*  অভিযান কন্টিনিউ করতেই হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী           *  আসছে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি           * ‘প্রতি রাতেই শরীরের ওপর চলত নির্যাতন           * রোগীকে ধর্ষণ করে অনলাইনে ভিডিও ছড়িয়ে দিলেন ডাক্তার           * ‘জেন্টস পার্লারের’ নামে পতিতালয় চালিয়ে ধরা খেলেন যুবলীগ নেতা           * ইলিশ খাওয়া হলো না প্রবাসীর            * অভিনেত্রী ধর্ষণের দায়ে নাট্যকার গ্রেফতার            * চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার           * কোহলিদের জন্য নারী থেরাপিস্ট           * ‘শুদ্ধি অভিযানে টার্গেটে থাকা সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে’           * চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি           * মেয়ের ভাসুরকে বিয়ে করলেন মা!           * লটারিতে জেতা ১০ কোটি টাকায় অসুস্থ মেয়ের জন্য যা করলেন বাবা           * মহিলা এমপি বুবলীর হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন ৮ ভাড়াটে ছাত্রী!           * রিকশাচালকের মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সারথী হলেন এমপি-ডিসি           * ভাঙ্গায় দু’দল গ্রামীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত-৫০           * ভাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোচালক নিহত           * বিএসএফের বাংলাদেশে প্রবেশের একটি ছবিও প্রকাশ           * জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনো ছাড়াও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন র‌্যাব            * বনেকের সভা আহবান          
* কোহলিদের জন্য নারী থেরাপিস্ট           * ‘শুদ্ধি অভিযানে টার্গেটে থাকা সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে’           * জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনো ছাড়াও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন র‌্যাব           

রোহিঙ্গাদের পিছনে উস্কানি দিচ্ছে কারা?

কায়সার হামিদ মানিক, কক্সবাজার প্রতিনিধি | শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০১৯
রোহিঙ্গাদের পিছনে উস্কানি দিচ্ছে কারা?
 

রোহিঙ্গা মহাসমাবেশ আয়োজনের পেছনে অনেক চক্র কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  প্রভাবশালী একটি পশ্চিমা দেশ, একাধিক মানবাধিকার সংগঠন, বিদেশীদের অর্থায়ন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সহ বেশ কিছু উগ্র সংগঠনের নাম এতে উঠে এসেছে। উদ্দেশ্য একটাই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করে ভূ রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অসহিষ্ণু করে তুলে অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা প্রভৃতি। গত কয়েক দিনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রভাবশালী পশ্চিমা একটি দেশ ও তার লেজুড় কয়েকটি দেশ ও সংশ্লিষ্ট কিছু মানবাধিকার সংগঠন কথিত রোহিঙ্গা নেতা মাষ্টার মহিবুল্লাহর নেতৃত্বে ২৫ আগষ্টের তথাকথিত মহা সমাবেশ সার্থক করা।

ওদের উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক ভাবে এ সমাবেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যারা অতি আগ্রহী তাদের একটি জু জুর ভয় দেখানো। বিশেষ করে সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ভাবে সংকট উত্তরণে এগিয়ে আসা চীন, জাপান ও ভারতকে বুঝিয়ে দেয়া যাতে এর পিছনে আরও কেউ রয়েছে। সেভাবে তারা মহিবুল্লাহকে গত দুই বছর ধরে লালন করে আসছে। একজন উদ্বাস্তু মহিবুল্লাহকে তারা ইতিমধ্যে গত বছরের মার্চে জেনেভায় জাতিসংঘের মিটিংয়ে উপস্থাপন করিয়েছে।গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নালিশ পার্টিতে পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বের ১৭টি দেশের নির্যাতিত ধর্মীয় গোষ্ঠীর ২৭ জন প্রতিনিধির একজন হিসেবে ট্র্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহ। ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে রাখাইন থেকে বিতাড়িত হওয়ার কথা তিনি তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্পের কাছে।

সর্বশেষ গত ২৫ আগষ্ট কুতুপালং ক্যাম্পে করা সমাবেশের মঞ্চে মহিবুল্লাহর পাশে থাকা উখিয়ার স্থানীয় এক ব্যক্তিকে নিয়েও নানা রকম আলোচনা সমালোচনা চলছে। স্থানীয় লোকজনের মতে রোহিঙ্গাদের ঐ উগ্র সংগঠনের গুরুত্ব পূর্ণ মিটিং গুলোতে উখিয়া কলেজের প্রভাষক মাসুদ ভুইয়াকে দেখা যায়। মাসুদ ভুইয়া উখিয়া সদরের সিকদার বিল গ্রামের আবদুল করিম ভুইয়ার ছেলে। তার সাথে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের এত কিসের সম্পর্ক? এ ব্যাপারে মাসুদ ভুইয়া বলেন, আমি একজন মানবাধিকার সংগঠক হিসেবে রোহিঙ্গারা দাওয়াত করলে যাই, অন্য কিছু না।

স্বভাবতই বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে এই মুহিব উল্লাহ? ১১ লক্ষ রোহিঙ্গার মত সেও ঝুপড়িতে থাকা একজন সাধারণ রোহিঙ্গা। পাসপোর্ট, ভিসা ও আশ্রয় দাতা দেশের আইন কানুন নিয়ম অনুসরণ করেই কি সে এসব কাজ করছে! আবার ফিরে এলেনই বা কেমন করে? তার আমেরিকা যাওয়া-আসার ব্যবস্থা করেছে কে? সংশ্লিষ্টদের মতে, সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী দেশটির ইন্ধন। গত রবিবার রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনেও  ঐ প্রভাবশালীদের  সমর্থন, পরিকল্পনা, আর্থিক সহায়তা রয়েছে।

