* মসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০০০০ টাকা জরিমানা           *  ঘুম যার কম, ভুল তার বেশী!           *  চাঞ্চল্যকর মামলা বিচার পর্যন্ত তদারকির নির্দেশ আইজিপির           * আ.লীগের ১২৮ জন কর্মী-সমর্থকের বিএনপিতে যোগদান           * স্কুলে ২২ মৌমাছির চাক, আতঙ্কে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা           * বিয়ের পর পরই প্রেগন্যান্ট মিথিলা?           * ময়মনসিংহে অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলো সঞ্জীবন           * সুবিধাবাদীরা আ.লীগের অর্জন খেয়ে ফেলবে: কাদের           *  মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণে মেধা ব্যবহার করুন : প্রধানমন্ত্রী            * ময়মনসিংহ ডিএফএ চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চট্টগ্রাম আবাহনী লি. চ্যাম্পিয়ন           * যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জনপ্রিয় নামের তালিকায় ‘মুহাম্মদ’!            * প্রেমিকের সঙ্গে সঙ্গম চলাকালে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু            * ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, জানা গেল প্রধান শিক্ষিকার স্বামীর অপকর্ম           * পুরুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় সুন্দরী নারী: গবেষণা            * তেলাপোকাও পাখি, শাজাহান খানও মানুষ: নিক্সন চৌধুরী            * মরুভূমিতে আজো দাঁড়িয়ে আছে নবীজীকে (সা.) ছায়াদানকারী সেই গাছ           * বিয়ের আসর থেকে পালানো মেয়েটিই জিতলো স্বর্ণপদক           * শীতকালীন ছুটি পাচ্ছেন না শিক্ষকরা!            * চলন্ত বাসে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, যাত্রীর কারাদণ্ড            * নাচলেন আর দর্শকদের নাচালেন ক্যাটরিনা          
*  সফরে গেলে বিমানে বসে আমি বাংলা সিনেমা দেখি: প্রধানমন্ত্রী           * রুম্পার ‘প্রেমিক’ চারদিনের রিমান্ডে           *  নয়া দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৪৩           

বাবা কেন মা সেজে সন্তান পালন করেছিলেন!

নিউজ ডেস্ক | শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯
বাবা কেন মা সেজে সন্তান পালন করেছিলেন!
৩০ বছর আগের সেই গল্প

তখন সন্ধ্যা প্রায়। ডিএমসির একটা বারান্দার এক কর্নারে স্ট্রেচারে আম্মির ডেডবডি। চুলগুলো এলোমেলো। চোখগুলো আধবোজা। প্রথমে দেখে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মায়ের লাশ, মরা মুখ সেই চেহারা আমার আজ অবধি মনে আছে। ভুলব না কোনোদিনও। কোনোদিনই সেটা ভুলব না। যতদিন বেঁচে থাকব, ওই মুখ আমি ভুলব না।

৩০ বছর আগে সেই সন্ধ্যায় দেখা মায়ের সেই মুখ এখনো ভোলেননি সেদিনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সারাহাত সালমা চৌধুরী। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তাকে স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল মা সগিরা মোর্শেদের। বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ডে-শিফটে পড়তেন সারাহাত। ছোট দুই বোনকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার সময় মা বলেছিলেন, ছুটি হলে আমি এসে নিয়ে যাব। টিচারদের কথা ঠিকমতো শুনো। মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করো। স্কুল ছুটির পর অপেক্ষায় ছিল মেয়েটা। স্কুল ফাঁকা হয়ে যায়। বাচ্চারাও চলে যায়। শুধু তার মা-ই আর ফেরেননি কোনোদিন।

১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই। সারাহাতকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার পথে স্কুলের সামনেই নৃশংসভাবে খুন হন সগিরা মোর্শেদ। সগিরা ও তার স্বামী আবদুস সালাম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে পাস করেছিলেন। তারা সহপাঠী ছিলেন। সগিরা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে (বিআইডিএস) ইকোনমিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। স্বামী মিনিস্ট্রি অব এডুকেশনে জব নিয়ে স্ত্রীসহ ইরাকে গিয়েছিলেন। পরে দেশে ফিরে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটরিয়ালে (বিআইটি) দীর্ঘ ৩০ বছর লিড ইকোনমিস্ট টিচার ও এ-লেভেলের সমন্বয়ক হিসেবে চাকরি করেছেন। অসংখ্য ছাত্র পড়িয়েছেন। ‘সালাম স্যার’ নামে বেশ খ্যাতি তার।

