* নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে গাছে রাত কাটায় কাশ্মীরিরা           * যারা যত বুদ্ধিমান, তারা তত একা থাকতে চান           * যে গ্রামের মানুষ, পশু সবাই অন্ধ!           * অপকর্মের শাস্তি আ. লীগে, বিএনপিতে নেই : কাদের           * চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর রূপালি গিটার উদ্বোধন           * ২২১ বার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পোষা কুকুরকে বিয়ে!           * মহান আল্লাহ তাআলা যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করতে বলেছেন           * স্কুলের রাঁধুনি থেকে একরাতে কোটিপতি           * খালেদের ক্যাসিনো থেকে আটক ১৪২ জনকেই কারাদণ্ড            * অবশেষে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাবুলের লাশ ১৪দিন পর হস্তান্তর           * ‘অফিসার্স রাজ্জাক’বিদেশি মদের চালানসহ ফের আটক           * শার্শায় পানিতে ডুবে ২ বছরের শিশু নিহত           * আমরা অনেক সুন্দর প্রায়শই দেখে থাকি ধন-সম্পদ জীবনে সুখে ভরে উঠে না!!!           * পিরিতি রীতি-নীতির প্রায় দীর্ঘ এক মাস পর স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, গ্রেপ্তার প্রেমিক           * ৬ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ছিনতাইকারী ডলার চক্রের প্রতারক ওসি পরিচয়দানকারী গ্রেফতার           * বেনাপোলে চোরাচালান প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত            * ত্রিশালে বঙ্গবন্ধু ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিকের উদ্বোধন           * প্রেমের ফাঁদে ফেলে হিন্দু পরিচয় গোপন করে মুসলিম পরিচয় দিয়ে বিয়ে            *  ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান           * ময়মনসিংহে ৬৪ ভিক্ষুককে ভ্যান গাড়ি, সেলাই মেশিন দিয়ে পুনর্বাসন          
* আমাদের কাজই হচ্ছে জনগণকে সেবা দেয়া : প্রধানমন্ত্রী            * অনুরাগীদের ওপর আমার কোনও রাগ নেই           * জাকির নায়েক ভারতের জন্য ‘ক্ষতিকর’: মাহাথির          

ওসি-চেয়ারম্যানের যোগসাজশ, রংপুরে ভিক্ষুকের জমি দখলের পায়তারা

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯

ওসি-চেয়ারম্যানের যোগসাজশ,
রংপুরে ভিক্ষুকের জমি দখলের পায়তারা

রংপুর সদর উপজেলায় এক ভিক্ষুকের জমি বেদখলের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। বেদখলদারের ভূমিকায় রয়েছেন রংপুর সদর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও স্থানীয় হরিদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

অভিযোগ, রংপুরের মমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা নি:সন্তান আশিতোপর বৃদ্ধা নুরজাহান। আর্থিক দৈন্যতার কারনে বর্তমানে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ভিক্ষাবৃত্তি পেশা হলেও তার রয়েছে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া অগাধ জমা-জমি।

এই অঘাত জমি-ই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নুরজাহানের। ভিক্ষুকের আবার জমি থাকবে কেন? যেকোন মূল্যে হাতিয়ে নিতে হবে এই জমি। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শ্যেন দৃষ্টি থানার ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম এবং ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের।

তারা উঠে পড়ে লেগেছেন যেনতেন প্রকারেই হোক বৃদ্ধা ভিখারীনির জমি হাতিয়ে নিতে হবে। তাদের এই অবৈধ কার্যক্রমকে বাস্তবায়িত করতে দোষর হিসাবে রেখেছেন আরো কিছু জনপ্রতিনিধি ও খল নায়ক। যারা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে সাদাকে কালো ও কালোকে সাদা হিসাবে উপস্থাপন করে থাকেন।
অভিযোগে প্রকাশ, ভিক্ষুক বৃদ্ধা ও তার উত্তরাধীকারদের ওয়ারিশমূলে ১ একর ৯৬ শতক জমি রয়েছে। এই জমি আত্মসাতের পায়তারায় মড়িয়া হয়ে উঠেছেন,

রংপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.বি.এম সাজেদুল ইসলাম ও ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, এই জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে কমপক্ষে ৩টি মামলা পরিচালিত হচ্ছে। তারপরও এই জমি নিয়ে ওসির হস্তক্ষেপ করছেন।

