* নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে গাছে রাত কাটায় কাশ্মীরিরা           * যারা যত বুদ্ধিমান, তারা তত একা থাকতে চান           * যে গ্রামের মানুষ, পশু সবাই অন্ধ!           * অপকর্মের শাস্তি আ. লীগে, বিএনপিতে নেই : কাদের           * চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর রূপালি গিটার উদ্বোধন           * ২২১ বার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পোষা কুকুরকে বিয়ে!           * মহান আল্লাহ তাআলা যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করতে বলেছেন           * স্কুলের রাঁধুনি থেকে একরাতে কোটিপতি           * খালেদের ক্যাসিনো থেকে আটক ১৪২ জনকেই কারাদণ্ড            * অবশেষে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাবুলের লাশ ১৪দিন পর হস্তান্তর           * ‘অফিসার্স রাজ্জাক’বিদেশি মদের চালানসহ ফের আটক           * শার্শায় পানিতে ডুবে ২ বছরের শিশু নিহত           * আমরা অনেক সুন্দর প্রায়শই দেখে থাকি ধন-সম্পদ জীবনে সুখে ভরে উঠে না!!!           * পিরিতি রীতি-নীতির প্রায় দীর্ঘ এক মাস পর স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, গ্রেপ্তার প্রেমিক           * ৬ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ছিনতাইকারী ডলার চক্রের প্রতারক ওসি পরিচয়দানকারী গ্রেফতার           * বেনাপোলে চোরাচালান প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত            * ত্রিশালে বঙ্গবন্ধু ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিকের উদ্বোধন           * প্রেমের ফাঁদে ফেলে হিন্দু পরিচয় গোপন করে মুসলিম পরিচয় দিয়ে বিয়ে            *  ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান           * ময়মনসিংহে ৬৪ ভিক্ষুককে ভ্যান গাড়ি, সেলাই মেশিন দিয়ে পুনর্বাসন          
* আমাদের কাজই হচ্ছে জনগণকে সেবা দেয়া : প্রধানমন্ত্রী            * অনুরাগীদের ওপর আমার কোনও রাগ নেই           * জাকির নায়েক ভারতের জন্য ‘ক্ষতিকর’: মাহাথির          

ব্রহ্মপূত্র খননের মাটি ফেলা নিয়ে বিপত্তি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিপাকে

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯
ব্রহ্মপূত্র খননের মাটি ফেলা নিয়ে বিপত্তি  ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিপাকে

আন্তর্জাতিক নৌ প্রটোকল রুট হিসেবে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নিশ্চিত করর লক্ষ্যে এককালের খর¯্রােতা এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘতম নদ পুরনো ব্রহ্মপুত্র খনন কাজের শুরুতেই মাটি ফেলা নিয়ে নানা বিপত্তি দেখা দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৯০ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যবহৃত ২৪ ড্রেজারের মাঝে মাত্র ৮টি চালু হয়েছে। মাটি ফেলার জন্য জায়গা এখনো নির্ধারিত না হওয়ায় অবশিষ্ট ১৬টি ড্রেজার অলস বসে আছে। এতে প্রতিটি ড্রেজারে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে খরচ ঘুনছেন বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানান। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ।

বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রকৌশলীরা গত দুই মাস ধরে গফরগাঁও, ত্রিশাল ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেও মাটি ফেলার প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো এখনো বুঝে পায়নি। ত্রিশালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হওয়ায় মাটি নিয়ে নানা জটিলতা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, খননকৃত মাটি ফেলার জায়গা দ্রুত ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। এরজন্য ৪ সেপ্টেম্বর একটি সমন্বয় সভা আহবান করা হয়েছে। তিনি এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে গাজীপুরের কাপাশিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদের ময়মনসিংহ অংশের ৯০ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে। ৩২০ ফুট প্রশস্ত এবং  শুকনো মৌসুমে ১০ফুট  গভীরতা নিশ্চিত করে নদটি খনন করা হবে। ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার খননে মোট ৮.৮ কোটি ঘন মিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। এতে প্রচুর জায়গার প্রয়োজন রয়েছে।  তবে খননকৃত মাটি ফেলা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।

