* বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের           * সিলেট সিটিতে জামায়াতের ধাক্কা, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি           * বেশি বয়সে বিয়ে করেছিলেন যে অভিনেত্রীরা           * নিরাপত্তার অভাবে নওয়াজ ও মরিয়মকে সিহালা রেস্ট হাউসে নেওয়া হচ্ছে না           * ১২ঘণ্টার ব্যবধানে ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতার           * দুই নৈশপ্রহরীকে খুন করে তিন দোকানে ডাকাতি           * অফিসে ঘুম পেলে কী করবেন?            * সন্তানসম্ভবা মায়েরা ভৌতিক স্বপ্ন দেখেন যে কারণে            * প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যুবক ধরা           * ‘সংবর্ধনা প্রয়োজন নেই, আমি জনগণের সেবক’           * ১২ লাখ রুপির গয়না আত্মসাতের অভিযোগ           * ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্য অবশ্যই মেনে চলুন ৯টি নিয়ম           * ধাড়াক’ ছবিতে শ্রীদেবী-কন্যা জাহ্নবীর পারিশ্রমিক কত জানেন?           * হালুয়াঘাটের বিএনপি নেতা সালমান ওমরের সম্মাননা গ্রহণ            *  আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন হাওয়া ভবনের আলী আসগার লবি            *  আজই প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘোষণাটা চান মওদুদ           *  নওগাঁয় একসাথে ছয় সন্তান প্রসব           *  গুপ্তধনের খোঁজে মিরপুরে এলাহী কারবার           * মিরপুরে বাড়ির নিচে ‘গুপ্তধনের’ সন্ধানে পুলিশের অভিযান           * ধার করা বই পড়ে উপজেলার সেরা দিনমজুরের মেয়ে কাকলী          
* বিশ্বের সবচেয়ে দামী গোলরক্ষক ব্রাজিলের অ্যালিসন            * থানায় গিয়ে বান্ধবীর বিয়ে ভাঙল তিন কিশোরী            * ফল বিপর্যয়ে ইংরেজি ও আইসিটি           

নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করছি : রোকেয়া প্রাচী

অনলাইন ডেস্ক | সোমবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৮
নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করছি : রোকেয়া প্রাচী
রোকেয়া প্রাচী- অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা। বিকল্পধারার চলচ্চিত্রে তিনি বিকল্পহীন। অভিনয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। আবৃত্তিকার হিসেবেও খ্যাতি আছে। হালে সমাজকর্মী হিসেবেও যথেষ্ট সক্রিয়। রাজনীতির মাঠেও নেমেছেন। এসব নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেছে এই সময়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ ঋয়াদ

রাজনীতির মাঠে আপনার ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে। এ নিয়ে কী বলবেন?

আমি ব্যস্ত ২০১১ সাল থেকেই। যদি তুমি বলো সরাসরি ব্যস্ততার কথা, সেই অর্থে এর তখন আমি দলে আসলেই ততটা ব্যস্ত ছিলাম না। তাই আমার দলের ব্যস্ততা আলাদা করে বোঝা যায়নি। কারণ আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে যতটা সক্রিয় ছিলাম মাঠের রাজনীতিতে ততটা সক্রিয় ছিলাম না। তোমার যদি মনে থাকে দেখবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ওই সময়টাতেও আমি গণজাগরণ মঞ্চে সক্রিয় ছিলাম। তখনো দলের পদে নেই, আমার কাজগুলো ছিল অনেকটা ব্যক্তি উদ্যোগে। সে কারণে শুধু রোকেয়া প্রাচীর আন্দোলনগুলো একজন নাগরিক কিংবা একজন শিল্পীর সচেতনতা থেকে হয়েছে। এখন যেহেতু আমি সরাসরি দলের হয়ে কাজ করছি, তাই ব্যস্ততাও বেড়েছে। কারণ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি। আর পেছনে যত কাজ করেছি, তা হলো এই সময়ে এসে আমি যা করছি তারই পূর্ব প্রস্তুতি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মিরপুরে শ্রমিক লীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি। আমি আসলে পারিবারিক সূত্রেই রাজনীতি করছি। সেই আবহটা ছিল।

গণজাগরণ মঞ্চের মতো দেশের প্রগতিশীল অনেক আন্দোলনেই তো যুক্ত ছিলেন।

এ রকম অনেক ইস্যু নিয়ে আমি মাঠে ছিলাম। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির জন্য তাদের বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা আন্দালন’ নামে যে সংগঠনটি হয় আমি সেটির সদস্য সচিব। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির জন্য আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি। শুধু যুদ্ধাপরাধের বিষয়টা ফোকাস করা নয়, বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস, তাদের দুর্নীতি, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজাকার-আল-বদরদেরকেই আবার ক্ষমতায় আনা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াতের অপশাসনের রাজনীতি, দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি, এগুলোকে নিষিদ্ধ করার জন্য কাজ করছিলাম।

দলের জন্য ব্যস্ততা কেমন?

