* বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের           * সিলেট সিটিতে জামায়াতের ধাক্কা, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি           * বেশি বয়সে বিয়ে করেছিলেন যে অভিনেত্রীরা           * নিরাপত্তার অভাবে নওয়াজ ও মরিয়মকে সিহালা রেস্ট হাউসে নেওয়া হচ্ছে না           * ১২ঘণ্টার ব্যবধানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতার           * দুই নৈশপ্রহরীকে খুন করে তিন দোকানে ডাকাতি           * অফিসে ঘুম পেলে কী করবেন?            * সন্তানসম্ভবা মায়েরা ভৌতিক স্বপ্ন দেখেন যে কারণে            * প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যুবক ধরা           * ‘সংবর্ধনা প্রয়োজন নেই, আমি জনগণের সেবক’           * ১২ লাখ রুপির গয়না আত্মসাতের অভিযোগ           * ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্য অবশ্যই মেনে চলুন ৯টি নিয়ম           * ধাড়াক’ ছবিতে শ্রীদেবী-কন্যা জাহ্নবীর পারিশ্রমিক কত জানেন?           * হালুয়াঘাটের বিএনপি নেতা সালমান ওমরের সম্মাননা গ্রহণ            *  আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন হাওয়া ভবনের আলী আসগার লবি            *  আজই প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘোষণাটা চান মওদুদ           *  নওগাঁয় একসাথে ছয় সন্তান প্রসব           *  গুপ্তধনের খোঁজে মিরপুরে এলাহী কারবার           * মিরপুরে বাড়ির নিচে ‘গুপ্তধনের’ সন্ধানে পুলিশের অভিযান           * ধার করা বই পড়ে উপজেলার সেরা দিনমজুরের মেয়ে কাকলী          
* বিশ্বের সবচেয়ে দামী গোলরক্ষক ব্রাজিলের অ্যালিসন            * থানায় গিয়ে বান্ধবীর বিয়ে ভাঙল তিন কিশোরী            * ফল বিপর্যয়ে ইংরেজি ও আইসিটি           

জিডি করার নিয়মাবলি

ডেস্ক নিউজঃ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭
জিডি করার নিয়মাবলি

সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয় না সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়। আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জিডি অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় আদালতেও জিডিকে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জিডি করার অর্থ হলো সমস্যার বিষয়ে থানাকে অবগত করা, যাতে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখী হয়ে থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করার প্রয়োজন হয়। জিডি করার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। প্রয়োজনবোধে তদন্ত করা, নিরাপত্তা দেয়া ছাড়াও জিডির বিষয়টি মামলাযোগ্য হলে পুলিশ মামলা করে থাকে। কিন্তু এ সম্পর্কে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা না থাকায় থানায় জিডি করতে গিয়ে অনেকেই নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। জিডি বা জেনারেল ডায়েরিকে বাংলা করলে দাঁড়ায় কোনো বিষয়ে সাধারণ বিবরণ। এই আইনি সহায়তা পেতে আপনার সমস্যার বিবরণ লিখিতভাবে থানায় জমা দিতে হবে। যে কোনো ব্যক্তি থানায় এটি করতে পারবেন।

যেসব কারণে একজন ব্যক্তি জিডি করতে পারবেন

বিভিন্ন কারণে জিডি করা হয়। যেমন ১. কেউ ভয় দেখালে বা হুমকি দিলে বা অন্য কোন কারণে যদি আপনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন। ২. কোনো ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে কিংবা কোন ধরনের অপরাধের আশঙ্কা থাকলে। ৩. কেউ কারো সম্পদের ক্ষতি করলে বা প্রাণনাশের হুমকি দিলে। ৪. আপনি যদি খারাপ কোনো কিছু আশঙ্কা করেন, যেমন কেউ আপনার ওপর হামলা করতে পারে বা ক্ষতি করতে পারে; তাহলে জিডি করা হলে ওই ঘটনার পর দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সহজ হয়। ৫. কোন রকমের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা যদি থাকে তা হলে থানায় লিখিত আকারে জানালে পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। ৬. কেউ হারিয়ে অথবা বাসার কেউ নিখোঁজ হলে বা পালিয়ে গেলে। ৭. কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পরিচয়পত্র, অন্যান্য দরকারি নথি, পাসপোর্ট, চেকবই, লাইসেন্স, মূল্যবান রশিদ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কোন সার্টিফিকেট,  এটিএম বা ক্রেডিট কাড, মোবাইল ফোনের সিম, জমির দলিল, অন্যান্য দলিল প্রভৃতি হারিয়ে গেলে; হারানো জিনিস খুঁজে পেতেও আপনার জিডি সহায়ক হয়ে ওঠে পুলিশের জন্য।

আইনি সহায়তার জন্য জিডি খুবই কার্যকর একটি পদক্ষেপ। ওইসব কাগজপত্র পুনরায় তুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হারানো সংবাদের জিডি চেয়ে থাকে, তাই ওইসব ক্ষেত্রে হারানো সংবাদের জিডি করে সেই জিডি নম্বরসহ কর্তৃপক্ষরে কাছে আবেদন করতে হয়।

