* বাল্যবিয়ে রোধ করতে পারলে নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে           * ধনবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিস থেকে টাকা চুরি, ৩ চুর আটক           *  বৌ ছাড়াই বাড়ি ফিরলেন বর           * নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা না করার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর           * নিখোঁজ বিল্লাল হোসেনের সন্ধানে দিশেহারা পরিবার           *  গফরগাঁওয়ে কেঁচোসার উৎপাদনে ভাগ্যবদল           * ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন-২০১৮           * সাউথ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে নিহত ইব্রাহিমের জামালপুর বাড়িতে শোক           * ময়মনসিংহে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দুই           * ফুলবাড়ীয়ায় জুয়ার আসর থেকে মাদ্রাসা সুপার গ্রেফতার           * গারো পাহাড়ে মাল্টা ও লেবু চাষ           * ময়মনসিংহে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপিত           * সিবিএমসিএইচবি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন           * সকল মহলের গ্রহণযোগ্য সম্ভাব্য প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মানিক            * কলকাতার জি বাংলায় আইয়ুব বাচ্চুকে শ্রদ্ধা, নোবেল গাইলেন গান            * ইমরুলের অনুপ্রেরণা আবুধাবির সেই ইনিংস           * যুদ্ধজাহাজের ওপর ভেঙে পড়ল মার্কিন হেলিকপ্টার           * আদমজী ইপিজেডে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ           * জেনেভার পথে রাষ্ট্রপতি           * এভাবে পানি পান করছেন? জেনে নিন শরীরের যে ক্ষতি হচ্ছে           
* নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা না করার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর           * নিখোঁজ বিল্লাল হোসেনের সন্ধানে দিশেহারা পরিবার           * ময়মনসিংহে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দুই          

চট্টগ্রামে বেপরোয়া টিনু'র লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না

| রবিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৮
চট্টগ্রামে বেপরোয়া টিনু'র লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না

বারবার পুলিশের উপর হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর হামলা, সরকার দলীয় নেতা কর্মী উপর হামলা, সাংবাদিকের উপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দোকান ও জমি দখল বেদখল, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কোচিং সেন্টার ও গার্মেন্টসে প্রভাব কাটিয়ে টাকা আদায় ইত্যাদি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। কিছুই বাদ যাচ্ছে না, কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা বারবার বিতর্কিত হচ্ছে, ভাগাভাগি একটা রহস্য ঘেরা!

অপরাধ চিত্র গুলো চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার ও পাঁচলাইশ থানা এলাকা ঘিরে। মিলেমিশে অপরাধরাজ্য চালাচ্ছে "টিনু ও শিপু" দুই ভাই। তালিকাভুক্ত অপরাধী নূর মোস্তফা ওরফে টিনু কি র‍্যাব-পুলিশের চেয়ে ও ক্ষমতাধর? এমন প্রশ্ন উঠে আসে বারবার।

সর্বশেষ, ২৭ এপ্রিল শুক্রবার চকবাজার থানা এলাকায় পরপর পৃথক দুইটি ঘটনায় একজন নিহত, তিন জন গুলিবিদ্ধ ও ২০/৩০ জন গুরুতর আহত হয়। প্রথম ঘটনাটি ডিসি রোড এলাকায় ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। এখানে গুলি বর্ষণ হলে যুবলীগ নেতা ফরিদুল ইসলাম নিহত হন, শিশু ও মহিলা গুলিবিদ্ধ হয়। হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দেওয়া ফয়সাল ও সাইফুল (ডাকাত আজিজের ভাই)-কে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী লোকজন সরবরাহ করে টিনু। এরাও টিনুর অনুসারী, তার অস্ত্র ব্যবসা দেখা শোনা করে।

সেই দিন  দ্বিতীয় ঘটনাটি একই থানা এলাকায় কাপাসগোলা সড়কে বিকাল ৫ ঘটিকায়। কাঁচাবাজারের প্রবেশ মুখে চকবাজার ১৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের মানববন্ধন কর্মসূচী চলছিল। সেখানে অনবরত গুলিবর্ষণ  ও একাধিক ককটেল হামলা চালানো হয়। তবে এই ঘটনায় সরাসরি টিনু ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে নেতৃত্ব দেয়। অস্ত্র উঁচিয়ে টিনু গুলি করে, তার সহযোগী কায়সার হামিদ ও সাইফুল ইসলাম ককটেল ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে। এতে ছাত্রলীগের কর্মসূচী পণ্ড হয়ে গেলে টিনুর নির্দেশে ধারালো কিরিচ লোহা দিয়ে মারধর শুরু করে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের উপর। টিনুর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন মনির হোসেন নামে এক পথচারী।

