হাতীবান্ধায় গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় হাসপাতালে গৃহবধূ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৫

হাতীবান্ধায় গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় হাসপাতালে গৃহবধূ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় এক গৃহবধুর মুখ গরম খুন্তি দিয়ে ঝলসে দিয়েছে শশুর বাড়ি লোকজন। গুরতর আহত খোর্শেদা বেগম (২২) নামের গৃহবধু প্রচন্ড যন্ত্রণায় হাসাপাতালে বেডে কাঁতরাচ্ছে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও নির্যাতিত গৃহবধুর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালে উপজেলার দক্ষিন পারুলিয়ার গ্রামের খতিব উদ্দিনের মেয়ে খোর্শেদার বিয়ে পার্শ্ববতী গ্রামের আফসাদ্দির ছেলে আনারুল ইসলামের সাথে। বিয়ের পর ভালই চলছিল তাদের সংসার। ২০১৩ সালের জুন মাসের দিকে আনারুল-খোর্শেদার ঘরে জন্ম হয় মাহিয়া দৌতি নামের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের। কিন্তু ছেলে সন্তানের পরিবর্তে মেয়ে সন্তান জন্ম দেয়ায় খোর্শেদার জীবনে ধীরে ধীরে নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এরমধ্যে স্বামী আনারুল ঢাকা চলে যাওয়ার পর বাড়িতে থাকা লোকজনের অত্যাচার সহ্য করেই অসহায় ওই গৃহবধূ মুখ বুঝে সংসার করে আসছিল। এই অবস্থায় ঘটনার দিন গত রোববার বিকেলে খোর্শেদা প্রতিদিনের ন্যায় রান্না করছিল চুলায়। এসময় তাঁর শশুর শাশুড়ি ও ননদ বাইরে উঠানের কাজ শেষে বাড়িতে ঢুকে অকারণে গালিগালাজ শুরু করে। এতে ভাতের মার নামাতে দেরী হওয়ায় শাশুরী সাহেদা বেগম খুন্তি আগুনে পুড়ে গরম করতে থাকে। আর শশুর আফসাদ্দি আর ননদ আসমা খাতুন মোরশেদাকে মারধরের পর দু‘হাত ধরে রাখার পর সেই গরম খুন্তি দিয়ে মুখে ছ্যাকা দেয় শাশুড়ি সাহেদা বেগম। এতে মুখ পড়ে যাওয়ার যন্ত্রনায় খোর্শেদার আর্তচিঁৎকারে প্রতিবেশীরা চুটে এসে তাকে রক্ষা করে বলে জানায় খোর্শেদা বেগম। এ ব্যাপারে গৃহবধূর মামা বাবলু মিয়া বলেন, এমন অমানবিক নির্যাতনের পর ওইদিন রাত তিনটার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা নিয়ে গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে গুরুতর আহত খোর্শেদাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এনিয়ে হাতীবান্ধা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। পাটিকাপাড়া ইউ,পি চেয়ারম্যান সফিয়ার রহমান জানান, ওই গৃহবধূর মুখে ছ্যাকা দিয়ে মারপিট করার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।