মারা যাওয়ার সময় সগিরার তিন শিশুকন্যার মধ্যে সারাহাত দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এখন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির অ্যাকাডেমিক। মেলবোর্নের মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। ছোট মেয়ে সিফাত আদিয়া চৌধুরীর বয়স ছিল দুই বছর। এখন তিনি আমেরিকার কানসাস ইউনিভার্সিটির অ্যাকাডেমিক। আর মেজো মেয়ে সামিয়া সারওয়াত চৌধুরীর বয়স ছিল পাঁচ। তিনি দেশে অ্যাকাউন্টিং ও হিউম্যান রিসোর্সে মাস্টার্স ও এমবিএ করেছেন। একটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করছেন। সে সময় এমন এক শিক্ষিতা নারীর এমন নৃশংস খুন হওয়ার ঘটনা বেশ সাড়া ফেলে দেশে ও দেশের বাইরে।

গত ৩০ বছর ধরে সবাই জানতেন ওটা ছিল ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং ছিনতাইকারীর গুলিতেই প্রাণ হারান সগিরা মোর্শেদ। সব ভুল ভেঙে দিয়ে দেশের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সম্প্রতি তদন্ত শেষ করে বলছে ওটি ছিল পরিকল্পিত খুন। তারা ইতিমধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। আসামিরা হলেন নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাশুর বারডেম হাসপাতালের স্বনামধন্য ডাক্তার হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিন, শ্যালক আনাস মাহমুদ রেজোয়ান এবং পেশেন্ট মারুফ রেজা। জানা গেছে, সব আসামিই এ হত্যার কথা ১৬৪ ধারায় স্বীকার করেছেন।

গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে সারাহাত সালমা চৌধুরী এই নৃশংস হত্যা, মায়ের মৃত্যুর পর নিজেদের বেড়ে ওঠা ও হত্যার নেপথ্য কারণ নিয়ে কথা বলেছেন। এ হত্যার মধ্য দিয়ে কেড়ে নেওয়া দীর্ঘ ৩০ বছরের কষ্টের জীবনের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। বাবা কীভাবে মা হয়ে সন্তানদের লালন-পালন করেছেন, বলেছেন সেই ‘অ্যাঞ্জেল’ বাবার কথাও। পাশাপাশি আপন চাচা-চাচির নৃশংসতায়, আপনজনের হাতে আপনজনের খুন হওয়ার এমন অমানবিকতা মেনে নিতে পারছেন না। চেয়েছেন খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি।

৩০ বছর পর এসে মায়ের হত্যা বিচার হচ্ছে, চিহ্নিত হয়েছে খুনিরা, কেমন লাগছে- জানতে চাইলে সারাহাত বলেন, অনুভূতিটা কেমন তা বলতে পারব না। তবে এটা কি হত্যাকা-, নাকি ছিনতাই, সেই দ্বিধা দূর হয়ে গেছে। আমরা যা ধারণা করেছিলাম সেটাই সত্য হলো।

‘আরেকটা দিক হলো, আপন চাচা তো বাবার মতো, চাচি মায়ের মতো, সেই চাচা-চাচি কীভাবে খুনের পর্যায়ে যান? তাদের সন্তানদের বয়সও তখন আমাদের মতো ছিল, তারাও তো বাবা-মা, তারা কীভাবে এটা করলেন? এমন একটা নৃশংস ঘটনার পর তারা গত ৩০ বছর কীভাবে নিজেদের সন্তানদের কোলে তুলে নিয়েছেন, খাইয়েছেন, এটা কোন সাইকোলজি থেকে করেছেন, আমি বলতে পারব না। সবচেয়ে অবাক হই এই দীর্ঘ সময় তাদের কোথাও কোনোদিন এমন খুন নিয়ে অনুশোচনার রেশমাত্র ছিল না।’

মা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান সারাহাত। বলেন, অবশ্যই চাইব, চাই যে এদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়। কারণ ওরা তো শুধু আমার আম্মিকে মারে নাই, ওরা তো আমাদের জীবন থেকে ৩০টা বছর নিয়ে গেছেন। এটা যেন বাংলাদেশে একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

সেদিনের বর্ণনা দিয়ে সারাহাত বলেন, আমি তখন ডে-শিফটে পড়তাম। স্কুল শুরু হতো আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টা পৌনে ১টার দিকে। ওইদিন আম্মি আমাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আমার ছোট দুই বোনকে নিয়ে আমার দিদা মানে নানির বাড়ি ধানমণ্ডিতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় বললেন, ভালোভাবে পড়াশোনা করো। টিচারদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনো। এটাই ছিল আমার মায়ের সঙ্গে আমার জীবনের সর্বশেষ কথা।

