অপরাধ সংবাদ
*  কলারোয়ার পৌর মেয়র বরখাস্ত           *  রসনা চুই ঝালে রাজহাঁস           *  শুধু শ্রদ্ধা নয়, বঙ্গবন্ধুর মতো সৎ হতে হবে: কাদের           *  ঢাবি ছাত্রীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ           * টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা           *  দলই আমার বউ: বিয়ে প্রশ্নে রাহুল           * প্রথমবার একসঙ্গে সালমা-তানজিব           * উয়েফার সেরা গোলদাতার তালিকায় রোনালদো           * বুধবার থেকে ট্রেনের ফিরতি টিকিট            * তরুণীর পেট ও জুতার ভেতর কোটি টাকার স্বর্ণ            * কাঁচিঘরে শাকিব-মাহি           * এশিয়া কাপ দলে মুমিনুল, রাখা হয়েছে সাকিবকেও           * মধ্যরাতে বাজার নিয়ে গরিবের বাড়িতে এমপি জগলুল           * মানবতায় আবেদনে সাড়া দিয়েছেন এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম           *  মোবাইল ফোনের নতুন কলরেট           *  বঙ্গতাজের পরিবার দুর্নীতিমুক্ত : গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর           * নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ভাঙ্গনে প্রায় ১ শতাধিক পাল পরিবার গৃহহীন            * নকলায় ট্রাক বাসের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন            * এক বাস কেড়ে নিল বিয়ের সব আনন্দ           * ইলিশে সরগরম বরিশাল          
* এশিয়া কাপ দলে মুমিনুল, রাখা হয়েছে সাকিবকেও           * এক বাস কেড়ে নিল বিয়ের সব আনন্দ           * ইলিশে সরগরম বরিশাল          

ময়মনসিংহে জমজমাট কোচিং সেন্টার বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার | শুক্রবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৭
ময়মনসিংহে জমজমাট কোচিং সেন্টার বাণিজ্য

সরকার অবৈধ কোচিং সেন্টার  বন্ধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানসহ নীতিমালা প্রণয়ন করলেও তা বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ময়মনসিংহ শহর ও ১৩ উপজেলায় জমজমাট চলছে এর বাণিজ্য ।

ময়মনসিংহের সর্বত্র এক শ্রেণির শিক্ষকরা নানা কৌশলে তাঁদের এই ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন । নির্লজ্বভাবে এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তা স্বীকারও করছেন । শিক্ষকদের কোচিং ব্যবসা বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বর্তমান সরকার ।নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারবেন না ।

আর অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জনকে কোচিং করাতে পারবেন। তবে তা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়ে৷ এই নীতিমালা ভঙ্গের জন্য চাকরিচ্যুতিসহ নানা শাস্তিরও বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু তাতে ময়মনসিংহের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি । অভিযোগ রয়েছে, জেলার নামিদামি স্কুলের শিক্ষকরাই এই কোচিং ব্যবসার সঙ্গে বেশি জড়িত।

তারা ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং-এ বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ । ময়মনসিংহ শহরের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে কয়েক মাসে পঞ্চম, অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা স্কুল বাদ দিয়ে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও টিউটোরিয়াল হোমে পড়তে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষকেরা বলছেন, স্কুল চলার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে। এ জন্য সরকারি নির্দেশনা জারি করা উচিত বলে তাঁরা মনে করেন। শহরের জিলা স্কুল রোড, বাউন্ডারি রোড, নাহার রোড, সাহেব আলী রোড ও নতুন বাজার এলাকায় শতাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে। বেশির ভাগ কোচিং সেন্টারই স্কুলের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় না করে চলছে।

জিলা স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত বছরগুলিতে জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অষ্টম ও দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। এই সময়ে কম ছিল পঞ্চম শ্রেণির উপস্থিতিও ।

জানুয়ারি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জিলা স্কুলের অষ্টম ও পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি ছিল ৯০ শতাংশ। অথচ ওই দেড় মাসেওই দুটি শ্রেণির গড় উপস্থিতি ৫৬ শতাংশে নেমে আসে। এভাবে চলতে থাকলে উপস্থিতির হার আরও কমবে বলে শিক্ষকদের আশঙ্কা। এ বিষয়ে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, বছরের এই সময়টায় প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষার ফরম পূরণ হয়ে গেছে। তাই অনুপস্থিতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ময়মনসিংহের আরেক ঐতিহ্যবাহী স্কুল বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে।

৩০ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতি শাখার অষ্টম শ্রেণির ‘খ’ শাখায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম। ৭৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্লাসে উপস্থিত মাত্র ২৪ জন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপস্থিত ২৪ জনের মধ্যে আগের দিন নয়জন উপস্থিত ছিল না।

