* শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পছন্দ না করলে বাড়ি চলে যাব: চবি উপাচার্য            * অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫           * ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নিহত ১২           * চলছে অভিযোগের তদন্ত সদর দপ্তরে দায়িত্বহীন এসপি হারুন            * দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার           * আর্জেন্টিনায় এভাবেও মাদক পাচার হয়!            * মেয়ের বাবা হলেন তামিম           * আবারও নাম্বার টেনের জাদু, নিশ্চিত হার এড়াল আর্জেন্টিনা           * আমি ভাল আছি, কেউ চিন্তা করো না: নুসরাত           * পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ           * পেয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা            *  একাধিক শারীরিক সম্পর্কে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে            * গাঁজার বস্তার ওপর ঘুমিয়ে গেলো পাচারকারী           * বস্তিতে বড় হয়েও এখন হাতে ২২ লাখ টাকার ঘড়ি!           * সর্দি-কাশির সঙ্গে লড়াই করে রসুন চা           * পার্টটাইম ইয়াবা ব্যবসায়ী!           * পেঁয়াজের ঝাঁঝ না কাটতেই ‘লবণের কেজি ১০০ টাকা’ গুজব!            * সন্তান জন্মদানের এক মিনিট আগেও জানতেন না তিনি গর্ভবতী!            * 'উন্নয়নের পুণ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেহেস্ত যাওয়ার হক আছে'           * সৃজিত-মিথিলার বিয়ে          
* দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার           * মেয়ের বাবা হলেন তামিম           * পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ          

গোয়েন্দা নজরদারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমপিও পেতে ঘুষ দিতে হয় ৫ স্তরে

বিশেষ প্রতিনিধি | শনিবার, অক্টোবর ১২, ২০১৯
গোয়েন্দা নজরদারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমপিও পেতে ঘুষ দিতে হয় ৫ স্তরে


কয়েক বছর আগেও একজন শিক্ষককে এমপি পেতে ঘুষ দিতে হতো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এখন সেই ঘুষের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে দুই থেকে তিনগুণ। এছাড়াও নাম, বয়সসহ নানা বিষয় সংশোধন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে থেকে ফাইল পাঠাতে ঘুষ দিতে হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসারকে দিতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। এসব ক্ষেত্রে মোট ঘুষ দিতে হয় ১৩ থেকে ২০ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এমপিও দেয়ার আগ মুহুর্তে প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। ফলে দুই মাসে শুধু শিক্ষক এমপিও এবং উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য হচ্ছে ।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের একটি বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক জানান, যারা টাকা দেয় না, উপ-পরিচালক প্রথমে তাদের এমপিওতে নেগেটিভ কমেন্ট করে রাখেন। তারপর বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি শিক্ষকদের ফোন দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এমপিও পজিটিভ করে দিচ্ছেন। আমার স্কুলেরই সহকারী প্রধান শিক্ষকদের এমপিও তিনি বিনা কারণে রিজেক্ট করেছেন।

সারাদেশে শিক্ষকদের এমপিওসহ পদে পদে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িতরা এবার একটি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাটির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, নীলফামারী, কুড়িগ্রামসহ সারাদেশের প্রায় ২০০ মাদ্রাসা ও কলেজের অধ্যক্ষ এমপিও, সহকারী শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রহরী নিয়োগ বাণিজ্য করে জিরো থেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এরা নানা কৌশলে টাকা আদায়, বিভিন্ন অঙ্কের রেটে ঘুষ বাণিজ্য করায়  শিক্ষার মান কমানোর পাশাপাশি এমপিওভুক্তি করেছে অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠান। অনেক ক্ষেত্রে এরা ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ উপায়ে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার নামে সরলমনা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে শিক্ষা ভবন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দুনর্িিতবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে।

এমপিওর ঘুষ, দুর্নীতিও বিকেন্দ্রীকরণ করে এরা। বিশেষ করে এমপিওর কাজ হাতে পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে এরা । শিক্ষককে এমপিও পেতে হলে এদের নেটওয়ার্ক ছাড়া কল্পনাও করতে পারেন না ভুক্তভোগীরা। উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে আঞ্চলিক এবং ঢাকা শিক্ষা অফিস চলে এদেরই অঘোষিত আদেশ নির্দেশে । সবই হয় ঘুষ দুর্নীতির কারণে । এদেরকে ছাড়া সংশ্লিষ্ট অফিসগুলিতে তথ্য যাছাইয়ের কোন সুযোগ না থাকায় সঙ্কট এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে বলে বলছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এমন অভিযোগ অফিসের বড় কর্মকর্তা এমনকি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ালেও সুফল আসছে না। সকল স্তরেই রয়েছে চক্রটির নেটওয়ার্ক। অনেক সময় নিরীহ শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলেও তাদের ক্ষেত্রে কাগজপত্রে সামান্যতম কোন ঘাটতি থাকলে ঘুষের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়ার দাবি ওঠে ।

আমাদের কন্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, একজন শিক্ষককে এমপিও পেতে কমপক্ষে ৫ স্তরে ঘুষ দিতে হচ্ছে। প্রথমে স্কুল মাদ্রাসা থেকে ফাইলপত্র তৈরিতে নিম্নমান সহকারীকে (কেরানি) প্রথম ঘুষ দিতে হয়। এরপর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসারকে ঘুষ দিতে হয়। টাকা দিলেই অনলাইন ফাইলে সঠিক মন্তব্য করা হয়, নয়ত নানা কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়।

