অপরাধ সংবাদ
* হালুয়াঘাটে বিজিএফ’র এক ট্রলি চাল আটক           * পূর্বধলায় জাতিয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামীলীগের দু'গ্রুপে সংঘর্ষ: আহত-৬           *  হিন্দু বাড়িতে ১০ ভরি নগদ স্বর্নালংকারসহ নগদ টাকা ডাকাতি!           * খালেদাকে বাদ দিয়ে হলেও ক্ষমতায় যেতে চান তারেক           *  ট্রাম্পের ‘নোংরা যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে ৩০০ মার্কিন গণমাধ্যম           *  জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল           * নারিকেল চিংড়িতে আমড়া           *  ফোনের পুরোটাই ডিসপ্লে           *  ময়মনসিংহে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার           *  টাঙ্গাইলে হেরোইনসহ আটক তিন           *  জয়পুরহাটের কালাইয়ে ১৪৪ ধারা জারি           *  গোল খেতে ও হারতে জানে না বাংলাদেশের মেয়েরা!           *  রূপগঞ্জে ক্রেন দুর্ঘটনায় ২ শ্রমিক নিহত           *  আবার এক এগারোর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন কাদের           * আমিন খানকে বিয়ে করলেন পপি?           * চীনে ছাপা হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নোট! কিন্তু কেন?           * বার্সেলোনার ঘরে আরেকটি শিরোপা           * আবারও বদলে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের পরিচয়           * খালেদার জন্মদিনের মিলাদ, জেল থেকে মুক্ত করার ঘোষণা           *  জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা দায়িত্ব: প্রধান বিচারপতি          
* আমিন খানকে বিয়ে করলেন পপি?           * চীনে ছাপা হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নোট! কিন্তু কেন?           * বার্সেলোনার ঘরে আরেকটি শিরোপা          

নওগাঁর ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ বরেন্দ্র এলাকায় পানির জন্য হাহাকার

প্রতিনিধি বদলগাছী (নওগাঁ) ঃ | শনিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৮
নওগাঁর ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ বরেন্দ্র এলাকায় পানির জন্য হাহাকার
  বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের সমতলের একটি জেলা নওগাঁ। জেলাটি রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত। ৯৯টি ইউনিয়ন, ৩টি পৌরসভা ও ১১টি উপজেলা নিয়ে নওগাঁর প্রশাসনিক এলাকা বিস্তৃত। ২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী নওগাঁয় ২৬লাখ ১শত ৫৭ জনগোষ্ঠীর বাস। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও অনুমান করা যায় যে, মুল ধারার বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী ছাড়াও নওগাঁয় প্রায় ১৫টি বিভিন্ন জাতি সত্তার দেড় লক্ষাধিক আদিবাসীর বাস। যাদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি।
ভৌগলিক ভাবে নওগাঁ জেলা ২টি আলাদা ধারায় বিভক্ত। নওগাঁ জেলাটি বৃহত্তর বরেন্দ্র এলাকার আওতাভুক্ত। এর মধ্যে সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর উপজেলার পুরো অংশ এবং মহাদেবপুর ও পতœীতলা উপজেলার আংশিক অংশ ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ বরেন্দ্র এলাকা হিসাবে পরিচিত।
 ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ বরেন্দ্র এলাকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে পানির সংকট প্রবল। ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর অনেক গভীরে হওয়ায় কুপ ও পুকুরই হলো পানির  প্রধান উৎস। এ সকল এলাকায় বছরে মাত্র একটি ফসল আমন ধান চাষ হয়ে থাকে যা প্রকৃতির বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল। চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সঠিক সময়ে পরিমাণ মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় একটি ফসল ফলানোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ বরেন্দ্র এলাকার কৃষকরা ধান উৎপাদনের পরিবর্তে তাদের জমিগুলোতে আম বাগানে রুপান্তরিত করছে। এর ফলে আবাদি জমি কমার সাথে সাথে কমে গেছে আদিবাসীসহ অন্যান্য কৃষি মজুরদের কাজ।
ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ বরেন্দ্র এলাকার মানুষরা এখনও জীবণ ধারণের জন্য কুপ ও পুকুরের পানির উপর নির্ভরশীল। খরা মৌসুমে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে দুর-দুরান্ত হতে নারীদের খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। গোসলের জন্য পাড়ি দিতে হয় দেড় হতে দুই কিলোমিটার পথ। খরা মৌসুমে কুপের পানি স্থান ভেদে ১২০-১৫০ফিট পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। যা মানুষের জীবণ যাপনকে দুর্বিসহ করে তোলে। কুপের পানি দিয়ে রান্নার কাজ না হওয়ায় আদিবাসী নারীরা পুকুরের পানি দিয়ে ভাত ও তরকারি রান্না করে থাকে। খরা মৌসুমে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করলে মানুষসহ গবাদি-পশু পাখিকে চরম সংকটের মুখে পড়তে হয়।
সরেজমিনে পোরশা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে পানি সংকটের একই চিত্র পাওয়া গেছে। ঘাটনগর ইউনিয়নের তুরিপাড়া গিয়ে দেখা গেছে সেখানে ২৮টি তুরী সম্প্রদায়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাস করলেও সেখানে কোন কুপ নেই। গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে গিয়ে ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কুপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। কিন্ত বর্তমানে ইউনিয়ন ভুমি অফিস তাদের সীমানায় প্রাচীর তোলায় ২৮টি পরিবারের পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ঘাটনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বজলুর রশীদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তুরিপাড়া গ্রামে একটি কুপ স্থাপনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ হতে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নওগাঁর স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও)’র নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রউফের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ইউএনডিপি ও হেকস এর সহায়তায় বিএসডিও পোরশা উপজেলার গাঙ্গুরিয়া ও ছাওড় ইউনিয়নে পরীক্ষামুলক ভাবে স্বল্পমেয়াদী ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পারিবারিক আয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে যাতে প্রান্তিক আদিবাসীরা পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে পারে সে লক্ষ্যে পরীক্ষামুলক ভাবে খাতিরপুর ও চেরাডাংগা গ্রামে ৫টি রেইন ওয়াটার হারভেসটিং প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এ সকল প্লান্টের মাধ্যমে আদিবাসী পরিবারগুলো বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে খরা মৌসুমে ব্যবহার করবে। এতে খরা মৌসুমে তাদের পরিবারের পানি সমস্যা কিছুটা হলেও দুর হবে।


                                        




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close