কুপিয়ে জখম ও ককটেল এর স্প্রিন্টার ডুকে আহত হন- চকবাজার ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী আবদুর রহমানের পুত্র ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা মুজিবুর রহমান রাসেল, সাইফুল আলম মোর্শেদ, রবিউল ইসলাম, রিদুয়ান রনি সহ ২০/৩০ জন নেতাকর্মী। আহতরা চিকিৎসাধীন আছেন। উল্লেখিত ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হচ্ছে, ছাত্রলীগ ও আহতদের পক্ষ থেকে বারবার মামলা করার চেষ্টা করা হলেও চকবাজার থানার ওসি মীর মোঃ নুরুল হুদা মামলা নিতে সরাসরি অপারগতা জানান। অথচ সন্ত্রাসী টিনু থানায় ও ওসির রুমে রীতিমত আসা যাওয়া করছে। পুলিশের টহল টিম নিয়ে আড্ডা দেয়, ঘুরে বেড়াচ্ছে।

অসংখ্য মামলার আসামী সন্ত্রাসী টিনু। ২০০৩ সালে ডিবি পুলিশের হাতে একে-২২ রাইফেল সহ  গ্রেপ্তার হয়। মামলা বা গ্রেপ্তারে তার লাগাম টেনে ধরা যায়নি। তার উল্লেখযোগ্য মামলা গুলো হল- অস্ত্র আইনে ৪৪(৪)০৩ থানা-কোতোয়ালী, বিস্ফোরক আইনে ১৪(২)১২ থানা-পাঁচলাইশ, চাঁদাবাজি ধারায় ৩(৪)১৬ থানা-চকবাজার, হত্যা চেষ্টার ধারায় ৫(৮)১৬ থানা-চকবাজার, জেলা-চট্টগ্রাম। এছাড়াও বিগত দেড় যুগে টিনুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছিল। অনেক মামলা বিচারাধীন, অনেক মামলা বাদীকে প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে, আবার অসংখ্য ঘটনায় ভিকটিম ভয়ে মামলা-ই করেনি। চকবাজার ও পাঁচলাইশ থানা এলাকা জুড়ে একক অপরাধরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে টিনু।

কাঁচাবাজার, মার্কেট, গার্মেন্টস, কোচিংসেন্টার, রেস্টুরেন্ট হকার ইত্যাদি দোকান থেকে প্রতিদিন লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করা অসম্ভব একটি বিষয়। চন্দনপুরা-কাপাসগোলা, কলেজ রোড-কাতালগঞ্জ, বাদুরতলা-বহদ্দারহাট পর্যন্ত প্রতিদিন ক্যাশ টাকা ও মোবাইল ছিনতাই চক্রের প্রধান হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করছে এই সন্ত্রাসী টিনু বাহিনী। বিগত ১৫ বছর যাবত তার নিয়ন্ত্রণে অত্রএলাকায় সন্ত্রাস চলছে। ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে দখল-বেদখল বা যে কোনো ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। টাকার জন্য হত্যা, মারধর এসব সাধারণ বিষয়।

দেশী বিদেশী অস্ত্র মজুদ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার, ক্রয় বিক্রয় ও বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের ভাড়ায় দিয়ে থাকে। চকসুপার মার্কেটের নীচে চট্টগ্রামের সব চেয়ে বড় মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে, বিভিন্ন গলিতে খুচরা ইয়াবা বিক্রি হয়।কিন্তু, চকবাজার এলাকাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘেরা।চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ সহ উন্নত সব স্কুল-কলেজ এখানে, শতাধিক কোচিং সেন্টার, বিভিন্ন উচ্চ শ্রেণীর মানুষের বসবাস এই এলাকা ঘিরে। কিন্তু কিছুতেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না বহুল আলোচিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নূর মোস্তফা ওরফে টিনু ওরফে টুইন্ন্যা ওরফে টিন্নে। তার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ করছে তার ছোট ভাই একডজন নাশকতার মামলা ও অসংখ্য ছিনতাই, ডাকাতি মামলার আসামী নুরুল আলম ওরফে শিপু ওরফে শিপন।

এছাড়াও, আশপাশ বিশাল একটি এলাকা জুড়ে টিনুর অনুসারী সন্ত্রাসী হিসেবে নেতৃত্বে আছে- কায়সার হামিদ, সাদ্দাম হোসেন ইভান, শাহাদাত হোসেন ওরফে লেংড়া রিফাত, লম্বা নাসির, অভিক দাশ গুপ্ত, অনিন্দ্য বৈদ্য সানি, নাহিদুল ইসলাম জাবেদ, এলজি বিপ্লব, সৌরভ উদ্দিন ওরফে গুলি বাপ্পা, হামকা জুলকাস, বাইক জসিম, আমির হোসেন, কামরুল ইসলাম ওরফে ফর্সা রাজু, লেড়া মানিক, নিজাম উদ্দিন আহাদ। এদের প্রত্যেকে একাধিক ছিনতাই মামলার আসামী। বারবার গ্রেপ্তায় হয়েছে বিভিন্ন মামলায়। বের হয়ে আবারো বেপরোয়া। সম্প্রতি এই টিনু বাহিনীর শামীম নামে এক সন্ত্রাসী বায়েজিদ এলাকা থেকে এবং ২৮ এপ্রিল বিকালে চকবাজার থেকে ফাহিম নামে ছিনতাইকারী অস্ত্রসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু টিনু বহাল তবিয়তে নিরাপদে বিচরণ করছে, ঘটাচ্ছে একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা।




আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close