* পত্নীতলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল ঘোষের মৃত্যু : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সৎকাজ সমপন্ন           * ট্রাম্পকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি হাসান রুহানির           * হলুদ সন্ধ্যায় রঙিন নাবিলা, বিয়ে বৃহস্পতিবার            * বিয়ে নিয়ে সোনমের মহৎ সিদ্ধান্ত           * নড়াইলের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশ!           * অনবদ্য ব্যাটিং আর অগ্নিঝরা বোলিং, ইতিহাস গড়ল পি কে আর            *  ফুলপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও পরীক্ষার্থীসহ আহত ৫           * জেনে নিন মাটিতে বসে খাওয়ার উপকারিতা            * ইয়েমেনে বিয়েবাড়িতে হামলার তীব্র নিন্দা জাতিসংঘের           * সিনেমায় এসে নাম বদলেছেন যেসব নায়ক-নায়িকা            * প্রধানমন্ত্রী আরেকটি অনন্য অর্জনের কথা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী           * কানাডায় গাড়ি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত           * রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেবেন আজ           * মুস্তাফিজ নয় ম্যাচ হারে মুম্বাই সমর্থকের কাঠগড়ায় বুমরা           * শৈলকুপায় ৫ শিক্ষক লাঞ্ছিত : সুষ্ঠ বিচার না হলে ক্লাশ বর্জন, অনশন ধর্মঘট, মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ লাগাতার কর্মসূচীর হুশিয়রী শিক্ষার্থীদের            * প্রথম ডেটের পর বাসায় এসে কি করে মেয়েরা           * যে কারণে পা তুলে বসাকে শতর্কবার্তা দিল বিজ্ঞানীরা           *  গাজীপুরে বিল্লাল হত্যা মামলায় ১৩ জনের ফাঁসির আদেশ           * রাকসু নির্বাচন দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন           * রুয়েট বাস চালককে কুপিয়ে হত্যা           
* ট্রাম্পকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি হাসান রুহানির           * হলুদ সন্ধ্যায় রঙিন নাবিলা, বিয়ে বৃহস্পতিবার            *  ফুলপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও পরীক্ষার্থীসহ আহত ৫          

সহজে খাই ভেজা চিতই

| রবিবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৮
সহজে খাই ভেজা চিতই
গ্রাম ছেড়েছি বহুদিন হলো। দেড় যুগেরও বেশি। থিতু হয়েছি ঢাকায়। ফলে গ্রামের পিঠা-পায়েস শহরে থেকে খুব একটা খাওয়া হয় না। পিঠা খেতে মন চাইলে গ্রামে মায়ের কাছে ছুটে যাই। কিংবা মা-বাবা ঢাকা এলো পিঠা বানিয়ে আনার জন্য বায়না ধরি। কখনো মা ঢাকায় পিঠা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম নিয়ে আসেন। বানিয়ে দেন আমার পছন্দের পিঠাগুলো। খুব মনে পরে সেই সেইদিনগুলোর কথা। যখন শীতের সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসতাম রস চিতই। ঠান্ডা পিঠা পেট ভরে খেতাম আর শীতে ঠকঠক করে কাঁপতাম। সেই দিনগুলো এখন স্মৃতি।

কয়েকদিন আগে মা-বাবা ঢাকায় এসেছিলেন। তখন শীতের শুরু। মাকে বললাম অনেক দিন রস চিতই খাই না। খুব খেতে ইচ্ছে করছে। মা জানালেন গ্রামেও এখন খুব বেশি একটা রস মেলে না। এখন আর গাছিরা খেজুর গাছ কেটে রস আহরণ করেন না। ইট ভাটার অঙ্গারে চলে গেছে খেজুর গাছ। এসব শুনে আশাহত হই। ভাবি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বুঝি খেজুরের রসের পিঠা-পায়েসের স্বাদ আস্বাদন না করার আফসোসে ভুগবে।

আমার মা খুবই পরিশ্রমী একজন নারী। সেই সঙ্গে উদ্ভাবনীও। মা আমাকে জানালেন শহরে বসেও ভেতা চিতই খাওয়া যাবে। যদি তাকে আমি কিছু উপকরণ এনে দেই। তিনি জানালেন শহরের গ্যাসের চুলায় চিতই পিঠা ভালো হয় না। চিতই পিঠার জন্য চাই মাটির চুলা আর লাকড়ি। আমি মাকে আশ্বস্ত করে জানালাম আমাদের মহল্লায় বয়স্ক এক মহিলা লাকড়ির চুলায় চিতই বানান। এটা শুনে মা খুশি হলেন। বললেন, ‘তুই সাত-আটটা চিতই পিঠা দিয়ে আয়। আরও আনিস খেজুড়ের পাটালি গুড় আর দুধ।’

