*  ক্যাসিনোর সঙ্গে প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে বিচার হবে           *  গ্রেফতার হচ্ছেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট!           * মঠবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্তে নেমেছে দুদক           * কোনো হেলমেটই ঢোকে না মাথায়, পুলিশই অবাক           * ময়মনসিংহে হচ্ছে ‘চেতনায় অম্লান’           * গফরগাঁওয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন            * যুবককে তুলে নিয়ে ২ হাতের কব্জি কেটে নিল প্রতিপক্ষ           * আফগানিস্তানে ভুল হামলায় প্রাণ গেল ৩০ কৃষকের           * ক্যাসিনো কাণ্ডে প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা’           * সখীপুরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে তরুণীর অনশন           * সিদ্ধিরগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনকে গলা কেটে হত্যা            * যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’র জরুরি অবতরণ           * ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিজ কক্ষ ছেড়ে দিলেন ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি            * রং-ইউরিয়া দিয়ে চিপস তৈরি, ভ্রাম্যমাণের জরিমানা           * নান্দাইলে পৃথকস্থানে একদিনে দুই কিশোরী ধর্ষণের শিকার            * বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বাড়িতে হামলা            * নেত্রকোনায় ১২৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধা           * আমরা গেইল বা রাসেল নই : মাহমুদউল্লাহ           * মোদিকেও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না পাকিস্তান            * ছাত্রদলের সভাপতি খোকন, সম্পাদক শ্যামল          
* ক্যাসিনো কাণ্ডে প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা’           * আমরা গেইল বা রাসেল নই : মাহমুদউল্লাহ           * মোদিকেও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না পাকিস্তান           

পর্দার দাম ৩৭ লাখ, অক্সিজেন জেনারেটরের দাম ৫ কোটি ২৭ লাখ

খায়রুল আলম রফিক | শনিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯
পর্দার দাম ৩৭ লাখ, অক্সিজেন জেনারেটরের দাম ৫ কোটি ২৭ লাখ
আলোচিত রূপপুর বালিশকাণ্ডকে হার মানিয়ে এবার বিস্ময়কর দুর্নীতির নতুন নজির গড়েছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফেমিক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের জন্য কোরিয়া থেকে কেনা হয়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা দামের পর্দা। এত দাম দিয়ে পর্দা কেনা হলেও ব্যবহার নেই বছরের পর বছর। একইভাবে অভাবনীয় দাম দেখিয়ে কেনা বেশিরভাগ যন্ত্রই ফেলে রাখা হয়েছে।

২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা এবং আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় ২০ আগস্ট হাইকোর্ট দুদককে এ বিষয়ে তদন্ত করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ৫১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার ১৬৬টি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। অনিক ট্রেডার্স ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিল পেলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১০ কোটি টাকা যন্ত্রপাতির দাম বেশি দেখানোসহ বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে আটকে দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ১ জুন বকেয়া আদায়ে হাইকোর্টে একটি রিট করে অনিক ট্রেডার্স।

রিটের পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অনিক ট্রেডার্সের সরবরাহ করা ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির একটি তালিকা চেয়ে পাঠান।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ওই ১০ কোটি টাকার বিপরীতে দামসহ ১০ আইটেমের যন্ত্রপাতির একটি তালিকা দেন।

ওই তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ভিএসএ অনসাইড অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ যন্ত্রটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের পেছনে পশ্চিম পাশের রুমে স্থাপন করা হয়েছে। তিন বছর ধরে ওই কক্ষটি তালাবদ্ধ। তালায় মরিচা ধরে যাওয়ায় হেক্সো ব্লেড দিয়ে তালার কড়া কেটে কক্ষে ঢুকতে হয়েছে।

পাশাপাশি হাসপাতাল সার্টেইন সিস্টেম ফর আইসিইউ/সিসিইউ বেডস। কোরিয়াতে তৈরি এই পর্দার খরচ দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পরিচালক তার পত্রে ‘একটি’ পর্দার কথা উল্লেখ করলেও এই ওয়ার্ডে ১৬টি শয্যা রয়েছে। ১৬টি শয্যার জন্য সাড়ে ১২ হাত দৈর্ঘ্য ও সাড়ে চার হাত প্রস্থ বিশিষ্ট আধুনিক পর্দা রয়েছে।