আমি যখন একটা সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মী, তখন আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ কর্মীর কাছে দল যেমন আশা করে, তখন কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার একটি ব্যাপার থাকে। আমি আস্থার জায়গায় কতটা যোগ্য অথবা দল আমাকে যে দায়িত্বটা দিয়েছে সেটা আমি কতটা পালন করতে পারছি। নিজেকে প্রমাণ করার আমার জন্য  এটা অবশ্যই বড় সুযোগ। আমরা যদি দায়িত্ব নিয়ে কাজ না করি তাহলে দল আগাবে কি করে! বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনীতির সংস্কৃতি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মীরা যেভাবে কাজ করে অন্য কোনো দলের কর্মীরা কিন্তু সেরকম না। বঙ্গবন্ধু মাঠের রাজনীতির আদর্শ মানুষ। টুঙ্গিপাড়া থেকে এসে রাজনীতির মাধ্যমেই আজকের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি এদেশের মানুষকে উপহার দিয়েছেন। কিন্তু তাঁকেই সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। আর সেই দলের একজন কর্মী হিসেবে আমার তো জাতির পিতার আদর্শেই কাজ করা উচিত।

মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন এটা কী আগে থেকেই পরিকল্পনায় ছিল।

অবশ্যই। এটা পরিকল্পনা নয়, দীর্ঘদিনের ফিল্ড ওয়ার্কেরই অংশ। কারণ আপনি হুট করে কিছু করতে পারবেন না। আমি খুবই কৃতজ্ঞ আমাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। দলের জন্য এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করার জন্যই আমাকে নেত্রী এই সুযোগটি করে দিয়েছেন। আমি দলের গঠনতন্ত্রের যে শৃঙ্খলা আছে সেটা মেনে কাজ করার চেষ্টা করব।

আপনার রাজনৈতিক এলাকা নিয়ে বলুন।

আমি সোনাগাজীর মেয়ে। ফেনি-১, ২, ৩ আমার কাছে বিষয়টা এমন নয়। আমি বৃহত্তর নোয়াখালী পরিবারেরও মেয়ে। যেখানে কেউ শুনেছে আমি সোনাগাজীর মেয়ে  সেখানেই বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ফেনী-২ এর এমপি নিজাম হাজারী আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট করছেন। বড় ভাইয়ের মতো সহযোগিতা করছেন। তিনি আমার রাজনৈতিক অভিভাবক। এই ভালোবাসাটা অমূল্য। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান বিক্রম ভাই, আলাউদ্দিন নাসিম ভাই। কাদের ভাইতো আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক। তার কথা আমি আলাদা করে নাই বা বললাম। আমি সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই ভাগ্যবান। আমি নিজাম হাজারী ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি ফেনী আওয়ামী লীগকে এতো সুন্দরভাবে গুছিয়েছেন। আমাদেরকে সাপোর্ট করেছেন। আমি যদি ইলেকশন নাও করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করব। আমি আমার অঞ্চলের মানুষের পাশে সব সময় থাকব।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবনা কী? আপনাকে সম্ভাব্য প্রার্থী বলছেন অনেকেই।

আমি অবশ্যই নির্বাচন করতে চাই, কিন্তু ব্যাপারটা এমন না। আমি নির্বাচন করব বলেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তা কিন্তুনয়। আমি নির্বাচন করতে চাই একজন কর্মী হিসেবে, এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি রোকেয়া প্রাচী কাজ করছি দলের জন্য। ব্যাপারটা হচ্ছে সামনে নির্বাচন দলকে জিততে হবে। আর এই জয়ে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। সেই কাজটা আমি করছি। এই প্রক্রিয়া একজন কর্মী তার দলের জন্য কাজ করছে। টার্গেট হচ্ছে নৌকাকে জিতিয়ে নিয়ে আসা।

অভিনয়ের জগৎ থেকে রাজনীতির মাঠে। দুটি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। কেমন লাগছে?

এটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আমি যেখানেই কাজ করতে গিয়েছি মানুষ আমাকে দারুণভাবে নিয়েছে। একজন রাজনীতিবিদের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের মন বোঝা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের দলের একজন কর্মী যেভাবে গ্রহণ করবে, সাধারণ মানুষের বেলায় বিষয়টা একই রকম নয়। আমার বড় সুবিধা হলো আমি প্রতিটি পরিবারের ঘরে যেতে পারছি। এটা আমার সৌভাগ্যও বটে। আমি মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলেছি, এতিমখানার ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছি, মসজিদের আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছি, সবাই সবার জায়গা থেকে আমাকে সহযোগিতা করছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করেও ভালো লাগছে। আমার কাজের বেলায় নবীন-প্রবীণের এক মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে আমার নির্বাচনি এলাকা।

রাজনীতির কারণে অভিনয় কী কমে যাবে? প্রভাব পড়বে?