নাগরিক ব্যস্ততার কারণে এসব উপকরণ এনে দেয়া হয় না মাকে। কর্মব্যস্ততায় ভুলে থাকি পিঠা খাওয়ার কথাও। একদিন সন্ধ্যায় কর্মক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরি। মা আমাকে দেখে মিটমিটিয়ে হাসে। বুঝলাম আমার জন্য সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে। হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হতেই মা আমার সামনে এনে হাজির করেন ভেজা চিতই। তখন আমার আনন্দ উপচে পড়ে। গোটা কয়েক পিঠা তথনই উদরপূর্তি করি। কিন্তু ভেজা চিতই আসল স্বাদটা পাওয়া যায় সকাল বেলা। তখন চিতই রসে টইটুম্বর হয়। ঠান্ডা এই পিঠার স্বাদ কেক, মিষ্টির চেয়েও অনন্য।

পিঠার রস আস্বাদন শেষে মায়ের কাছে জানতে চাই পিঠার যোগারযন্ত্র কীভাবে হলো? মা জানালেন বাবাকে দিয়ে বাজার থেকে দুধ আর পাটালি গুড় আনিয়েছেন। মহল্লার টং দোকান থেকে চিতই পিঠাও এনেছেন বাবা। সেদিন মায়ের কাছে জানা হয়নি কীভাবে তিনি গ্রামের সেই স্বাদের ভেতা চিতই বানালেন।
 
গতকাল সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে গিন্নিকে বলি, ‘চলো আমরা ভেজা চিতই বানাই’। সে তখন একগাল হেসে নিয়ে বলে,‘আমি তো জানি না কীভাবে এই পিঠা বানায়’। গিন্নির এই কথা শুনে তাকে মসকরা করে বলি, ‘তোমরা যারা শহরে বড় হয়েছো তারা তাদের ছেলেমেয়েদের কাছে গ্রামের ঐহিত্য মাখানো পিঠা খাওয়ার গল্প করবে কীভাবে?’ সে তখন আফসোস নিয়ে বলে ‘হুম’।

বরাবরই আমি নাজোরবান্দা। কিছু একটা খেতে মন চাইলে সেটা বানিয়ে খাবই। হেঁসেলে আমারও যাওয়া আসা আছে। টুকটুক রান্নাও করি। সেটা শখের বসে। আমার বাবাকেও দেখেছি মা ব্যস্ত থাকলে রান্নাটা সামলাতেন। আমরা ভাইয়াও রান্না করেন। ভাবীর রান্না তার মনে না ধরলে তখন নিজেই রান্না ঘর ঢুঁকে পড়েন। ভাবীর রান্নায় মেলে ‘ঢাকাইয়া স্বাদ’। যেটা আমার খুব পছন্দ। আর আমার ছোট বোনও ভোজন রসিক। রান্নাটা ভালোই জানে। তাই বলা যায় আমাদের পরিবারের সকলেই রাঁধুনী!

গিন্নি আর আমি পিঠা খাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগি। মাকে ফোন দেই। ফোনে মা জানালেন ভেজা চিতই বানানোর সহজ রেসিপি। বাজার থেকে পাটালি গুড়, দুধ এনে গিন্নির হাতে দেই। মহল্লার টং দোকানে গিয়ে দেখি বয়স্ক এক নারী চারটি কড়াইতে একের পর এক চিতই পিঠা বানিয়ে যাচ্ছেন। পিঠা কড়াই থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ছোঁ মেরে মহল্লার শিশু-কিশোররা নিয়ে বাসার দিকে ছুটছে। আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওই নারী বললেন, ‘বাজান, তুমি একটু পরে আসো। তোমার জন্য পিঠা বানিয়ে রাখবো’। আমি কিছুটা আশাহত মন নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য পা বাড়াই। পথে আসতে আসতে মনে হলো, ভালই হয়েছে পিঠা বানানো হোক। আমি এই ফাঁকে পিঠার রস বানিয়ে রাখি।