 নতুন এমপিওর ক্ষেত্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে পদ সৃষ্টি করতে ঘুষ দিতে হয় কয়েক হাজার টাকা, এরপর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে অনলাইনে ভালো মন্তব্য পেতে ঘুষ দিতে হয় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্যাকেজ হিসেবে দিলে প্রতিটি এমপিওর জন্য শিক্ষকদের দিতে হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর আলাদাভাবে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপ-পরিচালকে দিলে এই টাকার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে প্রতি শিক্ষকের এমপিওতে সর্বমোট ঘুষ দিতে হয় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তবে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা প্যাকেজের বাইরে আলাদাভাবে কোন এমপিও করাতে গেলে ঘুষের ভাগও আবার উপ-পরিচালকে দিতে হয়। ঘুষ দেয়ার পরও ঘুরতে হয় । আর দালালদের মাধ্যমে করা হলে ঘুষের অংক বাড়ে ।

২০০০ সালে আগে এবং পরে মাদ্রাসা শিক্ষদের ভুয়া সনদ দিয়ে বিতরণ করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় চাকুরি দেয়া হয় । হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা । এসব জটিলতা এখনও রয়েছে । সংশোধনের নামে চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।
ভুয়া সার্টিফিকেটও তিনি টাকার বিনিময়ে সঠিক করে দিচ্ছেন। এমপিওগুলো যাচাই করলে আরও বেশি প্রমাণ পাওয়া যাবে। ভুয়া কাগজ দেখিয়ে এই অতিরিক্ত শিক্ষককে এমপিও দেয়া হয়েছে চক্রের মাধ্যমে । অতিরিক্ত শ্রেণী শাখা খোলার অনুমোদন, কর্মচারি নিয়োগেও হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা ।

গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, শিক্ষক এমপিওতে দুর্নীতির বিষয়ে প্রচুর অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে । অনেকের সার্টিফিকেটে সমস্যা আছে, অন্য সমস্যা আছে সেগুলোই টাকা দিয়ে রফাদফা হয়।
‘ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না, নথি নড়ে না’- শিক্ষা ভবন বিষয়ে এসব কথা নতুন কিছু নয়। কেবল সময় বদলায়, ব্যক্তি বদলায়, বদলায় ভুক্তভোগীর চেহারা।

 এই কারণে শিক্ষা প্রশাসনের সর্বোচ্চ এই দপ্তরে বদলি হতে চায় অনেকেই। এর জন্যও অবৈধ লেনদেন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
 স্কুল মাদ্রায় ছাত্র ভর্তি, শিক্ষক নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, শিক্ষকের এমপিওভুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, জাতীয়করণে ঘুষ চলছে অবাধে। এমপিও দেওয়ার আগ মুহূর্তে প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে দালালদের মাধ্যমে ঘুষ না দেয়া হলে কাজ হয় না ।

একাজে জড়িত  মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ সারাদেশে সিন্ডিকেট সদস্যরা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক। ইতিপূর্বে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অনৈতিক সুবিধা আদায় করে বেপরোয়াভাবে। শিক্ষক নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, উপবৃত্তি, বই বিতরণ ও বিভিন্ন শিক্ষকের অনিয়ম তদন্ত সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা অনিয়ম করেছে।বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি) অনুমোদন করেছে ঘুষ বাণিজ্যেও মাধ্যমে । যে কারণে গভর্নিং বডি অনৈতিক কর্মকা-ের কারণে বিপাকে পড়ছে শিক্ষক ও কর্মচারিরা। আবার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোদ দলীয় নেতাকর্মীরা গভর্নিং বডিতে যুক্ত হওয়ায় শিক্ষা উন্নয়ন পিছিয়ে পড়ছে।

মাদ্রাসা , স্কুল-কলেজে শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগের ক্ষমতা ঘুষের অর্থে গঠিত পরিচালনা কমিটির (গভর্নিং বডি) ওপর ন্যস্ত।
 পদ শূন্যতা সাপেক্ষে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করে এই কমিটি। নিয়োগের পর বিধি মোতাবেক এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে গভর্নিং বডি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে মূল সনদ জমা দিয়ে আবেদন করেছেন, নিয়োগও পেয়েছেন শিক্ষক হিসাবে।

 এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতাও ভোগ করেছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেল যে সনদ দিয়ে চাকরি জুটলো সেটি জাল। কমিটির সদস্যকে ঘুষ দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন চাকরি। এভাবে কয়েকশত জাল সার্টিফিকেট ধরা পড়েছে।  অথচ যে কোন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখা দিলে ম্যানেজিং কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের ।

 যদিও ঘুষের কারণে ভাঙা হয় না  ঐ ম্যানেজিং কমিটি । দুর্নীতিবাজদের চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ বা উপহারসামগ্রী না দিলে এমপিও পেতে দীর্ঘ জট, নথি খোয়া যাওয়া, অনলাইন নথিকে বিরূপ মন্তব্য ও দুর্ব্যবহার করাসহ নানা রকম হয়রানির শিকার হন শিক্ষকরা । গোয়েন্দা সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে ।





আরও পড়ুন



২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close