*  জেএসসি পরীক্ষা বাংলায় ভালো করার সহজ উপায়           * নেইমারকে দশ নম্বর জার্সি পরতে বাধ্য করা হয়           *  ১২৫ সিসির নতুন স্ট্রিট ফাইটার           * জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে ধর্মমন্ত্রী হাসপাতালে           * আর কত হারবে হাথুরুর শ্রীলঙ্কা?            * চোখের সামনেই মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি দেখলেন জয়নাবের বাবা            * জোটের পরিসর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে : কাদের            * শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চান সৌদি বাদশাহও           * ‘রুপালি গিটার’ ছেড়ে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু           * মাধবদীর ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ১৪৪ ধারা জারি           * বিশ্বকাপের ট্রফি এখন ঢাকায়           * এবার সৌদি সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্ত গুগলের           * দুই জোটই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ           * আজ রিয়াদে ব্যস্ত দিন কাটবে প্রধানমন্ত্রীর           * জুয়াড়িদের গুলিতে আহত সাংবাদিক অন্তর চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে           * সুনামগঞ্জে ১৮০ বোতল ভারতীয় মদসহ বিক্রেতা আটক           * দাম জানা গেল নকিয়া ৭.১ ফোনের           * পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস           * সৌদির সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সবাই           * আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচ রাতে          
* আর কত হারবে হাথুরুর শ্রীলঙ্কা?            * চোখের সামনেই মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি দেখলেন জয়নাবের বাবা            * জোটের পরিসর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে : কাদের           

“টেংরাগিরিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন”

কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম,বরগুনাঃ | বুধবার, মে ১৬, ২০১৮
“টেংরাগিরিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন”


বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবীতে টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এতদ্অঞ্চলে কর্মরত ১৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ সর্বস্তরের গণমানুষের সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুর রব ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুথরঞ্জন শীল, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বরগুনার এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আনিসুর রহমান, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরগুনা জেলা কমিটির সহসভাপতি জাফর হোসেন হাওলাদার, জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মুশফিক আরিফ প্রমূখ। সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সচেতন নাগরিক কমিটির বরগুনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল।

টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অবিলম্বে এ উদ্যোগ বাতিল না করলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি বরগুনার সভাপতি আলহাজ্ব আবদুর রব ফকির বলেন, গত ০৯ মে বরগুনার সনাক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহবান বিষয়ক নেটওয়ার্কিং সভা, উক্ত সভায় বরগুনায় কার্যপরিচালনাকারী ১৫টি এনজিও অংশ নেয় এবং সকলে সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রথমে সরেজমিনে পরিদর্শণ করে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এবং তথ্য সত্য হলে এর ক্ষতির দিক নিয়ে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে উক্ত প্রাণ ও প্রতিবেশ বিধ্বংসী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।  উক্ত সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ১২ মে সনাকের পক্ষ থেকে জয়ালভাঙ্গা বা ফাড়ির খাল সরেজমিনে পরিদর্শণ করা হয়, স্থানটি ঠিক পায়রা নদীর পাড়ে যা মূল নদী হতে মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে স্থাপিত হচ্ছে কেন্দ্রটি।  যে স্থানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন হবে সেই স্থানসহ তার আশেপাশে সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। যতদূর দেখা গেছে অনেকগুলো সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। আমরা স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলেছি তারা কেউই চাননা এই স্থানে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হোক তারা বলেন যে উন্নয়ন আমদের কর্মহীন করবে ও গৃহহীন করবে সেই উন্নয়ন আমাদের দরকার নেই। ঐ এলাকার ৮০ ভাগ মানুষ নদী ও মাছের উপর নির্ভর করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।     

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বরগুনার এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আনিসুর রহমান মানববন্ধনে জানান, ২০১০ সালের অক্টোবরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় টেংরাগিরি বনাঞ্চলকে বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা টেংরাগিরি বনাঞ্চল অতীতে সুন্দরবনের অংশ ছিল। ১৯৬০ সালে টেংরাগিরি বা ফাতরার বনকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। গেওয়া, জাম, ধুন্দুল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, গরান প্রভৃতি গাছের সমারোহ ছাড়াও এ বনে বসত গড়েছে কাঁঠবিড়ালি, বানরসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির প্রাণি। ইতিমধ্যে টেংরাগিরি বনের গাছ কেটে উজার করছে বনদস্যুরা। এছাড়া, জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন বৃক্ষ মারা যাওয়ায় এমনিতেই বনটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে।      

