* অন্ধকার জীবনের মাশুল গুনছেন মিয়া খলিফা           * কমিশন নিয়ে ওষধু লেখার কারণে ডাক্তারি পেশা নষ্ট হচ্ছে: হাইকোর্ট           * লবণের গুজব প্রতিরোধে মসজিদে মসজিদে মাইকিং           * গুজব... মিয়া খলিফা গর্ভবতী!           * জীবনে সফলতা পেতে ছয়টি ব্যর্থতার স্বাদ অবশ্যই নিন           * আগামী বছরে সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন কমবে            * কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আবারো আলোচনায় অভিনেত্রী           * ধর্ষণে অতিষ্ঠ হয়ে যুবককে খুন করল পুরো পরিবার            * দোকানের সব লবণ জনতার মাঝে বিলিয়ে দিলেন এসিল্যান্ড            * পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা চুরি            * এবার সেফুদার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ           * দেবীগঞ্জে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার           *  এক কেজির বেশি লবণ কিনলেই আটক করছে পুলিশ            * লবণের দাম নিয়ে গুজবে আটক ১৪           * তারাকান্দায় নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার           *  লবণ ইস্যুতে পুলিশকে মাঠে নামার নির্দেশ            * রোহিঙ্গা ক্যম্পে এনজিও সংস্থা 'এফএইচ' এ চাকরি করছে ৭ রোহিঙ্গা-           * নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির দলিল হস্তান্তর ও চেক বিতরণ           * সঞ্চয়ের টাকা আত্বাসাতের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে দু:স্থ মহিলাদের বিক্ষোভ মিছিল           * ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অভিযানে জরিমানা          
* দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার           * মেয়ের বাবা হলেন তামিম           * পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ          

পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু হাজতখানা ছিল ইনচার্জের টর্চার সেল ॥ কোটি টাকার বাণিজ্য

তাজিদুল ইসলাম লাল, রংপুর | শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯
পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু হাজতখানা ছিল ইনচার্জের টর্চার সেল ॥ কোটি টাকার বাণিজ্য


রংপুরের পীরগঞ্জ ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির হাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে ফাঁড়ি ইনচার্জ (আইসি) আমিনুল ইসলামের বিচারের দাবীতে এখনও অনড় এলাকাবাসী। গত ১৬ অক্টোবর একই দাবিতে শত শত ভুক্তভোগী শ্লোগান দিয়ে রাস্তা অবরোধ, ফাঁড়ি ঘেরাও করে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ১২ পুলিশ আহত হয়। পরে পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়লে কমপক্ষে ২৫ জন গুলিবিদ্ধসহ জনতা-পুলিশ মিলে অর্ধশতাধিক আহত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আইসি আমিনুল এবং তার এক সোর্সের অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হাজারো মানুষ যেন ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। পরে আইসি আমিনুল ইসলাম, এসআই তাজউদ্দিন, পিএসআই মাহি আলম, এএসআই হরিকান্ত, কনস্টোবল আরিফুল ও ভুপেনসহ ৬জনকে ক্লোজ করায় স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলেছে এলাকাবাসী। হাজত খানায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ ফাঁড়িটি ঘেরাও করেছিল। ভেন্ডাবাড়ী এলাকায় আইসি’র নির্মম নির্যাতনের ঘটনা বর্তমানে একের পর এক নানান তথ্য বেরিয়ে আসছে।

জানা গেছে, বিগত ১৯৯৯ সালের ৮ এপ্রিল পীরগঞ্জের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ২০০৩ সালে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হয়। ফাঁড়িতে শুধু জিডি, অভিযোগ, মাদক ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং তাৎক্ষণিক সমস্যা মনিটরিং করা হতো। ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ২২তম ইনচার্জ হিসেবে (পুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম যোগদান করে। তার যোগদানের পর থেকেই তিনি ওই এলাকায় ভয়ংকর মুর্তিমান আতংক হয়ে উঠেন।

এলাকাবাসী তাকে ‘ফাঁটাকেষ্ট’ উপাধি দেয়। কারণ তিনি নানান ছলছুতোয় সাধারন মানুষকে আটকে মারপিট, মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া-হুমকি এবং টাকা আদায়ে অত্যন্ত কৌশলী ও পারদর্শী ছিলেন বলে অনুসন্ধানে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। ফাঁড়ির হাজতখানাটি আই.সি আমিনুল ইসলামের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো মর্মে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। অসংখ্য মানুষ এমন নির্মম নির্যাতনের বর্নণাও দিয়েছেন। আটক বানিজ্য নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় পাশর্^বর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ছাগল ব্যবসায়ী শামছুল হক (৫৫) কে পীরগঞ্জের বড়দরগাহ বাসষ্ট্যান্ড থেকে চোলাই মদ সেবনের অভিযোগে আটক করা হয়। রাতেই শামছুলকে ছেড়ে দিতে শামছুলের পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে ওই আইসি। আটকের পরদিন সকালে এক লাখ থেকে কমিয়ে ৫০ হাজারে দফারফা করার কথা বলেন।

টাকা না দেয়ায় শামছুলের নামে ২৫ লিটার চোলাই মদের মামলা দেয়া হয়। সকাল পনে ৯ টায় শামছুলের সাথে দেখা করেন স্বজনরা। কিছু সময় পরপরই ফাঁসিতে শামছুলের মৃত্যুর খবর জানানো হয় স্বজনদের। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ওই আইসি’র নির্যাতনের শিকার এলাকার শত শত মানুষ ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন। ভুক্তভোগীরাও ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন। একপর্যায়ে ফাঁড়িটি ঘেরাও করে জনতা ইট-পাটকেল ছুড়লে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হোসাইন পুলিশ, সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) হাফিজুর রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে ১২পুলিশ, বড়দরগাহ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়।

