* স্বামীকে বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ নারীর, তবুও শেষ রক্ষা হলো না           *  কেন্দুয়া আটপাড়ার আর্শিবাদ অসীম কুমারকে অভিশপ্ত করে তুলতে শুরু হয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র।           * পরীক্ষা বাদ রেখে শিক্ষার্থীদের তুলে আনা হল প্রশাসনের অনুষ্ঠানে           * ময়মনসিংহে অর্থ আত্মসাতে গ্রামীণ ব্যাংক ম্যানেজারের কারাদণ্ড           * পিরোজপুরে ছুরিকাঘাতে আ.লীগ নেতা নিহত           * রোহিঙ্গায় নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর           * আমি দুর্নীতি করলেও তুলে ধরুন, সাংবাদিকদের পূর্তমন্ত্রী           * আয়লানের মতো মানবতাকে নাড়া দেয়া আরেক ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক           *  দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ           *  ময়মনসিংহে মাদক নির্মূলে কাজ করছে রেঞ্জ পুলিশ ------- এডিশনাল ডিআইজি ড. মোঃ আক্কাছ উদ্দিন ভূইয়া           * ত্রিশালে আবারও মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা            *  ফুলবাড়ীয়ায় আলাদীন’স পার্ক সকলের নিকট জনপ্রিয়           * সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে ইবি           * সাকিবকে এই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় বললেন হাসি           * ড্রোনের কারণে ফ্লাইট বিভ্রাট সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে           * ছাত্রদলের তোপের মুখে রিজভী, কেন?           * প্রতীকী ‘কাবা’ বন্ধ করতে আইনি নোটিশ           * বেড়ায় ক্ষেত খাইলো গৌরীপুরের মৎস্য চাষী হারুনের!           * সৌদি সেনা ঘাঁটিতে গোলাগুলি, তিন সেনা নিহত!           * টাঙ্গাইলে মাদরাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ! দুই ধর্ষক গ্রেফতার          
*  ময়মনসিংহে মাদক নির্মূলে কাজ করছে রেঞ্জ পুলিশ ------- এডিশনাল ডিআইজি ড. মোঃ আক্কাছ উদ্দিন ভূইয়া           * অপহৃত সেই তিন জমজ বোন উদ্ধার, আটক - ৬           * সাভারে তিন মাস আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ- থানায় অভিযোগ          

নওগাঁয় আম চাষে বিপ্লব ঘটতে চলেছে প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে

মোঃ সানজাদ রয়েল সাগর বদলগাছী , নওগা | সোমবার, জুন ১০, ২০১৯
নওগাঁয় আম চাষে বিপ্লব ঘটতে চলেছে
প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে

নওগাঁর ঠাঠা এলাকা হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের এক ফসলি জমিতে ধান চাষের চেয়ে আম চাষ লাভজনক। আর এ কারণেই প্রতি বছর দুই হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে। মাটির বৈশিষ্ট্যগত

(এঁটেল মাটি) কারণে নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে আমের ভরা মৌসুমে আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও পাইকারি বাজার গড়ে না তোলায় আম চাষিরা নায্য মূল্য পান না।

জেলায় আগামিতে আরো অধিক আম উৎপাদন করার লক্ষে আম গবেষণাকেন্দ্র, পাইকারি বাজার ও সংরক্ষাণাগার গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সাত বছরে যেখানে নওগাঁয় মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল। সেখানে বর্তমানে জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এক ফসলি জমিতে ধানসহ অন্যান্যে ফসল চাষের চেয়ে আম চাষে লাভজনক হওয়ায় আগামীতে নওগাঁয় আম চাষে বিপ্লব ঘটতে চলেছে।

জেলায় গুটি, ল্যাংরা, ফজলি, ক্ষিরসাপতি, মোহনভোগ, আশ্বিনা, গোপালভোগ, হাঁড়িভাঙ্গা, আমরুপালি, বারি-৩, ৪ ও ১১, নাকফজলি, গৌড়মতি উন্নত জাতের আম চাষ হচ্ছে। এ ছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হয়ে থাকে।

