*  জনগণের সেবা করার সুযোগ চান ত্রিশালের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল           *  ময়মনসিংহ ডিবি’র পৃথক অভিযানে ২১৩৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার            * রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ           *  আমরা প্রেসের ফ্রিডমকে ইউকে’র পর্যায়ে নিতে চাই           *  তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের কব্জা থেকে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার সরকারি কর্মচারীদের পাজেরো বিলাস           *  পুরুষের যৌন লালসার শিকার যে শহরের কিশোররা           *  গুরুতর অসুস্থ কুদ্দুস বয়াতি, প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা           *  ধলা ডিউ পয়েন্ট স্কুল বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান           * ‘কাশ্মীরি যুবকরা বন্দুক হাতে নিলেই হত্যা’           * উপজেলা নির্বাচন : লক্ষ্মীপুরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলি           *  এখন আর তদবিরে কাজ হয় না: কাদের           *  রূপগঞ্জে মাটি ব্যবসায়ীকে শ্বাসরোধে হত্যা           *  ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির পুলিশি হেফাজতে           *  স্বল্প খরচে ময়মনসিংহ মেডিকেলেই কিডনি ডায়ালাইসিস           * নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ           * মিষ্টি আলু খাবেন কেন?           * বন্দুকযুদ্ধে মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ           * গুগলে টয়লেট পেপার সার্চ দিলেই পাকিস্তানের পতাকা           * মেহেরপুরে মাদকসহ আটক তিন           * বেশি লাভ করছে ৩৩ ব্যাংক          
* রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ           *  ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির পুলিশি হেফাজতে           *  স্বল্প খরচে ময়মনসিংহ মেডিকেলেই কিডনি ডায়ালাইসিস          

ফুঁসলিয়ে কৃষিজমির মাটি ইটভাটায়

লালমনিরহাট | বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭

ফুঁসলিয়ে কৃষিজমির মাটি ইটভাটায়
জেলার ইটভাটাগুলোতে প্রতি মৌসুমে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ১৯ কোটি পিচ ইট। এই ইট উৎপাদনের জন্য পোড়ানো হচ্ছে প্রায় ১ কোটি সিএফটি মাটি। সিংহভাগ মাটি আসছে কৃষিজমি থেকে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, কুষকদের ভুল বুঝিয়ে কিংবা ফুঁসলিয়ে কৃষিজমির মূল্যবান অংশ ‘টপ সয়েল’ হিসেবে পরিচিত মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইটভাটার চাহিদা মেটাতে কৃষিজমির গুরুত্বপূর্ণ অংশের এমন বিনাস হলেও এ নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া নেই সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের। ফলে কৃষিজমির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদনের ওপর  মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অথচ ইটভাটার সর্বশেষ আইন অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষক ও কৃষি বিভাগ, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, ইটভাটা মালিকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে যানা গেছে, ‘কৃষিতে ইটভাটার প্রভাব’ বিষয়ে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা কার্যক্রম চলছে। এর প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ক্ষতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন সম্ভব হবে। তবে কৃষিজমির টপ সয়েল নিয়ে উদ্বেগ সম্পর্কে ধারণা নেই কৃষকদের। তারা সামান্য প্রয়োজনে বা কোনো প্রয়োজন ছাড়াই মাটির উপরিভাগ তুলে দিচ্ছেন ভাটা মালিকদের কাছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল ধারণা থেকেও তারা মাটি বিক্রি করছেন।

ইটভাটায় টপ সয়েল বিক্রি নিয়ে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, মূলত কৃষকদের ফুঁসলিয়ে কিংবা ভুল বুঝিয়ে জমির মাটি কেটে নিচ্ছে ঠিকাদাররা। কোথাও কৃষককে বোঝানো হয়, জমি উঁচু, সেচের পানি নেমে যাবে, বোরো আবাদ হবে না। তাই ওপর থেকে মাটি ভাটায় বিক্রি করে দেয়া ভালো। কোথাও বলা হয়, উপরের মাটিতে ভাইরাস-ময়লা। উপরের মাটি বিক্রি করে নিচের ‘ভালো’ মাটিতে চাষ করলে বেশি ফসল হবে। এভাবে নানাভাবে কৃষককে বিভ্রান্ত ও প্ররোচিত করা হয় টপ সয়েল বিক্রির জন্য। আর এ কাজে সক্রিয় রয়েছে ভাটায় মাটি সরবরাহকারী কন্ট্রাক্টররা।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, জমির উপরের মাটিতে ময়লা-ভাইরাস থাকে। এ জন্য তিনি উপর থেকে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে দিয়েছেন। একই ধরনের বক্তব্য ওই উপজেলার নাওদাবাস গ্রামের কৃষক আশরাফ হোসেনের।

