*  মাদারীপুরে স্পিডবোট ডুবি, তিন যাত্রীর লাশ উদ্ধার           * ভোট পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ           *  গাজায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নিহত ৭           *  বগুড়ায় নৌকা চান অপু           *  ফরিদগঞ্জে হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন           * খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন           * তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ           * অনাহারে নয়, সমৃদ্ধির পথে এগোবে ইরান           *  জানুয়ারির আগেই রাজশাহী হবে পলিথিনমুক্ত           * দেশের দীর্ঘতম রেলপথ চালু, আন্তঃনগর ট্রেন পেল পঞ্চগড়           *  নকিয়ার ছয় ক্যামেরার ফোন           *  একাদশে মোস্তাফিজ, অভিষেক হতে পারে মিঠুনের           * ভ্রু কাঁপানো সেই প্রিয়াকে নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড            * আফ্রিদি-ফাখরের কাছে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড            * গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির            * যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারীর অবস্থান কোথায়?           * নির্বাচন নিয়ে কারো হতাশা থাকার কথা নয়: কাদের           * মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু          
* খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন          

ঈদ হোক সম্প্রীতির বন্ধন

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | সোমবার, জুন ১১, ২০১৮
ঈদ হোক সম্প্রীতির বন্ধন

‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে,/ তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামের মুরিদ/ ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’

হিংসা-দ্বেষ ভুলে সাম্য- সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ঈদ সে ধর্মেরই একটি আনন্দ আর ত্যাগের উৎসব। যে উৎসবে সবে মিলে একই তালে, ভুলে যাই সকল ক্ষোভ কোলাকোলি করি দোস্ত-দুশমনে। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে হাসি। বছর ঘুরে দুবার আসে ঈদ। ভ্রাতৃত্ব আর ভালোবাসার সেতুবন্ধন যেন গড়ে দেয় ঈদ উৎসব। মুসলিমদের সব চেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশে ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনা আর ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে পবিত্র ঈদ উৎযাপন করা হয়। আর কয়েকদিন পরই উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম জাহানে তাইতো আনন্দের শেষ নেই। ঈদ যেহেতু একটি উৎসব। তাই ঈদের এ খুশি নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সে খুশি ছড়িয়ে দিতে হবে সকল পর্যায়ের মানুষের কাছে।

দারিদ্রতা আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এ দেশের বৃহৎ একটা জনগোষ্ঠী দারিদ্রতার অভিশাপ বুঁকে লালন করে জীবন চালাচ্ছে। সে-সমস্ত দৃশ্যপটগুলো গ্রামীণ জনপদ কিংবা শহরের বস্তিগুলোর দিকে তাকালেই তা অনুধাবন করা যায়। ঈদ এলে এক শ্রেণির লোকের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে যায় শপিংমলগুলোতে। আবার আরেক শ্রেণির লোক না কিনতে পাড়ার হতাশা বুকে লালন করে দিব্যি বেঁচে থাকার একটা অভিনয় করে যাচ্ছে। সামর্থ্যবান না হরেক রকমের নিত্য প্রয়োজনীয় শখের জিনিস কিনতে সক্ষম হলেও, দরিদ্র সে রিকসা চালকের কেনা হয় না নতুন কোনো পোশাক। এ এক ধরনের বৈষম্য। উৎসবে নিজের সাথে সাথে অন্যদের কথা ও চিন্তা করতে হবে সামর্থ্যবানদের। নিজে খাবেন অন্যে দেখবে এ নীতি থেকে সরে আসার সময় এসেছে।

একটি ঘটনার কথা মনে পড়ল। গত বছর একটি শপিংমলের সামনে অনেকক্ষণ ধরে দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখলাম একটি প্রাইভেটকার এসে থামলো শপিংমলের সামনে। গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলেন এক দম্পতি। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো তখনো গাড়িতে চুপসি করে বসেছিল সে ধনীর দুলালের গৃহকর্মীটি। দম্পতি সকল শপিং শেষে ফিরলেন গাড়িতে অতঃপর দেখলাম স্যান্ডেল পড়া মেয়েটি দম্পতির বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। জামাটার অবস্থা ও তেমন ভালো না। নিজেরা ঈদের মার্কেটিং নিয়ে ব্যস্থ থাকলে ও হঠাৎই ভুলে গেছেন বোধয় সেই গৃহকর্মীটির কথা। অতঃপর আমাদের দেশে এমন বৈষম্য নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত এমনটা ঘটছে।

