* ‘পাকিস্তানের বিশ্বাস নেই, যেদিন খেলে কাউকে পাত্তা দেয় না           * কেউ খোঁজ রাখেনি মুক্তিযোদ্ধাদের ‘মা’ ইছিমন বেওয়া'র           * এক মাছের পেটে মিলল ৬১৪ পিস ইয়াবা            * মোদির জন্য নোবেল!            * ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে           * শিক্ষায় বিনিয়োগের আহ্বান শেখ হাসিনার            * ডাক্তারদের সেবার মনোভাব কম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী           * ফুলপুরে জঙ্গীবাদ বিরোধী মা সমাবেশ অনুষ্টিত           * দুই মণ গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার            * নামাযে অজু নিয়ে সন্দেহ হলে কি করবেন?           * ৭-২৮ অক্টোবর ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ           * মদ না খেয়েও মাতাল যারা!           * মোদির দলের হয়ে লড়বেন অক্ষয়-কঙ্গনা-সুনিল           * পাকিস্তানকে সবক শেখাতে চান ভারতের সেনাপ্রধান           * পৃথিবীকে বাংলাদেশ থেকে শিখতে বলল বিশ্বব্যাংক           * নগ্ন হয়ে ঘর পরিষ্কার করে তার মাসিক আয় ৪ লাখ টাকা            * প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সন্তানকে হত্যা করলো মা            * মোস্তাফিজ একজন ম্যাজিসিয়ান : মাশরাফি            * ত্রিশালে দাখিল মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ            * সিরাজদিখানে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী গিয়াস উদ্দিনের গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক           
* ‘পাকিস্তানের বিশ্বাস নেই, যেদিন খেলে কাউকে পাত্তা দেয় না           * মোদির জন্য নোবেল!            * ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে          

মানসিক স্বাধীনতাই অর্থনৈতিক মুক্তির মন্ত্র

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | মঙ্গলবার, জুন ১৯, ২০১৮
মানসিক স্বাধীনতাই অর্থনৈতিক মুক্তির মন্ত্র

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গৌরব মহান মুক্তিযুদ্ধ। সুসজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলার দামাল ছেলেরা অকুতোভয় সাহস নিয়ে সম্মুখসমরে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনেন। সেই সূর্য সৈনিকরা সুশৃঙ্খল, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে অল্পদিনের প্রশিক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর এর পেছনে বাংলা মায়ের সন্তানদের মানসিক স্বাধীনতা প্রথমে কাজ করে। স্বাধীনতা উপভোগের জন্য কিংবা উত্তর-প্রজন্মকে স্বাধীনতা এনে দেওয়ার লক্ষ্যে মনের ভীরুতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক সংগ্রামে জয়ী হয়ে মানসিকভাবে স্বাধীন হন। আর এ মানসিক স্বাধীনতাকে বাস্তবে রূপ দিতে জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করেননি তারা। অথচ আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্ম সেই মানসিক স্বাধীনতা থেকে অনেক দূরে।

আমরা নিজেদের ‘বুদ্ধি’ বিলিয়ে দিচ্ছি। ‘ব্রেইন’ ব্যবহার করছি না। একটি ধনিক কিংবা সুবিধাভোগী শ্রেণি ‘ব্রেইন’-এর অপব্যবহার করছে। তারা নিজেদের বুদ্ধির অপব্যবহার করে শুধু নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করছে। তারা সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা কিংবা রাজনীতিকে পুঁজি করে নিজেদের কোষাগার পরিপূর্ণ করছে। সুবিধাভোগী শ্রেণির হঠাৎ উত্থানে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। তারা নিজেদের পুুঁজি বিনিয়োগে ভয় পাচ্ছেন। তারা বুঝে না বুঝে সমাজ, সংস্কারকে দোষারোপ করে বিনিয়োগ থেকে নিজেদের দূরে রাখছে। তারা ‘লোকসান’ হওয়ার আশঙ্কায় থাকে সবসময়। ভাবে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে। যদি লোকসান হয়, তবে সব যাবে। আর এ কারণেই তারা বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠানে মেয়াদি আমানতের দিকে ঝুঁকছে। কারণ মেয়াদান্তে মূল টাকার সঙ্গে বাড়তি যোগ তো রয়েছেই। এখানে লোকসানের আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও মানসিক স্বাধীনতা আসেনি আমাদের। এখনো ঘরবন্দী জীবনযাপন আর আলস্য আমাদের কুঁড়ে খাচ্ছে। আর আলস্যের কারণেই এ দেশে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠছে না। ব্যক্তিকেন্দ্রিক অতিলাভের মন্ত্র অর্থাৎ মেয়াদি আমানতই পিছিয়ে দিচ্ছে সোনার বাংলাকে। মেয়াদি আমানতে ‘লাভ হবে’ এমন সুবিধার কারণে প্রতিনিয়ত অলস পড়ে থাকছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের সঞ্চয়। এতে করে মুদ্রা অচল হওয়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। দাম কমছে দেশীয় মুদ্রার।