কে এই মহিবুল্লাহঃ মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনের মংডু জেলা শহরের লং ডং ছরার মৌলভী ফজল আহমদের ছেলে মহিবুল্লাহ। ২০১০ সালে মিয়ানমারের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে মংডুর বশর,কালু ও লা মং মিলে মুসলিমদের অধিকার না দেওয়ায় তৎকালীন সামরিক সরকারের দল ইউএসডিপিকে ভোট না দেয়ার জন্য মুসলমানের উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু ঐ নির্বাচনে সুযোগ নিয়ে মহিবুল্লাহ ইউএসডিপি করে।ঐ দল বিজয়ী হলে মহিবুল্লাহকে মংডু টাউন শীপের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়। মহিবুল্লাহ সীমান্ত রক্ষী নাসাকা ও পুলিশ বাহিনীকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনে বিরোধিতা কারীদের কাছ থেকে অন্তত ৪ শ কোটি কিয়াত (মিয়ানমার মুদ্রা) চাঁদা আদায় করে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় জেল খাটায় সে।

সেখানকার মুসলিমরা এ ঘটনা সরকারের নিকট অভিযোগ জানালে তদন্ত করে মহিবুল্লাহকে দলের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে। সে ঘটনায় মহিবুল্লাহ ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ হতে থাকে। ইতিমধ্যে মহিবুল্লাহ বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে থাকা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। ক্যাম্প গুলোর নেতৃত্বে কারাঃ মহিবুল্লাহকে দিয়ে ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গঠন করা হয় আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস বা এআরএসপিএইচ। নেতৃত্ব শূন্য থাকলে সাধারণ  রোহিঙ্গারা পথভ্রষ্ট হতে পারে সে আশংকায় তড়িঘড়ি করে মহিবুল্লাহকে চেয়ারম্যান করে এটি গঠন করা হয়।
রোহিঙ্গা আসার শুরু থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজে জড়িয়ে পড়ে। সরকারের প্রশাসন ও  আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ঐ সব স্বেচ্ছাসেবীদের ক্যাম্প, ব্লক ও শেড মাঝি বা নেতা হিসেবে নিয়োজিত করে।

অর্থ যোগানদাতা কারাঃ এআরএসপিএইচ এর ৫১ সদস্যের কমিটি থাকলেও মূলতঃ সবকিছু তদারকি করছে মহিবুল্লাহ ও তার একান্ত বিশ্বস্ত ৪/৫ জন। তার আস্থাভাজন হিসেবে সব শেয়ার করে তার ভাবী জামাতা নকিম,মাষ্টার কামাল,মাষ্টার ইলিয়াস, মাষ্টার আবদুর রহিম ও সেক্রেটারী ছৈয়দুল্লাহ। গত জুলাইয়ে আমেরিকায় তার সফর সঙ্গী হিসেবে সাথে নেয় মাষ্টার নকিমকে। একটি পরাশক্তি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে মহিবুল্লাহর মাধ্যমে প্রচুর অর্থ সহায়তা পেয়ে থাকে তার সংগঠন। উক্ত দেশটির লবিংয়ে মহিবুল্লাহ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হয়।

ইতিপুর্বে গত বছর পশ্চিমা আরেকটি দেশের একটি মানবাধিকার সংস্থার লবিংয়ে মহিবুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে সক্ষম হয়। মহিবুল্লাহ পিছনে অর্থ ঢালছে তার সংগঠনের কয়েকজন নেতা পরিচয় গোপনের শর্তে এসব তথ্য জানান। আরও জানা যায় ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ থেকে রীতিমত উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা পেয়ে থাকে মহিবুল্লাহ। এআরএসপিএইচ এর কমিটির নেতারা নিয়মিত মাসিক সম্মানি ভাতাও গ্রহণ করে ৫১ সদস্যের কমিটি। আর এসব অর্থের সবই আসছে অবৈধ পন্থায়।

বাংলাদেশের আম জনতার জিজ্ঞাসা, যে রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে একবস্ত্রে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা মাত্র দুই বছরে এখানে এত সংগঠিত কীভাবে হলো? শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীকে ইংরেজিতে লেখা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, সাদা জামা, গেঞ্জি ইত্যাদি কারা সরবরাহ করেছে? বিশাল আকৃতির ব্যানারগুলোই বা তারা কোথায় পেয়েছে? সমাবেশের আয়োজন ও খরচপাতি হিসেব করলে কয়েক কোটি টাকার বেশী ব্যয় হয়েছে।

আর এ গুলোর উৎস  কোথায় বাংলাদেশীদের পাশাপাশি সাধারণ রোহিঙ্গাদেরও প্রশ্ন? অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক সংস্থা ইনসানিয়াত, লস্কর-ই-তৈয়বা সহ বেশ কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর পরিচালিত ‘আল খিদমত ফাউন্ডেশন’এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে মুহিবুল্লার। সেখান থেকে নিয়মিত অর্থের জোগান পাচ্ছেন তিনি। এছাড়া সৌদি আরব থেকে আলি আজম, আবুল কালাম হায়দারী, নঈম উল্লাহ (মক্কা ও করাচী), মৌলভী আমিন উল্লাহ (মদিনা, সৌদি), হাফেজ ইসমাঈল (তায়েপ,সৌদি),আমিন নদভী (দুবাই), মৌলভী জাকের (জিদ্দা) সহ আরও অনেকে তাকে অর্থের যোগান দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।





আরও পড়ুন



২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close