একদিকে মালিকরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে আরেক দিকে মালিকদের ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে নিজের আনন্দকে মাটিচাপা দিচ্ছে কেউ কেউ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব সামর্থবানরা ইচ্ছে করলেই হাসি ফুটাতে পারেন বঞ্চিত মানুষদের মুখে। তবে কেন তারা হাসি ফুটাতে চাচ্ছে না? প্রশ্নটা রেখেই গেলাম। আমি এখনো অনেককেই দেখি বায়নার কোনো শেষ থাকে না, কোনটা কিনি, ওটা কিনি, এটা না হলে চলবে না, ওটা না হলে চলবে না, এমন হাজারো বায়না অথচ আপনি যদি এ বায়না না ধরে আপনার আশে পাশের অসহায়ের জন্য সে বায়নার ভাগ থেকে কিঞ্চিত পরিমাণ দিতেন। তবে হয়তো অসহায়ের মুখে ফুটতো হাসি। আসুন নিজে ঈদের আনন্দ একা উপভোগ না করে তা ছড়িয়ে দিই সকলের মাঝে। ঈদের দিনে কেউ কোরমা পোলাও আর কেউ একমুঠো মুড়ি খেয়ে যেন দিন পার করতে না হয়।

ঈদ শুধু আনন্দই বয়ে আনে না। ঈদ ত্যাগের মহিমাও বহন করে বটে। মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ শুধু নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা নয়, অপরের কথাও চিন্তা করা। ৩০ দিন সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষের মাঝে ফিরে আসে যে ক্ষুধার্ত; মানুষেরা না খেয়ে থাকলে কতটা কষ্ট পায় সেটা অনুধাবন করা যায়। নিজে প্রতিদিন ভালো খাবার খান অথচ নিজের আশে-পাশের পাড়া প্রতিবেশীরা না খেয়ে থাকে। সে শিক্ষাটা আপনি সিয়াম সাধনার মাধ্যমে পেতে পারেন। একজন অভূক্ত মানুষের আর্তনাদ কেমন হতে পারে সেটাও শিক্ষা দেয়। আসুন আমরা ধনী, গরীব সকলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। ঈদের আনন্দে সামিল করি আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে। হানাহানি ভুলে গিয়ে আমরা ঈদকে উৎযাপন করি আনন্দের সাথে। শুধু আমার আমার না করে আমার জিনিসগুলো ভাগ করে দেই অসহায়ের মাঝে। আমাদের মধ্যেকার সেতুবন্ধন আরও জোরালো হোক সেটাই কামনা।

ঈদ আসে ঈদ যায়, তবু কিছু লোকের চরিত্র পাল্টায় না। কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না তেমনি কিছু লোকের ভ্রাতৃত্বও অর্জন সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যারা সত্যিকারের আল্লাহকে বিশ্বাস করেন তারা অহংকারের মোহে আবদ্ধ না হয়ে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেন আনন্দের মুহূর্তগুলো। নিজের কথার চেয়ে মানুষের কথা বেশি চিন্তা করেন। ঈদে গ্রাম থেকে শহর, বন্দর সব খানের সকল মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক সম্প্রীতি আর ভালোবাসার বন্ধন। সত্যিকারের মানবিকতা জন্ম নিক সকলের মাঝে, মানুষের জন্য মানুষ কথাটা আবারও প্রমাণ হয়ে যাক। আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক বাঙালিদের মনে প্রাণে তেমনটিই কামনা করছি। ঈদ সকল স্তরের মানুষের জন্য বয়ে আনুক প্রশান্তি এই কামনা করছি।

সবিশেষ নজরুলের কবিতার কয়েকটি চরণ উদ্ধৃতি দিলাম, ‘ওরে কৃপণ, দিসনে ফাঁকি আল্লাহে/ তোর পাশের ঘরে গরীব কাঙাল কাঁদছে যে/ তুই তারে ফেলে ঈদগাহে যাছ সঙ সেজে/ তাই চাঁদ উঠলো এলো না ঈদ/ নাই হিম্মত, নাই উম্মিদ/ শোন কেঁদে কেঁদে বেহেশত হতে হজরত আজ কী চাহে’





আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close