তিনি আরো বলেন, মাটি অবশ্যই নদীর উপরিভাগে ফেলব। উপরে ফেলতে না পারলে নদী কাটা যাবে না। এজন্য সকলকে সহায়তা করতে হবে।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম আরো জানান, ইতিমধ্যেই জামালপুর অংশের ব্রহ্মপূত্র নদের খনন কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী মাসে  দাখিলকৃত দরপত্রগুলোর মূল্যায়ন করা হবে।
 ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের (ওটিবিএল) জেনারেল ম্যানেজার (ডেজিং) আব্দুর রাজ্জাক মামুন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা জানান মাটিগুলো সরকারি খাস জমির উপর ফেলতে হবে। তবে ড্রেজারগুলো চালু করার মতো সিচুয়েশন এখনও সৃষ্টি হয়নি।  মাটি ফেলার জন্য জায়গা না পাওয়ায় প্রায় দুই মাস ধরে তাদের ডেজারগুলো অলস বসে আছে।  এতে প্রতিদিন গড়ে প্রতিটি ড্রেজারে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা করে লোকসান ঘুনতে হচ্ছে।

এদিকে খননকৃত মাটি ফেলার স্থান ঠিক না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। আর খনন কাজ যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহবান পরিবেশ সংগঠকদের।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের ময়মনসিংহের সভাপতি ড. মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি এই নদীর মাটি কোনো একটা স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করে দেয়া।
ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম জানান, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক লাইফলাইন ব্রহ্মপূত্রের প্রাণ ফেরাতে জেলা নাগরিক আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছে। জননেত্রী প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতেমধ্যেই ব্রহ্মপূত্র খননের ভিত্তি স্থাপন করেছেন। এ অঞ্চলের গণমানুষের প্রত্যাশা ব্রহ্মপূত্র খননকাজ যেন সঠিক ও শতভাগ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। তা না হলে বিক্ষুব্ধ জনতা আবারো রাস্তায় নামবেন।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর নদটির নাব্যতা ফেরাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার ড্রেজিং কাজ করার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বরে ময়মনসিংহ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের ভিত্তি নাম ফলক উন্মোচন করেন।


বিআইডব্লিউটিএ- কর্তৃপক্ষ জানায়, জামালপুর ইপিজেড এর অধিকাংশ মালামাল ব্রহ্মপূত্র নদ দিয়ে পরিবহন করা হবে। এই নৌ-পথ দিয়ে আসাম থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারি হয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ- ময়মনসিংহ-টোক-ভৈরব-চাঁদপুর-বরিশাল-মংলা- আংটিহারা হয়ে ভারতের কলকাতার হলদিয়া  সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ৫ হাজার টন ওজনের পণ্যবাহী কার্গো চলাচল করবে। সেই সাথে পর্যটনবাহী ছোট জাহাজও চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে খুব সহজে এবং কম খরচে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হবে।

বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যাবে; মিঠা পানিতে দেশীয় নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে; নদের আশপাশে সারাবছর সেচ সুবিধা পাবে; নদপাড়ের মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে; পরিবেশ রক্ষাসহ এই নদ থেকে নানা সুফল পাবে জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, কুড়িগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েক ২ কোটি মানুষ। পুরাতন ব্রহ্মপূত্র নদ খননের ফলে শুধুমাত্র এই নদই নাব্যতা বৃদ্ধি পাবেনা বরং শুষ্ক মৌসুমে ঝিনাই, বংশী, বানার, শীতলক্ষ্যা নদীতেও পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নদীগুলোর নৌ-পদ দিয়ে সারাবছর দ্রুত এবং সহজ খরচে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত হবে। নৌ-পথে কার্গো চলাচলের মাধ্যমে পরিবহন অনেকাংশে কমানো যাবে। বন্যাকালীন সময়ে নদী তীরবর্তী ফসলী জমি ও স্থাপনা ভাঙ্গন কবলিত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে। ফলে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এতে নারীসহ সকলের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে নারী ও শিশুদের জন্যও ইতিবাচক  ভূমিকা রাখবে।






আরও পড়ুন



১. প্রধান উপদেষ্টা ঃ এড. সাদির হোসেন (হাইকোর্ট আইনজীবি)
২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close