*  বদলগাছীতে পাখির জন্য গাছে হাঁড়ি-পাতিল বাঁধা অভয়াশ্রম           * প্রথম অভিজ্ঞতায় আয়েশা মৌসুমী            * বেনাপোলে আটটি ভারতীয় এয়ারগান জব্দ           * মইনুলের বিরুদ্ধে জামালপুরে আরেক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা           * ভারতে এসে কানাডীয় তরুণীর প্রেম-বিয়ে           * আব্দুল আলীম সাগরের পক্ষথেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন           * এ দেশ যেন আর থেমে না যায় : প্রধানমন্ত্রী            * বাচ্চু ভাইয়ের গান আমরা বাঁচিয়ে রাখবো : আসিফ আকবর           * হাত ভেঙেছে মেসির, ৩ সপ্তাহ মাঠের বাইরে           * যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের আরেক ধাপ পতন            * ত্রিশালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত           * ত্রিশাল উপজেলা প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত           *  জিম্বাবুয়ের কাছে হারলে কেউ মানতে পারবে না: মাশরাফি           *  এরশাদের ১৮ দফা ইশতেহার           *  চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ           * দারাজে ১১ টাকায় কেনাকাটা           *  কেঁচোসার উৎপাদনে ভাগ্যবদল           * চেয়ারম্যান হতে পারলে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অত্যাধনিক করে দিব- ইকবাল হোসেন           * ভারতে ট্রেনচাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০           * রোহিঙ্গা সঙ্কট : বাংলাদেশকে জোরালো সমর্থন সুইস প্রেসিডেন্টের           
* এ দেশ যেন আর থেমে না যায় : প্রধানমন্ত্রী            * বাচ্চু ভাইয়ের গান আমরা বাঁচিয়ে রাখবো : আসিফ আকবর           * হাত ভেঙেছে মেসির, ৩ সপ্তাহ মাঠের বাইরে          

যৌনপল্লীতে নির্লিপ্ত টিএসআই

নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, আগস্ট ৭, ২০১৮
যৌনপল্লীতে নির্লিপ্ত টিএসআই

গত বছরের আগস্টে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় ময়মনসিংহ শহরের মেইনরোড সংলগ্ন রমেশ সেন রোডের যৌনপল্লী থেকে ২২ কিশোরীকে উদ্ধার করে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি । তখন অভিযোগ উঠে, ১নং শহর ফাঁড়ি পুলিশের টিএসআই আব্দুল আজিজের মাধ্যইে এই কিশোরীরা যৌনপল্লীর অন্ধকার গলিতে পদার্পন করে । লোমহর্ষক সেই ঘটনার এখনও জ্বল জ্বল করছে ময়মনসিংহবাসীর । টিএসআই আব্দুল আজিজকে নিয়ে এখনও ময়মনসিংহের সর্বত্র সমালোচনা তুঙ্গে। অথচ সেই পুলিশ অফিসারকে, সারাবছর, সারামাস, প্রতিদিন, প্রতিরাতে দেখা মিলে যৌনপল্লীর ভেতরে রাজকীয় স্টাইলে আমোদ প্রমোদে ব্যস্ত থাকতে ।

কোতয়ালী মডেল থানার আওতায় আইন- শংখলা রক্ষায় শহরের বিশাল এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ১নং পুলিশ ফাঁড়ি । যৌনপল্লীর বাইরে কোন দায়িত্বে 'মন' নেই টিএসআই আব্দুল আজিজের । রাতদিন যৌনপল্লীতে থাকলেও বাকী ডিউটি দায়সারাভাবেই পার করেন তিনি । মাদকবিরোধী অভিযান, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারি গ্রেপ্তার অভিযান করলেও তিনি যৌনপল্লীর দেখভালের পাশাপাশি 'গ্রেপ্তার বাণিজ্যেও সময় দেন । 

যেখানে জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেখানে তিনি যৌনপল্লীতে আড্ডায় মশগুল থাকছেন। খান মোহাম্মদ খালেদ নামের একজন ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, যৌনপল্লীতে রাম রাজত্ব টিএসআই আব্দুল আজিজের । এখান থেকে প্রতিদিন তিনি ইনকাম করেন, ৫০ হাজার টাকা । মাসে দেড় লাখ টাকা । এই টাকায় তার নিজ জেলা জামালপুরের বাসিন্দা ময়মনসিংহ পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তার বাসায় বাজার পাঠান । শুধু এই অফিসারই নয় । আরো কতক অফিসারের বাসাতেও তিনি বাজার পাঠান । কখনও নিজে গিয়েও বাজার দিয়ে আসেন । যৌনপল্লীতে কিশোরী কেনা বেঁচা হয় ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় । যেটাকার সমূদয় অর্থই পান আজিজ ।