এ সকল আমের বিশেষ জাতের মধ্যে আম ‘নাকফজলি’। এই নাগফজলি বিশেষ করে বদলগাছী, পতœীতলা, ধামইরহাট ও মহাদেবপুরে চাষ হয়ে থাকে। এই আম প্রথমে ৩৫/৪০ বছর আগে বদলগাছীতে চাষ শুরু হলেও বর্তমানে পতœীতলায় বেশি চাষ হয়ে থাকে।
জানা গেছে, অন্য আমের তুলনায় নাকফজলি আম কম পচনশীল, খেতে সুস্বাদু, ও বাজারে ব্যাপক চাহিদা এ আমে ক্ষতিকারক ফরমালিন ব্যবহার করার প্রয়োজন না হওয়ায় উৎপাদন থেকে বাজার জাত করতে খরচও কম লাগে। এই আমের বাজার দিন দিন রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তার করেছে।
পতœীতলার নজিপুর মহল্লার ধরনীকান্ত ও শান্ত কুমার জানান, নাক ফজলি পতœীতলায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে কলম পদ্ধতির মাধ্যমে গাছ তৈরি করা হয়। খেতে সুস্বাদু,

আঁশ কম, অন্য আমের তুলনায় কম পচনশীল ও বাজারে চাহিদা থাকায় ও মাটির শুণাগুনের কারণে পতœীতলার আম চাষিরা দিনদিন নাক ফজলি আমের চাষে ঝুঁকে পরেছে। ইতি মধ্যে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পতœীতলায় ছোট ছোট নাক ফজলি আমের বাগান গড়ে উঠেছে। এ আম চাষে ঝুকি কম ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেক সফল আম চাষিদের কাছ থেকে বাগান তৈরীর পরামর্শ নিতে আসেন অনেক এলাকার আম চাষিরা।

পতœীতলার নজিপুর এলাকার আম বাগানের মালিক বুলবুল আহমেদ জানান, খেতে সুস্বাদু, আঁশ কম, অন্য আমের তুলনায় কম পচনশীল ও বাজারে চাহিদা থাকায় দিনদিন নাক ফজলি আমের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি হয়ে থাকে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা।
পতœীতলা উপজেলার কৃষি অফিসার প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, নাক ফজলি আমের গুণাগুনের কারণে এ আম চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ আম অনন্য পচনশীল কম হওয়ায় ফরমালিন ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। আর আম চাষিদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকেও সহযোগিতা করা হয়। এ কারণে এ উপজেলায় প্রায় ৬শ’ হেক্টর জমিতে নাকফজলি আম চাষ করা হয়েছে। আগামিতে এই আম চাষের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাত বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল। বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৮শ’ ২০ হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। রাজশাহীতে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল সাত বছর আগে। বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার ৪শ’ ৬৩ হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। আর নাটোর জেলায় বর্তমানে মাত্র ৪ হাজার ৮শ’ ২৩শ’ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে।  

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর বদলগাছী, পতœীতলা, পোরশা, সাপাহার, মান্দা, ধামইরহাট, নিয়ামতপুর ঠাঠা বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে পানির স্তর মাটির অনেক নিচে হওয়ায় বছরের বেশি সময় ধরে জমি পতিত থাকে। আমন ধান ছাড়া ইরি-বোরো ধান চাষ হয় না। বর্ষা মৌসুমে ঠাঠা এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে শুধু মাত্র আমন ধান চাষ হয়ে থাকে। ধানের চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়ায়। নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে ঠাঠা বরেন্দ্র ভূমির এ সব অঞ্চলে দিনদিন শতশত বিঘা জমিতে উন্নত (হাইব্রিড) জাতের আম বাগান গড়ে উঠছে। গত সাত বছর আগে এই জেলায় মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হতো। এ বছর জেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় গত দু’বছর থেকে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের তছলিম উদ্দীন বাসুল ডাঙ্গার খোদ্রনালীর ফাঁকা মাঠের মধ্যে গত বছরের শেষ দিকে তার নিজেস্ব ৭ একর জমির উপর আম বাগান গড়ে তুলেছেন। এই বাগানে প্রায় আড়াই হাজার আম গাছ রয়েছে। এর অধিকাংশ আমরুপালি জাতের। আগামী দুই বছর এই গাছগুলো থেকে আম সংগ্রহ করা হবে না। পরবর্তীতে বছরগুলো থেকে আমের উৎপাদন বেড়ে যাবে।

সাপাহার পোষ্টঅফিস পাড়ার গোলাপ খন্দকার প্রতি বছর ২ লাখ টাকা শর্তে ১০ বিঘা জমি ১২ বছরের জন্যে ২৪ লাখ টাকা দিয়ে লীজ নিয়েছেন। সেই জমিতে বারি-৪ জাতের আম লাগিয়েছেন।  তিনি জা

নান, দেড় বছর থেকে দুই বছরের মধ্যে আম সংগ্রহ শুরু হবে। ১২ বছরে এই জমি থেকে ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার আম বিক্রি হবে।
সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, এই উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। এই আম বাগানে শতশত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হচ্ছে।