‘৫টার দিকে স্কুল ছুটি হয়। প্রতিদিন আম্মি সময়মতো আসতেন। কখনো দেরি করেননি। ওইদিন আসেননি। আমি ওয়েট করছিলাম। স্কুল ফাঁকা হয়ে গেছে। পরে তিনজন মহিলা এসে আমাকে প্রিন্সিপাল হামিদা আলী আপার বাসায় নিয়ে গেলেন। যাওয়ার সময় একজন ফিসফিস করে বললেন, এ মেয়েটাই তো, তার মা মারা গেছেন। কথাটা আমার কানে এসেছিল। কিন্তু তখনো আমি বুঝিনি যে তারা আমার আম্মির কথাই বলছেন। পরে আব্বু এসে বাসায় নিয়ে গেলেন। বাসা থেকে আমাদের তিন বোনকে নিয়ে আব্বু ডিএমসিতে গেলেন। সেখানেই দেখলাম আমার মায়ের লাশের মরা মুখ। পরদিন দাফন হলো বনানী কবরস্থানে। আমার আব্বু আম্মিকে এত ভালোবাসতেন যে, উনি আম্মির কবরের পাশে তার দাফনের জন্য জায়গা কিনে রেখেছেন।’

‘আম্মি মারা যাওয়ার পর আমাদের জন্য আব্বু যা করেছেন, সেটা আসলে ‘ফেইরি টেল’, রূপকথার গল্পের মতো’- বললেন সারাহাত। তিনি বলেন, উনি মা ও বাবা- দুজনের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করেছেন। স্ত্রীর প্রতি তার যে কমিটমেন্ট লেভেল, ওই জায়গাটা কেউ টাচ করতে পারেননি। আমাদের পড়াশোনা, স্কুলে ড্রপ আউট-পিকআপ, সবকিছু করতেন। আম্মির অভাবটা বুঝতে দেননি। প্রত্যেক সকালে টিফিন তৈরি করে দিতেন। স্যান্ডউইচ করতেন। ডিম সেদ্ধ করে দিতেন। ওয়াটার পটে পানি ভরিয়ে দিতেন। দুধ গরম করে রাখতেন। আমরা সকালে সে দুধ খেয়ে স্কুলে যেতাম।

‘ঈদের সময় আমাদের নিয়ে উনি মার্কেটে যেতেন। আমাদের সঙ্গে ১০ দোকান ঘুরে ঘুরে সালোয়ার কামিজ, জুতা-স্যান্ডেল, চুড়ি, মালা, দুলÑ যা কিনতে চাইতাম কিনে দিতেন। দেশের ভেতর এমন কোনো জায়গা নেই যে উনি আমাদের বেড়াতে নিয়ে যাননি। দেশের বাইরে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশেও নিয়ে গেছেন। বাসায় হুজুর রেখে কোরআন শরিফ ও নামাজ পড়া শিখিয়েছেন। কোন কাজটা উনি করেননি আমাদের জন্য!’

‘আব্বু অ্যাঞ্জেল’Ñ উল্লেখ করে সারাহাত বলেন, আম্মি যখন মারা যান, তখন আমাদের সবার ছোট বোনের বয়স দুই বছর। ঘুমানোর সময় মাকে ছাড়া ঘুমাতে চাইত না ও। আব্বু আলমারি থেকে আম্মির শাড়ি বা ওড়না বের করে মাথায় ঘোমটা দিয়ে ওকে ফিডারে দুধ খাওয়াতেন। ও আব্বুকে আম্মি মনে করে দুধ খেতে খেতে ঘুমোত। আত্মীয়স্বজনরা আব্বুকে আবার বিয়ে করার জন্য বলতেন। আব্বু পাত্তা দেননি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আম্মির স্মৃতি আর আমাদের তিন বোনকে আগলে রেখেছেন।

‘আমার দিদার বাসা, মানে নানুর বাসার যে সাপোর্ট, সেটাও ছিল অনেক বড়। বিশেষ করে খালাদের ও নানুর, মামা-মামিদের, এ সাপোর্টটা আমার বাবাকে আরও বেশি সাহস জুগিয়েছে।’

তখন সারাহাতরা রাজারবাগে দাদা-বাবাদের পৈতৃক বাড়িতে থাকতেন। দোতলা বাসা। চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাড়ির নিচতলায় থাকতেন বড় চাচা ড. শামসুল আলম চৌধুরী ও চাচি নিগার সুলতানা। দোতলায় থাকতেন সারাহাতরা। সেই দোতলার একটি অংশে দুই সন্তানকে নিয়ে ওঠেন মেজো চাচা ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিন। পরে তিনতলা হয়ে গেলে সেখানে ওঠেন তারা। এ সময় তাদের আরও এক সন্তানের জন্ম হয়।