কারণ, জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকেই জানায়, কোচিং সেন্টারে পরীক্ষা থাকায় তারা আগের দিন স্কুলে আসেনি। পরের দিন আবারও কোচিং সেন্টারে পরীক্ষা থাকায় সেদিনও তারা স্কুলে আসবে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যাময়ী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দুই সপ্তাহ আগে অনেক কমে যায়। একদিন দশম শ্রেণির একটি শাখায় কোনো শিক্ষার্থীই আসেনি।

এরপর সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ফোন করে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়। সেই থেকে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে বিদ্যাময়ী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুলে না আসার প্রধান কারণ কোচিং নির্ভরতা। অন্তত স্থানীয়ভাবে আইন করে হলেও স্কুল চলাকালে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা স্কুলে না এসে অনেকেই উদ্ভাস নামের একটি কোচিং সেন্টারে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরপর ওই কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল চলাকালে কোচিং সেন্টারটিতে মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলে। সেন্টারটি ঢাকা থেকে পরিচালিত। তাই পরিচালক পদমর্যাদার কাউকে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্কুলের ক্লাস বাদ দিয়ে কোচিং সেন্টারে আসে কি না, সেটি আমাদের জানা নেই। আমরা তাদের স্কুল বাদ দিয়ে আসতে বলি না।

’ শিক্ষার্থীরা স্কুল বাদ দিয়ে কোচিংয়ে আসে কি না, এমন খোঁজ রাখা হয় কি না, প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ ব্যবসাটি করতে গিয়ে শিক্ষকরা অসৎ পন্থা বেছে নিয়েছেন। যেসব ছাত্রছাত্রী প্রাইভেট-কোচিং পড়তে চায় না তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোচিং ব্যবসা অবৈধ হলেও ময়মনসিংহে কর্মরত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা

সে ব্যবসাটি প্রকাশ্যেই করে যাচ্ছেন। জেলা সমন্বয় সভায় কোচিং করা নিষিদ্ধ করে বিদ্যালয়গুলোকে চিঠি দেয়ার পরও বন্ধ হয়নি কোচিং ব্যবসা। ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার নামী দামী স্কুলের শিক্ষক নিয়মিতভাবে প্রাইভেট-কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসব শিক্ষক তাদের বাসায় কিংবা আলাদা বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট-কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলার উপজেলার অনেক স্কুলে কোচিং বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে এসেছি। প্রাইভেট পড়তে না এলে স্যার রাগ করেন। পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখান।

তাই প্রাইভেট পড়তে আসি। অপর স্কুলের কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, আমরা আমাদের প্রয়োজনে প্রাইভেট পড়তে আসি না। আমরা স্যারদের প্রয়োজনেই প্রাইভেট পড়তে আসি। আমাদের যে পড়া তা বাসায় বসে পড়লেই হয়ে যায়। তারপরও স্যারদের খুশি রাখতে আমাদের প্রাইভেট পড়তে আসতে হয়। কারণ প্রাইভেট না পড়লে স্যারেরা আমাদের ভালো চোখে দেখেন না। 

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বলেন, আমরা তো প্রাইভেট পড়াতে চাই না। ছাত্ররা পড়তে এলে আমরা কি করতে পারি। তাছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা কম থাকায় প্রতিদিন সব বিষয়ে ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না। তখন ছাত্ররা শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়।

একজন শিক্ষক বলেন, এটা নতুন কোনো বিষয় না। অনেক আগে থেকেই এটা হয়ে আসছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এ জেলার সব স্কুলের শিক্ষকই কোচিং বাণিজ্য করেন। তারা কারও কোনো নিষেধ মানেন না। বিগত সময়ে জেলা সমন্বয় সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে কোচিং বাণিজ্য করা যাবে না।

এ চিঠি প্রতিটি বিদ্যালয়ে দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা কোচিং বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। জেলার গফরগাঁওয়ের গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ‘ক’ (বিজ্ঞান) শাখায় গিয়ে দেখা যায়, দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত আছে মাত্র ৯ জন। একই শ্রেণির ‘খ’ (মানবিক) শাখায় ১০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত মাত্র ২৬ জন। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে উপস্থিতি কিছুটা থাকলেও অষ্টম ও নবম শ্রেণির অবস্থা প্রায় একই রকম। শিক্ষার্থী উপস্থিতির প্রতিদিনের ছবি এমনই।

পরে গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলে গিয়ে এর চেয়েও খারাপ চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে টিফিন পিরিয়ডের পর অঘোষিতভাবে বিদ্যালয়টি ছুটি হয়ে যায়। সরেজমিনে ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গফরগাঁও পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলো ভোর ৬টা থেকে জমজমাট হয়ে ওঠে। প্রকারান্তরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কম থাকে।

