক | শনিবার, নভেম্বর ১১, ২০১৭

ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে কিশোরী নারী পাচারকারীরা অধরা

দেশের বিভিন্ন স্থানে ওৎ পেতে থাকা কিশোরী নারীদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ময়মনসিংহ শহরের গাঙ্গিনারপাড় যৌনপল্লীতে এনে চড়া দামে বিক্রির সাথে জড়িত বিক্রেতা দালাল চক্র ও

ক্রেতা নারী নেত্রীরা একের পর এক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু উপর মহল এবং ১নং ফাড়ীঁ পুলিশের যোগসাজশ থাকায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে নেপথ্যের মূল হোতারা। ময়মনসিংহ যৌন পল্লী থেকে অসনিত শিশু ও কিশোরদর  বয়সী যৌনকর্মী উদ্ধার করা হলেও এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন না করায় উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে নারী পাচার । এতে বেড়েছে অপরাধমূলক কার্যক্রম ।

অনেক সময় দুএকজন সংশ্লিষ্ট ধরা পড়লেও অভিযোগ রয়েছে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে নাম ঠিকানা পওয়া গেলেও ইচ্ছাকৃত  ভাবেই মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, যৌনপল্লীর দায়িত্বরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ও কিছু রাজনীতিবিদ নারী পাচার ও ক্রয় বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। এ কারণ নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মূল হোতাদের আড়ালেই রাখা হচ্ছে। এতে নেপথ্যের কারিগররা রয়ে গেছেন আড়ালে।  
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ময়মনসিংহ যৌনপল্লীকে নারী পাচারকারীরা নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নিয়েছে। নাজুক ভৌগোলিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে যৌনপল্লীতে সহজেই ব্যবহার হচ্ছে কিশোরী নারীদের দিয়ে যৌন ব্যবসা ।
সেই সাথে এখানে নিরাপদে চলছে অস্ত্র, ও  মাদক ব্যবসাও । সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, যৌনপল্লীতে লাভলীর ঘরে ৩জন, আনুর ঘরে ২জন, শিল্পীর ঘরে ২ জন, আখির ঘরে ২জন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক অর্থাৎ

কিশোরী যৌনকর্মী রেখে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে । দালালদের নিকট থেকে এসব কিশোরীদের এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং তদুর্ধ টাকায় কিনে নিয়ে নিরাপদে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে । এদিকে গত শুক্রবার যৌনপল্লী থেকে সুমি আক্তার নামের কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ । উদ্ধারকৃত  সুমি আক্তার খুলনা দৈলতপুর থানার বাসিন্দা । তিনি চট্রগ্রামে একটি কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন ।
শহরের ১নং ফাঁড়ি পুলিশ ও কিশোরীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ দিন আগে একটি দালালচক্র প্রলোভন দেখিয়ে তাকে এনে ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে ১লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় । যৌনপল্লীর একটি সংগঠনের নেত্রী আনু বেগম তাকে কিনে নেয় ।এরপর তাকে দিয়ে জোড়পূর্বক দেহ ব্যবসা করায় আনু । পরে কিশোরীর পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আনুর ঘর থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।

অভিযোগ রয়েছে, ১নং ফাঁড়ি পুলিশের যোগসাজশে এই কিশোরীর ক্রেতা যৌনপল্লীর আনু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় । পালিয়ে যাওয়ার পর আনু এখন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে । ১নং ফাঁড়ি পুলিশের এটিএসআই আশরাফুল আলম বলেন, আমরা অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি । এব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম জানান,

বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে ।ইতিপূর্বেও এই যৌনপল্লী থেকে অসংখ্য কিশোরী যৌনকর্মীকে উদ্ধার করা হয় পুলিশ ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে । প্রসঙ্গত , দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকার যৌনপল্লীতে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য, কিশোরী বিক্রি বাণিজ্য, অবৈধ মদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অভিযানে নামে ।

