* শীতকালে শুষ্ক ও ফাটা ত্বকের ঘরোয়া সমাধান           *  ইতিহাস গড়ে জিতল বাংলাদেশ           *  দণ্ডিতদের ভোটে আসার পথ আটকাই থাকল           *  গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বাতিল           * হিরো আলমের প্রার্থিতা বাতিল           *  ইবি অধ্যাপক নূরী আর নেই           * কেন্দুয়ায় চিথোলিয়া গ্রামে বসেছিল রাতব্যাপী লালন সংগীতের আসর           * গাজীপুরে মরুভূমি ফুল এর মানবন্ধন           *  শান্তিচুক্তির ২১ বছর পাহাড়ে থামেনি ভাতৃঘাতী সংঘাত           *  প্রতিপক্ষকে প্রথমবার ফলোঅন করালো বাংলাদেশ           *  ১৫০ সিসির নতুন পালসার আনল বাজাজ           *  গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের জেল           *  সেরা ডিজিটাল ব্যাংকের পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক           * দেশে পৌঁছেছে ‘হংসবলাকা’            * মোদি কেমন হিন্দু, প্রশ্ন রাহুলের            * মিরাজের ঘূর্ণিতে ফলোঅনে উইন্ডিজ           * কাঠবোঝাই ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল তিন শ্রমিকের           * নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা নিহত           * আলাস্কায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ৬ ঘণ্টায় ৪০ বার কম্পন           * জাতিসংঘের মিশনে বিমান বাহিনীর ২০২ সদস্যের কঙ্গো গমন          
* দেশে পৌঁছেছে ‘হংসবলাকা’            * মোদি কেমন হিন্দু, প্রশ্ন রাহুলের            * মিরাজের ঘূর্ণিতে ফলোঅনে উইন্ডিজ          

ইসলামপুরবাসীকে অকাল বন্যা থেকে রক্ষা করতে বাঁধ নির্মাণ জরুরী

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮
ইসলামপুরবাসীকে  অকাল বন্যা থেকে রক্ষা করতে বাঁধ নির্মাণ  জরুরী
ইসলামপুরবাসীকে  অকাল বন্যা থেকে রক্ষা করতে যমুনার তীরে ২০কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ  জরুরী হয়ে পড়েছে। যমুনার পূর্বতীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় ইসলামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে দীর্ঘদিন পানিবন্দি জীবন ধারণ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে ওই লক্ষাধিক মানুষকে বন্যার পানিবন্দি দশা থেকে বাঁচানোর বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে,অকাল বন্যার পানি বন্ধীদশা থেকে বাচার রক্ষা কবজ হরিণধার বাঁধটি ভাঙ্গনে বিলিন হওয়ায় ইসলামপুরে বর্তমানে যমুনার পূর্বতীরে কোন প্রকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনা নদী থেকে বাঁধাহীন ভাবে নেমে আসা পানির নিচে অকাল বন্যায় তলিয়ে যায় ইসলামপুরের সদর ইউনিয়নসহ পাথর্শী, কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুুলি ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন সমুহের নি¤œাঞ্চলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি।

আবার যমুনা নদীতে বন্যার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতেই ওই ৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ওই সময় পানিবন্দিদের ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানি ও রান্নাকরা খাদ্যের তীব্র সংকট চলে এবং গো-খাদ্যেরও তীব্র্র অভাব দেখা দেয়। বন্যার সময় পানিবন্দি অনেক শিশুদের পানিতে ডুবে মরার ঘটনা ঘটে এবং অনেকের মাঝেই পানিতে ডুবে মরার আতঙ্ক বিরাজ করে।

এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকায় ডায়রিয়াসহ পানি বাহিত নানা রোগের পাদুর্ভাব ঘটে। অপরদিকে বন্যার পানির সাথে নদীর বালি উঠে এসে প্রতিবছরই যমুনা তীরবর্তী এলাকার শতশত একর ফসলি জমি বালি পড়ে অনাবাদী হয়ে যায়। এছাড়াও বন্যার তীব্র ¯্রােতের কারণে প্রতিবছরই যমুনা তীরবর্তী ৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ পাকা ও কাচা সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যার তীব্র ¯্রােতে অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। যমুনার পূর্বতীরে উঁচু বাঁধ না থাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব রাস্তাঘাট ও লন্ডভন্ড বাড়িঘর মেরামত করতে না করতেই আবারও বন্যা এসে পূর্বের অবস্থা শুরু হয়। এতে যমুনা তীরের মানুষগুলোর দুর্ভোগ যেন লেগেই থাকে।

নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের কাঠমা পর্যন্ত এলাকায় কোন প্রকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থা কায় যমুনার তীরবর্তী নি¤œাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে প্রতিবছর বন্যা মৌসুমে বাঁধাহীন ভাবে যমুনার পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ জনপদ ডুবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান,যমুনার পূর্বতীরে একটি উঁচু ও প্রশস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করতে পারলে চিনাডুলি ইউনিয়নসহ ইসলামপুর ও মেলান্দহের দুই লক্ষাধিক মানুষকে বন্যার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করা পাবে।

ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, যমুনার পূর্বতীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় বিগত বছরগুলোর মতো আগামী বর্ষা মৌসুমেও বেলগাছ্ইাউনিয়নের পূর্ববেলগাছা, ঘোনাপাড়া, ছড়াবাতা ও জারুলতলা এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

ইসলামপুরের পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল জানান,বন্যা মৌসুমের পানিবন্দি দশা থেকে রক্ষার জন্য ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে কুলককান্দি, বেলগাছা ও চিনাডুলি হয়ে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের কাঠমা পর্যন্ত যমুনা নদীর পূর্বতীরে একটি উঁচু ও প্রশস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধা নির্মাণ জুরুরী।

এব্যাপারে জামালপুরের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ বেবী জানান, বন্যা কবলিত ইসলামপুর বাসীকে পানিবন্ধী দশা থেকে বাচাঁতে যমুনা পর্বতীর বাধঁটি নির্মাণ স্থানীয় ভাবে খুবই গুরুত্ব পূণ। সরকারের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এ বাধঁ সম্পূর্ণকরা প্রয়োজন। তবে বাধঁ নির্মাণে পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজনও রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি অর্থে বাধঁটি যে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। তা সঠিকভাবে সম্পন্নও শতভাগ কাজ করতে সরকারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল জানান,বন্যা মৌসুমে ইসলামপুর উপজেলাবাসীকে পানিবন্দি দশা থেকে রক্ষার জন্য যমুনার পূর্বতীরে একটি উঁচু ও প্রশস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে কুলকান্দি পাইলিং ঘাট পর্যন্ত এলাকায় যমুনার পূর্বতীরে একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারী অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের কাঠমা পর্যন্ত ২০কিলোমিটার এলাকায় একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

এব্যাপারে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলি নব কুমার চৌধুরী জানান, জামালপুরবাসীকে প্রতিবছর বন্যার পানিবন্দি দশা থেকে রক্ষার্থে দেওয়ানগঞ্জ থেকে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এলাকায় যমুনার পূর্বতীরে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য সমীক্ষা চলছে। সেই লক্ষে পরীক্ষামূলক ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরামর্শে ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে কুলকান্দি পাইলিং ঘাট পর্যন্ত এলাকায় স্থানীয় এমপির বরাদ্দকৃত অর্থায়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামুলক একটি বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে যমুনার পূর্বতীরে ৯০কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে।





আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close