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চামটাহাট এলাকার কৃষক সাদেকুল ইসলামের জমিটি আশপাশের জমি থেকে কিছুটা উঁচু। শ্যালো মেশিন মালিক উঁচু জমিতে সেচের পানি দিতে চায় না। আবার উঁচু জমিতে পানি বেশিক্ষণ ধরেও রাখা যায় না। এ জন্য তিনি উপর থেকে মাটি বিক্রি করে ‘জমি সমান’ করছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘মাটি কেটে নিলে জমির কিছুটা ক্ষতি হয় তা তিনি জানেন। তাই সার-মাটি দিয়ে তা তিনি পুষিয়ে নেবেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির উবর্রতা শক্তি উপরিভাগের ১৫-২০ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। এই অংশে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান থাকে। এই উপাদান গাছকে ঘন সবুজ রাখে, শিকড় বিস্তারে সহায়তা করে, সময়মতো ফুল ফোটায় ও ফসল পাকায়, ফসলের গুণগত মান বাড়ায়। উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই ওপর থেকে মাটি সরিয়ে ফেলায় উবর্রা শক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় সেই জমির ওপর বিভিন্ন পদার্থ জমে উবর্রা শক্তি ফিরে আসতে শুরু করে। আগের মতো উর্বরা শক্তি ফিরে আসতে কমপক্ষে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। তাই মাটি বিক্রি অব্যাহত থাকলে একসময় ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান কর্মকর্তারা।

লালমনিরহাটের ইট প্রস্তুতকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে ভাটাপ্রতি ৬০ লাখ হিসেবে জেলায় ৩১টি ইটভাটা থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় ১৯ কোটি ইট উৎপাদিত হয়। আর এ জন্য প্রতি ভাটায় ৭ থেকে সাড়ে ৮ হাজার ট্রাক মাটি দরকার হয়।  মাটি পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি সিএফটি।

ইটভাটার সর্বশেষ আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এ উল্লেখ রয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসাবে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না।’ এই আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদন্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, মাটির জৈব ও পুষ্টি উপাদান উপরিভাগের ৩ থেকে ৫ ইঞ্চির মধ্যে বিরাজমান। ফলে এই মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া যে কী ভয়াবহ ক্ষতি তা কৃষকরা জানেন না। এ জন্য কোনো কারণ ছাড়াই বা সামান্য কারণেও তারা মাটির উপরিভাগ ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এই টপ সয়েল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ১৫ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় লাগে।  কৃষিজমি রক্ষায় কৃষকদের এই প্রবণতা থেকে সরিয়ে আনা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লালমনিরহাটের উপপরিচালক বিধু ভূষণ রায় বলেন, কৃষিজমি থেকে টপ সয়েল কেটে নেয়ার একটি মারাত্মক প্রবণতা রয়েছে। মাটির সবচেয়ে উর্বর অংশ কৃষিজমি থেকে ভাটায় চলে যাওয়ায় ফসল উৎপাদনের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বাড়তি জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে কৃষক উৎপাদন ঠিক রাখতে চাইলেও তা সব সময় সম্ভব হয় না। উপরন্তু উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়।

কৃষিজমি কেটে মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে লালমনিরহাট জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনেই আমরা ইটের জন্য মাটি সংগ্রহ করি। পাশাপাশি জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকি। আমরা যা করছি, তা তো উন্নয়নের জন্য করছি। অনেকে নিয়ম মেনে মাটি সংগ্রহ করছে না, সেটা আমার জানা নেই।’

কৃষিজমির মাটির বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার পরও তারা তা শুনছেন না বলে জানান লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ। তিনি বলেন, ‘নগদ টাকার আশায় তারা মাটি বিক্রি করছেন। মাটি বিক্রি করে সাময়িক অভাব দূর হলেও আখেরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে তাদের।’




আরও পড়ুন



১. প্রধান উপদেষ্টা ঃ এড. সাদির হোসেন (হাইকোর্ট আইনজীবি)
২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close