ওসি নিজে ভুয়া মালিক তৈরির মাধ্যমে  ইউপি চেয়ারম্যানকে ক্রেতা হিসাবে উপস্থাপন করে বায়না সূত্রে ক্রয় বিক্রিয়ের চক্রান্ত করে আত্মসাতের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। অপরদিকে ওসি তার এই নীতি বিবর্জিত কাজ এবং অবৈধ কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে বৃদ্ধাসহ দেওয়ানী আদালতের মামলার সাক্ষীদের আসামি করে থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ভিক্ষুক নারী ও তার ওয়ারিশগণ এতদ্সংক্রান্ত অভিযোগ এনে গত ২৩ জুলাই ২০১৯ইং রংপুরের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে রংপুর পুলিশের সি সার্কেলের এএসপি আরমান আলী পিপিএম তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 দেওয়ানি মামলা সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সদরের দক্ষিন মমিনপুর এলাকার মৃত মজিদউল্যার একমাত্র সন্তান মৃত উমির উদ্দিন। তিনি জেএল নং ২০, খতিয়ান নং ৩৯০, তৌজি নং ১৬৩, রেভিনিউ সার্ভে নং ৪১, দাগ নং ৪৩৬৩ সিএস খতিয়ান মুলে মালিক হন।

উমির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ঔরষজাত ৩ কন্যা সন্তান ১৯৫৬ ও ১৯৫৮ইং সালে ৩জনের কাছে জমিগুলো বিক্রি করে দেন। সে সময় ওই এলাকার জমি বেচাকেনার সরকারি করতেন কপিল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তার পিতার নাম উমির উদ্দিন এবং দাদার নাম আইন উদ্দিন। আর জমির মুল মালিকের নাম উমির উদ্দিন, পিতার নাম মজিতুল্যা। পৈত্রিক সুত্রে ওই জমির মালিক আম্মাজান, ছাম্মাজান ও খইটুকি। তাদের দাদা’র নাম মজিতুল্যা। তারা পরে জমিটি দুটি দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১১ নং গোপালপুর ইউনিয়নের মৃত উমির উদ্দিনের ছেলে মৃত কপিল উদ্দিন ওই সময় এলাকার জমি কেনাবেচাসহ জমির সরকারি করতেন। সেই সুবাদে মুল মালিকের সকল দলিলসহ অন্যান্য কাগজপত্রাদি তার কাছে গচ্ছিত ছিল। সেসময় ৬২ সালে ভুমি মালিকানার রেকর্ড শুরু হয়। মূল অংশিদারদের জমি বিক্রি ও পিতার নাম এক হওয়ার সুবাদে সু-কৌশলে ৬২ সালের রেকর্ডে মৃত কপিল উদ্দিন তার নাম অন্তর্ভূক্তি করে নেন। তার দাদার নাম আইনুদ্দিন। পিতার নাম এক হলেও দাদার নাম আলাদা ও ঠিকানা এক নয়।

এদিকে, কপিল উদ্দিন মৃত্যুর আগে পুরো জমি তার এক মেয়ে কদিরন নেছার নামে হেবানামা মূলে লিখে দেন। বর্তমানে কদিরন নেছা পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া বলে জমিটি দাবি করছেন। কিন্তু সরকার কপিল উদ্দিনের আরও অন্যান্য ওয়ারিশ রয়েছে।

পৈত্রিক সুত্রে হলে তারাও ওই জমির অংশিদার। এককভাবে কদিরন নেছা জমি বিক্রি করতে পারেন না। এ ঘটনায় কপিল উদ্দিনের অংশিদাররাও একটি মামলা করেছেন।

সম্প্রতি কদিরন নেছা পুরো জমিটি রংপুর নগরীর গনেশপুর এলাকার রনি নামে এক ব্যক্তির কাছে বায়না সুত্রে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জমিগুলোর ভায়া দলিল কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রাদি না থাকার কারণে বায়নার টাকা ফিরোত নেন তিনি।

মামলার কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে দেখাা গেছে, ওই ২ একর ৪৮ শতক জমির মূল মালিক আম্মাজান, ছাম্মাজান ও খইটুকি বেগম উত্তর শিবপুর দিঘীরপাড়া এলাকার গেদরা মামুদের ছেলে আব্দুল লতিফ ও একই এলাকার নজব উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলামের কাছে ২ দলিলমূলে বিক্রি করে দেন।

 পরে ক্রেতারা ৯২ইং সালের মাঠ রেকর্ড (প্রিন্টপর্চা) ও খারিজ, খাজনার কাগজপত্রাদি যাচাইকালে দেখতে পায় সকল কাগজপত্রাদি কদিরন নেছার নামে। ক্রেতারা এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুল মালিকের অংশিদার নুর জাহান বাদি হয়ে রেকর্ড কালেকশনের জন্য মামলা করেন। যার নং ২৬৬১/১৬।

