*  কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রেতা নিহত           *  মনোহরদীতে গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার           * ইসলামপুরে ট্রাক চাপায় চা ব্যবসায়ীর মৃত্যু           * বেনাপোল সীমান্ত থেকে নাইজেরিয়ান নাগরিক ও হুন্ডি ব্যাবসায়ী আটক           *  কেন্দুয়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ওসি যেখানেই বিশৃঙ্খলা সেখানেই পুলিশ থাকবে            * ঝিনাইগাতীতে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ            * গফরগাঁও ২২০ বিএনপি নেতাকর্মীর আগাম জামিন           * প্রধানমন্ত্রীকন্যা পুতুলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন           * মানুষ বলবে, শামীম ওসমান পাগল ছিল            * নতুন খবর দিলেন অপু বিশ্বাস            * যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলা: নিহত ৪           * বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পরিসংখ্যান           * আবুধাবিতে নিউজিল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস জয়           *  চার হাজারে ফোরজি ফোন দিচ্ছে রবি           *  দাদি হলেন মমতাজ           *  ছয় মাস পর্ন সাইট বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের           * সাত খুন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ           * হারানো সন্তানকে খুঁজে ফিরছেন বাবা-মা           *  ময়মনসিংহের নান্দাইলে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা           * নেত্রকোনায় পিএসসিতে অনুপস্থিত ৪ হাজার শিক্ষার্থী          
*  কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রেতা নিহত           *  মনোহরদীতে গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার           * ইসলামপুরে ট্রাক চাপায় চা ব্যবসায়ীর মৃত্যু          

ফেনীতে একরামের নাম মুখে নিতেও ভয়!

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, মে ২০, ২০১৫
ফেনীতে একরামের নাম মুখে নিতেও ভয়!
হত্যাকাণ্ডের এক বছর
 একরামুল হক একরাম। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তৃণমূল থেকে হাতেখড়ি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময়ের কাঠখড় পুড়িয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হন তিনি। একসময় দাপিয়ে বেড়াতেন পুরো জেলা। বিএনপি চেয়ারপারসনের নিজ উপজেলায় টানা দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চমকও সৃষ্টি করেছিলেন। বিগত বছরের এই দিনে নোংরা রাজনীতির বলি হন তিনি। প্রকাশ্য দিবালোকে বর্বর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রতাপশালী এই নেতার কথা মনে উঠলে শুধু দলীয় কর্মী নয় সাধারণ মানুষও আঁতকে উঠেন।


এখনো আঁতকে উঠে ফেনীবাসী


২০১৪ সালের ২০ মে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ফেনী শহরের মিজান রোডস্থ ডায়াবেটিস হাসপাতাল থেকে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের একটি সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে বের হন একরাম। শহরের বিলাসী সিনেমার নিকট পৌঁছলে প্রথমে একটি ময়লার ট্রলি দিয়ে তাকে বহনকারী প্রাডো গাড়ির গতিরোধ করার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। ট্রলিটি চাপা দিয়ে পার হওয়ার সময় গাড়িটির এক চাকা সড়ক ডিভাইডারের সাথে ধাক্কা খেয়ে উপরে উঠে যায়। এসময় চতুর্দিক থেকে গুলি ও বোমা ফাটিয়ে একদল দুষ্কৃতিকারী তার গাড়িটি ঘেরাও করে। শুধু তাই নয়, মুখোশপরা হত্যাকারীরা তাকে বহনকারী গাড়িতে আগুন ধরিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলে। নিষ্ঠুর এ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দেশজুড়ে বেশ আলোচিত হয়। ওই দিনটির কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে উঠে ফেনীবাসী।


একরামের নাম মুখে নিতেও ভয়


একরামুল হক একরাম দীর্ঘ সময় ফেনী জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে ফেনী পৌর যুবলীগের সভাপতি ও ২০১১ সালের সম্মেলনে নিজ উপজেলা ফুলগাজী আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন ফুলগাজীর আনন্দপুরের নুরুল হক মাস্টারের ছেলে একরাম। একসময়ে জয়নাল হাজারীর স্টিয়ারিং কমিটির সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউপি নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে জয়নাল হাজারী দেশান্তর হওয়ার পর ক্রমেই তার সঙ্গ ত্যাগ করে ফেনী আওয়ামী লীগে ভিন্ন মেরুকরণের সূত্রপাত করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জয়নাল হাজারী দেশে ফিরলেও একরাম ও যুবলীগ নেতা নিজাম হাজারীদের তোপের মুখে দাঁড়াতে পারেননি একসময়ের গুরু জয়নাল হাজারী।


