অপরাধ সংবাদ
* সিমলার ১০ লাখ টাকার উট           * খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন পরিবারের সদস্যরা           * হালুয়াঘাটে মোবাইলে গেইম খেলাকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা           * নড়াইলের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী’র মৃত্যুবার্ষিকী পালিত           * ঈদে জয়দেবপুর রেল স্টেশনে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সভা            *  ঈদুল আজহার জন্য প্রস্তুত শোলাকিয়া : পরিদর্শনে প্রশাসন           * রাতে মৌসুম শুরু করবে মেসির বার্সেলোনা           *  প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন ইমরান           * ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ধীরে চলছে গাড়ি           * কর্মক্ষেত্রে নারীরা কেন পরকীয়ায় জড়ান?            * সৎ কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পিতা গ্রেপ্তার           * চট্টগ্রামে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক           *  সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন চান কাজল           *  ৬ জিবি র‌্যামে নতুন ফোন আনলো স্যামসাং           * হাসপাতালে সেবা না পেয়ে ভ্যানে সন্তান প্রসব           *  শ্রীপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে গরু ব্যবসায়ী নিহত           *  ঘরমুখো মানুষের স্রোত কমলাপুরে           * বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্ব হারাচ্ছে মার্কিন ডলার?           *  প্রীতি ম্যাচের জন্য ব্রাজিল স্কোয়াড           * ময়মনসিংহে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট          
* খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন পরিবারের সদস্যরা           * সাংবাদিক মহলে নিন্দা, প্রতিবাদ কর্মসূচীর ঘোষনা ময়মনসিংহ প্রতিদিন সম্পাদককে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগে মামলা           * ছিদ্র ফেরিতে যানবাহন পারাপার, ডুবির আশঙ্কা          

ময়মনসিংহে কৃষ্টপুর বস্তি কলোনী--অবৈধ টাকা কামাইয়ের টার্গেট !

ময়মনসিংহ প্রতিদিন রিপোর্ট | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০১৮
ময়মনসিংহে কৃষ্টপুর বস্তি কলোনী--অবৈধ টাকা কামাইয়ের টার্গেট !

ময়মনসিংহের কৃষ্টপুর এলাকা ক্রমেই গড়ে উঠছে মাদক সেবী, মাদক ব্যবসা এবং মাদক সরবরাহের অভয়ারন্য। নিশ্চিত সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ সদরের শহর এলাকাগুলোতে মাদক ছড়িয়ে যায় কৃষ্টপুর বস্তি থেকে। এ নিয়ে জেলা পুলিশ বাহিনী অনেকটাই অবগত। ময়মনসিংহ জেলা মাদক অধিদপ্তর পুরোটাই অবহিত থাকলেও কেন পুলিশ ও মাদক দপ্তর কৃষ্টপুর বস্তি থেকে সর্বনাশা মাদক কেন সমূলে উৎখাত করতে পারছেনা এর সুনিদিষ্ট কারন রয়েছে বলে জানা গেছে।

কারন ১, ময়মনসিংহ কৃষ্টপুর বস্তিতে প্রায় দশ হাজারের মত ঘর রয়েছে। ফলে জায়গাটা জন বহুল।  কারন ২, প্রতিটি ঘর সাবলেটের মাধ্যমে বিভক্ত। ফলে জনসংখ্যা দ্বিগুণ- তিনগুণ। তারা অধিকাংশই বেকার। কোন কর্ম ই, ফলে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে উঠবার আগেই তাদের হাতে মাদকের পোটলা ধরিয়ে দেয়া হয়, কৃষ্টপুর থেকেই তাদের মাদকের হাতেখড়ি। কারন ৩, এদের যারা ওস্তাদ তারা গুটি কয়েকজন। তারা বেপরোয়া। সম্ভবত : পুলিশ বাহিনীর  মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা - এবং মাদক অধিদপ্তর তাদের চিনে এবং জানে। কারন ৪, কৃষ্টপুর বস্তি কলোনী পুলিশী অভিযান কিংবা মনিটরিং নেই বললেই চলে। যদিও বা অভিযান চলে এবং অধিকাংশ মাদক ক্রিমিনাল ধরা পড়ে কিন্তু তাৎক্ষনিক হট্ টেলিফোন একের পর এক আসতে থাকে ফলে কৃষ্টপুরের মাদক কাহিনী কৃষ্টপুরেই শেষ হয়ে যায়, মাদক নির্মূলের কথা বলা হলেও কৃষ্টপুরে মাদক বন্ধ হয়না। কারন ৫, যারা এই বস্তি কলোনীর বাড়ী ওয়ালা,তারা কারা?