মূলত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার বলা হচ্ছে ১৬টি বেডসহ পর্দার কথা আলাদাভাবে উল্লেখ না করায়। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি বেড ও পর্দাসহ এক একটি সিস্টেমের খচর এটি। সেক্ষেত্রে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকাকে ১৬ দিয়ে ভাগ দিলে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৫ টাকা করে পড়ার কথা। তবে যন্ত্রপাতি থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় গত তিন বছর ধরে সিসিইউ ইউনিটটিতে কোনো কার্যক্রম নেই।

এ বিষয়ে এই ওয়ার্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র স্টাফ নার্স রাজয়া সুলতানা বলেন, আমি প্রতিদিন ওই কক্ষটি খুলি, দেখাশোনা করি আবার বন্ধ করে বাসায় চলে যাই।

এদিকে, পরিচালকের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি ডিজিটাল প্রসেসর সিস্টেম যা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উল্লেখ করে দাম দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে ডিজিটাল প্রসেসর সিস্টেম যে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়েছে সেটি কোরিয়ার তৈরি। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে না।

একইভাবে ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্টের দাম দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটি পুরনো দন্ত বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে। এই কক্ষটিও খোলা হয় না এবং এই যন্ত্রটিও ব্যবহৃত হয় না।

পাশাপাশি বিআইএস মনিটরিং সিস্টেম কেনা হয়েছে ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। এই মেশিনটি অপারেশন থিয়েটারে স্থাপন করা হয়েছে বলা হলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে স্টোরকিপার আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেছেন, এই মেশিনটি আছে, হয়তো অন্য কোনো নামে কোথাও পড়ে আছে। তবে কোথায় আছে তা আমি জানি না।

এছাড়া চারটি থ্রি হেড কার্ডিয়াক স্টেথিসস্কোপের দাম দেখানো হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এর দুটি সিসি ওয়ার্ড ও দুটি মেইল মেডিসিন ওয়ার্ডের দুই ইউনিটে আছে। এগুলো ব্যবহার হয়।

সেই সঙ্গে দুটি ফাইবার অপটিক ল্যারিনগোসস্কোপ সেটের একটি প্রসূতি ওটিতে এবং একটি জেনারেল ওটিতে রয়েছে। এ দুটির দাম দেখানো হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পাশাপাশি ছয়টি টোমেটিক স্কাব সিস্টেম চালু আছে, যার দাম দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এগুলো চালু আছে রোগী আসলে দেখানো হয় বলে জানান ওই ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স শুক্তি চক্রবর্ত্তী।

একই সঙ্গে ১০টি চাইনিজ সাকশন মেশিন অপারেশন থিয়েটারে আছে। দাম দেখানো হয়েছে তিন লাখ টাকা। বর্তমানে সেটি চালু আছে।

২০টি ড্র সিস্টেম ইকুইপমেন্টের দেখানো হয়েছে চার লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। আইসিইউ ওয়ার্ডে স্থাপিত। বর্তমানে ওয়ার্ড চালু না থাকায় কোনো কাজে লাগছে না। মেডিকেল কলেজ উন্নয়ন ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয়-সংক্রান্ত প্রকল্পের অধীনে এ যন্ত্রপাতি কেনা হয়।

জানা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত মোট পাঁচজন চিকিৎসক প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

তারা হলেন- আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী, এ বি এম শামসুল আলম, মো. ওমর ফারুক খান, গণপতি বিশ্বাস ও আবুল কালাম আজাদ। এর মধ্যে ওমর ফারুখ খান মারা গেছেন।

ফমেকের তৎকালীন প্রজেক্ট পরিচালক ডা. আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, আমি প্রথম প্রকল্প পরিচালক ছিলাম। যে কেনাকাটার কথা বলা হচ্ছে তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। যা প্রকল্পের বিষয়ই ছিল না, তার দায়ভার প্রকল্পের ওপর কেন বর্তাবে তা আমার বোধগম্য নয়।

হাসপাতালটির তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. গণপতি বিশ্বাস বলেন, আমি প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালতে কোনো বিষয়ে মামলা হয়েছে কিংবা আদালত কী নির্দেশনা দিয়েছেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশনা আমি পাইনি। পেলে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলব। দুদক যদি তদন্ত করে তবে সহযোগিতা করব আমি।

তিনি বলেন, ১০ কোটি টাকার যেসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে তার মূল্য কিছুটা অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখব আমি।

এর আগে দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়। একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয় ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়।




আরও পড়ুন



১. প্রধান উপদেষ্টা ঃ এড. সাদির হোসেন (হাইকোর্ট আইনজীবি)
২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close