* আনন্দ উল্লাসের ফাঁকে ফ্রান্সে লুটপাট দাঙ্গা           *  সালিসের পর ধর্ষিতাকেই মারধর           * প্রেম বা ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ গুম হয়ে যান            * উন্নত রাষ্ট্রের পথে আরেক ধাপঃ রুপপুর পারমানবিক বিদ্যু কেন্দ্র           * টাকার বিনিময়ে সে আমাকে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করে দিয়েছে’           * মেয়র খোকন বিদেশে, ঢাকা দক্ষিণের ‘দায়িত্বে’ বাবুল           * যৌন সম্পর্ক বন্ধ করে দিলে যেসব ‘ক্ষতি’ হয়           * বিয়ের আগে ভেবে দেখুন আরেকবার!           * ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি            * টাঙ্গাইলে মাইক্রোবাসে বিস্ফোরণ, নিহত ৩           * বাসায় ঢুকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, ৫ আসামির রিমান্ড           * ঘোষণা দিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ           * ৬ মাসে গর্ভবতী ৮৫ বার!           *  আয়ের পুরোটাই দান করছেন এমবাপ্পে           * ‘ইজ্জতের মূল্য’ ৪৫ আর মাতব্বরদের ৫৫ হাজার!           * সংকটে চীনা মুসলিমরা!           *  চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে ইসলামপুরে জনসচেতনামূলক প্রচার           * ঢাবিতে হামলার প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন            *  হালুয়াঘাট পৌরসভার বাজেট ঘোষনা           * বলিউডে নিরাপদ বোধ করছেন না ক্যাটরিনা কাইফ          
* মেয়র খোকন বিদেশে, ঢাকা দক্ষিণের ‘দায়িত্বে’ বাবুল           *  আয়ের পুরোটাই দান করছেন এমবাপ্পে           * সংকটে চীনা মুসলিমরা!          

ময়মনসিংহ সদর (৪) মিউজিক্যাল চেয়ারটি কার ?

মোমিন তালুকদার/ আনিসুর রহমান/ এনামুল হক ছোটন | শুক্রবার, মার্চ ২৩, ২০১৮
ময়মনসিংহ সদর (৪) মিউজিক্যাল চেয়ারটি কার ?

অতি নিকট অতীতেও স্লোগান উঠতো ময়মনসিংহের মাটি আওয়ামীলীগের ঘাঁটি-আবার এই স্লোগান বলতে দেখা গেছে, ময়মনসিংহের মাটি বিএনপির শক্তি। নিকট সম্ভবনা এই,ময়মনসিংহে যেকোন নির্বাচনী যুদ্ধে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি পরস্পর পরস্পরের সাথে নিবির ভাবে সম্পর্কযুক্ত। বিজ্ঞজনেরা বলেন, এই দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে থাকলে নির্বাচনটা জমে ভাল।

অনেকটা মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলার মত। বাজনা থেমে গেলেই দুই দলের একজনই চেয়ারটাতে বসে পরবে-হয় আওয়ামীলীগ নয় বিএনপির কোন প্রার্থী। ময়মনসিংহের রাজনীতিতে স্বাধীনতাত্তোর কাল থেকেই লক্ষ্য করা গেছে রাজনীতির দুই ব্যক্তিত্ব অভিভাবক হিসেবে অত্যন্ত সম্মানের সাথে মর্যাদা পেয়েছেন একজন আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান অন্যজন বিএনপির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একে এম ফজলুল হক। ফজলুল হক প্রয়াত হয়েছেন। অধ্যক্ষ মতিউর রহমান আছেন।

বিশ্বসÍতার সাথে আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এখন প্রজাতন্ত্রের মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৬ এবং ২০০৮ সনের নির্বাচনে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হোন।

অপর পক্ষে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হোন একে এম ফজলুল হক ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সনের নির্বাচনে। বোঝা গেল, দুই অভিভাবক দুইবার করেই এমপি হয়েছেন। কিন্তু ১৯৯৬এর পূনঃ নির্বাচন এবং ২০১৪ সালে ময়মনসিংহেরই আরেক সন্তান বেগম রওশন এরশাদ এমপি নির্বাচিত হোন তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অন্যতম শরীক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি অন্তর্ভুক্ত হলে রওশন এরশাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হোন। এর মাধ্যমে বেগম রওশন এরশাদ ময়মনসিংহের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টিকে সমৃদ্ধ করে লাইম লাইটে চলে আসেন। আরেকজন বিএনপির সৌমদর্শন যুবক দেলোয়ার হোসেন খান দুলু ২০০১ সনে এমপি নির্বাচিত হয়ে আলাদা একটি ক্রেজ সৃষ্টি করেন। বলাবাহুল্য তার জনপ্রিয়তাই তাকে হিরো বানিয়েছিল। এবং এর আগে ১৯৯৩ সনে ময়মনসিংহ পৌরবাসী তাকে পৌরসভার চেয়ারম্যান পর্যন্ত বানিয়েছিলেন।

কিন্তু ওয়ান ইলিভেনে সংস্কারপন্থীদের দলে প্রবেশ করে দুলুর পলিটিক্যাল ক্যারিয়ারে ধ্বস নামে। তিনি নিভু নিভু তারকার মতো জ্বলতে থাকেন। উল্লেখিত তারকা রাজনীতিবিদরা অত্যাসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী তবে বয়সের ধকলে অনেক কাবু অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এই সিদ্ধান্তটি সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেড়ে দিয়ে বলেছেন -নেত্রী যা আদেশ দেবেন তিনি তা পালন করবেন। কিন্তু ময়মনসিংহ সদর বাসী আওয়ামীলীগের জন্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান কে চাইছেন। কারন, দেলোয়ার হোসেন দুলু আভাস দিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে তার ভূল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে। তিনি বিএনপির প্রার্থীতা মনোনয়নে পুরোপুরি আশাবাদী-যদি তাই হয়, তাহলে দুলুকে ঠেকাতে অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে নির্বাচনে আসতেই হবে-অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলছে।