যেই ভাবনা সেই কাজ। বাসায় এসে চুলায় গরম পানিতে পাটালি গুড় দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটা গলে যায়। রসের ঘ্রাণ নাকে আসে। অন্য চুলায় তখন দুধ জ্বাল দিতে থাকি। একাজে গিন্নি আমাকে সাহায্য করে। কিছুক্ষণের মধ্যেও হাজির হই সেই পিঠার দোকানে। গোটা ছয়েক পিঠা আমার জন্য তিনি বানিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলো এনে প্রথমে পাটালি গুড়ের রসে ভেজাই। এরপর এতে ঘন করে জ্বাল দেয়া দুধ মেশাই। কিছুক্ষণ নাড়তেই পিঠাগুলো সিরার মধ্যে ডুবে যায়। এবার পিঠা খাবার পালা। কিন্তু এজন্য এক রাত অপেক্ষা করতে হবে। সকালে খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গতেই পিঠার কথা মনে পড়ে। খাবারের টেবিলে প্রাতঃরাশে গিন্নি এনে দিল দুই খান ভেজা চিতই। সেগুলো খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর ওঠে। গিন্নিও ভেজা চিতইর প্রশংসা করে। পিঠা খেয়ে শীতের কুয়াশা গায়ে মেখে বেরিয়ে পড়ি নাগরিক কোলাহলে। মনে তখন ভাসতে থাকে গ্রামের শীতের সকালের আবহ। শর্ষে ক্ষেতে হলুদ ফুল। ফুলের ডগায় শিশির কণা। একটি মৌমাছি শর্ষে ফুলের মধু খেতে ফুলের উপর দিয়ে ভন ভন করে চক্কর খায়। এদিকে আমি মোটরসাইকেলে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ তুলে গোল চক্কর পার হয়ে এগিয়ে যাই সংবাদের আঁতুর ঘরের দিকে।

ভেজা চিতই তৈরির রেসিপি
আমার পিঠা খাওয়ার গল্প পড়ে কারো কারো হয়তো ভেজা চিতই খাওয়ার ইচ্ছে জাগবে। তাই তাদের জন্য ভেজা চিতই তৈরির পুরো প্রণালি জানিয়ে দিলাম। আমার দেয়া উপকরণ দুইজনের আহারের জন্য।

উপকরণ ও প্রণালি
বাজার থেকে আধা কেজি খেজুরের পাটালি গুড় কিনুন। আরও কিনুন আধা লিটার দুধ।

গুড়
গুড়

এবার আধা লিটার পানির মধ্যে চারশ গ্রামের মত পাটালি গুড় দিয়ে গ্যাসের চুলায় জ্বাল দিন।

রসের মত সিরা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিকে থাকুন। অন্য একটি পাত্রে দুধ ঘন করে জ্বাল দিন।

এবার চিতই পিঠার খোঁজে বের হোন। আশা করি আপনার বাসার আশেপাশেই চিতই পিঠার দোকান পেয়ে যাবেন। শীতের এই সময়টাতে মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে অনেক নারী-পুরুষ চিতই এবং ভাঁপা পিঠা বানান। সেখানে থেকে ছয়টি চিতই পিঠা কিনুন। পিঠার আকৃতি ছোট হলে আটটা কিনতে পারেন।

এবার গরম গরম সেই পিঠাগুলো প্রথমে পাটালি গুড় জ্বাল দিয়ে বানানো রসের মধ্যে ডোবান। পিঠাগুলো ভালো করে উল্টে পাল্টে রসে ভেজান। এর মধ্যে দিন ঘন করে জ্বাল দেয়া দুধ। সামান্য লবণ দিন। খানিকটা নেড়ে চেড়ে দেখুন মিষ্টি ও লবণ ঠিক আছে কী না। মিষ্টি কম হলে খানিকটা চিনি দিতে পারেন। কিংবা গরম পানিতে পাটালি গুড় গলিয়ে রস তৈরি করে সেগুলো পিঠার পাত্রে ঢালুন।

পিঠাসমেত পাত্রটি ঢেকে রাখুন। গরম মসলা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যদি পিঠার জন্য তৈরি রসের মধ্যে গরম মসলা দেন তবে পিঠা থেকে গরম মসলার ঝাঁঝালো গন্ধ আসবে। যেই গন্ধ আপনার পিঠার স্বাদকে কমিয়ে দেবে। একটা কথা বলে রাখি যদি আপনি দুধ ও আর গুড় একসঙ্গে চুলায় জ্বাল দেন তবে দুধ ফেটে যেতে পারে। এজন্য দুধ ও গুড় আলাদা আলাদা পাত্রে জ্বাল দিতে হবে।

ভেজা চিতইর প্রাকৃত রস আস্বাদন করতে চাইলে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে হবে। যদি সকালে খাওয়ার পরও পিঠা উদ্বৃত্ত থাকে তবে তা ফ্রিজে রেখে দিন। কিন্তু গরম পিঠা রসে ভেজানোর পর ফ্রিজে রাখবেন না। যদি রাখেন তবে পিঠা শক্ত হয়ে যাবে। খেতে ভালো লাগাবে না।




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close