অপর আরও একটি মামলা করেন আব্দুল মজিদ। যার নং ১০৮৮/১৭। এছাড়াও এবিএম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক সিভিল আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা হয়। যার নং ২৪৮/১৭। ৩টি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, রংপুর মেট্রোপলিন হওয়ার পর রংপুর সদর এলাকার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় সদর কোতয়ালী থানা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এ.বি.এম সাজেদুল ইসলাম। তিনি যোগদানের পর বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খবর নিয়ে জমিটি আত্মাসাতের জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে দেন। এক পর্যায়ে ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন,

১ নং মমিনপুর ইউয়িনেরর চেয়ারম্যান কল্পনা আক্তার, তার স্বামী ফজলার রহমান, চন্দনপাটের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামসহ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মামলাগুলোর বিবাদী মৃত কপিল উদ্দিনের মেয়ে কদিরন নেছার কাছ থেকে গত ৮ এপ্রিল ২০১৯ইং তারিখে প্রথম অবস্থায়

জমিটি শুদ্ধ করার জন্য ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের নামে বায়না রেজিষ্ট্রি করে নেন। যার বায়না দলিল নং ৬০২১/১৯। এখানে কৌশল ছিল সকল ঝামেলা মিটিয়ে কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবার ইকবাল চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ওসি এ.বি.এম সাজেদুল ইসলাম তার নামে দলিলমুলে লিখে নিবেন। অপরদিকে,

এসব কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন রংপুর জেলা পরিষদ থেকে বরখাস্ত হওয়া উপ-সহকারী ফজলার রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে জমিটি নিয়ে খুব ঝামেলা হচ্ছে। সাংবাদিকরাও খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এ কারণে পুরো জমিটি আমার নামে বায়না করে নিবো। আর ওসিকে আমার নামের ওই পরিমাণ জমি রেজিষ্ট্রি করে দিবো। এদিকে, ৬২ সালের এস.এ খতিয়ানে জমির মালিক হিসেবে ৩ জনের নাম রয়েছে। তারা হলেন, কপিল উদ্দিন, আব্দুল লতিফ, নুরুল ইসলাম।

তবে আব্দুল লতিফ ও নুরুল ইসলামের নামের পাশে ইংরেজিতে আরও কাটা লিখা রয়েছে। এই আরও কাটা লিখা কথাটিকে নিয়ে ওসি ও ফজলার রহমান বিভিন্ন কথা বলে বেড়াচ্ছেন।

তারা বলছেন তাদের কলিজা কেটে দিয়েছেন ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা ডিসি। তারা ২জন ৬২ সালের রেকর্ড মুলে মালিক নন। তবে আরও কাটা লিখাটির বিষয়ে ভুমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ওই সময়ের কম্পিউটার অপারেটররা একটি সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করেছেন মাত্র। তারা আরও বলেন, ৬২ সালের রেকর্ড মুলে ৩ জনেই জমিটির মালিক।

অভিযোগ সুত্র আরও জানা যায়, বায়না হওয়ার পরের দিন জমির সীমানার একটি গাছে ‘বায়না সুত্রে এই জিমির মালিক মোঃ ইকবাল হোসেন’ লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।

তার পরের দিন ওই জমি থেকে ওসি এ.বি.এম সাজেদুল ইসলাম নির্দেশে ওই এলাকার মাদকসহ অসংখ্য মামলার আসামী, তাজুল চোর, ফারুক চোর, সাইদুল ইসলাম (নাটা চোর), ভ্যালকু চোর, এন্দা চোর, ছবির চোর, বোনো চোর, আশরাফ কোম্পানী, বকুল আমিন, রসুল, কুদ্দুসসহ আরও অনেকের সিন্ডিকেট তৈরি করে নিয়মিত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন এবং জমিটি ওসির দখলে রেখেছেন এবং সেখানে টিনের তৈরি চালা ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। ওই সিন্ডিকেটটি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়ার কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা।

এদিকে, সদর কোতয়ালী থানার ওসি এ.বি.এম সাজেদুল ইসলাম জমির অন্য অংশিদারদের ভয়ভীতিসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। এরপাশাপাশি অংশিদার ও অংশিদারদের সহযোগিদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে না-দাবি লিখে দেয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন ওসি। (ওসির অনেক কথা মোবাইল রেকডিং এ সংগৃহিত রয়েছে।)

ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনকারী মাটিয়াপাড়্া এলাকার রসুল ও লাহিড়ীরহাটের কুদ্দুস জানান, সদর কোতয়ালী থানার ওসি এ.বি.এম সাজেদুল ইসলামের নির্দেশে ও ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের তদারকী মোতাবেক বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছি এবং সবসময় পাহাড়া দিচ্ছি। (মোবাইল রেকডিং সংগৃহিত রয়েছে)
বালু উত্তোলন বন্ধে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসরাত সুমি’র সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, গত তিন দিন থেকে সদর ওসিকে এ ঘটনার বিষয়ে ফোন দিয়েছি, তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। পরে ওসি তদন্তকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ওই জমিটি ওসি স্যারের। ইউএনও আরও বলেন, জমিটি থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজন রয়েছে। যেহেতু ওসি নিজেই জমিটি নিচ্ছেন, তার এলাকা, সে কারনে ওই থানা থেকে পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। আপনারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে রংপুর সদর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.বি.এম সাজেদুল ইসলামের সাথে এই প্রতিবেদকের সরাসরি কথা হয়। তিনি বলেন, জমিটিতে এতিমখানাসহ অন্যান্য সমাজসেবামূলক কাজ করার জন্য চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের নামে বায়না নামা দলিল করা হয়।

পরবর্তীতে সকল ঝামেলা মিটে গেলে আমার নামে রেজিস্ট্রি করে নিবো। অংশিদারদের হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, আপনারও চেষ্টা করে দেখেনতো আপোষ করা যায় কিনা, তারাতো গরীব মানুষ। সকল বিষয়ে কথাবার্তায় এক পর্যায়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেখছি জমিটিতে অনেক ঝামেলা আছে এ কারণে আমি আর নিবো না।

২নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বায়নার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, মামলার রায়ের পর যে পক্ষ জিতবে তার কাছ থেকে জমিটি পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি করে নিবো। তিনি বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানেননা বলে জানিয়ে আরও বলেন, কে বালু উত্তোলন করছে তা আমি খতিয়ে দেখবো। তবে মামলা চলমান থাকার পরও কিভাবে বায়না দলিল হয় এ বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম আমাদের কন্ঠকে জানান, আমি এই জমিতে একটি এতিমখানা বানাবো, চিন্তা করছি।

সকল অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে শয়তান লেগেছে  এসব মিথ্যা। আমাদের কণ্ঠের কাছে এই ওসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এসেছে। তন্মধ্যে তার বিরুদ্ধে রংপর শহরে, শ্বশুর বাড়ি এবং নিজ গ্রামে কোটি টাকার জমি-জমা, বাড়ি ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন রংপুরে কর্মরত থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, সব সত্য নয়। রংপুর শহরে ৫ শতাংশ জমি কিনেছি। এই জমি কিনতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বলেন, না কোন অনুমতি নেইনি। চাকুরির অবসরে এখানে এতিমখানা বানানোর চিন্তা ভাবনা আছে।

রংপুর সি- সার্কেল এএসপি আকরাম আলী পিপিএম জানান, ভিক্ষুকের জমি সংক্রান্ত ও অন্যান্য বিষয়ে আমি সঠিকভাবে পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেব। আমি ওসির সকল ফোন রের্কড শুনেছি। একজন ওসি হয়ে তিনি এসব করতে পারেন না, এতে করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে তদন্তে দালিলিক প্রমানাদি না পাওয়া নির্দোশ বলে প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। অভিযোগটি না পড়েই

প্রতিবেদন দিয়েছেন, এমন প্রশ্নের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বর্তমানে ওসির কথোপকথোনের ৭টি মোবাইল রেকর্ডিং পেয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হয়েছে, ওসি জড়িত রয়েছে। আরও ভালোভাবে তদন্ত করে চলতি সপ্তাহেই প্রতিবেদন জমা দিবো।

এ বিষয়ে রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার (বিপিএম বার পিপিএম) আমাদের কন্ঠকে জানান, অভিযোগটি পূর্বের পুলিশ সুপার বরাবর ছিল। আমি যোগদানের পর সি-সার্কেলকে তদন্তের জন্য দিয়েছিলাম। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে, ওসি নির্দোশ। প্রতিবেদনটি সন্তোষজনক না হওয়া পুনরায় তদন্তের জন্য বলেছি। আশা করি, তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পুলিশ হেড কোয়াটার্সের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, ভিক্ষুকের জমি বেদখল করা বিষয়টি দু:খজনক। এবিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচার্য্য জানান, ঘটনা শুনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।







আরও পড়ুন



১. প্রধান উপদেষ্টা ঃ এড. সাদির হোসেন (হাইকোর্ট আইনজীবি)
২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close