জনতাকে ছত্তভঙ্গ করতে পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে উপজেলার কলোনী বাজারের ভিক্ষুক আব্দুল কাদের, চকবরখোদার তরিকুল, পাকুড়িয়ার রনি, কাঠমিস্ত্রি আইয়ুব আলীসহ ২৫জন গুলিবিদ্ধ হন।
আইসি’র সোর্স রংপুরের পাগলাপীরের জিয়াউর রহমান জিয়া এলাকাবাসীর কাছে ছিলেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। সেই সেকেন্ড আইসি হিসেবে পরিচিত ছিল। তাকে গ্রেফতার করলে অনেক অপকর্মের তথ্য পাওয়া যাবে বলে এলাকাবাসী জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইসি আমিনুলের নির্যাতনের শিকার গুর্জিপাড়ার পুলিশেরই এক দারোগার ছেলে নিশাত মিয়া। সে ওই আইসি’র মোটর সাইকেলকে ওভারটেক করায় থানায় নিয়ে গিয়ে বেদম পেটায়। একপর্যায়ে মাদকের মামলার ভয় দেখিয়ে ওই দারোগার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়াও মাদকের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে নির্যাতন করে পার্বতীপুরের রিয়ন মিয়ার (১৭) কাছে ৩০ হাজার টাকা, নগদের এসআর এর চাকরীজীবি রুবেল মিয়ার কাছে ৫০ হাজার, গুর্জিপাড়ার চাকরীজীবি আতিয়ার রহমানসহ ৬ জনকে ধরে নিয়ে গিয়ে ৪৮ হাজার, ভেন্ডাবাড়ীর জুতার মিস্ত্রি (মুচি) রামনালের কাছে ১০ হাজার, কলা ব্যবসায়ী শাহীনুরের কাছে ২০ হাজার, মথুরাপুরের ব্যবসায়ী রায়হানের কাছে ২০ হাজার, ভেন্ডাবাড়ীহাটের ব্যবসায়ী জোনাব আলী ও তার ছেলেকে পেটাতে পেটাতে ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতনের পর টাকা নেয়। অনেককে ছেড়েও দেয়।

এ রকম অহরহ আটক-বানিজ্যের সুষ্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। গুর্জিপাড়ার ফার্নিচার ব্যবসায়ীর শ্রমিক সুজন মিয়ার কাছে সোফা সেট নিয়ে ২০ হাজার টাকা দেয়নি। উল্টো তাকে মাদক মামলার ভয় দেখানো হয়। গুর্জিপাড়ার প্রতিষ্ঠিত গালামাল ব্যবসায়ী আলহাজ¦ খালেক মিয়ার কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। তা না দেয়ায় তাকে মাদক মামলায় চালান করলে ৪ দিন তিনি হাজতবাস করেন। এ রকম অসংখ্য মানুষের আহাজারিতে ভরপুর ভেন্ডাবাড়ী।

ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, হাজতখানাটি যেন আমিনুলের টর্চার সেল হয়ে উঠেছিল। টাকা না পেলে নির্মম নির্যাতন করতো। সে এক বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এলাকাবাসী। এখন স্বস্তিতে আছি। নতুন আইসি সুশান্ত বলেন, ভেন্ডাবাড়ীর মানুষ শান্তি প্রিয়। বর্তমানে এলাকা শান্ত এবং পুলিশ টহল রয়েছে। এদিকে হাজতখানায় মৃত শামছুলের মৃত্যুতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা পরিবারটি। তার স্ত্রী মমেনা বেগম, কন্যা সান্তনা, জামাতা নুরুজ্জাামান ও বোন ফাতেমা বেগম বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানান।

মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তালুকদার পরিবারের সদস্যর দাবীতে সহমত প্রকাশ করেন। ভেন্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে জানান, উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় এক প্রভাবশালী আ’লীগের নেতার যোগসাজশে আই.সি আমিনুল ছিলেন বেপরয়া। আই.সি আমিনুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লজ্জার ওই আসামী হাজতখানায় নিজের পড়নের কাপড় গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

কাবিলপুর ও শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি ও মিজানুর রহমান মন্টু জানান, শুধু ভেন্ডাবাড়ি কেন? পীরগঞ্জ পুলিশের নিয়মিত কাজই হচ্ছে সারারাত ধরে অভিযান করে হাজতে লোক ভরা, ভোর হওয়ার আগেই দেন দরবার করে ছেড়ে দেয়া, অথবা ৩৪ ধারা দিয়ে কোর্টে চালান করা। চেয়ারম্যানদ্বয় আরও জানান, অবশ্য সদ্য যোগদান কারী পুলিশ সুপারের যোগদানের পর ধরা-ছাড়া মামলার হুমকিতে বাণিজ্য কমে গেছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় প্রত্যেক ইউনিয়নেই মামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম (বার) পিপিএম বলেন, পুলিশ জনবান্ধব, প্রতিপক্ষ নয়। ভেন্ডাবাড়ী ফাঁড়ির ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে আই.সিসহ যে কোন পুলিশের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। অপর প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, বিন্দুমাত্র জন হয়রানির খবর আমি ফোনে বা অন্য কোন মাধ্যমে জানতে পারলে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





আরও পড়ুন



২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close