অবশ্যই, প্রভাব পড়বে। আমি কখনো প্রচুর কাজ করিনি। সব সময় বেছে বেছে অভিনয় করেছি। এখনো বেছে বেছে কাজ করছি। এই সময়ে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তো একটু সেক্রিফাইস করতেই হবে। সব তো এক সঙ্গে হয় না। তাই অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীকে রাজনীতির জন্য কিছুটা ছাড় দিতেই হবে। আর এটা মেনেই তো রাজনীতি করতে এসেছি।

আপনার একটি সংগঠন আছে ‘স্বপ্ন সাজাই’। এটা নিয়ে বলুন।

আমরা নারী-শিশু ও সামাজিক নানা ইস্যু নিয়ে কাজ করি। ‘স্বপ্ন সাজাই’ এর একটি কাজ হচ্ছে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে। যাদেরকে আমরা আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই বিষয়গুলোকে একটা সাপ্লিমেন্টারি এডুকেশনের মতো করে সেখানো। যেমন আমরা ওদেরকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা বলছি, উনিশ শ পঁচাত্তর সালের কথা বলছি, ধর্মনিরেপেক্ষ বাংলাদেশের কথা বলছি, আমাদের জাতির পিতার কথা বলছি, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছি এবং সেই সঙ্গে দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরছি। এই কো-এডুকেশনের মধ্যে দিয়ে কিন্তু একজন শিশু কিংবা কিশোর তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে বুঝতে পারে।

আপনার এই সংগঠনের লক্ষ্য কী?

এই কিশোর বা তরুণদের যা শেখানো হবে, তারা সারাজীবন এই আদর্শ নিয়ে চলবে। ৭ মার্চের ভাষণ কি? ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট কি? কিভাবে বাংলাদেশ হলো? এসব বিষয় তারা যখন জানবে, তখন তাদের ব্রেনে কেউ আর কোনো ধরনের কুমন্ত্রণা দিতে পারবে না। তাদেরকে কেউ শেখাতে পারবে না যে, একজন মানুষের গলা কাটলেই বেহেশতে যাওয়া যায়। তারা প্রগতিশীল চিন্তাধারা নিয়ে বড় হবে। তরুণ প্রজন্মকে মোটিভেটেট করার কাজ করছি কো-এডুকেশনের মধ্যে দিয়ে।

রাজনীতির ক্ষেত্রে তাদের এই শিক্ষা তো গুরুত্বপূর্ণ?

একটা দেশ যে উন্নয়ন হচ্ছে সেই উন্নয়নের বার্তাটা একজন সচেতন নাগরিক কিন্তু তার পরবর্তী প্রজন্মকে দেবে। এই ইনফরমেশনটা সে জানলে সে আর হতাশ হবে না। দেশে এত উন্নয়ন হচ্ছে সে যদি আওয়ামী লীগকে পছন্দ নাও করে সে উন্নয়নের বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে। সে হতাশ হবে না। আমরা স্কুলে-কলেজে এই বিষয়গুলো বলছি। আমাদের এখানের যে কালচারাল গ্রুপটা আছে তাদেরকে নিয়ে আমরা আনন্দের সঙ্গে কাজটা করছি। এতে করে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা কাজ করছে। রাজনৈতিক সচেতনতা প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

কখন থেকে কাজ করছেন।

আমরা কাজ করছি অনেক দিন থেকে। প্রথমে ‘স্বপ্ন সাজাই’ এই নামটা ছিল না। প্রথমে স্বপ্ন দেখতে হবে এমন একটা থিম নিয়ে কাজ শুরু করেছি। পরে মনে হলো, আমরা যে কাজটা করছি তার যদি কোনো নাম না থাকে তাহলে ঠিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না। প্রথমে বলছিলাম আমরা স্বপ্ন দেখাতে চাই। স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চাই। এরকম করতে করতে মনে হলো নামটা ‘স্বপ্ন সাজাই’ হয়ে যাক। নাম ছাড়া কোনো কাজ আগানো যায় না। আমরা গত তিন বছর ধরে অফিসিয়ালি কাজ করছি। মোহাম্মদপুর বস্তিতে, কুড়িল বস্তিতে আনঅফিসিয়ালি কাজ করছি আরও অনেক দিন আগে থেকে। বিভিন্ন জেলায়ও আমাদের কাজ হচ্ছে।

আপনার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের খবর কী?