২০০৯ ও ২০১২ সালে পরপর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান হন একরাম। নিজ দলের তো নয়ই ভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বীরাও তার দাপটের কাছে টিকেনি। কিন্তু সেই দলীয় নেতাকর্মীদের রোষানলের শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ২০ মে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন একরাম। হত্যাকাণ্ডের পর দলের একটি অংশ প্রতিবাদমুখর হলেও বছর ঘুরতে তাদের মুখেও কুলুপ। ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে যথারীতি শোক প্রস্তাব প্রকাশ করা হলেও একরামের নাম আসেনি। এতে সম্মেলনস্থলে দলীয় নেতাদের কানাঘুষা করতে দেখা গেছে।


একরাম পরিবারের খোঁজ নেয় না কেউই


বিছানা পরিপাটি, পোশাক-আশাকও রয়েছে আলনায় সাজানো, সবকিছুই রয়েছে আগের মতো। নেই শুধু পরিবারের মধ্যমনি। হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তার কথা মনে উঠতেই গুমরে কেঁদে উঠেন স্ত্রী তাসনিম আক্তার। শহরের মাস্টারপাড়ার বাসায় এ প্রতিবেদক কথা বলতে চাইলে তাসনিম কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলেন।


তিনি বলেন, আমাদের খোঁজ এখন আর কেউই নেয় না। আমাদের একটাই দাবি, আমরা আল্লাহর কাছে বিচার চাই। ফেনীর আকাশ-বাতাস, বালুকনা সবাই জানে কে এ ধরনের বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।


ফেনীতে একরামের নাম মুখে নিতেও ভয়!
পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জানিয়ে বলেন, প্রতিটি মূহূর্ত আতঙ্কের মধ্যে কাটছে। সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিলে একরামের খুনিদের আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিতে পারবো।


বাবার কথা মনে পড়লেই দেয়ালে সাঁটানো ছবির দিকেই ছুটে যান শিশু সন্তান তাসিন, ফুল ও লামিরা। অ্যালবামের ছবি বুকে নিয়ে কখন বাবা আসবে এমন প্রতীক্ষার প্রহর গুণছে অবুঝ তিন সন্তান। বাবা আসবে না এমনটি বড় সন্তান তাসিন বুঝলেও অন্যরা জানে না।


বহিষ্কার হননি অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা


একরাম হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী মিনার ছাড়া অপরাপরদের সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এদের মধ্যে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী ও আনন্দপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ছাড়া আর কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল, ফেনী পৌর কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, ফেনী পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে আবিদ।


বিস্ময়কর হলো, অতীতে কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হতো। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এভাবে খুনিদের প্রশ্রয় দিলে ফেনীতে আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ এ দলটির প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে।


এ মামলায় ৫৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২৮ আগস্ট চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৬ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


মৃত্যুবার্ষিকী পালনে নেই কোনো কর্মসূচি


২০ মে বুধবার একরামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দিবসটি উদযাপনে দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। মৃত্যুবার্ষিকী পালনের প্রস্তাবও দেননি কোনো নেতা। বরং ফুলগাজী উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিতে একরামের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতদের সাইডলাইন এ রেখেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাদ পড়াদের উপজেলা যুবলীগের সদ্য বিদায়ী আহ্বায়ক গোলাম রাব্বানী, যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন মজুমদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী আহ্বায়ক আসিফ মজুমদার রয়েছেন।


তবে ঘরোয়াভাবে তার পরিবার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছে।
    




আরও পড়ুন



সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ খায়রুল আলম রফিক

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৬৫/১ চরপাড়া মোড়, সদর, ময়মনসিংহ।
ফোন- +৮৮০৯৬৬৬৮৪, +৮৮০১৭৭৯০৯১২৫০, +৮৮০১৯৫৩২৫২০৩৭
ইমেইল- aporadhshongbad@gmail.com
(নিউজ) এডিটর-ইন-চিফ,
ইমেইল- khirulalam250@gmail.com
close