* শীতকালে শুষ্ক ও ফাটা ত্বকের ঘরোয়া সমাধান           *  ইতিহাস গড়ে জিতল বাংলাদেশ           *  দণ্ডিতদের ভোটে আসার পথ আটকাই থাকল           *  গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বাতিল           * হিরো আলমের প্রার্থিতা বাতিল           *  ইবি অধ্যাপক নূরী আর নেই           * কেন্দুয়ায় চিথোলিয়া গ্রামে বসেছিল রাতব্যাপী লালন সংগীতের আসর           * গাজীপুরে মরুভূমি ফুল এর মানবন্ধন           *  শান্তিচুক্তির ২১ বছর পাহাড়ে থামেনি ভাতৃঘাতী সংঘাত           *  প্রতিপক্ষকে প্রথমবার ফলোঅন করালো বাংলাদেশ           *  ১৫০ সিসির নতুন পালসার আনল বাজাজ           *  গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের জেল           *  সেরা ডিজিটাল ব্যাংকের পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক           * দেশে পৌঁছেছে ‘হংসবলাকা’            * মোদি কেমন হিন্দু, প্রশ্ন রাহুলের            * মিরাজের ঘূর্ণিতে ফলোঅনে উইন্ডিজ           * কাঠবোঝাই ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল তিন শ্রমিকের           * নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা নিহত           * আলাস্কায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ৬ ঘণ্টায় ৪০ বার কম্পন           * জাতিসংঘের মিশনে বিমান বাহিনীর ২০২ সদস্যের কঙ্গো গমন          
* দেশে পৌঁছেছে ‘হংসবলাকা’            * মোদি কেমন হিন্দু, প্রশ্ন রাহুলের            * মিরাজের ঘূর্ণিতে ফলোঅনে উইন্ডিজ          

বদলগাছীতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবা গুলো প্রত্যন্ত গ্রাামের চেহারা বদলে দিয়েছে

প্রতিনিধি বদলগাছী (নওগাঁ) | বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
বদলগাছীতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবা গুলো প্রত্যন্ত গ্রাামের চেহারা বদলে দিয়েছে

বদলগাছীতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবা উপজেলার গুলোর প্রত্যন্ত গ্রাামের চেহারা বদলে দিয়েছে। নাগরিক সনদ, জন্ম নিবন্ধনের প্রমাণপত্র কিংবা অন্য কোন কাগজপত্রের জন্য এখন আর ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না সাধারণ জনগণকে। অপেক্ষা করতে হয় না চেয়ারম্যানের সাক্ষরের জন্য। অনলাইনে দরকারি সকল সেবা পাওয়ায় মানুষের জীবনমান যেন অনেক সহজ হয়ে গেছে।