পোরশা উপজেলার নীতপুর বাজার এলাকার বাঙ্গালপাড়ার আমির উদ্দিন জানান, জমিতে আমের বাগানে সরিষা, ডাল, গম, ধান চাষ করায় কৃষকরা এক বিঘা জমিতে বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করে থাকেন। ধানসহ অন্যন্যে ফসল চাষ করে যে লাভ হয় তার চেয়ে কয়েকগুণ লাভ বেশি হয় আম চাষে। এ জন্যেই এলাকার কৃষকরা আম বাগানে ঝুঁকে পরেছে।

পোরশা উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের নুরুজ্জামান জানান, আগে জেলায় ল্যাংরা, ফজলি, ক্ষিরসাপতি, মোহনভোগ, আশ্বিনা, গোপালভোগ জাতের আম চাষ করতেন এলাকাবাসি। তবে বর্তমানে উন্নত জাতের আমরুপালি, বারি-৩,

৪ ও ১১ জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। সাধারণ জাতের চেয়ে আমরুপালি ও বারি-৪ জাতের আম দ্বিগুণ উৎপাদন ও দাম বেশি পাওয়ায় এ আম চাষে ঝুঁকে পরেছেন। এক বিঘা জমি থেকে ধান চাষে বছর আয় হয় মাত্র ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। অথচ তিন-চার বছরের একটি আম বাগান থেকে প্রতি বছর ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয় এক বিঘা জামিতে। বছর যায় আম উৎপাদন বেশি হয়। ফলে টাকার পরিমাণও বৃদ্ধি হয়।

পোরশা উপজেলার জালুয়া গ্রামের আম চাষি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক রইচ উদ্দিন জানান, জেলার মধ্যে বিশেষ করে পোরশার অঞ্চলের মাটি এটেল হওয়ায় পোরশার আম সারাদেশেু চাহিদাও বেশি। পোরশার আম রাজধানীসহ সারাদেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। কোন প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়াই আম বাজারজাত করা হয়ে থাকে। আর আম বিক্রি করতে ভোগান্তি পোহাতে হয় না।

সাপাহার উপজেলার বাজার এলাকার সাহাপাড়ার প্রদীপ সাহা জানান, জেলায় আম গবেষণা কেন্দ্র এবং আম সংরক্ষণাগার না থাকায় আম চাষিরা নায্য মূল্য পান না। আম গবেষণা কেন্দ্র থাকা এবং আম সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হলে আম চাষিরা বেশি লাভবান হতেন।
পোরশা উপজেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ শাহ্ বলেন, আমের ভালো দাম পেতে হলে সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। চলতি বছরে পোরশায় ৬০ কোটি টাকা থেকে ৭৫ কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হবে।
সাপাহার উপজেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কার্তিক সাহা জানান, সাপাহার বাজারে নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার, পতœীতলা উপজেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা আম বিক্রি করে থাকে। জেলায় চলতি বছরে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার আম কেনা বেচা হবে।

পোরশা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা আব্দুল হাই জানান, পোরশায় গোপালভোগ, ল্যাংরা ও খিরাশা জাতের আম বেশি চাষ হয়ে থাকে। আগের বছরগুলোতে বিদেশেও এ উপজেলার আম রপ্তানি হয়েছে। চলতি বছরে পোরশায় ৯ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। আমের দাম ভালো পেলে আগামিতে আম চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে।

পোরশা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানান, পোরশায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়। আর ইরি-বোরো খরা মৌসুমে মাত্র ৫

হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হয়। খরা এই মৌসুমে পানির অভাবে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকে। ইত্যে মধ্যে উপজেলায় ৯ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন হওয়ায় উপজেলায় প্রায় ১ লাখ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। নিরাপদ আম সংগ্রহের লক্ষে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ে গোপালভোগ আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা জানান, ভোক্তাসাধারণের কথা মাথায় রেখে পোরশায় কেমিক্যাল, কিটনাশক ও বিষ মুক্ত আম উৎপাদনের জন্যে আম চাষিদের সাথে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় করা হয়েছে। এর ফলে উপজেলায় নিরাপদ আম চাষ সম্ভব হয়েছে।
বদলগাছী হর্টিকালচার উপ-সহকারি উদ্যান কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, এই উদ্যানে গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-৪, ১১, থাই-বোরো মাসি, নাগফজলি, আমরুপালি, চৌষা, তোতাকরি, সূর্য্যমূখী উল্লেখ যোগ্য।