আমি শেষে যে কাজটা করছি বাংলাদেশের যত উন্নয়ন হচ্ছে সেগুলোর ডকুমেন্টারি বানাচ্ছি। সামনে একটি টেলিফিল্ম বানাব রাজনৈনিতক প্রেক্ষাপট নিয়ে, তারপরই একটি সিরিয়াল বানাব। যে কাজগুলো করছি সেগুলো একটু সময় লাগবে। এমনিতে অভিনয় বা ডিরেকশন আমি একটু ধীর গতিতে করতেই পছন্দ করি। আমি মনে করি একটু সময় নিয়ে কাজ করা ভালো, আর সেভাবেই করতে চেষ্টা করি।

বাংলাদেশ থেকে যতগুলো ফিল্ম অস্কারে, তার বেশিরভাগেই তো আপনি অভিনয় করেছেন।

আমার অভিনীত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছবি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গেছে। অস্কারেও আমার ছবিই সবচেয়ে বেশি গেছে। সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও আমি পেয়েছি। আমি বলব এটা আমার পরিচালকদের ক্রেডিট। কারণ তারা আমাকে ভালো চরিত্রে নিয়েছে। তারা একটি ভালো সিনেমা নির্মাণ করতে চেয়েছে বলেই আমি সেই পুরস্কারগুলো পেয়েছি। আমি শুধু আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কি বলবেন?

১৯৭৫ সালের পর আমরা যে অপরাজনীতির মধ্যে ছিলাম সেটা একটা দীর্ঘ সময়। তখন প্রগতিশীলতার রাজনীতি ছিল না। আর প্রগতিশীলতার রাজনীতি যেখানে থাকবে না সেখানে সংস্কৃতি চর্চা সেখানে ব্যাহত হবে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে আমাদের সংস্কৃতির যেই জয়যাত্রা সেটা অন্য রাজনৈতিক সরকারের সময় ছিল না। আওয়ামী লীগ এ সব জঞ্জাল পরিষ্কার করে আবার কাজ শুরু করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে অনেক সময় লেগেছে। রাতারাতি কোনো কিছু করা সম্ভব না। একটা অপরাজনীতির বলয় থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে শুরু করতে হলে আরও সময় লাগবে। আজকে হঠাৎ করে এসে চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে না এটাই স্বাভাবিক।

সিনেমা হলের সংখ্যা তো কমছেই।

এটা অনেক বড় সংকট। শুধু হলের সংকট না, আছে মার্কেটিংয়ের সংকট, বাজার দখলের যে সংকট, এগুলো সবই সত্যি। সরকার চেষ্টা করছে। ক্রিকেটে যেমন রাতারাতি উন্নতি করেছি সিনেমায় সেই চিত্রটা ভিন্ন। একজন শিল্পী হিসেবে বলছি আওয়ামী লীগ থাকলেই শিল্পের উন্নয়ন ঘটে। একজ শিল্পী হিসেবে যদি বলি, তাহলে বলব আমরা এই সরকারের কাছ থেকে যে ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা পাই অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে সেটা পাই না। ইতিমধ্যে আমাদের চলচ্চিত্র অনেক দূর এগিয়েছে, অনুদানের বাজেট বেড়েছে, অনুদানের সংখ্যা বেড়েছে। এগুলো অনেক বড় ব্যাপার।

একটু ভিন্ন বিষয়ে আসি। সম্প্রতি আপনাকে একটি আলোচিত চরিত্রে দেখা গেল ‘ডুব’ সিনেমায়।

‘ডুব’ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, দর্শক ছবিটাকে খুব ভালোভাবে নিয়েছে। এটা আমি মনে করি পজিটিভ। দর্শক সিনেমাটা দেখছে এটা কিন্তু অনেক বড় প্রাপ্তি। প্রচুর মানুষ নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। একটা ছবির নানা রকম আলোচনা-সমালোচনা হওয়াটাই কিন্তু স্বাভাবিক। এটা এক ধরনের কালচারের চর্চা। এই সংস্কৃতি দোষের কিছু না। ভালো ছবি হোক, ছবিটা সিনেমা হলে যাক, দর্শক দেখুক, প্রযোজক টাকা ফেরত পাবে, আবার ছবি করবে।

নতুন কোনো ছবিতে কাজ করছেন?

এই বছর আর আমার নতুন কোন ফিল্ম আসছে না। আগেই বলেছি রাজনীতির জন্য অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীকে কিছু সেক্রিফাইস করতে হবে। তবে দুটো ছবি করার পরিকল্পনা রয়েছে। দুটোই খুব ভালো কাজ হওয়ার কথা।




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close