* আনন্দ উল্লাসের ফাঁকে ফ্রান্সে লুটপাট দাঙ্গা           *  সালিসের পর ধর্ষিতাকেই মারধর           * প্রেম বা ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ গুম হয়ে যান            * উন্নত রাষ্ট্রের পথে আরেক ধাপঃ রুপপুর পারমানবিক বিদ্যু কেন্দ্র           * টাকার বিনিময়ে সে আমাকে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করে দিয়েছে’           * মেয়র খোকন বিদেশে, ঢাকা দক্ষিণের ‘দায়িত্বে’ বাবুল           * যৌন সম্পর্ক বন্ধ করে দিলে যেসব ‘ক্ষতি’ হয়           * বিয়ের আগে ভেবে দেখুন আরেকবার!           * ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি            * টাঙ্গাইলে মাইক্রোবাসে বিস্ফোরণ, নিহত ৩           * বাসায় ঢুকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, ৫ আসামির রিমান্ড           * ঘোষণা দিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ           * ৬ মাসে গর্ভবতী ৮৫ বার!           *  আয়ের পুরোটাই দান করছেন এমবাপ্পে           * ‘ইজ্জতের মূল্য’ ৪৫ আর মাতব্বরদের ৫৫ হাজার!           * সংকটে চীনা মুসলিমরা!           *  চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে ইসলামপুরে জনসচেতনামূলক প্রচার           * ঢাবিতে হামলার প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন            *  হালুয়াঘাট পৌরসভার বাজেট ঘোষনা           * বলিউডে নিরাপদ বোধ করছেন না ক্যাটরিনা কাইফ          
* মেয়র খোকন বিদেশে, ঢাকা দক্ষিণের ‘দায়িত্বে’ বাবুল           *  আয়ের পুরোটাই দান করছেন এমবাপ্পে           * সংকটে চীনা মুসলিমরা!          

ময়মনসিংহে আবারও সেই ভয়ঙ্কর ওসি ফিরোজ তালুকদার --পর্ব ১

কে আই আল আমীন | রবিবার, মার্চ ২৫, ২০১৮
ময়মনসিংহে আবারও সেই ভয়ঙ্কর ওসি ফিরোজ তালুকদার --পর্ব ১

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অসংখ্য নিরীহ মানুষ আছেন, যাদের চোখে - মুখে সেই থানার ওসি মো: ফিরোজ তালুকদারের রক্তচক্ষুর ভীতি আজো কাটেনি । ওসি ফিরোজ তালুকদার ছিলেন, ত্রিশালের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ।

সেই ওসি ফিরোজ তালুকদার আবারও অবস্থান করছেন, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশে। কেবল ত্রিশালেই নয়, ফিরোজ তালুকদার আতঙ্ক গোটা ময়মনসিংহের সকল থানাতেই আজো লোকমুখে শোনা যায়। এই ওসি এমন ভয়ঙ্কর যে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারাও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। সাংবাদিকদেরও একই অবস্থা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যার অবশ্য কর্তব্যÑসেই তার কারণেই গোটা ত্রিশালজুড়ে চরম অবনতি ঘটেছিলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন এই ওসি।

তখন সেখানে জঙ্গী ছিনতাইসহ আলোচিত অনেক ঘটনার জন্ম হয়। এই ওসির দায়িত্বকালীন সময় ত্রিশালের যত্রতত্র বসেছিলো মাদকের স্পট। জমির দখলবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন পরিবহন ও অন্যান্য খাতের ব্যবসায়ীরা।

এতকিছুর পরও মো: ফিরোজ তালুকদার ওসি হিসাবে পেয়েছেন পিপিএম(বার) পদক । তিনি এতটাই প্রভাবশালী যে, খোদ অনেক পুলিশও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করাও হয় না।

ত্রিশাল থেকে বদলী হয়ে তিনি যোগ দেন গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানার ওসি হিসাবে । সেখানেও নানা কারণে বিতর্কিত হন এই ওসি। টঙ্গী থেকে যোগদান করেন আবারও ময়মনসিংহে । প্রথমে রেঞ্জ পুলিশে । এখন জেলা পুলিশে । ঘুরে ফিরে ভালো ভালো থানায় পোস্টিং কিভাবে নিতে হয় , এটি ফিরোজ তালুকদারের নোখদর্পনে।