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, তারা শহরের বাড়ী গাড়ীর মালিক। ময়মনসিংহ শহরে তাদের একাধিক বাড়ী রয়েছে। গাড়ীও রয়েছে আছে কিন্তু ছিন্নমূল দেখিয়ে হাস্যকর ভাবে তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একাধিক বস্তি ঘরের মালিক হয়েছে সুতরাং বস্তিবাসীদের উন্নয়নের চিন্তা তাদের মাথায় আসেনা।  দিনভর ময়মনসিংহ প্রতিদিন এর টিম কৃষ্টপুর বস্তি এলাকা ঘুরে অবাক হয়ে গেছেন। বস্তির কিশোর থেকে যুবক পুরুষ তরুন তরুনী বৃদ্ধলোক সবাই রাষ্ট্র ও সমাজের কাউকে চিনেনা কিন্তু হরেক রকমের মাদকের নাম তাদের মুখস্ত। জানাগেছে, পুরো কৃষ্টপুর বস্তি এলাকাটি মাদক সেবন থেকে বেচাকেনার একটি হাট। যারা ঘরের মালিক তারা একটি ঘরকে কয়েকটি খুপড়িতে পরিণত করে ভাড়া দিয়েছে। মাদকের পাশাপাশি সে ঘরগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে এবং সন্ত্রাসী ও ফেরারী আসামীরা এখানে নিশ্চিদ্র রাত্রীযাপন করে এমন অভিযোগ বহু। বস্তিবাসীদেরই কয়েকজন ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে জানান , যারা মালিক তারা আসলে কারা? জেলা প্রশাসনের কাছে মালিকদের সুনিদির্ষ্ট কোন তথ্য আছে কী ?

কৃষ্টপুর বস্তিকলোনীর জায়গাটি যেহেতু সরকারী অথবা রেলওয়ের সম্পত্তি তাহলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের কাছে মালিকদের লিস্ট থাকার কথা- তাহলে লিস্ট ধরে ধরে প্রশাসন মালিকদের সনাক্ত করতে পারছেন না কেন? সচেতন বস্তিবাসীর একাধিক মুরুব্বি জানান, বস্তিঘরের যারা মালিক তারা বাড়ী গাড়ীর মালিক। ময়মনসিংহ শহরের নামকরা স্কুল কলেজে তাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে গাড়ীতে চড়ে, তারা কেউই আমাদের মত ছিন্নমূল নয় কিন্তু আমাদের ব্যবহার করে তারা এই কলোনীটিকে মাদকের আখড়া বানিয়ে ঘরভাড়া বাদ দিয়েও তাদের প্রতিদিনের কামাই হাজার হাজার টাকা। জানাগেছে,  কৃষ্টপুর কলোনীতে কেউ ঘর ভাড়া নিলে তাকে মাদক গিলতে  হবে এবং সরবাহের ইজারাদারী করতে হবে- এটাই বাড়ীওয়ালার হুকুম। কথা হলো- এই বাড়ীওয়ালা কারা?

তাদের প্রকৃত পরিচয় কি সেটা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারেন না কিন্তু ময়মনসিংহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে বাড়ীওয়ালা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের হট্ লাইন রয়েছে বলে অভিযোগ আছে অন্যদিকে কিছু পুলিশ কর্মকতার্ ও সদস্যের বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ তবে কৃষ্টপুর বস্তি কলোনীটি যেহেতু ১নং পুলিশ ফাড়ীঁর এলাকায় তাই পুলিশ পরিদর্শক (ইনচার্জ) রুহুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ময়মনসিংহ প্রতিদিনিকে জানান, প্রায়ই এই কলোনীর অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আটকও হচ্ছে বিপথ গামীরা, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আটক করার সাথে সাথেই তদবিরবাজরা মাঠে নেমে পড়ে এবং অজ্ঞাত ক্ষমতাধারীরা তাদের (ধৃত ব্যাক্তিদের) ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা চালায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা সফল হয়।

জানাগেছে, কৃষ্টপুর কলোনীটি অবৈধ টাকা কামাই এর একটি টার্গেটে পরিনত হয়েছে। ফলে অভিযোগে জানাগেছে,  এখানে কাউকে ধরপাকড় করলে উচ্চ মহল থেকে ফোনের পর  ফোন আসতে থাকে। যারা অধিকাংশই সরকারী দলের সাথে কোন না কোন ভাবে সম্পৃক্ত আছে বলে  জানাগেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এই কলোনীতে যারা অবলীলায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার পাহাড় রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ নিরুপায় কেন- এটাই জনগনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বস্তিবাসীর সাধারন বাসিন্দারা ময়মনসিংহ প্রতিদিনের এই প্রতিবেদককে জানান, কোন ছাড় না দিয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ যদি এখানে অভিযান ব্যাহত রাখে তাহলে সাধারন বস্তিবাসী শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারবে। সাধারন বস্তিবাসীরা অনুরোধ করে কোতয়ালী মডেল  থানার পুলিশকে বলেন- অভিযান যেন না থামে।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close