* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * নূপুর আছে মরিয়ম নেই, রাজহাঁসের বুকের ২ টুকরা মাংস নেই           * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের           * ক্লান্ত মাশরাফিদের সামনে সতেজ ভারত           * নিউইয়র্কের উদ্দেশে সকালে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী           *  প্রতারক কামাল-মাসুদ এর বিরুদ্ধে চার মামলা            * হালুয়াঘাটে পুলিশের হাতে ফের আটক-৬           *  ঝিনাইগাতীতে বাবা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মেয়ে সেরা শিক্ষার্থী           * ভারত থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ২০ টি ঘোড়া আমদানী           *  ফুলপুরে ৭৭ জন ভিক্ষুকের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ            * কেন্দুয়ায় নারী বিসিএস ক্যাডারকে অপহরণের অভিযোগ           * মাদ্রাসায় জোড়া খুন: পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা           * তরুণীরা আবেদনময়ী সেলফি তোলেন কেন?            * মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬,৩৮৮ টাকা           * সৌন্দর্যের গোপন রহস্য জানালেন শ্রীদেবীর মেয়ে            * নবনিযুক্ত দুই রাষ্ট্রদূতের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ           * শ্রীলঙ্কার দুর্দিন দেখে অবসর ভেঙে ফেরার ইঙ্গিত দিলশানের            * স্মার্টফোনের আসক্তি কাটানোর নয়া অস্ত্র           * আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি          
* ঘূর্ণিঝড় ‘দেয়ি’ : ৩ নম্বর সঙ্কেত বহাল            * বাকৃবিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিক্ষোভ           * বিসিএস উত্তীর্ণ মেয়েকে উদ্ধারে থানার সামনে অবস্থান বাবা-মায়ের          

শীতের রোগ-আগুনে পুড়ল রংপুরের ২৯ প্রাণ

| রবিবার, জানুয়ারী ১৪, ২০১৮
শীতের রোগ-আগুনে পুড়ল রংপুরের ২৯ প্রাণ
কনকনে শীত, সঙ্গে ঘন কুয়াশা, মাঝেমধ্যে দেখা মিলছে না সূর্যের দেখাও। ঠান্ডায় জমে যাওয়ার অবস্থা থেকে বাঁচতে মানুষ ঘেঁষছে আগুনের কাছে। কিন্তু তাতে আবার যাচ্ছে প্রাণ।

রংপুর অঞ্চলে চলতি বছরে যে শীত পড়েছে তা এর আগে কখনও দেখেনি মানুষ। একদিন দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি দেখেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের মানুষ। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সেটি ছয় থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। আবার সূর্যের দেখা না মেলা এবং হিমেল হাওয়া পরিবেশকে করে তুলছে অসহনীয়।

এমন আবহাওয়ায় বেড়েছে রোগের প্রকোপ। শিশুদের মধ্যে ছড়াচ্ছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া। প্রবীণদের অবস্থায় নাজুক। আর এতেও হারাতে হচ্ছে প্রাণ।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্যান্য চিকিৎসালয়ের হিসাব অনুযায়ী এবারের শীতে শুক্রবার পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় শীতকালীন রোগে ভুগে মারা গেছে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে আগুন পোহাতে দিয়ে মৃত্যু হয়েছে ছয় জনের।

আগুনে পোড়া রোগীতে ভর্তি হাসপাতাল

শীত নিবারণে আগুনের উত্তাপ নেয়ার চল আছে এই অঞ্চলে। কিন্তু অসাবধানতা বা কাছাকাছি যাওয়ার কারণে আগুনে পুড়ছে মানুষ। এদের মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, হাসপাতালে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে ঠাঁই দেয়া যাচ্ছে না রোগীদের। আর তীব্র শীতের মধ্যেও পোড়া রোগীদেরকে রাখতে হচ্ছে চার দেয়ালের বাইরে বারান্দায়, তাও আবার মেঝেতে।

এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তারা হলেন, লালমনিরহাটের সদর উপজেলার শাম্মী আখতার, পাটগ্রাম উপজেলার ফাতেমা বেগম, আলো বেগম, রংপুরের কাউনিয়ার গোলাপী বেগম, নীলফামারীর রেহেনা বেগম এবং  ঠাকুরগাঁওয়ের আঁখি আক্তার।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম জানান, ছয় জনের মৃত্যু ছাড়াও আরো ৫০ জনের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এর আগে আগুন পোহাতে গিয়ে এত বেশি মানুষের দগ্ধ হওয়ার ঘটনা আগে কখনও শুনিনি।’

অর্ধশত আহতদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা গুরুতর বলেও জানান এই চিকিৎসক।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নারী, তবে কয়েকজন শিশু ও রয়েছে। বিছানায় জায়গা না হওয়ায় বারান্দায় রাখা হয়েছে অনেক রোগীকে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ওয়ার্ডে মোট শয্য সংখ্যা ২৬টি অথচ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এ কারণে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে রাখতে হচ্ছে।

শীতজনিত রোগ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই শীত জনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছে। তবে এতেও কাজ হচ্ছে না। মানুষের মৃত্যুর খবর আসছে প্রায়ই।

শীতজনিত কারণে বৃহত্তর রংপুরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কুড়িগ্রামে। সেখানে মারা গেছে ১৪ জন।

দেড় বছরের মীমকে রাজারহাট উপজেলা থেকে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করিয়েছিলেন বাবা বুলবুল। কিন্তুডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়েটি আধাঘণ্টা পর মারা যায়।

একইভাবে মারা গেছে রাজারহাটের ২১ দিন বয়সী দুলালী, কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার এক দিনের নবজাতক নয়নমনি, রাজারজাটের ৩০ বছর বয়সী বিশ্বদেব রায় ও ৫৫ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন আবুল কাশেম জানান, তাঁর জেলায় শীতজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, তার ইউনিয়নে মারা গেছে তিন জন। তারা সবাই বিভিন্ন  রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও আর নীলফামারীতে মারও মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও গাইবান্ধায় এক জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীত ও ঠান্ডার যে পরিস্থিতি তাকে সবাইকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। বিশেষ নজর দিতে হবে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি।

এই অঞ্চলে শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনর কাজী হাসান আহমেদ।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ জানান, স্বাস্থ্য সেবায় যেন কোনো রকম গাফলতি না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসনের এই কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত বিভাগে চার লাখ ১৪ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরো চাহিদা পাঠানো হয়েছে।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close