নারী পাচারকারীদের হাত অনেক লম্বা হওয়ায় নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা হয়রানি ও চাকরি হারানোর ভয়ে অনেক সময় তাদেরকে ধরার সাহস পান না।এমন দাবী এক পক্ষের । আবার ভূক্তভোগীদের দাবী তারাও এই চক্রের সাথে জড়িত । পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়া, আইনের দুর্বলতার সুযোগ ছাড়াও নানা কারণে এই সুযোগে ময়মনসিংহ যৌনপল্লীর নারী পাচারকারী ক্রেতা বিক্রেতার শক্তিশালী নেটওর্য়াক গড়ে উঠেছে। সূত্র জানায়, এদের কাউকে আটকের পর অনেক সময় মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও নানা কারণে তাদের নামে মামলা করা সাহস পায় না সংশ্লিষ্টরা।

আবার যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় তারাও খুব সহজেই জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। কেইসস্টাডি বলছে, কাজের সন্ধানে কিংবা জীবন-জীবিকার ভূক্তভোগী কিশোরী কিংবা নারীদের যেতে হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে, দূর থেকে দূরান্তে। কিন্তু এই যাত্রাপথ খুব মসৃণ নয়। আবার জোরপূর্বক নারী ও শিশু-কিশোরদের ধরে নিয়ে ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে বেচাকেনার ঘটনা ঘটেই চলেছে। অবশ্য সেই আদিকাল থেকেই প্রচলিত যৌনকর্মী ব্যবসা। আর একালে নানা কায়দায়, নানারূপে বিভিন্ন প্রকরণ ও ছদ্মাবরণে নারীপাচার হয়েই চলেছে । এমনটা হচ্ছে মূলত বেকার সমস্যা থেকেই। জীবিকার জন্য কিশোরী ও সারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজের এলাকার বাইরে যেতে চায়। দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য অসহায় কিশোরী নারী স্থান থেকে স্থানান্তর হয়ে যায়।

এই যে কিশোরী নারী পাচার হয়ে যাচ্ছে যৌনপল্লতি, অচেনা জগতে ভাগ্য তাদের পরিণত হচ্ছে দুর্ভাগ্যে। তা থেকে উদ্ধারের পথ বুঝি দূর অস্্ত্্। এ এক করুণ অবস্থা ও অবস্থান। কিশোরী যৌনপল্লীতে পাচার অন্যতম শিরঃপীড়ায় পরিণত হয়েছে।যৌনপল্লীতে কিশোরী নারী পাচার চলছে নানা পথ ও পদ্ধতিতে। মূলত জীবন ও জীবিকার কারণে, কর্মসংস্থানের অভাবে, দারিদ্যের পীড়নে, সচ্ছল জীবন যাপনের লক্ষ্যে নারীরা নিজের ঘর ছাড়ছে ।

আবার এসব নারীদের বেশিরভাগই প্রতারিত হচ্ছে, হচ্ছে সর্বস্বান্ত। এসব দালালদের সঙ্গে ময়মনসিংহ যৌনকর্মীর সর্দারনী এবং নেত্রীদের ভাল যোগসূত্র রয়েছে। মাফিয়াগোষ্ঠী এসব নিয়ন্ত্রণ করে। ভালো কাজের কথা বলে নারীদের যৌনকর্মীদের নিয়ে আসা হয় । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিরীহ ও গরিব কিশোরী নারীদের ভাল চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে এনে পাচার করে দেয় তারা। পরে হয়ে যায় তারা যৌনদাসী। অনেক সময় কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের কাছেও বিক্রি করে দেয়া হয় ভূক্তভোগী নারীদের। এই কি নারীর জন্ম ! নারীপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ সালে পাস হলেও তা কিতাবেই রয়ে গেছে। আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় পাচার বাড়ছেই। বিষয়গুলো অনুধাবন করা কর্তৃপক্ষের যেমন দায়, তেমনি জনগণকেও সচেতন হতে হবে পাচার থেকে মুক্তির লক্ষ্যে।







আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close