প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপিত হলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হবে এবং এর চারপাশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, কেন্দ্র হতে নির্গত ময়লা নদীতে ফেলা হতে পারে, এরফলে একদিকে প্রচুর তাপ ও ময়লা নদীর পানিকে দূষিত করবে এবং পানির তাপ বৃদ্ধি পাবে ফলে মাছ ও জলজ প্রাণি টিকে থাকা কঠিন হবে। এর বাইরে জাহাজ ঐ পথে আসা-যাওয়া করবে ফলে মাছের স্বাভাবিক চলার গতি নষ্ট হবে।  এই স্থান হতে মাত্র ৩-৪ কিঃমিঃ সামনে গোড়া পদ্মার স্থান অর্থাৎ যেখান থেকে পায়রা ও বিষখালী নদীর উৎপত্তি হয়েছে। এই পথ দিয়েই ইলিশসহ অন্যান্য মাছ এই দুই নদীতে প্রবেশ করে। একদিকে প্রচুর তাপ ও জাহাজ চলাচলের কারনে ইলিশ ও অন্যান্য মাছ এইপথ দিয়ে আসতে পারবে না ফলে ঐ এলাকার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কাজ হারাবে এবং স্থানীয় জীব বৈচিত্র ধ্বংস হবে। এছাড়া, কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র হতে নিঃসরিত সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড মানুষসহ প্রাণিদেহে মারাত্বক জীবনঘাতী রোগের সৃষ্টি করে।
 
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে জানান, সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত টেংরাগিরি বন থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ৩০৭ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ও বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতিমধ্যে ২৫ বছর মেয়াদী পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) করেছে। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ এর ৭(৪) ধারা অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত যেকোনো শিল্প স্থাপনে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) সাপেক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘পরিবেশ ছাড়পত্র’ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা ছাড়াই এই কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন নিষেধ হলেও তা অমান্য করে একতরফা এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে দেশের আইনের উদ্বেগজনক লঙ্ঘন। অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির বিষয়ে পিডিবি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভিন্ন বক্তব্য পুরো বিষয়টির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয়ের সুস্পষ্ট ঘাটতি নির্দেশ করে। তাছাড়া, একই এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও একটি ৩০৭ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।”
মানববন্ধনে বক্তারা পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

এদিকে তালতলীর টেংরাগিরি এলাকায় কয়লা ভিত্তিকবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান বন্ধের দাবীতে সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে এলাকাবাসী।  জয়ালভাঙ্গা, তেতুলবাড়িয়া, খোট্টারচর, নলবুনিয়া ও নিদ্রারচর এলাকার ৩সহ¯্রাধিক নর-নারী এমানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নেয়।

স্থানীয় অধিবাসী নান্না জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসুচীতে বক্তব্য রাখেন মোঃ জিয়া গাজী ও রেহানা বেগম প্রমুখ। বক্তারা বলেন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে হুমকির মুখে পড়বে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। নষ্ট হবে পায়রা ও বিষখালী নদীর বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ইলিশের প্রজনন অঞ্চল। এ এলাকার ৯৮ শতাংশ মানুষ কৃষি ও মৎস্যজীবী। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে পেশা হারাবে কৃষি ও মৎস্যজীবীরা।  জানা গেছে, দেশীয় আইসোটেক কম্পানীর সাথে যুক্তরাজ্যের টেইলর পাওয়ার ও চায়নার পাওয়ার চায়না রিসোর্স নামে নামে দুটি কম্পানী যৌথভাবে  তালতলী উপজেলার ২৩০ একর জমি নিয়ে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের কাজ  শুরু করে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য ইতিমধ্যে ১৮০ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়। এলাকাবাসীর মধ্যে জমি অধিগ্রহনের খবর ছড়িয়ে পরার পর তারা ঘড়বাড়ি হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা জমি হারানো এবং পরিবেশ নষ্টের আশঙ্কায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান বন্ধের দাবীতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।




আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close