অন্যদিকে বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তারুণ্যে দীপ্ত মোহিত উর রহমান শান্ত অনেকটা ময়মনসিংহ সদর চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আওয়ামীলীগের একটি সম্ভাব্য নাম। সদরবাসীর ধারনা,যদি কোন কারনে তার পিতা মাননীয় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান নির্বাচনে না আসেন তাহলে শান্তকে তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করবেন। তবে শান্ত তার পিতার পক্ষেই প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে বর্তমান এমপি এবং মহান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ এবারও জোট সরকারের পক্ষে তার অবস্থান অটুট রেখেছেন।

তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নির্বাচন ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন বেগম রওশন এরশাদ এবার ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচন নাও করতে পারেন। যদি এটা সত্যাশ্রয়ী হয় তাহলে এবারের সীটটা নৌকার পক্ষে যেতে পারে। পেশায় আইনজীবী ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এড. মোয়াজ্জেমের ত্যাগ তিতিক্ষা দীর্ঘদিনের। সাধারন ছাত্রলীগ নেতা থেকে আমোকসু ভিপি অতঃপর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক। রাজনীতির কঠিন বাঁক গুলো তিনি পেরিয়ে গেছেন সাফল্যের সাথে। এক্ষেত্রেও তার সফলতা আসতে পারে। তিনি বড় জায়গা থেকে কাজ করতে চান। তবে মোয়াজ্জেম বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই তার জন্য আশীর্বাদ।

আওয়ামীলীগের জন্য মনোনয়ন চাইবেন স্বাচিপ মহা সচিব, ময়মনসিংহের তৃনমূল রাজনৈতিক চরঞ্চলের নেতা সর্বশেষ ঢাবি সিনেট সদস্য প্রফেসর ডাঃ এম এ আজিজ। আওয়ামীলীগের জন্য তার পরিশ্রম তার নিত্যদিনের সাথী। চরাঞ্চলবাসীর বরপুত্র বলেও তার খ্যাতি আছে। জনশ্রুতি রয়েছে চরাঞ্চলে তার রয়েছে একটি ভোট ব্যাংক। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম এ আজিজ মনোনয়ন প্রার্থীতার জন্য প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক আওয়ামীলীগ সভাপতি জহিরল হক খোকা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মরহুম মাহবুবুল হক শাকিলের বাবা জহিরুল হক খোকার এদিক দিয়ে মাননীয় প্রধামন্ত্রীর একটা সহানুভূতি রয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ময়মনসিংহের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আমিনুল হক শামীম একজন পরচিত মুখ। ময়মনসিংহ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি শামীম সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেন। তার দৃঢ় প্রত্যয়, সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে মনোনয়ন দেন তবে তিনি বিজয়ী হবেন বিপুল ভোটে। বিএনপি আওয়ামীলীগের অপজিশান হিসেবে নির্বাচনের মাঠে একটি শক্ত প্রতিপক্ষ।

ময়মনসিংহের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি নির্বাচনী দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি- একথা সাধারন মানুষের। কাজেই মনোনয়ন প্রার্থীতায় একাধিক প্রার্থী দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে ধানের শীষ চাইছেন। ড্যাব নেতা ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডাঃ এ জেড এম জাহিদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক  ওয়াহাব আকন্দ। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও কোতোয়ালী বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম মোঃ ওয়ালিদ এবং দেলোয়ার হোসেন খান দুলু।

দুলুর কথা প্রথমার্ধে উল্লেখ করা হলেও একটি কথা সংযোজন করা যায় তাহলো,আওয়ামীলীগের যেকোন প্রার্থীর সাথে টক্কর দিতে গেলে দুলুর নামটি প্রথমেই আসবে। কারণ ব্যক্তি এবং রাজনীতিক এই দুইয়ে মিলে দেলোয়ার হোসেন খান দুলু একটি একক নাম। বেগম রওশন এরশাদের কথাও প্রথমার্ধে উল্লেখ করা হয়েছে তবে রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ থেকে প্রার্থীতা চাইবেন কিনা এব্যাপারে জেলা জাতীয় পাটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি জাহাঙ্গীর আহম্মেদ নিশ্চিত করে বলেছেন, আওয়ামীলীগের শরীক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি একক ভাবে এ আসনে নির্বাচন করবে এবং বেগম রওশন এরশাদই হবেন সেই একক প্রার্থী।

পক্ষ বিপক্ষ, ভাল লাগা ভাল না লাগা এই ধরনের রসায়ন নিয়েই নির্বাচন হয়ে ওঠে জমজমাট এবং উৎসবমুখর। এই উৎসব যেন অনেকটা মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার মত। শেষ একটি মাত্র চেয়ারে যিনি বসতে পারবেন তিনিই হবেন বিজয়ী। শেষ হাসিটা তিনিই হাসবেন। আমাদের পর্যবেক্ষণ সেই চেয়ারটির দিকে। কে বসতে পারেন চেয়ারটিতে? আওয়ামীলীগ, বিএনপি,জাতীয় পার্টির কোন মানুষটি ?

উল্লেখ্য একটি পৌরসভা এবং তেরটি ইউনিয়ন নিয়ে ময়মনসিংহ সদর এই ৪ আসন।






আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close