এই আম জাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা হয়েছে নতুন জাতের ‘গৌড়মতি’ আমের। ল্যাংরা আম ও আশ্বিনা আমের সমন্বয়ে এই ‘গৌড়মতি’ আমের উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই আমের বিশেষত্ব হলে, ল্যাংরা মিষ্টতা ও আশ্বিনা সময় (পাকার) রয়েছে। যার ফলে জুলাই মাসে আশ্বিনা আমের সাথে পাকে এই গৌড়মতি আম। আশ্বিনা আমের চেয়ে এই আম বড় ও স্বাদে মিষ্টি। এ ছাড়া এই আমের রোগবালাই নেই।

বদলগাছীর হর্টিকালচার সেন্টারের সিনিয়র উদ্যান তত্ত্ববিদ আ.ন.ম. আনারুল হাসান জানান, বছর ব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পে আওয়াতায় এখানে উন্নত জাতের আম গাছ সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে। চলতি অর্থ বছরে প্রায় আড়াই হাজার উন্নত জাতের আম গাছ বিক্রি হয়েছে। এই উন্নত আম জাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে নতুন জাতের ‘গৌড়মতি’ আমের। ‘গৌড়মতি’ আমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আম চাষিদের মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামিতে এর ‘মা’ গাছ তৈরী ও কলমের মাধ্যমে আরো গাছ তৈরী করে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। এই উদ্যানে চলতি বছরে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) আ. জা. মু. আহসান শহীদ সরকার জানান, জেলায় ইরি-বোরো ধানের প্রতি বিঘায় মাত্র ২০ থেকে ২৪ মণ ধান ও আমন ধান ১০ মণ থেকে ১৪ মণ ধান উৎপাদন হয়ে থাকে।

খরচ বাদ দিয়ে ধান চাষিদের তেমন কোন লাভ থাকে না। অথচ এক বিঘা জমিতে ৩০টি আম গাছ লাগানো যায়। আম গাছ লাগানোর ৪-৫ বছরের পর প্রতি গাছ থেকে দেড় মণ থেকে দুই মণ আম পাওয়া যায়। এর ফলে প্রতি বিঘা থেকে আম বিক্রি হয় ৪০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা।

তিনি আরো জানান, পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর বর্ষা মৌসুমে আমন ধান চাষ করার পর পানির অভাবে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আর কোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। সরকারের নির্দেশ রয়েছে ভূগর্ভস্থ পানি কম ব্যবহার করে স্বল্প সেচ চাহিদা সম্পন্ন ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুত্ত করা। ধান চাষে অধিক পানি লাগায় স্বল্প সেচ চাহিদা সম্পন্ন আম চাষে কৃষকদের উদ্বুত্ত করা হচ্ছে।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রঞ্জিত কুমার মল্লিক জানান, জেলায় প্রতি বছর শতশত টন আম উৎপাদন হলেও পাইকারি বাজার না থাকায় দ্রুত এই আম কম মূল্যে বিক্রি করে দেন আম চাষিরা। গত পাঁচ/ছয় বছর আগে জেলা মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হতো। আম চাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে সব সময় পরামর্শ দেয়ায় চলতি বছর জেলায়

২০ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ২ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে। নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় গত দু’বছর থেকে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা আহসান হাবিব খাঁন জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলার মধ্যে নওগাঁয় আমের যে ভাবে বাগান গড়ে উঠছে তা বলাবাহুল্য।

মাটির কারণে স্বাদেগুণে নওগাঁর বিশেষ করে পোরশার আমের কোন তুলনা চলে না। বর্ষা মৌসুম ছাড়া আর কোন সময় ফসল হয় না এমন জমিকে এক ফসলি জমি বলা হয়ে থাকে। এক ফসলি রয়েছে এমন উপজেলা নওগাঁর পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুরে সরকারের নির্দেশে স্বল্প সেচ চাহিদা সম্পন্ন ফসল উৎপাদন করা। এর মধ্যে সবচেয়ে আম চাষে লাভ হওয়ায় কৃষকদের আম চাষে উদ্বুত্ত করা হচ্ছে।  

তিনি আশা করছেন, এক ফসলি জমিতে আম চাষ করার ফলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ও নাটোর জেলার চেয়ে নওগাঁয় বছরে যেভাবে আম বাগান গড়ে উঠছে তাতে নওগাঁয় আম চাষে বিপ্লব ঘটতে চলছে।






                                                                                                               




আরও পড়ুন



১. প্রধান উপদেষ্টা ঃ এড. সাদির হোসেন (হাইকোর্ট আইনজীবি)
২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close