এ চিত্র নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার যমুনার তীরবর্তী মথুরাপুর ইউনিয়নের । শুধুমাত্র ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র কার্যকরভাবে চালু রেখেই এটা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানালেন স্থানীয় জনগণরা। সরেজমিনে ওই ইউনিয়ন পরিষদে গেলে এলাকার মানুষ তুলে ধরেছেন ডিজিটাল সেবার ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা।
দুর্গম জনপদের ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে ছেলের চাকুরি হয়েছে জানতে পেরে চোখে আনন্দাশ্রু ভ্যান চালক কুতুব উদ্দীনের। যথাসময়ে অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে না পারলে ছেলেকে বাবার ভ্যান চালাতে হত।
মথুরাপুর ইউনিয়নের জাবারীপুর গ্রামের জাফর আলম রাকিব বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-তে সিপাহী পদে যোগদান করে দরিদ্র বাবাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের কল্যানে।
মথুরাপুর ইউনিয়নের নালুকাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম এর ছেলে মোঃ ইব্রাহিমের বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে ছিল না নাগরিক সনদ। মংলা থেকে সকাল সাড়ে আটটায় ইব্রাহিম ঘটনাটি মোবাইলে ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিল জানারপর সকাল ৯টার মধ্যে এই কাগজ হাতে পেয়েছেন ইব্রাহিম। ইউপি চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে নিজের সাক্ষর স্ক্যান করে নাগরিক সদন পাঠিয়ে দেন ই-মেইলে। সেই কাগজ দিয়ে নৌবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ হয় ইব্রাহিমের।
মথুরাপুরের  কাদিমপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আলমগীর হোসেনের ছেলে রাশেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি জন্য দাঁড়াবে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মোবাইলে বিষয়টি জানতে পেরে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সিল সাক্ষর করে ই-মেইলে পাঠিয়ে দেন চেয়ারম্যান। রাশেদ পরের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ পেয়েছে।
যমুনা পাড়ের এই ইউনিয়নের ডিজিটাল সেবা পৌঁছে গেছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে। ইউনিয়নের জাবারীপুর গ্রামের আলী করিমের ছেলে মামুন, একই গ্রামের কৃষক রুহুল আমিনের ছেলে প্রবাসী শ্রমিক ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় মারা যান। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইংরেজী ও আরবী ভাষায় অনুবাদ করে ই-মেইল এর মাধ্যমে সেদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়। খুব সহজে স্বজনের লাশ ও পাওনাদি বুঝে পায় পরিবার।
প্রত্যন্ত এলাকায় ডিজিটাল সেবার বহু উদাহরণের মধ্যে এগুলো কয়েকটি দৃষ্টান্ত মাত্র। বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষও যে অনলাইন সেবার প্রতি এতটা আকৃষ্ট হতে পারে, তার দৃষ্টান্ত মথুরাপুর ইউনিয়ন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দোতলায় একটি কক্ষে তথ্যসেবা কেন্দ্রে কাজ চলে। কয়েকটি কম্পিউটার ও ল্যাপটপে কাজ করছে তিনজন তরুন। অনলাইনের নিউজ কিংবা উন্নয়ন তথ্য জানাতে এখানে প্রজেক্টর ও বড় পর্দা রয়েছে। ঐ ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে সকাল, দুপুর, বিকেল সারাক্ষণই সেবা নিতে আসা মানুষের ভিড় থাকে।
শুধু তথ্যসেবা নয়, বহু ছেলেমেয়ে এখান থেকে কম্পিউটার শিখে নিজেদের চাকরি পাওয়ার পথ সুগম করে তুলছে। কেউ আবার ফেইজবুক চালানো থেকে কম্পিউটারের মাউস ধরা শিখে এখন ওয়েবসাইট তৈরিতে দক্ষতা অর্জন করেছে। ডিজিটালের কল্যানে গ্রামেই তৈরি হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি। প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থান করলেও ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের কল্যাণে এখানকার মানুষ সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত থাকছে দূরের স্বজনদের সঙ্গে।
এই এলাকার বহু মানুষ বিদেশে অবস্থান করলেও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না। প্রত্যন্ত এই এরঅকা থেকে বহু মানুষ বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে স্কাইপিতে অনায়াসে কথা বলেন। খোঁজখবর নিচ্ছেন বাড়িতে রেখে যাওয়া মা-বাবা, বৃদ্ধ দাদা-দাদী, স্ত্রী-সন্তান পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীর।
ইউনিয়নটি তথ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে জানা গেল, বিদ্যুৎ না থাকলেও সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে দিনরাত ২৪ ঘন্টাই কে›ন্দ্রটি চালু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হরতাল অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও এর কোন প্রভাব পড়েনা মথুরাপুরের এই প্রত্যন্ত পল্লীতে। সব কাজই চলে অনলাইনে।
এই এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা নওগাঁ, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যেমে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করতে পারছেন। চাকুরী প্রার্থীরা এমনকি শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য আবেদন এখন মথুরাপুর ইউনিয়নের এই তথ্য সেবা কেন্দ্র  থেকে করা যায় অতি সহজেই।
এই গ্রামের চাকুরী প্রার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখন আর কোন প্রকার বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন দপ্তরে দৌড়ঝাপ করতে হয় না। মথুরাপুর এই ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে পাবলিক পরিক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল জানা এবং তা ডাউনলোড করে ফলাফলের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করা যায়।
ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ইউনিয়নের এই পরিবর্তনের নেপথ্য কারিগর ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। যেন চব্বিশ ঘন্টাই জনপ্রতিনিধি তিনি। ভোরে ঘুম থেকে জাগতে না জাগতেই শুরু হয় এলাকার মানুষের নানান সমস্যার বিবরণ শোনা। সাধ্যমত সমাধান দিয়ে পরিষদ ভবনে যান তিনি সকাল ৮ টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে নিজ হাতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শুরু হয় অন্য কাজ।

ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে কম্পিউটার কম্পোজ করে সেবা গ্রহীতাদের বিভিন্ন কাগজপত্র সরবরাহ করেন চেয়ারম্যান নিজেই। পাসপোর্ট ফরম, বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত,নাগরিক্ত সহ সকল ধরণের সনদ নিজে পূরণ করেন। গ্রাম আদালত ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তির জন্য ভূক্তভোগীদের দরখাস্ত তিনি নিজেই লিখে দেন। সরকারি ছুটি দুরে থাক শুক্রবারসহ সপ্তাহের সাতদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত ইউপি কার্যালয় খোলা রেখে দিনরাত কাজ করেন চেয়ারম্যান। ডিজিটাল সেবার নেশায় পড়ে থাকেন ব্যতিক্রমী এই জনপ্রতিনিধি।
মথুরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, এলাকার উন্নয়নে, মানুষের কল্যাণে জীবনের যেটুকু সময় ব্যয় করতে পারছি এটাই আমার কাছে মূল্যবান। মানুষ হিসেবে সৃজনশীল কাজ ও লেখালেখি করা, সৃষ্টিশীল ভাবনার মাঝে নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখা আমার দায়িত্ব। ডিজিটাল প্রযুক্তি এই সেবা অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে।
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ বলেন, সরকারের সেবাকে জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্য সেবা সেন্টারগুলো শুরু থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। সেই সঙ্গে নিজ উদ্যোগে কাজ করছেন উদ্যোক্তারা। ডিজিটাল সেবা পেতে জনসচেতনা বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।





আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close