*  ত্রিশালে বিসমিল্লাহ্‌ ফুডস্'র আড়ালে নোংরা পরিবেশে পণ্য তৈরি !           *  ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স রোগীদের চরম ভোগান্তি           * ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখা যুবলীগের আয়োজিত আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে মেয়র টিটু            * অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় শিশুসহ ২৪ নারী-পুরুষ আটক           * নির্বাচন আর পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি            * আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দিতে চায় কানাডা           * ধোনির সঙ্গে দিন কাটাতে চান পাকিস্তানের সানা           * আস্থা রাখুন : ফখরুল            * আলোর মুখ দেখছেন বিমানের ১৩৭ কেবিন ক্রু            * মাদারীপুরে স্পিডবোট ডুবি, তিন যাত্রীর লাশ উদ্ধার           * ভোট পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ           * গাজায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নিহত ৭           * বগুড়ায় নৌকা চান অপু           *  ফরিদগঞ্জে হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন           * খেলায় মনোযোগ দাও, সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী           * ধেয়ে আসছে ‘গাজা’, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত           * দরজা খুলতেই নওয়াজ ঝাঁপিয়ে পড়েন           * তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ           * অনাহারে নয়, সমৃদ্ধির পথে এগোবে ইরান           *  জানুয়ারির আগেই রাজশাহী হবে পলিথিনমুক্ত          
* নির্বাচন আর পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি            * আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দিতে চায় কানাডা           * ধোনির সঙ্গে দিন কাটাতে চান পাকিস্তানের সানা          

বাবুর্চি থেকে ঠিকাদার ৫০ কোটি টাকার কুমির!

স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮
বাবুর্চি থেকে ঠিকাদার ৫০ কোটি টাকার কুমির!

ছিলেন বাবুর্চি। এখন কোটিপতি। কোটিপতি বললে ভুল হবে। প্রায় শত কোটি টাকার মালিক। মাত্র ২৭ বছরে বাবুর্চি থেকে বিত্তশালী হাসেম আলী। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিকাদার। মচিমহায় রোগীর খাবার থেকে মাস প্রতি অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই ঠিকাদার হাসেম আলী। দেখার কেউ নেই। হাসপাতালের রোগীর খাবার থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া এই ঠিকাদার টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। নামে বেনামে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যার অর্থের উৎস নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। আয়ের সাথে সঙ্গতিবিহীন অর্থে অল্প দিনে তিনি পরিণত হয়েছেন টাকার কুমিরে। রোগীর খাবারের ঠিকাদারী ব্যবসা থেকে অন্তত: ৫০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ।

২ কোটি টাকার বাড়ি করছেন শহরে প্রাণকেন্দ্র চরপাড়ার মতো স্থানে। এলাকার মানুষ হতবাক। বাবুর্চি হাসেম আলীর টাকার উৎস নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। সরকারী অর্থ লুটপাট চলছে মচিমহায়। প্রতিমাসে রোগী খাদ্য বাবদ প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয় সরকারের। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য এটি। কিন্তু হাসপাতালের রোগীদের খাদ্য হয়ে উঠেছে দুর্নীতির বিশাল খাত। রোগীরা খাচ্ছেন ভেজাল আর নি¤œমানের অপর্যাপ্ত খাবার। আর ঠিকাদার হাসেম আলী খাচ্ছেন টাকা। যার পরিমান মাসে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। যা আসছে অনিয়ম, দুর্নীতি, কারচুপির মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও জানে না যেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর খাদ্য দুর্নীতি চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। কিন্তু দেখার কেউ নেই। খবর রয়েছে, রোগীর খাবার থেকে লাখ লাখ টাকা দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী মহলসহ সিন্ডিকেট। ২০/২৫ জন ক্যাডার রয়েছে এই সিন্ডিকেটের। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঠিকাদার হাসেম আলী। অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে ক্যাডাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে, ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শন করে। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। ঠিকাদার হাসেম আলীর দুর্নীতির উপর খবর প্রকাশের জের ধরে সম্প্রতি “দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন” সম্পাদক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়।

দুর্নীতি ডাকতেই এই মামলা। হাসপাতালের রান্নাঘর ভাংচুরের মামলাটি করেন দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার হাসেম আলী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলাটি না করলেও প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান পরিচালকের আমলে হাসেম আলী সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে রোগীর খাদ্য এর ঠিকাদারি করতে গিয়ে। এ ব্যাপারে চরপাড়া এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানসহ সরকারের একাধিক দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে, ময়মনসিংহ প্রতিদিনসহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়। এদিকে, সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রান্নাঘরে ভাংচুরের মামলাটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। মামলাটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবেই দেখছেন সাংবাদিক সমাজ।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিক দায়বদ্ধ। সেই সূত্রে ঠিকাদার হাসেমের বাবুর্চি থেকে কোটি কোটি টাকার বিশাল বিত্ত-বৈভব এর মালিক হওয়ার নেপথ্য রহস্য নিয়ে জল্পনা কল্পনা ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দাবি করা হয়েছে। মচিমহার ১৯৯১ সালের বাবুর্চি এখন কোটিপতি ঠিকাদার। ২৭ বছরে উত্থান ঘটেছে এই হাসেমের। বছরে কোটি টাকা ভ্যাট দেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি অন্তত: ৫০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র জানান। তারা এ ব্যাপারে, তদন্ত দাবি করেছেন। জানা যায়, মচিম হাসপাতালে গড়ে ২৫০০ রোগী থাকে। রোগীর জন্য কলা, পাউরুটি, বিস্কুট, ডাল ভাত, সবজী, ডিম, দুধ, খাসি, মুরগী, মাছ ইত্যাদি খাদ্যের জন্য বাজেট থাকে। যেখানে মাসে কোটি টাকার উপর সরকারী অর্থ ব্যয় হয়। এর ঠিকাদারী নিয়ে হাসেম আলী অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মাসে লাখ লাখ টাকা কারচুপি, আত্মসাৎ করে চলেছেন। রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের অর্ধেকই কারচুপি করে মেরে দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে ঠিকাদার। জানা যায়, দৈনিক অন্তত: ১ লাখ টাকার অনিয়ম, দুর্নীতি চলছে অবাধে। দিনের পর দিন এই দুর্নীতি চলার পেছনে রয়েছে রহস্য ! কী সেই রহস্য ? যার তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের ভয়াবহ চিত্র।

যা ঢাকতে সাংবাদিক রফিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশী তদন্তকে প্রভাবিত করেছে দুর্নীতিবাজরা। এছাড়াও দুর্নীতি বিরোধী জনসচেতনা ও প্রতিবাদ এর বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা খরচ করে দুর্নীতিবাজ হাসেম তার দোসরদের মাঠে নামানোর পায়তারা চালাচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবৎ হাসপাতালের ঠিকাদার হিসাবে সংযুক্ত থেকে রোগী খাদ্যে দুর্নীতি ছাড়াও বিভিন্ন জনকে চাকরি দেয়ার নামে অগ্রিম লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই অভিযোগে একাধিক থানায় হাসেমের বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ এনেছে জনৈকা মহিলা। অন্যদিকে, হাসেমসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা হয়েছে। যা তদন্ত করছে কোতোয়ালী পুলিশ। রোগীর খাবার থেকে মাসে ৪০/৫০ লাখ টাকা বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ঠিকাদার হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, এ থেকে বিভিন্ন মহল সুবিধা ভোগ করে। মচিমহায় স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অন্যতম খাত রোগী খাদ্যে নিয়ন্ত্রনহীন দুর্নীতি। রহস্যজনক কারণে প্রশাসন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।





আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close