আপনি কোথায় এবং কীভাবে জিডি করবেন

জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত নিজের এলাকার থানাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তবে ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে এক থানায় আর জিডি করছেন অন্য থানায়, এমনটি হওয়া উচিত নয়। কেননা এতে আইনি সহায়তা নিতে ঝামেলা হয়। জিডি ও মামলা করার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, সে এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিত।

জিডিতে কী কী উল্লেখ করতে হবে

জিডি করতে হলে প্রথমে একটি সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখতে হবে। এ দরখাস্তের সাধারণ দরখাস্তের মতোই। ১. দরখাস্ত করতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর। নিচে থাকবে থানা ও জেলার নাম। ২. বিষয় হিসেবে উল্লেখ করতে হবে যে ব্যাপারে জিডি করতে চান তার নাম। দরখাস্তের মূল বা ভেতরের অংশে কী কারণে জিডি করবেন তা বিস্তারিত বর্ণনা করতে হবে। ৩. অপরাধ হবার আশঙ্কা থাকলে অবশ্যই আপনাকে আশঙ্কার কারণ, যার জন্য আপনি আতঙ্কিত তার নাম, ঠিকানা, হুমকির স্থান, তারিখ উল্লেখ করতে হবে। ৪. হুমকি দিলে হুমকি দাতার নাম, স্থান, সাক্ষী, পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করা খুবই জরুরি। ৫. কিছু হারিয়ে গেলেও সেটার বিস্তারিত বিবরণ এবং পারলে তার কোনো নমুনা, যেমন ছবি দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত করবেন। ৬. ডায়েরি নথিভুক্ত করে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কারার জন্য আবেদন করতে হবে। ৭. যদি কোনো বিষয়ে এখনই কোনো মামলা না করতে চান, তাহলে জিডিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিতে হবে যে এ বিষয়ে আপাতত কোনো মামলা করবেন না। তবে মনে রাখবেন, পুলিশ যদি মনে করে যে কোনো মারাত্মক অপরাধ ঘটছে, তাহলে জিডি থেকেও মামলা হতে পারে।

৮.দরখাস্তের সর্বশেষে জিডির আবেদনকারীর নাম, পিতা-মাতার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রয়োজনে ফোন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ৯. জিডির দুই কপি করে স্বাক্ষর দিয়ে জিডির কপি থানায় ডিউটি অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে। ডিউটি অফিসার থানায় নির্দিষ্ট নথিতে জিডিটি তালিকাভুক্ত করে জিডির কপিতে সিল, স্বাক্ষর, তারিখ ও জিডি নম্বরসহ এক কপি আবেদনকারীকে দেবেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিডি গণ্য হবে না।

জিডি করতে আপনি কার সহায়তা নিবেন

অভিযোগকারী নিজে জিডি লিখতে পারেন, আবার প্রয়োজনে থানার কর্মকর্তাও লিখে দিয়ে থাকেন। জিডি করতে যে কোনো পরামর্শের জন্য থানার সার্ভিস ডেলিভারি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। আপনি যদি লিখতে না পারেন, তবে তাঁকে লিখে দিতে অনুরোধ করুন এবং এজন্য কোনো অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আপনার জিডি কে নখিভুক্ত করবে

থানার ডিউটি অফিসার জিডি নথিভুক্ত করেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি ডায়েরীতে জিডির নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। জিডির দুটি কপি করা হয়। একটি থানায় সংরক্ষণ করা হয় এবং অন্যটিতে জিডির নম্বর লিখে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও সীলমোহর দেয়া হয়। এটি ভবিষ্যতের জন্য আপনি নিজের জন্য সংরক্ষণ করবেন। প্রতিটি জিডির বিপরীতে একটি নম্বর দেয়া হয়, ফলে কোন অবৈধ প্রক্রিয়া মাধ্যমে কেউ আগের তারিখ দেখিয়ে জিডি করতে পারেন না। জিডি হওয়ার পর ডিউটি অফিসার জিডির অনুলিপি থানার অফিসার ইনচার্জ-এর কাছে পাঠাবেন। জিডিটি যদি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটন বিষয়ে হয়, তবে থানা কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপরাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা আবদেনকারীকে অবহিত করবে।

আপনি কখন অনলাইনে জিডি করবেন

আপনার যদি তাৎক্ষণিক পুলিশকে প্রয়োজন না হয় বা আপনার যদি থানায় যেতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে অনলাইনেও জিডি করতে পারবেন। পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া দেবার প্রয়োজন নেই এমন ক্ষেত্রে যেমন পাসপোর্ট হারানো, ইভটিজিং, বখাটে বা মাদকসেবিদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান বা এ জাতীয় ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করা যেতে পারেন বা সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তরে ফ্যাক্স বা ই-মেইল করতে পারেন। এক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করার পর ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিডি নম্বরটি জিডিকারীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এ পদ্ধতিতে দেশের বাইরে থেকেও জিডি করা সম্ভব। ইমেইল করার ঠিকানা: bangladesh@police.gov.com ফ্যাক্স: ৯৫৫৮৮১৮। অনলাইনে জিডি করার জন্য  http:/ww/w.police.gov.bd সাইটে গিয়ে ‘Citi“ens help request`এ ক্লিক করতে হবে।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close