* ভাঙ্গায় দৈনিক বাঙ্গালী খবর পত্রিকার ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন           * দুই বোনকে গণধর্ষণ, ইউপি সদস্য গ্রেফতার           * ইন্টারনেট স্যাটেলাইট বানাচ্ছে ফেসবুক           * মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা           * যৌনাঙ্গে আঘাত করে স্বামীকে হত্যা           * নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হবে না : কাদের           * শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি গ্রেফতার            * ভালুকায় দেবর- ভাবির পরকীয়ার বলি বাবা- মা           * ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ হারাম           * তরুণীকে গেস্টহাউসে আটকে রেখে ৫০ জনের গণধর্ষণ            * মান্নার ছেলে নায়ক হবেন নাকি নির্মাতা?            * বিয়ের তোড়জোড় করায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা            * ব্রেকআপের পরেও কি বন্ধুত্ব বজায় রাখা উচিৎ?           * সৌদি ও দুবাই থেকে ফিরলেন ১০৫ শ্রমিক           * বাবার ধর্ষণেই প্রথম সন্তানের জন্ম দেন তিনি           *  চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মসমর্পণ           *  স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে বর আটক           * আলিয়াকে টেক্কা দিলেন জাহ্নবী           * তিন পেসার নিয়ে টাইগার একাদশ!           * উন্নয়নে কাদের আঁতে ঘা লাগে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর          
* তিন পেসার নিয়ে টাইগার একাদশ!           * উন্নয়নে কাদের আঁতে ঘা লাগে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর           * ভারী বর্ষণে ভিয়েতনামে নিহত ১০          

এবার মাদক কারবারি পুত্রকে বাঁচাতে পুলিশকে ফাঁসাতে মঠবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের সাজানো নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, জুন ২৬, ২০১৮
এবার মাদক কারবারি পুত্রকে বাঁচাতে পুলিশকে ফাঁসাতে
মঠবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের সাজানো নাটক

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১০ নং মঠবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে গতবছর তাকে অনাস্থা ঘোষনা করেন ঐ ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা।

এবার এই চেয়ারম্যান তার মাদকসেবী ও মাদক কারবারি পুত্র জামাল মিয়াকে বাঁচাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কুটকৌশলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বাহিনীটির সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

ত্রিশাল থানা পুলিশের অব্যাহত মাদক বিরোধী অভিযানে যখন ত্রিশাল উপজেলাবাসী সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন ঠিক তখন এই ইউপি চেয়ারম্যানের পুলিশের কাজে ব্যাঘাত এবং সাজানো নাটক মঞ্চায়নের অপকৌশল ধু¤্রজালের সৃষ্টি করছে । পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে গত বৃহস্পতিবার রাতে ত্রিশাল থানা পুলিশের একটি টিম উপজেলার পোড়াবাড়ি বাজার সংলগ্ন অভিযান পরিচালনা করে ।

গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ উপজেলার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও মাদকসেবী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুসের পুত্র জামাল মিয়াকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ পুলিশের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে । একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত এবং মারধর করে চেয়ারম্যান কদ্দুস ও বাহিনীরা । ঘটনাস্থল থেকে অভিযানে আসা পুলিশদল বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) জাকিউর রহমানকে জানান । ওসি ঘটনাস্থলে এসে ইউপি চেয়ারম্যানকে থানায় নিয়ে আসেন । এদিকে কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চেয়ারম্যান পুত্র জামাল মিয়া ।

কিছুক্ষণ পর অপরাপর মাদক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীদের নিয়ে এসে আবারও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় । জানা গেছে, সম্প্রতি ডিবি পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত শীর্ষ মাদক কারবারি ও হত্যাসহ ৯টি মামলার আসামি স্বপনের গডফাদার হলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কদ্দুসের পুত্র জামাল মিয়া । ইতিপূর্বেও জামাল মিয়াকে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । স্থানীয় শাহীন নামের একজন জানান, জামাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে উপজেলাব্যাপী মাদকের কারবার করে আসছে ।

অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুসকে থানায় নিয়ে আসা হলে , সাবেক সাংসদ আব্দুল মতিন সুরাহার লক্ষে থানায় যান । পরে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে থানা থেকে নিয়ে আসেন ।

এদিকে ঘটনার পরদিন শুক্রবার বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং পুলিলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ইউপি চেয়ারম্যান হাসপাতালে ভর্তি হয়ে, পুলিশ তাকে মেরেছে বলে অপপ্রচার চালান । এরই ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক, ত্রিশালের ইউএনও বরাবর পুলিশের বিরুদ্ধে ভূয়া , বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেন ।