কেবল কিশোরী বিক্রিই নয় । এই টিএসআই এখানে মাদক ব্যবসারও নিয়ন্ত্রক । তাকে নিয়ে জেলার সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইলেও আজো কিন্তু তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। জানা গেছে, ১নং পাঁড়ি পুলিশে একসময় কনস্টেবল এরপর এটিএসআইয়েরও দায়িত্ব পালন করেছেন । ১নং পুলিশ ফাঁড়ি তার মধুর হাড়ি । যৌনপল্লী হচ্ছে ঐমধুর গাছ । এমনটাই মন্তব্য করেন শহরবাসী । অবৈধভাবে দুহাতে টাকা উপার্যনের টার্গেট টিএসআই আজিজের নির্দেশনায় যৌনপল্লীতে অনিয়মই নিয়ম ।

আজিজের নিয়মে রাতভর চলে যৌনপল্লীতে যৌন ব্যবসা । দিন দিন যৌনপল্লীতে বাড়ছে কিশোরী বয়সের যৌনকর্মী । মাদকের আখড়া হিসাবে খ্যাত যৌনপল্লীতে নেই মাদক বিরোধী কোন অভিযান । টিএসআই আজিজকে যৌনপল্লীতে রাতদিন ব্যস্ত থাকায় শহরের এক নং ফাঁড়ি এলাকায় সুবিধা পাচ্ছেন পেশাদার অপরাধীরা । তারা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই, খানসহ নানা অপরাধে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে পেশাদার অপরাধীরা। আব্দুল আজিজজের ব্যর্থতায় মামলা হলেও তদন্ত এক রকম ফাইলবন্দি ।

সরেজমিনে যৌনপল্লীতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের নামে টিএসআই আব্দুল আজিজকে দেখা গেলো যৌনকর্মী ও সর্দারনীদের সাথে গল্পগুজবে মশগুল। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বহুদিন ধরে বিশ্রামের সুযোগ পাই না। স্যারদের কাছে ছুটিও চাওয়া যায় না। শহরে ডিউটি করতে আর ভালো লাগে না। ভয়ও পাই । যদি দুর্বৃত্তরা চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর চেষ্টা করে আমার ওপর। এই কারণে আতঙ্কে থাকি সব সময়।' যৌনপল্লীতে প্রতিনিয়ত মারামারির মত ঘটনা ঘটে । আব্দুল আজিজ রাতদিন সেখানে অবস্থান করলেও কারো চিৎকার শুনেও তিনি এগিয়ে এসেছেন এমন প্রত্যক্ষদর্শী নেই পতিতাপল্লীতে । মারামারিতে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভেতরের লেকজনই কাকে বা তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। ময়মনসিংহের বাসিন্দা পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ১নং ফাঁড়ি এলাকায় নজরদারির অভাবে বহুমাত্রিক অপরাধ ঘটছে তা সত্য। তবে ফাঁড়ি পুলিশ আতœরিক থাকলে তা রোধকরাও সম্ভব । ময়মনসিংহ যৌনপল্লীর আরেক অভিশাপ মাদক। এখানে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদ। আব্দুল আজিজের মদদে কয়েকজন দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছে এসবের। যৌনপল্লী ঘুরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ মিলেছে আজিজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে নিয়ে সব সময়ই আতংকে থাকেন মাদকসেবীরা। সঙ্গে মাদকদ্রব্য থাকলে তো কথাই নেই, না থাকলেও বিপদ।