বিশেষ করে পৌর শহরের প্রধান দুটি বিদ্যালয় ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল ও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির এ অবস্থা বিরাজ করছে। এ সুযোগে একশ্রেণির শিক্ষক কোচিং সেন্টার খুলে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করছেন। পৌর শহরে ইতিমধ্যে ২৫-৩০টি কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এমপিওভুক্ত স্কুলশিক্ষকদের প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানোয় বিধি-নিষেধ থাকলেও কেউই তা মানছেন না।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোচিং করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল, খায়রুল্লাাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রোস্তম আলী গোলন্দাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে।

এ তিনটি বিদ্যালয়ের তিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে পৌর শহরের কোচিং সেন্টারগুলো গড়ে উঠেছে। শহীদ বেলা প্লাাজাসংলগ্ন মডার্ন কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন পুখুরিয়া ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ।

সঙ্গে আছেন একই বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক , হাতিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক  ও কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক । চার শতাধিক শিক্ষার্থীর এ কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করা হয়। মডার্ন কোচিংয়ের উদ্যোক্তারা স্থানীয় প্রেস ক্লাবের পাশে একটি বহুতল কোচিং কমপ্লেক্স গড়ে তুলছেন।

তবে ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মডার্ন কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ ওই শিক্ষকরা কেউ সরাসরি মডার্ন কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখেন ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল ও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া হয় না বলেই শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে আসে। আমরাও চাই বিদ্যালয়গুলোতে ভালোভাবে লেখাপড়া হোক।

’মর্জিয়া কমপ্লেক্সে গড়ে ওঠা মডার্ন একাডেমি কোচিং সেন্টারের প্রধান পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাবেক উপ-পরিচালক। তাঁর সঙ্গে পরিচালক হিসেবে আছেন মুখী পল্লী সেবক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন, জয়ধরখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরফুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক নাসির হায়দার।

এ কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। উপজেলা পরিষদ বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক জিল্লুর রহমান হারুন বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পাশে পরিচালনা করেন মাতৃছায়া-১ নামের একটি কোচিং সেন্টার।

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিন পরিচালনা করেন মাতৃছায়া-২ নামের আরেকটি কোচিং সেন্টার। এ ছাড়া খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়সংলগ্ন দ্য কনটেস্ট কোচিং সেন্টার, জামতলা মোড়ে শওকত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় সৃষ্টিশীল কোচিং সেন্টার, পশু হাসপাতাল সংলগ্ন ক্লাসিক কোচিং সেন্টার, সরকারি কলেজ সংলগ্ন লাইসিয়াম একাডেমি,

মহিলা কলেজ সংলগ্ন লার্নিং পয়েন্ট কোচিং সেন্টার, পাটমহল এলাকায় প্রাইম কোচিং সেন্টার, কাছারি রোড এলাকায় প্রগ্রেসিভ কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। শোনা যায়, কিছু কোচিং সেন্টার অভিভাবকদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত কেন্দ্রে নকল সরবরাহসহ যেকোনো উপায়ে জিপিএ ৫ পাইয়ে দেওয়ার অলিখিত চুক্তি করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়া ঠিকমতো হলে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের প্রয়োজন হতো না।

একজন অভিভাবক রসিকতা করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নাই, অথচ কোচিং সেন্টারে উপচে পড়ছে। সরকার বিদ্যালয় বন্ধ করে কোচিংগুলোকে অনুমোদন দিয়ে দিলেই পারে।’গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোচিং করে ক্লান্ত হয়ে যায়। পরে বিদ্যালয়ে এসে তিন-চারটি ক্লাস করে টিফিনের সময় চলে যায়। ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সরকার আমাদের হাত-পা বেঁধে দিয়েছে।

এখন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলে, লেখাপড়ায় মনোযোগী না হলে, ক্লাসে বেয়াদবি করলেও শাসন দূরের কথা, ধমক দিলেও উল্টো আমাদের জেলে যেতে হয়।’খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘প্রাইভেট বা কোচিং বিদ্যালয়গুলোকে গিলে খাচ্ছে। স্কুল চলাকালে প্রাইভেট- কোচিংয়ের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শাসন করা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন আর শিক্ষকদের শ্রদ্ধা-ভয় করে না। উপজেলা মাধ্যমিক

শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সরকারি বিদ্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করেন ডিডি মহোদয় (উপ-পরিচালক)। তবে কোচিংসংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সব সময় কোচিংয়ের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি এত কমে গেছে জানতাম না। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগ রয়েছে, একই চিত্র জেলার ত্রিশাল টিচার্স কোচিং সেন্টারসহ সকল উপজেলাতেই ।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close