* পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগুন, কম্পিউটার-এসিসহ আসবাবপত্র পুড়ে ছাই           * যে গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে সোনা-গয়না-অর্থ-সম্পদ সবই আছে, শুধু নেই জামা-কাপড়!            * পেঁয়াজের দাম কমাতে উজবেকিস্তান থেকে আসছে ‘উজবেক’            * ১০৭ বছরের ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ড ভাঙতে পারে এবার            *  ইতালিতে মসজিদে বোমা হামলার চক্রান্ত : পিতা-পুত্র গ্রেফতার            *  মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বিএনপির ২ নেতা            * দানবাক্সে ২৭ লাখ টাকা           * এই ছেলের দাঁত ৫২৬টি!           * ধর্ষণের ক্ষতিপূরণে গর্ভজাত সন্তান বিক্রির পরামর্শ           * হলিউডে আলিয়া ভাট           * প্রেমের টানে লিঙ্গ বদল করে বিয়ে            *  বিবাহিত নারীরাই বেশি পরকীয়া করেন            * জোয়ারে ভাসছে ভেনিস নগরী           * টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে খুন করলেন গ্রাম পুলিশ           * হাত-পায়ের আঙুল বেঁকে গেছে খালেদার: বোন সেলিমা           *  দুই শিশুসহ গৃহবধূকে নিয়ে উধাও সিএনজিচালক!            * সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা           * দুবাইতে এনআইডি কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী           * কেন্দুয়ায় হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন পালিত            * ভাঙ্গায় নাসির মাতুব্বর হত্যাকন্ডে আসামীরা জামিনে পেলেও এলাকায় প্রবেশ করতে পারছেনা ॥ ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা          
* ডাক্তার নামের প্রতারক: ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ           * ভারতকে দুইবার অলআউট করতে চান মিঠুন           * ‘বেপরোয়া আচরণ রাজনীতিতেও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে’          

তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযান সম্মেলনের পর

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯
তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযান সম্মেলনের পর

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারেই দুর্নীতির প্রশ্নে 'জিরো টলারেন্সে'র অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর খানিকটা গুছিয়ে নিয়েই তিনি মনোযোগ দেন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে। সবার আগে নিজ দলের দূনীতিবাজ ও বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধেই তার নির্দেশে শুরু হয় অভিযান। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় নেতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন ঘটনা। তবে এ মুহূর্তে ইতিবাচক এই অভিযান অনেকটাই স্থবীর। এতে দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে কাউন্সিলকেন্দ্রিক ব্যস্ততা থাকায় আপাতত বড় কোন অভিযান হচ্ছে না। কাউন্সিলের পর ফের জোরদার হবে দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান, আর তা শুরু হবে তৃণমূল থেকে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দেশের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তিনি চিঠিও পাঠিয়েছেন। এতে জেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গড়া নতুন কমিটিতে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের পদায়নের বিষয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, কোনো দূর্নীতিবাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে দেড় হাজার জনের একটি তালিকা করে তা বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে আছে সংগঠন বিরোধী কাজ করার অভিযোগ। আবার কেউবা দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নিজস্ব সম্রাজ্য গড়েছেন। অভিযান চলমান থাকায় বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযুক্ত নেতাদের আরো নাম আসছে। অভিযুক্ত এসব নেতাদের বিষয়ে যাচাই বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসে সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউন্সিল শেষ হবে। ডিসেম্বর হবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। এই সময়ের মধ্যে তৃণমুলের কাউন্সিল প্রক্রিয়াও চলবে। তৃণমূলের কাউন্সিলে যাতে বিতর্কিত নেতারা স্থান না পান সেজন্য আগেই তাদের তালিকা কেন্দ্র থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।যেসব নেতার নাম তালিকায় আছে তারা দলীয় শাস্তির অংশ হিসেবেই আসন্ন কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না। স্ব স্ব জেলা ও থানা কমিটি গঠনের পর তালিকায় থাকা বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দলের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান এখনও শুরু হয়নি। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। ওই সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলন হবে। এ জন্য ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৮টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যসব জেলার দিনক্ষণও দ্রুতই ঠিক করা হবে। আর এ সম্মেলন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়া হবে। কেননা, কাউন্সিলের আগে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে বা সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া বিগত সময়ে তারা নিজস্ব যে বলয় তৈরি করেছে তার অপ্রয়োগ করতে পারে। এজন্য সম্মেলন প্রক্রিয়ার পরই তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হতে পারে।

চলমান অভিযান ক্যাসিনো নিয়ে শুরু হলেও এখন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে তা চলছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করছে, সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনও এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিরোধী পক্ষ এই অভিযানকে আইওয়াশ বলে প্রচারণা চালালেও সরকারের তরফে বলা হচ্ছে দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়ে সরকারের কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে দলের লোক বা আত্মীয় কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি দেখে অনেকে বলছেন, এই মুহূর্তে অভিযান স্থিমিত বলে মনে হচ্ছে।সামনে এটি চলবে কিনা এ নিয়েও সন্দিহান অনেকে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়ন করতেই চলমান শুদ্ধি অভিযান আরো জোরদার করা হবে। তবে এখন নিয়মিত অভিযান চলবে। এ বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া আছে।

রাজধানীতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর মাধ্যমেই মাঠ পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। যদিও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ আসায় তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নের শুরু। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর এ সংক্রান্ত তথ্য বের হতে থাকে। পরে গ্রেপ্তার হন ওই শাখা যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

গ্রেপ্তারের পর যুবলীগের এই দুই নেতার দেয়া তথ্যে সংগঠনের চেয়ারম্যানসহ অনেকের নাম বেরিয়ে আসে। নাম আসে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের। তালিকায় নাম আসে ঢাকা সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের। তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। গা-ঢাকা দিয়ে আছেন আরো কয়েকজন। বিতর্কিত কাণ্ডে নাম আসায় ইতিমধ্যে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ তিন নেতাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া টেন্ডার কিং বলে খ্যাত কথিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনিও কিছু নেতার নাম প্রকাশ করেন যারা সরাসরি সুবিধাভোগী ছিলেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, দলের অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা শুরু হয় মূলত ২০০৯ সাল থেকে। ওই বছরের শুরুতে মহাজোট সরকার গঠন হওয়ার পর অন্য দলের সুবিধাবাদীরা নানা ছুঁতোয় আওয়ামী লীগের ছাতায় আসতে থাকে। পরে আরও দুই দফা সরকার গঠন করায় তৃণমুল পর্যায়ে নানা দলের সুবিধাবাদীরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে যোগ দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকা ও সরকারি দলের একক আধিপত্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে একই নেতৃত্ব থাকায় দুর্বৃত্তায়নে বিস্তৃতি ঘটেছে। এসব সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিরা সংগঠনের চাইতে নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন বেশি। দলীয় ও গোয়েন্দা সংস্থার তরফে এসব তথ্য জমা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করেই ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। শুদ্ধি অভিযানের বিষয়টি সরাসরি তিনি দেখভাল করছেন। এ পর্যন্ত যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সাধুবাদও এসেছে। এ অবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দলের ত্যাগি ও দুর্নীতিমুক্ত নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সভাপতিও দল থেকে দূর্নীতিবাজদের নির্মূলের সিদ্ধান্তে দৃঢ় রয়েছেন।

  সূএপূর্বপশ্চিমবিডি




আরও পড়ুন



২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close