জানা গেছে, চেয়ারম্যান তার লিখিত আবেদনে পুত্রের ঘটনাটি গোপন রাখেন । চেয়ারম্যানের এক আতœীয় জানান, চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত । তার উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় হয়তো তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন । তাছাড়া তার পুত্রকে বাঁচাতেও তিনি মড়িয়া হয়ে উঠেছেন ।

এলাকাবাসী জানান, থানা পুলিশ মঠবাড়ী ইউনিয়নে মাদক বিরোধী অভিযানে এলেই চেয়ারম্যান বাঁধা সৃষ্টি করে থাকেন । এছাড়াও এই চেয়ারম্যান পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি মাদক ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেন এবং তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করে থাকেন । সম্প্রতি ডিবি ও ত্রিশাল থানা পুুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানকালে পলাতক ছিলেন চেয়ারম্যানের মাদক কারবারি পুত্র জামাল মিয়া । উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম থানা পুলিশের কর্মতৎপরাতার প্রশংসা করে বলেন, মাদকসহ উপজেলার সার্বিক অপরাধ ও অপরাধী গ্রেপ্তারে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ত্রিশাল থানা পুলিশ প্রসংশনীয় ভূমিকা রেখে চলছে ।

এক্ষেত্রে তিনি থানার ওসি জাকিউর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন । ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজাফর রিপন জানান, পুলিশের সাথে ধস্তাধ্বস্তির কথা শুনেছি । তবে, কেও লিখিত অভিযোগ করেনি । এখন চেয়ারম্যানকে নিয়ে আপোষ- মিমাংসায় বসেছি । জানা যায়, গতবছর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন পরিষদের সদস্যরা । এতে সেসময় ঐ ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

অভিযোগকারী ইউপি সদস্য আবুল কালাম, খোকন মিয়া,নজরুল ইসলাম,মোসাকালিমুল্লাহ, কাজল মিয়া, নাজমুল ইসলাম,জোসনারা খাতুন, রোজিনা খাতুন ও সেলিনা খাতুন অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল গত ২০১৬ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারী প্রকল্প ও কার্যক্রমে বেপরোয়া ভাবে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সকল বরাদ্দ আত্যসাৎ করে নিচ্ছে।

ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যান তাদের উপর চড়াও হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকী-ধামকী প্রদান করেন। গত নির্বাচনের পর থেকে ঈদুল ফিতর ও ঈদউল আযহায় সরকারের বরাদ্দ ইউনিয়নের ৫০৩১ ভিজিএফ কার্ড চেয়ারম্যান সদস্যদের ৫০টি করে বরাদ্দ করে বাকী সব আত্মসাত করেন। ভিজিডি প্রকল্পের ২৪৩ টি কার্ড থেকে সদস্যদেরকে নাম মাত্র ৬টি করে বরাদ্দ দেন এবং ৩নং ওয়ার্ড সদস্যকে পূর্ব শত্রুতার জেরে উক্ত কার্ড থেকে বঞ্চিত করেন।

বয়স্ক বিধবা, প্রতিবন্ধীদের জন্য ইউনিয়নে সরকারের বরাদ্দ ৫৩টি কার্ডের মধ্যে ৭ জন মেম্বারকে ১১টি কার্ড দিয়ে বাকীদেরকে শত্রুতার জের ধরে না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজে আত্মসাত করে। জি.আর, টি.আর,কাবিখা, কাবিটা সহ বিভিন্ন সরকারী বরাদ্দ দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নিজে একাই আত্মসাত করেন। শীত বস্ত্র ও কৃষি ভর্তুকি ইউপি সদস্যদেরকে নাম মাত্র দিয়ে বাকী সব চেয়ারম্যান ভোগ দখল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ।

৪০ দিনের কর্মসূচিতেও রয়েছে তার ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি । শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাত সহ প্রকল্পের কাজ না করে বরাদ্দ দিয়ে চেয়ারম্যান তার নিজের ব্যক্তিগত কাজে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইউপি সদস্যরা এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ মন্ডল সদস্যদের প্রতি ক্রোধান্বিত ও রাগান্নিত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকী প্রদান করে থাকেন। মেম্বাররা জানান,

এরআগেও চেয়ারম্যান ভূয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে মেম্বারদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিভিন্ন প্রকল্পের এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বরাদ্দ অর্থ উত্তোলন করে ক্ষমতার প্রভাবে একাই ভোগদখল করে আত্মসাত করে নিয়েছেন। মেম্বার আবুল কালাম, খোকন মিয়া, রোজিনা খাতুনসহ ৭ জন মেম্বার ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ইউনিয়নবাসীও এই চেয়ারম্যানের দুর্নীতি অনিয়মে অতিষ্ঠ ।






আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close