মার মৃত্যু নিয়ে কোনো সন্দেহ বা ধারণা? জানতে চাইলে সারাহাত বলেন, যেদিন আম্মি মারা যান, তারপর থেকে মৃত্যুর (২০১২ সাল) আগপর্যন্ত আমার দিদা (নানি) বলে গেছেন, আমার আম্মিকে মেরেছেন চাচা ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার বউ শাহিন ও শ্যালক রেজোয়ান। আমরাও বরাবর সন্দেহ করতাম। যখন অনেক বড় হলাম, বুঝতে শিখলাম, মনে নানা প্রশ্ন জাগতÑ এটা যদি ছিনতাইয়ের ঘটনা হয়, তাহলে কেন আম্মির ব্যাগ নিয়ে গেল না? কেন আম্মিকে গুলি করল? কেন বুকে গুলি করল? তার মানে তাকে নিশ্চিত মেরে ফেলার জন্যই গুলি করা হলো। আমাদেরও ধারণা ছিল এর সঙ্গে তারা (চাচা-চাচি) জড়িত থাকতে পারে।

এমন সন্দেহের কারণ কীÑ জানতে চাইলে সগিরা মোর্শেদের এই বড় মেয়ে বলেন, শাহিন চাচি আম্মির সঙ্গে সবসময়ই ঝগড়াবিবাদ করতেন। আম্মির সবকিছু নিয়ে হিংসা করতেন। কারণ আম্মির শিক্ষাগত যোগ্যতা। আম্মি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করা। জব করতেন। শাহিন চাচির শিক্ষাগত যোগ্যতা কম। দাদি আমার আম্মিকে অনেক ভালোবাসতেন। আদর করতেন। এসব কারণে শাহিন চাচি আম্মিকে সহ্য করতে পারতেন না। প্রায় সময়ই তিনি আমার মাকে শাসাতেন, হুমকি-ধমকি করতেন। বলতেন, তোমাকে আমি দেখে নেব। তোমাকে ঘরছাড়া করব। আমার ভাইকে দিয়ে তোমাকে শায়েস্তা করাব। এগুলো পরে আমরা দিদা-খালাদের কাছে থেকে অনেক শুনেছি।

‘আমারও কিছু মনে আছে। আমি দেখেছি শাহিন চাচি অকারণে গায়ে পড়ে আম্মির সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ঈর্ষা করতেন। আমি কখনো আম্মিকে মুখ ফুটে কিছু বলতে শুনিনি। তিনি খুব কষ্ট পেতেন এবং আমার দিদার কাছে অনেক কথা বলতেন।’

পাশাপাশি সগিরা মোর্শেদের মৃত্যুর পর তার স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে ডা. হাসান ও তার স্ত্রীর ব্যবহার-আচার-আচরণও সন্দেহের উদ্রেক করেছিল সগিরার মেয়েদের মনে। সারাহাত বলেন, গত ৩০ বছরে আমাদের সঙ্গে কোনো ভালো ব্যবহার করেননি তারা। আমরা মা-হারা ছোট ছোট তিনটা বোন, কোনো খবরই রাখতেন না। বরং বাবা ও আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ইগনোরেন্স করতেন। এসব কিছু দেখে মনে হতো তারা কিছু লুকোচ্ছেন। চাইছেন কিছু একটা গোপন থাক।

আসামিরা সবাই ধরা পড়েছেন, ১৬৪ ধারায় হত্যার কথা স্বীকারও করেছেন। কেমন বিচার আশা করেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে সারাহাত বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল রাষ্ট্র বিচারটা এগিয়ে নেবে। যখনই হোক, কখনো না কখনো রাষ্ট্র থেকেই বিচার হবে। সেটাই তো হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই তো এটা হলো। আমরা প্রত্যাশা করি এ মামলার বিচারকার্য দ্রুত প্রক্রিয়ায় শেষ হবে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। সূত্র: দেশ রূপান্তর





আরও পড়ুন



২. সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ খায়রুল আলম রফিক
৩. নির্বাহী সম্পাদক ঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
৪. প্রধান প্রতিবেদক ঃ হাসান আল মামুন
প্রধান কার্যালয় ঃ ২৩৬/ এ, রুমা ভবন ,(৭ম তলা ), মতিঝিল ঢাকা , বাংলাদেশ । ফোন ঃ ০১৭৭৯০৯১২৫০
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close