* ‘এক রাতের জন্য কত টাকা নেন?’           * যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি এক লাখ শরণার্থী শিশু           * ইমরানের সঙ্গে চুম্বনে আপত্তি কৃতি           * দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী           * মেসির পিছু ছাড়ছেন না ব্রাজিল কোচ           *  চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা           * অর্থের বিনিময়ে ভর্তি: অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে           * অন্ধকার জীবনের মাশুল গুনছেন মিয়া খলিফা           * কমিশন নিয়ে ওষধু লেখার কারণে ডাক্তারি পেশা নষ্ট হচ্ছে: হাইকোর্ট           * লবণের গুজব প্রতিরোধে মসজিদে মসজিদে মাইকিং           * গুজব... মিয়া খলিফা গর্ভবতী!           * জীবনে সফলতা পেতে ছয়টি ব্যর্থতার স্বাদ অবশ্যই নিন           * আগামী বছরে সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন কমবে            * কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আবারো আলোচনায় অভিনেত্রী           * ধর্ষণে অতিষ্ঠ হয়ে যুবককে খুন করল পুরো পরিবার            * দোকানের সব লবণ জনতার মাঝে বিলিয়ে দিলেন এসিল্যান্ড            * পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা চুরি            * এবার সেফুদার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ           * দেবীগঞ্জে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার           *  এক কেজির বেশি লবণ কিনলেই আটক করছে পুলিশ           
* দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী           * মেসির পিছু ছাড়ছেন না ব্রাজিল কোচ           * দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার          

মঠবাড়িয়ায় স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী হত্যা মেম্বরকে আসামি করে শত্রুতা দমনের মিশনে ইউপি চেয়ারম্যান

খেলাফত হোসেন খসরু (পিরোজপুর) | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
মঠবাড়িয়ায় স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী হত্যা
মেম্বরকে আসামি করে শত্রুতা দমনের মিশনে ইউপি চেয়ারম্যান

আত্নীয় না হয়েও একটি নারী নির্যাতন মামলার আসামি হয়েছেন এলাকার একজন ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় একদিকে যেমন চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। অপরদিকে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জনমনে। পাশাপাশি থানা পুলিশের অপেশাদার কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানা এলাকায়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়া থানার মামলা নং ৪৭, (ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সং (০৩) ১১(ক)) দায়ের করা মামলার সূত্র মতে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া থানাধীন দাউদখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খাস হাওলা গ্রামের হারুন খানের বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন হারুন খানের স্ত্রী গৃহবধূ রুবি। এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হারুন খান ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে আহত রুবিকে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রুবির অবস্থা গুরুতর হলে তাকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরো অবনতি ঘটায় পরে তাকে সাভারের সি আর পি হসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার কয়েকদিন পরে গত ২১ সেপ্টেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রুবি। মঠবাড়িয়া থানাধীন নলবুনিয়া গ্রামের রফিজ উদ্দিনের কন্যা রুবির বিয়ে হয় একই থানার দাউদখালি এলাকার উজ্জত আলী খানের পুত্র হারুন খানের সাথে। দীর্ঘ ৯ বছর আগে বিয়ে হওয়া রুবি ২ কণ্যা  সন্তানের জননী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন ১ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে রুবিকে শারীরিক নির্যাতন করেন স্বামী হারুন খান। তার সাথে মামলায় আরো আসামি করা হয়েছে, শামীম মিয়াজি (স্থানীয় ইউপি মেম্বর), সবুর খান, হাবিব, বেল্লাল ও আবু গাজীকে। মামলার বাদী হয়েছেন, রুবির বাবা রফিজ উদ্দিন বেপারী। এদিকে এ মামলায় মেম্বর শামীম মিয়াজীকে আসামি করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাদীর সাথে তার কোনো ধরনের আত্মীয়তার বন্ধন নেই। একইভাবে রুবির স্বামীর পরিবারের সাথেও তার কোনো সম্পর্ক নেই। 

শুধু তা-ই নয় মামলার বাদি আসামিকে ভালো করে চিনেন না। এলাকাবাসি বলেছেন, শামীম মিয়াজী (মেম্বর) ৪নং দাউদখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য। স্থানীয় ৪ নং দাউদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান রাহাত এর সাথে ইউপি সদস্য হিসেবে শামীম মিয়াজীর ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে সামাজিক দ্বন্দ্ব চলমান। এরই মধ্যে এলাকায় ঘটে  পারিবারিক হত্যাকান্ড। রুবির এই খুনের ঘটনাকে শত্রু দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন চেয়ারম্যান রাহাত খান। মামলার বাদি ও রুবির বাবা রফিজ উদ্দিন চেয়ারম্যানের প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্কও।

সে কারনে রুবির বাবাকে ম্যানেজ করে শামীম মিয়াজীকে ওই মামলায় আসামি করা হয়। থানা পুলিশকেও ম্যানেজ করেন চেয়ারম্যান নিজেই। গুঞ্জন  রয়েছে, এজন্য নাকি মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করেছেন চেয়ারম্যান। এদিকে শামীম মিয়াজীকে আসামি করায় হতবাগ হয়েছে এলাকাবাসি। তাদের মধ্যে ক্ষোভও বিরাজ করছে। এতে করে খুনের মতো একটি স্পর্শকাতর মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত হবারও আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে পুলিশের অপেশাদার আচরনেও ক্ষুদ্ধ সবাই। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন কিংবা প্রাথমিক তদন্ত না করেই শামীম মিয়াজীকে গ্রেফতার অভিযানে গেলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মঠবাড়িয়া থানার ওসি সৈয়দ আবদুল্লাহ বলেন, পারিবারিক সংক্রান্ত মামলায় ভ’ক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরাই আসামি হবার কথা। কিন্তু বাইরের দু’একজনকে বাড়তি আসামি কেন করা হয়েছে এটি বাদীর বিষয়। তবে আসামি যাকেই করুক না কেন কেউ অযথা হয়রানির শিকার হবেন না। যেহেতু এটি সেনসেটিভ ঘটনা। সুষ্ঠু তদন্তে এসব বাড়তি আসামি অবশ্যই বাদ পড়ে যাবে। মামলা দায়েরের পরদিন ঘটনাস্থল তদন্তে না গিয়ে শামীম মিয়াজীর (মেম্বর) বাড়িতে অভিযান চালায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জ্যোতিরন্ময়। তিনি বলেন, রুবির স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে অচেনা ব্যক্তি শামীম মিয়াজীকে আসামি করার বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।

শামীম মিয়াজিকে মামলায় জড়াতে থানা কর্তৃপক্ষকে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়া হয়েছে এমনটা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, এটি আমার পরিধির বাইরে। জানতে চাইলে মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, পরিবারিক মামলায় যারা ভূক্তভোগীর কাছের কিংবা পাশাপাশি থাকেন তারাই আসামি হবার কথা।

এ ধরনের মামলায় একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে তবেই মামলা রুজুর নিয়ম। অহেতুক কাউকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা যাবেনা মর্মে থানার কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে। পুলিশের এ চৌকষ কর্মকর্তা আরো বলেন, একটি প্রশিক্ষনে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করায় রুবির ঘটনা ও মামলা সম্পর্কে আমার জানা নেই।





আরও পড়ুন



২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close