ঝুঁকি না নেওয়ার এই প্রবণতাই মূলত মানসিক পরাধীনতা। আর এ পরাধীনতা আমাদের এক দিনে গ্রাস করেনি। দিনের পর দিন আমরা সরকার, সমাজ আর পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে সংগ্রাম করে তলানিতে ঠেকেছি। স্বাধীনতা-উত্তর যেখানে আমাদের মানসিকতা দিন দিন উন্নত থেকে উন্নততর হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আমরা পিছিয়ে আছি। জাতীয় পর্যায়ে নানা সময়ে, নানা সংকট আমাদের ভীতু করে দিয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী আমরা যখন সামনে এগোনোর দীপ্ত প্রত্যয়ে ছিলাম, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসন, স্বৈরশাসনের আষ্টেপৃষ্ঠে জর্জরিত ছিল বিজয়ী জাতি। ১৯৯০ সালে ফের গণতন্ত্র উঁকি দিলেও সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি ‘অ্যাকশন’ আমাদের মানসিক স্বাধীনতাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ১৯৭১ সালের সেই বীর বাঙালি নানা কারণে ‘ভয়’ পেতে থাকে। পুঁজিবাদী মানসিকতা ঘরে ঘরে গড়ে ওঠে। যার কাছে টাকা আছে, তা বিনিয়োগে ভয় বাড়তে থাকে। বিনিয়োগের মাধ্যমে মুদ্রা সচল রাখার পরিবর্তে আমরা মেয়াদি আমানতের মাধ্যমে পুঁজির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দিকে ধাবিত হতে থাকি। আর এতে করে স্বাধীন দেশের মুদ্রা যতটা সচল হওয়ার কথা ছিল ততটা সচল হতে পারেনি।

পাশাপাশি আমাদের আত্মকেন্দ্রিকতার কারণে আমাদের ‘ম্যান টু ম্যান’ যোগাযোগ ততটা বৃদ্ধি পায়নি। আর এ কারণে আমাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কও ততটা দৃঢ় না। শক্ত নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে আমরা বিনিয়োগেও সুফল আনতে পারছি না। বাপদাদার গড়ে তোলা ব্যবসা কিংবা নেটওয়ার্ক দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছি। যা বিনিয়োগ রয়েছে, তাও বিস্তৃত করতে পারছি না। নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনাও হচ্ছে কম। ফলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ দেশে ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে সুদের পরিমাণ নেহায়তই কম না। অথচ আমেরিকার মতো দেশে এ সিস্টেম নেই। তাই আমেরিকার জনসাধারণ তাদের টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত না রেখে বিনিয়োগ করে। সেখানে ছোট ছোট বিনিয়োগ থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়ে থাকে। তাদের টাকা অলস পড়ে থাকে না। সচল থাকায় মুদ্রাস্ফীতি কম। অথচ আমাদের দেশে কোটি টাকার মেয়াদি আমানতে লাখ টাকার সুদে একটি পরিবার নিশ্চিত জীবনযাপন করতে পারে। আর লাখ টাকা সুদ পাওয়া ওই পরিবারের সদস্যরা অলস টাকার ‘উপার্জন’ খেয়ে নিজেরাই অলসতার ভাণ্ডার খুলে বসে। ফলে কোটি টাকা যেমন অলস পড়ে থাকে, তেমনি চার থেকে ছয়জন মানুষকে স্থায়ীভাবে অলস করে দিচ্ছে টাকা। যদি এ টাকা থেকে কোনো সুদ না আসত তবে তা ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছোট ছোট বিনিয়োগ করত পরিবারটি। এতে পরিবারের চার থেকে ছয়জন টাকা বিনিয়োগ করত। সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের সুফল তুলতে মানসিকভাবে প্রস্তুত করত নিজেদের। ফলে কোটি টাকা যেমন সচল হতো, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও কর্মক্ষম হতো। এতে করে দেশের মুদ্রা সচল থাকার পাশাপাশি কর্মোদ্যমী প্রজন্মও বেড়ে উঠত। আর এ কারণে প্রজন্মের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হতো। বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিনিয়োগে সুফল তুলে আনতে পারে। নিজেদের চিন্তা-ভাবনা অন্যের সঙ্গে শেয়ার করে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করাও সম্ভব। এসব কাজের মাধ্যমে নিজেদের মানসিক স্বাধীনতা অর্জিত হলে সুফল ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। নতুন প্রজন্ম নিজেদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে সোনার বাংলাকে সত্যিকারের সোনার বাংলায় পরিণত করা সম্ভব।





আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close