* ভাঙ্গায় স্কুল তালাবদ্ধ ॥ পতাকা উড়ছে           * ছেলেকে মানুষ না করতে পারলে আত্মহত্যা করব-- অপু           *  বিরাট কোহলির নামে গাড়ি!           * ইরান বিশ্বের জন্য বড় হুমকি: নেতানিয়াহু           *  বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী           * ময়মনসিংহে অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক           *  ময়মনসিংহে বিএনপির স্বারকলিপি প্রদান           * গৌরীপুরে গৃহবধুকে মধ্যযুগী কায়দায় নির্যাতন, ৩ নারী আটক            * প্রেমের পর বিয়ে, সন্তান অস্বীকার করছেন বাবা           * ত্রিশালে বই মেলার শুভ উদ্বোধন           * দুই উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো            * গলাচিপায় ককটেল ও পিস্তল সহ ২ ডাকাত আটক, আহত ৮           * রাবিতে ড. শামসুজ্জোহা দিবস পালন           * গাছে গাছে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা           * গৌরীপুরে গৃহবধুকে মধ্যযুগী কায়দায় নির্যাতন হাসপাতালে ভর্তি !           * চট্টগ্রামের সেই ইউসুফ মারা গেছেন           * নড়াইলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে জমিদার বাবুদের চিত্রার নাম!           * চুয়াডাঙ্গায় তিন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম           * দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী           * জেলা প্রশাসকদের আজ স্মারকলিপি দেবে বিএনপি          
*  বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী           * ময়মনসিংহে অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক           * গৌরীপুরে গৃহবধুকে মধ্যযুগী কায়দায় নির্যাতন, ৩ নারী আটক           

ময়মনসিংহে বাল্যবিবাহ বন্ধের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন-- জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান

মোঃ খায়রুল আলম রফিক | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৭
ময়মনসিংহে বাল্যবিবাহ বন্ধের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন-- জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো: খলিলুর রহমান বলেছেন, বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক অন্যায় একে প্রতিহত এবং ৃএর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন । ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান আরো বলেন, বাল্য বিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত । ময়মনসিংহ তথা সারা দেশেই বাল্য বিবাহ একটি মারাত্মক সমস্যা ।

বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন অনুসারে ছেলেদের বিবাহের বয়স নুন্যতম একুশ এবং মেয়েদের বয়স আঠারো হওয়া বাধ্যতামূলক । অশিক্ষা, দারিদ্র, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক নানা কুসংস্কারের কারনে এ আইনের তোয়াক্কা না করে বাল্য বিবাহ হয়ে আসছে । বাল্য বিবাহের প্রধান কুফলঃ নারী শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বাল্য বিবাহের কারনে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

  মা হতে গিয়ে প্রতি ২০ মিনিটে একজন মা মারা যাচ্ছেন । অন্যদিকে প্রতি ঘন্টায় মারা যাচ্ছে একজন নবজাতক । নবজাতক বেঁচে থাকলেও অনেক সময় তাকে নানা শারীরিক ও মানষিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় । অপ্রাপ্তবয়স্ক মা প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদান করতে পারে ।  এছাড়া এতে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায় । বাল্য বিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের আশংকা তৈরী হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়। ময়মনসিংহের ১৩ উপজেলায় বাল্য বিবাহ হওয়ার চেষ্টা কম বেশি হচ্ছে ।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো: খলিলুর রহমান বাল্য বিবাহ সবন্ধে অনুকরনীয় , অনুসরনীয় হয়ে কঠোর হস্তে রোধ করছেন বাল্য বিবাহ । বাল্য বিবাহের  বিপক্ষে উনার রয়েছে  তীক্ষè দৃষ্টি । 

১৩ উপজেলায় কর্মরত নির্বাহী অফিসারগনকে নির্দেশ দিয়েছেন যে করেই হোক বাল্য বিবাহ রোধ করতেই হবে । ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো: খলিলুর রহমানের উদ্যোগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার কোথাও বাল্যবিবাহের সংবাদ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে যাচ্ছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান ময়মনসিংহে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়ীয়া, ফুলপুর, নান্দাইল, ঈশ^রগঞ্জ, ধোবাউড়া

, তারাকান্দা, ত্রিশাল, ভালুকা, হালুয়াঘাট, গৌরীপুরসহ ১৩ উপজেলায়  অসংখ্য বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া এবৃং জরিমানাও করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঘটক, কাজি, বর ও অভিভাবকেরা আছেন। ময়মনসিংহের কয়েকটি উপজেলা  বাল্যবিবাহের হার তুলনামূলক কম নয়। প্রশাসন সূত্র জানায়,

বাল্যবিবাহ কমাতে জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রাখা হয়েছে। এসব কমিটি ছয় মাসে দুই শতাধিক মতবিনিময় সভা করেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সমাবেশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শপথ করানো হয়েছে। জনপ্রতিনিধি,  সাংবাদিক, আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন,

শিল্পকলা একাডেমি, চেম্বার অব কমার্স, বাস-ট্রাক মালিক সমিতি, নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় সমাবেশ করা হয়েছে। এতে উপস্থিত সবাই হাত তুলে বলেছেন, ‘ময়মনসিংহ জেলায় আর একটিও বাল্যবিবাহ নয়।’ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

মো. খলিলুর রহমান বলেন, জেলার ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ এবং কোন তারিখে বিয়ের বয়স পূর্ণ হবে, তা উল্লেখ করে একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। যেসব মেয়ে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যুক্ত করার চেষ্টাও লক্ষ করার মতো। জেলার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শপথ করানো হচ্ছে যে তারা নিজেরা বাল্যবিবাহ করবে না এবং অন্যের বাল্যবিবাহে বাধা দেবে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা বাল্যবিবাহ বর্জন ও প্রতিরোধে শপথ গ্রহণ করেছে। এতে আশাতীত ফলও মিলছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে গুরুৃত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে ইমাম, কাজি ও মৌলভিদের। জেলা ইমাম ও কাজি সমিতির সদস্যদের নিয়ে এ বিষয়ে একাধিক সভা করেছে প্রশাসন। এসব সভায় ইমাম ও কাজিরা অভিযোগ করেন, বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রি ও পড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁদের অনেক সময় জোর করা হয়।

প্রশাসনিক সহায়তা পেলে তাঁরা এমন কাজ আর করবেন না। জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) সমিতি সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের কঠোরতার কারণে এখন শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের বিয়ে পড়ানোর প্রয়োজন হলে তার পরীক্ষার সনদ যাচাই করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া সনদ সব সময় গ্রহণ করা হচ্ছে না।

জেলার প্রতিটি জামে মসজিদে খুতবার সময়ে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে আলোচনা করার জন্য ইমামদের অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের কয়েকটি মসজিদের ইমাম বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়ে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে মুসল্লিদের সচেতন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় সাংসদ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাসহ প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসক চিঠি দিয়েছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে স্থানীয় কেবল চ্যানেলে বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ময়মনসিংহের কয়েকটি আসনের এমপিগণ বলেন, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক মো: খলিরুর রহমানের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তারা নিজেরাও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। জেলা প্রশাসক মো: খলিলুর রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটি মডেল রাষ্ট্র। কিন্তু এদেশে শিশু বিবাহ লজ্জাজনক। যে করে হোক আমাদের শিশু বিবাহ রোধ করতে হবে। সেলক্ষেই ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close