* আজান ও ইক্বামতের উত্তরে রয়েছে যেসব ফায়দা           * এবার ভিন্ন লুকে নতুন খবর দিলেন তাহসান           * ছেলের সঙ্গে মালাইকার ‘সেক্সি’ সেলফি, শুরু তুমুল সমালোচনা           * প্লাস্টিকের বোতল জমিয়ে বানালেন নান্দনিক বাড়ি           * খালাস বন্ধ, পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি!            * স্বামীকে দাফন করে ফেরার পথে মারা গেল স্ত্রী           * ৭ দিনে কোটিপতি হওয়ার ৭ উপায়           * কাশ্মীরে ভারতীয় সেনারা যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে, ইমরানকে চিঠি গিলালির           *  সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছেন সেই সুমি            *  বাবরি মসজিদের রায় দিল যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত বিচারপতি!            * যে আশঙ্কায় কাঁপছেন সারা আলি!           * রাইফেল হাতে বিয়ের মঞ্চে নবদম্পতি            * রোগী রেখে পালানোর সময় ডাক্তারকে গণধোলাই            * আ.লীগের ডিএনএ টেস্ট করা দরকার: আলাল           * প্রধান শিক্ষকের বেতন ১১ গ্রেডে, সহকারি শিক্ষকের ১৩ গ্রেডে           * চট্টগ্রামে যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ : আহত ১২           * নূর হোসেনকে কটাক্ষকারীদের ক্ষমা নেই: কাদের           *  কোলে চড়ে আদালতে সাত্তার : অভিযোগ গরু চুরি           * জাবি দাবা ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন            *  বিটিএফ স্কুলের ৫ম শ্রেণির সমাপনী শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা           
* চালকের ভুলেই ভয়াবহ ট্রেন            * আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে নেই সাকিব, ঢুকলেন নাঈম           * বিএনপি ছেড়ে যাবেন এমন নেতাদের তালিকায় বহুজন :তথ্যমন্ত্রী           

ত্রিশালে বাধাগ্রস্থ উন্নয়ন রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি

বিশেষ প্রতিনিধি | বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯
ত্রিশালে বাধাগ্রস্থ উন্নয়ন
রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদের অভ্যন্তরীন বিরোধের সুযোগ নিয়ে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সুযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাধীন বা বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে ঐতিহ্যবাহী ত্রিশাল উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ।

ত্রিশালের সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ না করে এখন প্রভুর ভুমিকায় অবতীর্ণ । তারা রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হয়েছেন। এ উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নেই বললেই চলে । ত্রিশালে উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষের মৌলিক চাহিদা ব্যাহত হচ্ছে ।
অভিযোগ রয়েছে, ত্রিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থেকে শুরু করে , উপজেলা প্রকৌশলী, কৃষি কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ প্রায় সকল কর্মকর্তারাই দুর্নীতি অনিয়মে যুক্ত ।

সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলার দুই নম্বর বৈলর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকির এর দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ এনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ।

তৎপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকিরকে ত্রিশাল থেকে গফরগাঁও উপজেলায় বদলী করা হয় । ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এর কার্যালয় সংস্থাপন শাখার এক আদেশে এই বদলী আদেশ জারি করা হয়।  যদিও ত্রিশাল ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকিরকে বদলী ঠেকাতে কলকাঠি নাড়লেও তার সব অপচেষ্টা কাজে লাগান। অভিযোগ রয়েছে, একটি স্কুলের কিছু ছাত্রদের সড়কে নামিয়ে ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকির বদলী আদেশ প্রত্যাহারে মানববন্ধন করানো হয়।

 এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে পুলিশ মহাসড়ক থেকে মানববন্ধনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ত্রিশালে জনমনে বিতর্কিত সৃষ্টি হয়। সেই সাথে ত্রিশালে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকির বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ ব্যাপক অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে প্রকাশ, ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকির উপজেলা পরিষদ ভবনের ৩য় তলায় পরিষদ কক্ষ এর আধুনিকায়নের নামে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল এডিপি থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে অনিয়ম, যুব উন্নয়নের আওতায় ন্যাশনাল সার্ভিসের ৩২শ’ মাঠ কর্মীর টাকা নেয়া, সরকারি প্রতিটি দপ্তর থেকে টাকা আদায়, বরাদ্দকৃত সোলার বিক্রি, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত হতদরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে বাসস্থান তৈরিতে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত , নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, বাসস্থান বরাদ্দে দুর্নীতি , টেন্ডার ছাড়াই পছন্দ মাফিক ঠিকাদার দিয়ে কাজ সম্পাদন ছাড়াও বিস্তর অভিযোগ ।