শোনা যায়, গুরুত্বপূর্ণ থানায় পোস্টিং নিতে তিনি মোটা অংকের টাকা ঘুষ দেন। আবার সামান্য রিকশাচালকের নিকট থেকেও ঘুষ নেন। বিএনপি পন্থী এই ওসি ত্রিশালে কর্মরত থাকাকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা রঞ্জু চেয়ারম্যানের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন।

একপর্যায়ে রঞ্জুর সাথে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করেন। রঞ্জুর সাথে ইটভাটার পার্টনারশিপে ব্যবসা করেন এই ওসি। এখনও রঞ্জু চেয়ারম্যানের সাথে ৪০ লাখ টাকার ব্যবসায়ীক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। ত্রিশাল ও টঙ্গির সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখনও শোনা যায়, হত্যার কিংবা ভয়ংকর অপরাধের কথা শুনলেই আনন্দে চকচক করে ওঠতেন ওসি ফিরোজ তালুকদার।

কর্মরত থানা এলাকার কোথাও লাশ পড়লেই তিনি লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার টার্গেট নিয়ে মাঠে নামতেন। এ কারণে ভিকটিম পরিবার কি কিলার চক্র এমনকি সাক্ষীরা পর্যন্ত রেহাই পেতেন না কোনোভাবেই। তার টার্গেট পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নানাভাবে হয়রানি-হেনস্তা চলতেই থাকতো।

সেখানে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হতো না, প্রকৃত হত্যাতারীদের চিহ্নিত করে তাদের নামে চার্জশিট দেওয়ারও নজির ছিলো না। ছিলো শুধু জঙ্গী আর হত্যা মামলাকে পুঁজি করে দুই হাতে টাকা হাতানোর হাজারো ফন্দিফিকির।

শীর্ষ ধনাঢ্য ওসিদের তালিকায় নাম থাকা ফিরোজ তালুকদার অনেক বেশি আনন্দ পেতেন জমি- জমা সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ পেলে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোন্দলে জড়ালে ওসি ফিরোজ তালুকদার আনন্দে আতœহারা হয়ে পড়তেন। এক সময় জাতীয়তাবাদী দলের ক্যাডার হিসেবে নামডাক থাকা ফিরোজ তালুকদার দলের তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করেই উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন-নির্যাতনসহ চরম হয়রানি করে ছাড়তেন।

দলীয় বিরোধের উছিলাকে পুঁজি করে ত্রিশাল ও টঙ্গীর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা- কর্মীদেরও ফাঁসাতে ছাড়েননি। নিরীহ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার আবার মোটা টাকার ঘুষ নিয়ে ছাড়া, মামলাবাজি, চাঁদাবাজির বেপরোয়া বাণিজ্যের মধ্য দিয়েই ওসি ফিরোজ তালুকদারের অপরাধ অপকর্ম শেষ হয়নি। ত্রিশাল এবং টঙ্গীতে তার সময়ে সব ক্ষেত্রেই তার অপরাধ-দুর্নীতির নগ্ন থাবা বসেছিলো।

ঐ দুই থানার সর্বসাধারণের ‘আতঙ্ক’ হয়ে উঠেন থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার। সরাসরি ওসির শেল্টারেই চলতো গ্রেপ্তার বাণিজ্য, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি,জায়গা-জমির বাণিজ্য, সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়াসহ নানা অনৈতিক কর্মকা-। পুলিশের নিষ্কিয়তায় ঐদুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আস্তানা গেড়ে বসে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা।

একটানা তার নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন ত্রিশাল ও টঙ্গীবাসী । তারই কূটকৌশলে বিরাজ করে সীমাহীন অশান্ত পরিবেশ। তবুও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ এখন জেলা পুলিশে সদাপটেই টিকে আছেন ওসি ফিরোজ তালুকদার । কবে যে ময়মনসিংহের কোন এক থানায় , বিশেষ করে জেলার গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলির কোন একটিতে ! পোস্টিং হবে তার এই ভীতি জেলার সকল থানাবাসীর ।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close