ধরে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন তিনি। একজন বলেন, ‘আমি মাদক সেবন করি। কিন্তু সবসময় না। আমার কাছে ইয়াবা না থাকলেও টিএসআই আজিজ আটক করে। টাকা নেয়ার জন্যই বারবার ধরে। সেইদিনও আমাকে আটক করে ১নং ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। হাজতে রাখে। বলে, ‘মাদক মামলা দেব।’ আমি জিজ্ঞাস করি, কেন। এরপর আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে আমাকে কুত্তার মত মারল। এক পর্যায়ে আমার বাড়ি থেকে টাকা দেয় আজিজকে । পরে রাত ২টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়। লোকটি ময়মনসিংহ প্রতিদিনের এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, ‘আমার নাম পত্রিকায় দিলে আব্দুল আজিজ আমাকে আবার আটক করতে পারে। মামলা দিতে পারে আমার বিরুদ্ধে। তখন আমি কী করব?’ আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক না। আমার কারণে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীর ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে। এ কারণে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আমি কাউকে অনর্থক আটক করি না।

কাউকে আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই আসে না। টাকা নিয়ে মামলাও দিই না। মাদক থাকলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করে চালান দিই। এলাকায় মাদক নির্মূলে আমি প্রতিনিয়ত কাজ করছি। এ কারণে অনেকে আমার শত্রু। আমার টাকার কোনো চাহিদা নেই। সরকার যা বেতন দেয় তাতেই সন্তুষ্ট আমি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি টিএসআই। জানা গেছে, ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে আব্দুল আজিজ কনস্টেবল , এটিএসআই তৎপরবর্তীতে টিএসআই হিসাবে পদায়ন হয় । ১নং পুলিশ ফাঁড়ির বাইরে এবং ময়মনসিংহের বাইরে বদলি হতে হয়নি। ময়মনসিংহ বিভাগেই অর্থাৎ জামালপুরে বাড়ি হওয়ার কারণে এবং জামালপুওে পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা তার আশির্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে তিনি ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করেছেন ময়মনসিংহ পুলিশে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১নং পুলিশ ফাঁড়িইে জীবনের সিংহভাগ সময় তিনি চাকরি করে আসছেন। পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত এখানেই বহাল তবিয়তে থাকার নজির তিনি । এই শহরেই কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেতে পেতে টিএসআই পদে পর্যন্ত উন্নীত হয়েছেন। এর পরও তার বদলি নেই। যদিও তার পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে বদলির আদেশ আসার পরও রহস্যজনক কারণে তা ভ-ুল হয়ে গেছে ।

অথচ পুলিশ প্রবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো পুলিশ সদস্য দুই বছর এক স্থানে থাকতে পারবেন না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে সময়ের মেয়াদ কিছুদিন বাড়াতে পারে । অভিযোগ আছে, এই ধরনের পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এবং চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে জমি, বাড়ি করেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, টিএসআই আব্দুল আজিজের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত হতে পাওে অর্থের বিনিময় থাকার কারণে। তারা বলেন, স্পষ্টত একটি বাহিনীর এত অধিক সংখ্যক কর্মকর্তার বেলায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে এক জায়গায় থাকার জন্য নিয়ম যখন লঙ্ঘিত হয়,সেটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়নি,তা ধরে নেওয়া ভুল হবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান তথা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো আঞ্চলিকতার বাইরে থেকে নিজস্ব নিয়ম নীতির মাধ্যমেই চলবে এটাই স্বাভাবিক। অতীতে একই স্থানে তিন বছরের বেশি সময় পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা অবস্থান করতেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিকতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে অবস্থান করছেন। এটা কোনোভাবেই পুলিশ বাহিনীর জন্য শুভকর নয়। ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে তারা বলেন, একজন কর্মকর্তা কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করলে ওই এলাকার অপরাধী এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার এক ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।

এতে করে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়। অপরাধী চক্রের সঙ্গে সখ্য করে গড়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেন। আব্দুল আজিজের গ্রেফতার বাণিজ্য, অপরাধীদের সঙ্গে আঁতাত, যৌনপল্লীতে অবৈধ অর্থআদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। ১নং ফাঁড়ি পুলিশে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বেশির ভাগ সময় তিনি এখানেই । কালে ভদ্রে অন্যত্র বদলী হলেও ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে থেকে গেছেন অলৌকিক ক্ষমতার জোরে। যৌনপল্লীর আয়, মাদক কারবারী, অবৈধ সিন্ডিকেট চক্রসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়েছেন জমি- জমা, বাড়ি- গাড়িসহ কোটি টাকার সম্পদ।






আরও পড়ুন



প্রধান সম্পাদকঃ
ড. মো: ইদ্রিস খান

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

সিয়াম এন্ড সিফাত লিমিটেড
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close