একইভাবে, ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী রাস্তা পাকা করন ও পুর্ন সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দকৃত অর্থে দুর্নীতি অনিয়ম । প্রকল্পে নিম্ন মানের ইট,বালুর বদলে মাটি,নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করে দায়সারা ভাবে প্রকল্প গুলির কার্য সম্পাদন করা হয়েছে ।

 যদিও কতিপয় ঠিকাদার স্বীয় স্বার্থ হাসিলের অসৎ উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে যেন তেনো, দায়সারা ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ সম্পাদন করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় ।

 স্থানীয়রা অভিযোগ করার পর লোক দেখানো কাজ পরিদর্শন করেন এসব কর্মকর্তা। কর্মকর্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজস উল্লেখিত রাস্তা গুলো বছরের পর বছর ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টির ভয় দেখিয়ে পরে আবারো নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে অবশিষ্ট সেই কাজ সম্পাদন করা হয়।

 এসব কাজের অনিয়মের নিউজ করলে বা করতে চাইলে এসব কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় নিউজ গুলো বন্ধ করতে বা প্রতিবাদীদের থামাতে এক প্রকার আর্থিক সুবিধা প্রদান করে থাকেন। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির অব্যাহত এই দুর্নীতি অনিয়মের ফলে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ব্যাপক ভাবে ক্ষুন্ন হয় ।

ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন প্রকল্প, কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ, বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে সিংহভাগ অর্থই আত্মসাত করা হয়েছে ।


অফিসের মালামাল ক্রয় ও ভ্রমণ খাতে ভুয়া বিল ভাউচার এবং রাজস্ব খাতের অধীনে বোরো ধান, বিটি বেগুন, কুমড়া জাতীয় ফসলে সেক্স ফেরোমেন ও ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনীর নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ত্রিশাল সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধলা আশ্রয় কেন্দ্র নিয়ে দুর্নীতি অনিয়ম ছাড়াও প্রকৃত প্রতিবন্ধী, বিধবা, ও বয়স্কভাতাসহ অন্যান্য ভাতা প্রাপ্তদের ভাতা বঞ্চিত করা হচ্ছে। কেউবা হচ্ছেন নানা হয়রানীর শিকার।

 এ ছাড়াও টাকা ছাড়া তালিকা হচ্ছে না নতুনদের নাম। নির্দেশ অমান্য করে এনজিও নিবন্ধন প্রদান, দরপত্রের শর্তানুসারে মালামাল না কেনা, বেআইনিভাবে টিএ ও ডিএ উত্তোলন, এতিমখানায় কমসংখ্যক এতিম প্রতিপালন করে সংখ্যায় বেশি দেখিয়ে অর্থ আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে ।

ত্রিশাল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সরকারের গৃহীত কোনো প্রদক্ষেপ আলোর মুখ দেখছে না ।

স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন যুব কর্মকর্তা । এ সখ্যতাকে পুঁজি করে কিছুসংখ্যক যুব মহিলা ও যুবকদের মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে আর্থিক সুযোগ নিচ্ছেন তিনি।

সাবেক ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত গ্রামাঞ্চলের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ বণ্টন হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে।

 ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ও মন্দিরের নামে বরাদ্দকৃত টিআর ও কাবিখার চাল বা গম উত্তোলনের জন্য টনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা নিচ্ছেন পিআইও ও তার সহযোগী কর্মকর্তারা।

একইভাবে উপজেলা পরিষদের সরকারি দপ্তরগুলিতে চলছে দুর্নীতি অনিয়ম । খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তারা এসব দুর্নীতি অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছেন রাজনৈতিক কোন্দলের সুযোগে । এই উপজেলায় সংসদ সদস্য(এমপি) গ্রুপ এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গ্রুপের বিভেদকে দায়ী করছেন উপজেলার সচেতন মহল ।






আরও পড়ুন



২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close